#থ্রিলার_গল্পঃ "ভ্যাম্পায়ার দ্বীপ" #পর্বঃ ‌ ০৫


নীলয় আর অবন্তী একে অপরের হাতে হাত রেখে, সমুদ্র উপকূলবর্তী বালিকণার উপর দিয়ে খালি পায়ে মৃদু ছন্দে হেঁটে যাচ্ছিল। ঝিরিঝিরি বাতাসে- ভালোলাগার পরশে, একে অপরের অনুভূতিতে বাস করছিল! ঠিক এমন সময়...
..
..






হ্যাঁ ঠিক এমন সময়, ওদের কানে ভেসে আসলো মানুষের আনাগোনার শব্দ। ওরা থমকে দাঁড়িয়ে যায় আর বাতাসে কান পেতে শব্দের উৎস খুঁজে বের করতে চেষ্টা করলো। ওদের কাছে মনে হতে লাগলো, অদূর সামনে এবং সমুদ্র উপকূল থেকেই শব্দ ভেসে আসছে।
অতঃপর নীলয় ও অবন্তী একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো এবং দুজনের মুখেই হাসি ফুটে উঠল। হয়তোবা এই নির্জন ও অদ্ভুত দ্বীপের রহস্য উন্মোচন, নয়তোবা এই দ্বীপ থেকে মুক্তির উপায় বের হবে! এমন কিছু ভেবেই ওরা হাসতে হাসতে শব্দ উৎপত্তির দিকে এগিয়ে চললো।
তারপর কিছুদূর যাওয়ার পরই বুঝতে পারল ওরা সঠিক পথেই এগোচ্ছে, কেননা যতদূর যাচ্ছে ততোই আনাগোনা স্পষ্ট হচ্ছে। তার কিছুক্ষণ পরে ওরা দেখতে পেল, সমুদ্র কিনারায় দুটো বড় সাইজের কার্গো নোঙ্গর করে আছে এবং সেখান থেকে অনেক মানুষ দ্বীপে এসে নামতেছে। আর কিছু সংখ্যক অলরেডি এক লাইন ধরে দ্বীপের দিকে এগোচ্ছে।
যদিও এখন প্রায় মধ্যরাত এবং নীলয় আর অবন্তী কার্গো থেকে 100 ফিট দূরে অবস্থান করছে। তবুও পূব আকাশে ক্ষয়ে যাওয়া বাঁকা চাঁদ এবং তারই সাথে পাল্লা দিয়ে বসে থাকা তারার মেলার আধো আলো, আধো আঁধারেই ছায়ার মত দেখা যাচ্ছিল এই মানুষ সারিকে।
এতক্ষণ ওরা দুজন যে একটা সাহস ও উদ্দীপনা নিয়ে সামনে এগুচ্ছিল, এখন সেটা কিছুটা স্থগিত বা ভাটার দিকে। যেই দ্বীপে দিনের বেলাতে একটি প্রাণীর খুঁজ পাওয়া গেল না, অথচ এখন এই মধ্যরাত্রে এতগুলো মানুষের আনাগোনা? ব্যাপারটা বড়ই অদ্ভুত। তাছাড়াও লোকগুলো এক সারিতে, এভাবে কোথায় যাচ্ছে। এটা ভেবেই ওরা কিছুটা ঘাবড়ে গেল।
এই মধ্যরাতে কার্গো জাহাজে করে এত্ত লোকজনদের কোথায় থেকে নিয়ে আসা হয়েছে অথবা এখনইবা কোথায় যাওয়া হচ্ছে? এই দুটি প্রশ্ন অবন্তীর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল! অবশ্য নীলয় ছিল নিউট্রাল, ওই শুধু ফ্যালফ্যাল করে ম্যাজিক দেখার মতো তাকিয়ে থাকলো!
অপরদিকে অবন্তী সাগর কন্যা, ওই জন্ম থেকে দেখে আসছে বিভিন্ন প্রতিকূলতা। এজন্য সে কিছুটা আন্দাজ করতে পারছে, হয়তোবা ভয়ানক কিছু ঘটতে যাচ্ছে এই দ্বীপে।
অবন্তীর কৌতুহল দেখে, নীলয়ের মনেও কৌতুহল জন্ম নিলো! এখন ওইও ভাবছে, সত্যিই তো এসমস্ত লোকজন কোথায় যাচ্ছে? এরা কোথায় থেকে আসছে আর এভাবেই বা একসারিতে সামনে এগোচ্ছে কেন?
অতঃপর নীলয় ও অবন্তী খোলা আকাশের নিচে থেকে দ্রুত পায়ে নারিকেল গাছের আড়ালে চলে আসে। তারপর ওরা দুজনে মিলে প্ল্যানিং করলো--
"যে করেই হোক এই মানুষ সারির কাছাকাছি যেতে হবে, তবেই সব টা দেখা যাবে আর হয়তো তখনই এই দ্বীপের রহস্য উন্মোচন হবে!
