""বন্ধুত্ব ও ভালবাসা""


-গাঁয়ের এক নিম্নমধ্যবিও পরিবারের
সহজ সরল ছেলে সাকিব।সবে মাএ
এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে শহরের এক
কলেজে ভর্তি হয়েছে।পড়াশোনায়
বেশ ভাল।তবে ছেলেটা খুব গম্ভীর আর
ইমোশনাল স্বভাবের।ছোটবেলায় মা
মারা যাওয়ার পর অনেকের অনেক রকম
কথা শুনতে হয়েছে তাকে।এইসব থেকেই
ছেলেটার এই মনমরা রূপটা বেরিয়ে
এসেছে।কখনো হাসতে দেখা যেত না
তাকে।সবসময় একা একাই থাকত কারো
সাথে তেমন কথাও বলত না।এই রকমই
স্বভাব ছিল তার।
.
-ছেলেটা কারো কাছ থেকে কোনো
আদর পাইনি,সবসময় অত্যাচারিত
হয়েছে।তার জীবনে যেন কোনো লক্ষ্য
ছিলনা একদম নিস্তেজ একটা ছেলে।
তাই তার বাবা তার জীবনটা গড়বার
জন্য আর এইসব অত্যাচার থেকে
বাঁচাতে তাকে শহরে ভর্তি
করিয়েছে।
.
-অতঃপর সাকিব শহরে পাড়ি জমায়।
বাইরের জগত্ সর্ম্পকে সে তেমন কিছুই
জানত না।সে কলেজে গিয়েও কারো
সাথে তেমন কথা বলত না তাই তার
তেমন কোনো বন্ধুও জোটেনি।আর এমন
নিশ্চুপ বোকা স্বভাবের জন্য ক্লাসে
শিক্ষকরা তাকে নিয়ে
হাসিতামাশা করত।এভাবেই যেন
দিনগুলো ফুরিয়ে যেতো তার।
.
-হঠ্যাত্ করেই তার জীবনটা যেন বদলে
যেতে শুরু করল।তার স্বপ্নহীন লক্ষ্যহীন
জীবনটা যেন স্বপ্ন দেখার মাত্রা
খুঁজে পেয়েছিল।আর এর মূলে ছিল একটা
মেয়ের ভালবাসা।মেয়েটার
ভালবাসা পেয়ে সাকিবের জীবনটা
আবার উড়ন্ত গতিতে চলতে শুরু করেছিল।
ক্লাসের সব থেকে বোকা
ছেলেটা,সবাইকে একদম তাক
লাগিয়ে দিয়েছিল।মনমরা ভাবটা
কাটিয়ে তার মুখে যেন হাসি ফিরে
এসেছিল।মেয়েটার নাম লিজা।তার
সাথেই পড়ত।
.
-লিজাকে সে অনেক ভালবাসত।
লিজা যা আবদার করত তাই পূরণ করত।
তাকে নিয়ে স্বপ্নের জাল বুনে,সেই
পথেই হাঁটা শুরু করেছিল।কিন্তু সে
হাঁটা আর বেশিদূর এগোই নি।একদিন
সাকিব শপিং মলের পাশ দিয়ে
হাঁটছে।হঠ্যাত্ দেখে লিজা একটা
ছেলের সাথে হাতে হাত ধরে ঘুরে
বেড়াচ্ছে।সাকিব সামনে এগিয়ে
গেলে তাকে দেখেও না দেখার ভান
করে মুখ ঘুরিয়ে চলে যায় লিজা।
-কি ব্যাপার এটা কে?(সাকিব দৌড়ে
গিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে)
-ও বাবা,ন্যাকার মুখে কথা ফুটেছে
দেখছি।(লিজা)
-আমার প্রশ্নের উওর দাও।
-এটা আমার বয়ফ্রেন্ড,বিরাট বড়
ব্যবসায়ী।তোর মত ফকিন্নী না।
-কি??তাইলে আমাদের ভালবাসাটা?
-কিসের ভালবাসা।তোর মত বোকা
হাদারামকে ভালবাসব আমি?
হাহাহা... আমি তোকে কখনও
ভালবাসিনি।(বিরক্তির স্বরে)আর এটা
ছিল টাইম পাস।যেটা আজকালকার
যুগের ফ্যাশান।চল রাস্তা ছাড়(গাঁয়ে
ধাক্কা দিয়ে)
.
কথা শুনে রাগের চোটে সাকিব
লিজাকে দিল এক চড়।চড়ের শব্দে
লিজার বয়ফ্রেন্ড দূর থেকে দৌড়ে
ছুটে আসল তারপর সেখানে একটু
গোলোযোগ বাঁধল।কিন্তু আশপাশের
মানুষ সেটা ছাড়িয়ে দিল।তারপর
লিজারা ওখান থেকে চলে গেল আর
সাকিব লিজার দিকে তাকিয়ে
চোখের জল ফেলতে লাগল।
.
-লিজা যাওয়ার পর সাকিব যেন আবার
আগের মত হয়ে যেতে লাগল।জীবনের
উপর থেকে সব মায়া যেন উঠে গেল
তার।তার ভালবাসাকে হারাবার কষ্ট
যেন সে কোনো মতেই সহ্য করতে
পারছিল না।আর এই সময় তার বন্ধুরা
তাকে নেশার দিকে ঠেলে দেয়।
সাকিবও কিছু না বুঝে পাগলামির
বসে জ্ঞানশূন্য হয়ে ঐদিকেই ঝুঁকেছিল।
সে এখন মস্ত বড় নেশাখোর।আর নেশার
ঘোরে আস্তে আস্তে সে বিভিন্ন
অসামাজিক কাজ কর্মে লিপ্ত হয়ে
পড়ে।
.
একটা জীবন এভাবেই শেষ হয়ে গেল।
গাঁয়ের বোকা ছেলেটা শহরের যেন
এখন আতঙ্ক।হয়ত সেদিন সাকিব এটা
বুঝতে পারেনি আর তাকে কেউ
বুঝানোর চেষ্টাও করেনি তাই ভুল
সিদ্ধান্তে নেশারঘোরে ডুবে
গেছে।কিন্তু যেদিন তার এই নেশার
ঘোর কাটবে সেদিন তার বাঁচার আশা
জাগবে কিন্তু তখন আর বাঁচার উপায়
থাকবে না।
.
-বন্ধুত্ব আর ভালবাসা একটা মানুষের
জীবনকে চিরতরে বদলে দিতে
পুরোপুরি সক্ষম।তাই কাউকে
ভালবাসতে গেলে বা কারোর বন্ধুত্ব
গ্রহণ করতে গেলে একটু ভেবে চিন্তে
নেওয়াটায় ভালো।কেননা জীবনে সব
ভুলের কিন্তু ক্ষমা হয়না কিছু ভুলের
রিয়াকশন জীবনভর টেনে বেড়াতে হয়।
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author
1 comment
Sort by