Bangla Love story "বাংলা লাভ স্টোরি" পাগলি

Bangla Love story  "বাংলা লাভ স্টোরি" পাগলি


মোঃ রাশেদুর ইসলাম শিমুল (আবেগি ছেলে)
প্রথম পার্ট


Bangla Love story  "বাংলা লাভ স্টোরি" পাগলি
Bangla Love story  "বাংলা লাভ স্টোরি" পাগলি


সকাল সকাল মুখের উপর পানির ছিটা পড়তেই ঘুমটা
ভেংগে গেলো। তাকিয়ে দেখি মহারানী আয়নার
সামনে দাঁড়িয়ে ভেজা চুল ঝাড়ছে, আর তার সেই পানি
ছিটকে এসে আমার মুখের উপর পড়ছে। তাতেই ঘুম শেষ।
----কী মহারাজ ঘুম হলো??? উঠে ফ্রেশ হয়ে নামাজে যান।
হাত ধরে টান দিয়ে বুকের উপর নিয়ে জরিয়ে ধরলাম।
বুকের মাঝে।



---ঘুম তো হলো, এবার অন্য কিছু করি।
---এএএই এসব কী হচ্ছে???
---রোমান্স করছি। একটা উম্মা দাওতো।
---রোমান্স করা লাগবে না, এখন উম্মা ও হবে না,
তারাতারি এখন উঠুন।
---৫ মিনিট, তুমি এভাবে থাকবে তারপর উঠব।
---না তা হবে না। আমি গোসল করে এলাম, এবার
তারাতারি গিয়ে গোসল করে নামাজের জন্য রেডি হন।
---তুমি এভাবে না থাকলে যাবনা।
---নছর বান্দা, ঠিক আছে।
বলে শক্ত করে জরিয়ে ধরল।
---এইজে জনাব ৫মিনিট হয়ছে। উঠেন।
---হয়ে গেছে???
---হু....



---চলো উঠি।
উঠে গোসল করে রেডি হলাম নামাজের জন্য।
দরজাই গিয়ে..
---বৌ একটা দাওনা।
---এখন না, নামাজ পড়ে আসুন, এত্তগুলো দিব তখন।
---এখন একটা দাওওওওনা।
---হবেনা, আগে নামাজ, দেরি হয়ে যাচ্ছে। পরে জামাত
পাবেন না।



---ঠিক আছে (মন খারাপ করে)
---এইজে শুনুন বলেই একটা দিয়ে চলে গেলো।
আমিও নামাজ পরতে চলে এলাম।
আমি রাশেদুর ইসলাম শিমুল। আর ও শাবনাজ আক্তার
লিপি। আমার একমাত্র আদরের বৌ। চাকরি সুবাধে আব্বু
আম্মুর থেকে দুরে থাকতে হয়।
নামাজ পরে বাড়ি ফিরে এলাম।
দরজা খুলে দিলো ভেতরে গেলাম।
---এখন কী পাব???
---অবশ্যই। বলেন আমার দুই পায়ের উপর পা দিয়ে
দাড়ালো। কোমরটা শক্ত করে ধরলাম। আমার গলা
জড়িয়ে দরে এত্তগুলো উম্মা দিয়ে....
এবার গিয়ে আরেকটু ঘুমান নাশতা রেডি করে ডাকছি।
বলেই রান্না ঘরে চলে গেলো।




রুমে এসে শুয়ে পরলাম, এখন আর ঘুম আসবে না।
পুরনো সৃতির মাঝে ডুব দিলাম।
মাস ছয়েক আগের কথা
---কালকে বাড়ি আসবি, তোর জন্য মেয়ে দেখছি। মা
---আমি এখন বিয়ে করবো না।
---আমরা কথা ফাইনাল করে ফেলছি, তুই মেয়ে দেখলেই
দিন ঠিক করে ফেলবো।