প্ল্যানিং অনুযায়ী ধীরে ধীরে দলের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করলো। এক গাছের ছায়া থেকে আরেক গাছের ছায়া পর্যন্ত ওরা শুয়ে শুয়ে অ্যাডভান্স হলো। ওদের কাছে মনে হতে লাগলো, এ যেন কোন যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করতে অতিক্রম করছে। দুজনেই খুব কৌতুহল ছিল বিদায় কিছুক্ষণের মধ্যে ওরা নারিকেল গাছের আড়াল হয়ে খুব কাছাকাছি অবস্থান করলো। এখন এই লোকের সারির সবটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে।
যে সমস্ত লোকজন সারি বেঁধে হাটতেছিল, তাঁরা সবাই 15 থেকে 50 বছর বয়সের নারী ও পুরুষের দল। তবে ব্যতিক্রম ছিল এই সমস্ত সাধারণ লোকজনের মধ্যে দু-একজন ভিন্ন রূপের পুরুষ, কারণ তাঁরা ছিল একই কালারের পোশাক পরিহিত এবং তাদের প্রত্যেকের কাছে অস্ত্র ও লাঠি ছিলো।
এসব সাধারণ লোকজনের আগে পিছে সশস্ত্র লোক যাচ্ছে,‌ যেরকম করে সৈন্যরা তাদের অধীনস্থ অপরাধীদের বন্দি করে নিয়ে যায়।
এভাবে কয়েকশো সাধারণ লোকজনকে বন্দির মতো সামনে নিয়ে যাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছিল কোন সিনেমার শুটিং চলছে। এই দৃশ্য দেখে অবন্তীর মনে পড়লো, কান্নাড়া মুভি কেজিএফ এর কথা। সেই মুভিতেও ঠিক এভাবেই জোরপূর্বক লেবার দের নিয়ে আসা আসতো, অবৈধ গোল্ড মাইন তোলার জন্য।
তবে এখানে কি জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে? এখানেও কি অবৈধ কোন খনি পাওয়া গেছে বা অন্য কিছু? তাহলে কোথায় সেই অবৈধ কারখানা বা খনি? ওরা দুজনেই কৌতূহল দমন করতে পারলোনা, তাইতো অবন্তী নীলয়ের কানে কানে বললো-
"চলো আমরাও ওদের পিছু নিয়ে যায় এবং দেখি কোথায় ওরা কি করছে?"
নীলয় মাথা ঝাঁকিয়ে, শুধু হ্যা জানালো!
অতঃপর ওরা দুজনও এই মানুষজন কোথায় যাচ্ছে, সেটা দেখার জন্য গাছের আড়াল আবডালে সামনের দিকে এগোতে লাগলো। কিন্তু এভাবে বেশিক্ষণ পারল না, কেননা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ছিল এমনিতেই খোলামেলা আর গাছ ও অন্যান্য নির্মান সামগ্রী একদমই কম ছিল। তাছাড়াও বন্দিদেরকে খোলা জায়গা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, যাতে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে।
এজন্যই হয়তো নীলয় ও অবন্তীর নড়াচড়া ওদের চোখে, আর নয়তো এই দ্বীপটি যাদের দখলে তাদের রাডার বা ক্যামেরাতে ধরা পড়ে যায়। অতঃপর এক অস্ত্রধারী, তাঁর অস্ত্র তাক করে জোরছে বললো--
"কে ওইখানে? একদম চালাকি না করে বেরিয়ে এসো, নয়তো গুলি করে খুলি উড়িয়ে দিবো!"
এমন আচমকা ধরা পড়ে যাওয়াতে,‌ ওরা দুজন ভয় ও আতঙ্কে দৌড় দিলো। তবে বেশি দূর যেতে পারলো না, কেননা অস্ত্রধারীরা গুলি ছুড়ে দেয়! কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কয়েক রাউন্ড গুলি করে দেয়। তবে কোনরকম শব্দ ছাড়াই, হয়তোবা অতিরিক্ত সাবধানতার জন্য অস্ত্রের মধ্যে সাইলেন্সার লাগানো ছিল। অস্ত্রধারীরা চাচ্ছে না, ওদের গুলির শব্দ আশপাশ থেকে কেউ শুনতে পাক।
গুলি লাগার পর জোরছে করে একটা আহ্ শব্দ হলো, অতঃপর বালির মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে গেল ওরা দুজনেই। তাহলে কি দুজনে গুলিবদ্ধ হয়েছে? অবশ্য এইগুলি করাতে কিছুটা শোরগোল সৃষ্টি হয়েছিল বন্দিদের মধ্যে। দু-একজন ডানে-বামে চিৎকার দিয়ে উঠছিল। তবে কেউ দৌড়ে পালানোর সাহস দেখায় নি। কেননা তাদের চোখের সামনে অলরেডি দুজনকে মাইক্রো সেকেন্ডের মধ্যেই মেরে ফেলা হয়েছে।
ওদিকে নীলয় আর অবন্তী বালিতে পড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই দুজন অস্ত্রধারী দৌড়ে চলে আসলো ওদের কাছে। গুরুতর আহত অবন্তী কারণ ওর পিঠে গুলি লেগেছে, তবে নীলয়ের কিছু হয়নি। কেননা যখন ওরা দৌড় দেয়, তখন নীলয় একটু সামনে ছিল আর অবন্তী পেছনে।
অতঃপর গুলি লাগার পর অবন্তী মাটি থেকে তিন ফিট উপর লাফ দিয়ে উঠে আর নীলয়ের পিঠের উপর পড়ে যায় এবং দুজন একসাথে বালিকণার উপর উপুড় হয়ে পড়ে।
অস্ত্রধারী দুজন পৌঁছে, নীলয় আর অবন্তীকে চিৎ করে দেয় আর অবন্তীর এই অবস্থা দেখে, প্রথম অস্ত্রধারী তাকে ঐখানেই গুলি করে মেরে ফেলতে চেয়েছিল কিন্তু দ্বিতীয় অস্ত্রধারী হাতের ইশারায় মানা করলো। কেননা অবন্তীর ছিল জিরো ফিগার। টানা টানা শরীর ও আকর্ষণীয় চেহারা ও শারীরিক অঙ্গ-প্রতঙ্গ। শরীরে অতিরিক্ত কোন মেদ ছিল না। শরীরে কোন ভাঁজ ছিল না। এক কথায় যে কোন পুরুষের ঘুম হারাম করার মতো সুঠাম শরীর ছিল অবন্তীর।
এছাড়াও এই মুহূর্তে ওর শরীরের আকর্ষণ বৃদ্ধি করছিল গায়ের পোশাক। একটা শর্টস প্যান্ট আর শার্ট গায়ে ছিল, যেটা বুকের নিচ পর্যন্ত টেনে বেঁধে রাখা ছিল। ব্রেস্ট লাইন থেকে নাভীর 3 ইঞ্চি নিচ পর্যন্ত একদম ফাঁকা। রাতের অন্ধকারে অস্ত্রধারীর লাইটের আলোতে শরীর থেকে যেন সোনালি দ্যুতি বের হচ্ছিল। সেজন্য দ্বিতীয় অস্ত্রধারী নিজের ঠোঁট নিজেই আস্তে করে কামড় দিয়ে ভার্চুয়াল সেক্স অনুভব করল।
নীলয়কে বুটের লাথি মেরে দাঁড় করালো। তারপর ওর সমস্ত শরীর চেক করে দেখলো কিন্তু না কোনরকম সন্দেহমূলক কিছু খুঁজে পেল না। প্রথমাবস্থায় হয়তো সাংবাদিক ভেবেছিল কিন্তু পরক্ষনেই বুঝল এরা আসলে জেলে। কেননা গতকাল নদী থেকে যে সমস্ত যুবকদেরকে ধরে নিয়ে আসছিল, তাঁরা বলেছিল একটি ছেলে ও মেয়েকে ধাওয়া করে এ পর্যন্ত আসছিল। এই দুজন নিশ্চয়ই সেই দুজন'ই হবে।
অতঃপর নীলয়কে বন্দিদের সাথে এক লাইনে দাঁড় করানো হলো। অবশ্য নীলয়কে অবন্তীর কাছ থেকে এভাবে দূরে নিয়ে আসতে একটু বেগ পেতে হয় অস্ত্রধারীদের। কেননা অবন্তীকে ওই অবস্থায় রেখে কোনভাবেই আসতে চাচ্ছিল না নীলয়। তখন অস্ত্রধারীরা নীলয়কে প্রচুর মারধর করে। বুটের লাথি ও হাতে থাকা লাঠি দিয়েও পেটায়। অবশেষে অবন্তী গোঙ্গানির স্বরে নীলয়কে যেতে বলে। এরপরেই নীলয় হেলে দুলে অন্যান্য বন্দিদের সাথে তাদের লাইনে গিয়ে দাঁড়ায়, যদিও বারবার পিছন ফিরে তাকাচ্ছিলো!
তারপর অস্ত্রধারীরা আবার পুনরায় সকল বন্দিদের নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর, মানে দ্বীপের মাঝ বরাবর যেতে থাকলো। নীলয়ের মাথার মধ্যে এসবের কিছুই চলছিলো না। বিশেষ করে ওই যে এতক্ষন এভাবে মারধর খেলো সেটাও দিব্যি ভুলে গেছে। ওই শুধু অবন্তীর কথায় ভাবছিলো, কেননা ওর জীবন অবন্তী ছাড়া অসহায়। ওর জানামতে, ওর জন্মের পর থেকে অবন্তীই ওর সব।
..