---তোমাদের তো বলছিই আমি এখন বিয়ে করবো না।
মাত্র চাকরিটা পেলাম, একটু সময় তো দিবা।
---তোর কেও পছন্দ থাকলে বল।
---কেও নেই।
---তাহলে এই বিয়ে ফাইনাল। আর এই বিয়ে না হলে(.....)
---দিন তারিখ ঠিক করো, আমি মেয়ে দেখবো না, তোমরা
তো দেখেছ। আর আমার দেখা বা পছন্দ অপছন্দে তে
কিছুই হবে না।


পরের মাসে বিয়ের দিন ঠিক হয়ছে। অফিস থেকে ছুটি
নিয়ে ১দিন আগে বাড়ি গেলাম। যথা সময় বিয়ে সম্পুর্ন
হলো। বাসর ঘরে ঢোকার আগ পযন্ত শুধু মেয়ের নাম
জানতাম।
সালাম দিয়ে বাসর ঘরে প্রবেশ করলাম। দরজা
আটকাতেই
বিছানা থেকে নেমে এসে সালাম করলো। ধরে দাড়
করালাম।



তোমার স্থান আমার বুকে পায়ে নয়।
এখনো বিয়ের শাড়িতেই আছে দেখে বললাম,
----আমি বাইরে আছি তুমি শাড়ী পরিবর্তন করে নাও।
কিছুখন পরে অন্য শাড়ি পরে বাইরে আসলো।
---চলো অজু করে দুরাকাত নফল নামাজ পড়ে নিয়ে নতুন
জিবন শুরু করি।
এখনো মুখটা দেখিনি।
এবার তাকে কাছে ডেকে মাথার কাপড় সরালাম
তাকে় দেখে মুখ দিয়ে আপনা আপনিই বেড়িয়ে এলো,
মাসআল্লাহ....



হা করে তাকিয়েই আছি, কত্ত সুন্দর আমার বৌ টা, কত্ত
মায়াবী চেহারা, আল্লাহর অপূর্ব সৃষ্টি।
আমাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বৌ লজ্জাই লাল।
---বৌনিচু শ্বরে কী হলো???? এভাবে তাকিয়ে আছেন
ক্যান।



আমি বাস্তবে ফিরলাম.. কিছুটা লজ্জা আমিও পেয়েছি
আমার এরকম কান্ডতে। যদিও লজ্জা মেয়েদের ভুষন।
নামাজ শেষে বললো
---চলেন ছাদে যাই, ছাদে বসে আজ সারা রাত গল্প
করবো।
---চলো।
ছাদে এসে দোলনাতে বসলাম দুজন।
---আমাকে কি আপনার পছন্দ না???
---কিছুটা অবাক হয়ে, এটা মনে হবার কারন কী????
---না, আসলে এই যুগে মেয়ে না দেখে তো কেও বিয়ে
করে না।আর আপনি একবার কথা বলতেও চাননি। তাই।
---আচ্ছা তোমার আমাকে তুমি কিভাবে দেখতে চাও
তুমি????



---জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরবে, কোন খারাপ
অভ্যায় থাকবে না। সবসময় আমাকে ভালবাসবে, একটু
কেয়ার করবেন। এইতো।
---হু খুব সহজ। আমি চেষ্টা করবো সব পালন করতে। তুমি কী
কিছু বলতে চাও যা তোমার মনে হয় আমাকে বলা উচিৎ,
পরে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়।
সে তার ভাললাগা, পছন্দ অপছন্দ, ইচ্ছা হহ সব খুলে
বললো। আমিও নিজের সব বলে দিলাম।
এই কাজটা করলাম যাতে ভবিষ্যৎ এ কোন বিষয় নিয়ে
ঝামেলা না হয়। এসব কথা বিয়ের আগেও বলা যেত, কিন্ত
আব্বু আম্মুর উপর রাগ করে কিছু বলিনী।



এর পরে আরে অনেক কথা হলো, নিচে এলাম ঘুমাতে হবে
কাল আরো অনেক কাজ আছে। ওদের বাড়ি থেকেও
ফিরনির জন্য অনেকেই আসবে আমাদের নিতে।
সেদিনই বুঝতে পারছিলাম আমি যেমন চাই ঠিক সেরকম
একটা জিবন সাথী পেয়েছি। অনেক ভাল লাগছে, আব্বু
আম্মুর উপর আর কোন রাগ নেই।