..
..
অপরদিকে অবন্তী ছিল মুমূর্ষ অবস্থায়, তাই তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য অস্ত্রধারীরা তাদের লিভিং রুমে নিয়ে যায়। যেটাও দ্বীপের মাঝ বরাবর অবস্থিত এবং আন্ডারগ্রাউন্ডে। কেননা অবন্তীকে একান্তভাবে কাছে পেতে হলে সর্বপ্রথম ওকে ট্রিটমেন্ট দিতে হবে। অস্ত্রধারীদের লিভিং রুমের লাগোয়া সব ধরনের সুযোগ-সুবিধায় ভরপুর ছিল। খাবারের মেস, মদের বার, স্যালুন, হসপিটাল সব কিছু ব্যবস্থায় এখানে ছিল।
অবশ্য হসপিটালটা ছিল সামগ্রিক ব্যবস্থার জন্য। বিশেষ করে বন্দি শ্রমিকদের দিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড তৈরি করার সময় বিভিন্নভাবে অ্যাক্সিডেন্টের শিকার হয়ে অনেক শ্রমিক আহত হয়ে যায় তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ব্যবস্থা। যদি গুরুতর অবস্থা হয়ে যায় তাহলে গুলি করে মেরে ফেলা হয় আর যদি অল্প পরিমাণে বা কিঞ্চিত ‌আহত হয় তাহলে চিকিৎসা করে পুনরায় কাজে লাগিয়ে দেওয়া হয়।
নীলয় এই বন্দি দলের সাথে আন্ডারগ্রাউন্ড এর ভিতরে চলে আসে। তবে যেখানে আন্ডারগ্রাউন্ডে যাওয়া রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, তার আশেপাশে বিভিন্ন গাছপালা দ্বারা আচ্ছাদিত। এছাড়াও বড় বড় বিল্ডিং অন্যান্য নির্মান সামগ্রী দিয়ে খুব সুন্দর করে ক্যামোফ্লেজ করা। কোন ভাবে বাহির থেকে বোঝার উপায় নেই এই স্থানে কি কাজ চলতেছে বা হচ্ছে! এছাড়াও এখানে একী রঙের পোশাক পরিহিত অস্ত্রধারী, চোখে বাইনোকুলার নিয়ে ডিউটি করছে।
আন্ডারগ্রাউন্ডে এসে নীলয় দেখতে পায়, ওর মত আরও অনেক বন্দিরা মজুদ আছে।‌ কিছু সংখ্যক বিশ্রাম করতেছে আর কিছু সংখ্যক কাজে ব্যস্ত আছে। কেননা এখানে দুই শিফটে কাজ হয়ে থাকে। রাতের বেলাতে ম্যাক্সিমাম আন্ডারগ্রাউন্ডে সুরঙ্গ বিস্তার করে আর দিনের বেলাতে হলরুম, ল্যাব ও অফিস নির্মাণের কাজ করে থাকে
আজ‌রাত্রে যে সমস্ত বন্দিদের নিয়ে আসা হয়েছে, তাদের মধ্যে পুরুষ দলকে ঘুমানোর জন্য একটা বিশাল বড় নির্মাণাধীন হলরুমে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। যে রুমের ফ্লোর ছিল ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে এবং খুবই বিশ্রী গন্ধে ভরা। অপর একটি হলরুমে বাকি মহিলাদের পাঠানো হলো।
রাতের খাবারের জন্য সবাইকে একটা করে শুকনা রুটি ও 250 ml পানির বোতল দেওয়া হলো। বন্দিদের মধ্যে কেউ কেউ খেলো, আবার কেউ কেউ পাশে রেখে চোখের পানিতে বুক ভাসালো। এদের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল নীলয়, কেননা ওই না কাঁদছিল আর না খাচ্ছিল। দুয়ের মাঝে থেকে শুধু আনমনে অবন্তী কথায় ভেবে যাচ্ছিল।
..
..
..
নীলয়ের হয়তোবা কেবলই চোখ লেগে আসছিল কিন্তু চিৎকার-চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙ্গে গেল। হল রুমের ভেতর তাকিয়ে দেখল, অনেকেই ঘুম থেকে জেগে উঠেছে আবার কেউ কেউ মরার মত পড়ে ঘুমাচ্ছে। চিৎকারের শব্দটা রুমের বাহির থেকে আসতেছে। এজন্য দেখতে সবাই মেরামতাধীন হল রুমের জানালা- দরজা দিয়ে বাহিরের দিকে তাকালো। বাহিরের দৃশ্য দেখে সবাই চোখ কপালে উঠে গেল।
দেখা যাচ্ছে একজন মধ্যবয়স্ক লোক টেবিলের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে আছে! তাঁর চার হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, চার দিকে টেনে। তারপর লোহা কাটার করাত দিয়ে, একটি হাত কেটে ফেলা হলো। লোকটার চিৎকারে পুরা ট্যানেল ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হতে থাকলো।
তারপরে অপর হাত কেটে ফেলা হলো। এবার যেন চিৎকারের মাত্রা আরো বেশি বেড়ে যাচ্ছে। রাতের শিফটের অন্যান্য লেবাররা এই দৃশ্য দেখে ব্যাথায় গুংগিয়ে উঠছে। হাত কেটে ফেলা ব্যক্তিটি এবার টেবিলের উপর লাফাচ্ছিল।
এমন অবস্থায় তার দু পা এক এক করে কেটে ফেলা হলো। ইস্ ভয়ঙ্কর ও বিভৎস দৃশ্য। কেউ না দেখলে কখনোই কল্পনা করতে পারবে না। চার হাত পা কাটার পরে টেবিলের উপর পড়ে থাকা অর্ধ বডি গড়াগড়ি করে নিচে পড়ে যায়। তার কিছুক্ষণ পর নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। এবার বোঝা যাচ্ছিল প্রাণ পাখি খাঁচা ছেড়ে উড়াল দিয়েছে।
এমন অবস্থায় অনেকেই জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে, একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে ছিল। তখন অনেকেই বলাবলি করতেছিল--
"এই লোক এখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল।" আর সেজন্য তাকে এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এতে করে অন্যান্য শ্রমিকরা দেখতে পেল এবং পরবর্তীতে এখান থেকে পালানোর জন্য কোন দুঃসাহস না করে।
অতঃপর খণ্ড-বিখণ্ড লাশ বস্তাবন্দি করে সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলো। এই দৃশ্য দেখে নীলয় ও হল রুমের অন্যান্য লোকজনের চোয়াল ঝুলে যায় আর চোখগুলো যেন কোটর থেকে বের হয়ে আসার পরিস্থিতি হয়েছিল। মানুষ এত নিষ্ঠুর ও নির্মম খুনি হতে পারে, এদের না দেখলে বুঝার উপায় নেই।
এরপর যে যার মত কাজে ফিরে গেল। রাতের ডিউটি সুরঙ্গ বা আন্ডারগ্রাউন্ড আয়তন বাড়ানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আর দিনের ডিউটি শিপট যে যার মতো শুয়ে পরলো। অবশ্য মনে হলো না, কেউ ঘুমাতে পারলো সারারাত। হয়তোবা শেষ রাতের দিকে কিঞ্চিৎ পরিমাণ ঘুমিয়ে ছিল সবাই।
..
..
..
পরেরদিন সকাল ছটা, সবাইকে একদিক থেকে লাঠিপেটা করে ঘুম থেকে তোলা হলো। সবাই ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে এক জায়গায় কাঁপতে লাগলো। অতঃপর ইয়া বড় দানবের মতো এক ব্যক্তি হাতে লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে সবাইকে কাজের নির্দেশনা দিতে থাকলো। 10 মিনিট বলার পরে সবাইকে আধা ঘন্টার জন্য ছেড়ে দেওয়া হলো, প্রাকৃতিক কাজ ও নাস্তার জন্য। এইসব ব্যবস্থা আন্ডারগ্রাউন্ডেই করা আছে, এত বড় বিশাল করে বানানো হচ্ছে সব কিছু। চারো দিকে টোটাল চারটা ট‌্যানেল। দুই পাশে কাজ চলছে, অপর 2 পাশে একটাতে অফিস, অন্যটা লিভিং এরিয়া।
দিনের বেলার কাজগুলোর ম্যাক্সিমাম ছিল কনস্ট্রাকশন নির্মাণ কাজ। ইট, বালু, সিমেন্ট ও লোহা- রডের কাজ আর সাথে ওয়েল্ডিং। নীলয়ের এত সুন্দর পেটানো বডি নিয়েও তেমন কোনো কাজই জানে না! কেননা ওর স্মৃতি হারিয়ে যাওয়ার পর সবকিছুই ভুলে গিয়েছিল। সেটা তো আর দ্বীপের অস্ত্রধারীরা জানতো না, সেজন্য নীলয়কে ইট ও সিমেন্টের বস্তা এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নেওয়ার কাজ করানো হলো। একাই 5-6 জনের কাজ করতেছিল নীলয়। ওর মাথার ওপর যতগুলো তুলে দেওয়া হচ্ছিলো, সবকিছু ষাঁড়ের গতিতে করে দিচ্ছিল। কনস্ট্রাকশন সাইডের কমান্ডার মিস্টার হুক নীলয়ের কাজে খুবই খুশি।
এমনকী নীলয় নিজের কাজের ফাঁকে, অন্যান্য বয়স্ক লোকদের কাজেও হেল্প করছিল। বিশেষ করে একজন বৃদ্ধ লোক, সে হাতুড়ি দিয়ে বড় বড় পাথর ভাঙতেছিল। যা তার জন্য খুবই কষ্টকর ছিল। সেই বয়স্ক লোকের কাছেও নীলয় প্রিয় পাত্র হয়ে গেল কারণ তার পাথর ভাঙ্গাতেও নীলয় হেল্প করলো। এজন্য‌ ওদের সাইড কমান্ডার মিস্টার হুক, নীলয়ের নামকরণ করলো "দ্যা স্টোনম্যান!"
..
..
..
সারাদিন কাজ শেষে রাতের বেলা ওদের সেই আগের হল রুমে শুতে দেওয়া হলো। এমনকি খাবারের মেনুও‌সেইম। সারাটা দিন প্রতিটা লেবারকে দিয়ে এত পরিশ্রম করানো হয়েছিল যে, শুয়ে পড়ার সাথে সাথে সবাই ঘুমিয়ে যায়। শুধু নীলয় জেগে আছে, ওর মনের মধ্যে অবন্তীর প্রতিটা স্মৃতি এখনো দৌড়ে বেড়াচ্ছে। ওই ভাবল, রাতের বেলাতে নিশ্চয়ই অবন্তীকে খুব সহজেই খুজে পাবে। অবশ্য গুহার ভেতর রাত দিন সব সমান ছিল। কেননা এখানে সব সময় অন্ধকার থাকতো, সেজন্য জেনারেটরের মাধ্যমে 24 ঘন্টা বাল্ব জ্বলিয়ে কাজ করানো হয়।
নীলয় চুপিসারে রুম থেকে বের হয়ে, মেইন অফিস ও লিভিং এরিয়ার দিকে ধীরে ধীরে হেঁটে যেতে লাগল। যেটা এই ট্যানেলের বিপরীত দিকে। অফিস, লিভিং রুম এবং নির্মাণাধীন ট্যানেলের মাঝ বরাবর লিফট লাগানো। যেটা দিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড এর সবাই ওঠানামা করে। আর তার পাশে আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে সমস্ত মালামাল উপরে নেওয়া ও আনার জন্য কার্গো লিফট লাগানো।
নীলয়ের এই বুদ্ধিটা মনে হয় বেশ কাজে দিল, কেননা এই মুহূর্তে টানেলের মধ্যে লোক সংখ্যা খুবই কম ছিল। আর যে সমস্ত লেবার সুরঙ্গ বা আন্ডারগ্রাউন্ড এর আয়তন বাড়ানোর জন্য কাজ করছিলো, তারা সবাই যে যার মতো কাজে লিপ্ত ছিল।
নীলয় যখন ট্যানেলের মাঝ বরাবর বা‌ লিফটের নিচে অবস্থান করে, তখন দেখতে পেলো অপর পাশে কালো গ্লাসে ঢাকা দুটো বড় গেট। ভিতরের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। গেটের বাহিরে দু'জন লোক অস্র হাতে দাঁড়িয়ে ডিউটি করছে। কোন অবস্থাতেই ভিতরে যাওয়ার উপায় নেই। অবশ্য নীলয় এর মানে এক ধরনের ভয় কাজ করছে, যদি ধরা পরে যায় তাহলেতো গতরাত্রে সেই ব্যাক্তিটির মত ওকেও নৃশংস ভাবে হত্যা করা হবে।
ঠিক এমন সময় একজন প্রহরী, অপর প্রহরীকে ইশারা করে সিগারেট খাওয়ার জন্য লিফট দিয়ে উপরে উঠে চলে গেল। এই মুহুর্তে একজন দাঁড়িয়ে ডিউটি করছে। পাশাপাশি দুটো গেট থাকাতে নীলয় বুঝতে পারল না, কোন পাশে অবন্তীকে বন্দি করে রাখা হয়েছে!?
তবে যেহেতু সুযোগ পেয়েছে, ফাঁকা পাশেই ঢুকে দেখবে অবন্তী আছে কিনা? তাই সিঙ্গেল প্রহরীকে ফাঁকি দিয়ে, ডানে বামে লক্ষ্য করে "কালো গ্লাসের ভিতরে চলে যায়!" ভিতরে যেয়ে দেখতে পেল, বিশাল বড় করিডর আর ডানে বামে অনেকগুলো রুম। প্রতিটি দরজা আটকানো ছিল। সেজন্য ওই ভেবে নিয়েছিল নিশ্চয়ই এসমস্ত রুমের কোন একটাতে অবন্তীকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। যেদিন নীলয় বন্দি হয়েছিল, সেদিন অপর অস্ত্রধারীর কথা থেকে বুঝতে পেরেছিল। অবন্তীকে বন্দী করে খারাপ কিছু করা হবে!
অতঃপর নীলয় প্রথম রুমের দরজা খুলে ভিতরে নানা মেশিন ও কম্পিউটার ল্যাপটপ দেখতে পেল। অবশ্য রুমের ভেতর কেউ ছিল না। সেজন্য দ্বিতীয় দরজা দিয়ে ভিতরে উঁকি দিয়েছে কিন্তু এখানেও কেউ ছিল না, তবে বিভিন্ন রকমের সিগন্যাল সেট ও টেলিফোন নেটওয়ার্কিং ইকুপমেন্ট ভরপুর ছিল।
এজন্য নীলয় আর একটু সামনে এগিয়ে তৃতীয় দরজা যেই খুলেছে, অমনি এলার্ম বেজে উঠেছে। কারণ এই রুম ছিল অপস রুম মানে অপারেশনাল রুম। এখান থেকে যাবতীয় কিছু কন্ট্রোল করা হয়। সেজন্য অটো সেন্সর দরজাতে লাগানো। নীলয়ের শরীরের সাথে সেন্সর ম্যাচিং করেনি, সেজন্য অ্যালার্ম বেজে ওঠে। ব্যাস সাথে সাথে কয়েকজন অস্ত্রধারী প্রহরী চলে আসে আর ওকে হাতকড়া পরিয়ে চ্যাংদোলা করে ইন্টারোগেশন সেলে ঢোকানো হয়।
..
..
..
এতক্ষণে সবাই বুঝে গেছে, নিশ্চয়ই এই লোকটি কোন গোয়েন্দাসংস্থার হবে। কেননা শারীরিক গঠন, পেশিবহুল হাত, শীতল চাহনি। সব মিলিয়ে গোয়েন্দা এজেন্টের মতোই এট্টিটিউট!
আর বিশেষ ব্যাপার ছিল, ওই যদি এজেন্ট না হয় তবে অপস রুমের ভিতরে ঢুকতে যাবে কেন? এজন্য নীলয়কে অনেক মারধর করা হলো, জিজ্ঞাসাবাদ করলো!
তবে সে উত্তরে বারবার বলছিল শুধু--
"অবন্তী, অবন্তী, অবন্তী!"
অতঃপর সবাই ধারনা করে নিলো, নিশ্চয় ব্যাটা আধা পাগল। এজন্য কোন কিছু না জেনে বুঝে অফিস রুমে ঢুকে গেছে। অবশেষে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য, সেই মার্চেন্ট আইল্যান্ডের যুবকদের লিডার মাইকেলকে ডাকা হলো। যাদের দিয়ে এখানেও লেবারের কাজ করানো হচ্ছে। মাইকেল এসে নিশ্চিত করল এই প্রিন্স ওদের দ্বীপের জেলে।‌ তবে মাইকেল মার্চেন্ট আইলাইন্ডে নীলয়ের স্থিতিকাল লুকিয়ে গেল, কেননা নীলয় ছিল ওদের দ্বীপে মাত্র তিন মাস! মাইকেল হয়তোবা কোন ঝুঁকি নিতে চায়নি, নয়তো এখানে বিরক্ত বোধ।
...
...
...
আন্ডার গ্রাউন্ডের ‌অনেকেই বলেছিলো নীলয়কে মেরে ফেলার জন্য, কেননা পরবর্তীতে ওই ওদের জন্য রিস্ক হয়ে যেতে পারে! তবে কনস্ট্রাকশন সাইডের লিডার মিস্টার হুক বললো--
এই আধা পাগল দানবটি প্রচুর কাজ করতে পারে। একাই পাঁচজনের মালামাল নিয়ে যেতে পারে। সেজন্য ওর নাম দিয়েছে আমি স্টোনম্যান।
নীলয়কে আর মারা হলো না, তবে ওকে শাস্তির ব্যবস্থা করা হলো। আজকে সারারাত শ্রমিকের সাথে সুড়ঙ্গের কাজ করবে। এমনকী কাল দিনের বেলাতেও নির্মাণের কাজ করবে। কোন বিশ্রাম দেওয়া হবে না,‌ এটাই ওর শাস্তি।
নীলয়ের কাজে কোন কষ্ট ছিল না তবে ওর মনে আফসোস, অবন্তীকে দেখতে পেল না। অবশ্য মনেমনে প্রমিস করলো--
"ওই আবার ওখানে ঢুকবে আর অবন্তীর কাছে পৌঁছে যাবেই।"
তবে নীলয়ের কপালে সম্ভবত সুখ ছিল না, কেননা আন্ডারগ্রাউন্ডের মাটি ও বালির সংমিশ্রণ কেটে কেটে আয়তন বাড়ানো হচ্ছিল। সেই সাথে তাল মিলিয়ে ভীম করে ওপরে ছাদ ঢালাই কাজ করা হচ্ছিল। যাতে উপর থেকে ধ্বসে নিচে না পড়ে।
তবে আজ রাতে নীলয়ের কপালে এতই দুর্যোগ ছিল যে, কাজ করার সময় ওরা 10 থেকে 12 জনের একটা টিম কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বালি নিচে চাপা পড়ে যায়। অবশ্য এটা নতুন নয়, এর আগেও অনেকবার এরকম ধ্বস নেমেছে এবং লাশের স্তূপ জমেছে। আজ পর্যন্ত যতগুলো ধ্বস হয়েছে, কেউ বেঁচে ফিরে নি। কেননা এরকম বালি চাপা পড়লে, মিনিমাম 10 থেকে 12 ঘন্টা লাগে উদ্ধার করতে!
..
..
..
অপরদিকে অবন্তী মোটামুটি সুস্থ। ওর শরীর থেকে গুলি বের করা হয়েছে। শরীরে এখন স্যালাইন চলছে, আরো দুদিন লাগবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে। অলরেডি জ্ঞান ফিরেছে এবং ডক্টরের সাথে সাধারণ কথাবার্তা বলতে পারছে। তবে অবন্তী এখানে খুবই নাজুক অবস্থায় আছে। ওর পুরো শরীর থেকে কাপড় খুলে নেওয়া হয়েছে। শুধু একটা সাদা চাদর দিয়ে বুক পর্যন্ত ঢেকে রাখা হয়েছে।
অবন্তী এর মধ্যেই জানার চেষ্টা করেছে এটা কোন দ্বীপ এবং এখানে কেন এভাবে লোকজনকে নিয়ে আসা হচ্ছে? ডক্টর বলতে চেয়েছিল না কিন্তু অবন্তী কিছু লোভনীয় অফার করাতে রাজি হয়ে যায়।
জানতে পারে, এটা বাংলাদেশ একটা দ্বীপ! যার নাম ছিল সেন্টমাটিন, এখন বর্তমানে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে ভ্যাম্পায়ার দ্বীপ!
তবে কেন এই নামকরণ হলো এবং কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে? এসব শুনে অবন্তীর মাথা যেন চক্কর দিয়েছিল। অবশ্য পরবর্তীতে কি হবে, সেটা সম্পর্কে ডক্টরের কোন ধারনা নাই। তবুও ডাক্টর প্রমিস করিয়ে নিয়েছে, এই কথা কারো সাথে শেয়ার করা যাবে না।
..
..
এখন অবন্তীর পুরোপুরি সুস্থ, তাই হসপিটাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হলো কিন্তু তার পূর্বে ওয়েস্টার্ন কালচারের একসেট পোশাক পরিধান করানো হলো। অতঃপর দুজন অস্ত্রধারী লোক এসে অবন্তীকে একটি জমকালো রুমে ঢুকিয়ে বাহির থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলো।
রুমের পরিবেশ দেখে বোঝাই যাচ্ছে, এটা একটি ফিজিক্যাল রিলেশন সেট রুম। উন্নত মানের খাট ও সাথে বেড। পাশেই সাজানো মদের বোতল, সিগারেট, লাইট এবং শারীরিক সম্পর্ক‌ স্থাপনের বিশেষ কিছু জিনিস, দ্রব্য সামগ্রী....!!
এসব কিছু দেখতে এবং নানান কিছু ভাবতেই, হুট করে দরজার লক খুলার শব্দ পাওয়া গেল। মনের অজান্তে অবন্তীর মেরুদন্ডে ঠান্ডা একটা স্রোত বয়ে গেলো! শিরদাঁড়া সোজা হয়ে গেল এবং সাথে দুটো হার্টবিট মিস করলো!!
..
..
#চলবেই
👉👉#প্রশ্নঃ👈👈
১! এই দ্বীপে অস্ত্রধারী লোকদের পরিচয় কী?
অনুরোধ থাকলো, কনটেস্টে সবাই পার্টিসিপেট করবেন। হয়তোবা 100% সঠিক উত্তর কেউই পারবেনা কিন্তু এটা আপনার অনুমান শক্তিকে জাগ্রত করে দিতে সক্ষম হবে!
আর এরকম প্রশ্ন উত্তর পর্বে দুটো সুবিধে হয়ঃ--
১। গল্প গভীর ভাবে পড়া হয়।
২। পাঠক ও লেখকের মধ্যে সম্পর্কটা সুদৃঢ় ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়।
আর হ্যাঁ- অহেতুক কষ্ট নেক্সট লেখার দরকার নেই, কেননা Next part এমনিতেই পরশুদিন দিয়ে দিবো! #ধন্যবাদ
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author
1 comment
Sort by