রুমে এসে শুয়ে পরলাম, বৌ এসে আমার বুকের উপর সুয়ে
পড়লো। মনেই হচ্ছে না কিছু ঘন্টা আগেও আমাদের মাঝে
কোন সম্পর্ক ছিল না।
কবুল শব্দটার জোড়ে এখন কত আপন আমরা দুজন। বৌকে
জড়িয়ে দরে ঘুমিয়ে পরলাম। সকালে ফজর আজানের
শব্দে ঘুম ভংলো। তাকিয়ে দেখি বৌ নেই। আমি উঠে
পরলাম, ওয়াশ রুম থেকে বৌ বের হল। গোছল করে কাল
একটা শাড়ি পরেছে। দেখত খুব মায়াবি লাগছে। আরো
বেশি সুন্দর লাগছে ভেজা চুলে জন্য যেন মায়াটা আরো
বাড়িয়ে দিয়েছে....



জনাব এভাবে তাকিয়ে না থেকে তারাতারি ফ্রেশ হয়ে
নামাজে যান।
আমাকে দেখার অনেক সময় পাবেন।
উঠেন নামাজের সময় হয়ে গেছে, ফ্রেশ হয়ে মসজিদে
যান। বিছানা ছেড়ে উঠে বৌকে জড়িয়ে ধরলাম।
---এই কী হচ্ছে, কেও দেখে ফেলবে।
---কেও আসবে না, আর আমার বৌকে আমি আদর করবো
তাতে কার কী।




---সারা জিবন থাকবে এই আদর।
---কী মনে হয় মহারানীর????
---সময় হলেন দেখবো, এখন ছাড়ুন।
---ছাড়তে পারি একটা শর্তে।
---শর্ত, তো শুনি...
----মিষ্টি খাব।




---এখন মিষ্টি কোথাই পাব???
----তোমার এই মিষ্টি খাব। (ঠোটের দিকে ইশারা করে)
---যা, আমি পারবো না। লজ্জাই লাল হয়ে গেছে।
নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।
---একটা দাও না।
---আমি পারবো না, ছাড়ুন।
---একটা দিলেই ছেড়ে দিব।
---না.....
না বলার সাথে সাথেই চারটি ঠোট এক করে নিয়েছি।
ছেড়ে দিয়ে ফ্রেশ হয়ে নামাজে গেলাম, নামাজ শেষে
বাড়ি ফিরে রুমে আসলাম। দেখি মহারানী নেই। বাইরে
এসে দেখি রান্নাঘরে মায়ের সাথে খুটুরমুটুর করছে আর
মাকে নাশতা বানাতে সাহায্য করছে।
কিছুখন পরে রুমে এলো, চলুন নাশতা করবেন, বলে পেছনে
ঘুরতেই বুকে জড়িয়ে নিলাম। এখন আর নিজেকে
ছাড়ানোর কোন চেষ্টা করছে না।




রুম থেকে বেড়িয়ে নাশতা করে নিলাম। কিছুখন পরে
ওদের বাড়ি থেকে লোক এলো আমাদের নিতে। সবার
সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। ওর দুটি খালাত বোনও আসছে,
সেইরকম চন্চল ও ফাজিল আড্ডা বাজ। তাদের সাথে গল্প
জুরে দিলাম বাধ্য হয়ে।
---কী দুলাভাই আমাদের কী ভুলে গেলেন আপুকে
পেয়ে???? প্রথম শালী। বিয়ের দিন গেটে ও হাত ধোয়ানর
সময় বুঝছিলাম কত বড় ফাজিল ও চন্চল।
---আরে না শালী তো আধাওয়ালী। তোমার বোনকে
ভোলা যায় তোমায় না।
---তাই । অন্য শালী




এভাবে আরো অনেক গল্প করলাম, বৌ ঘরে থাকলেও
কোন কথা বলেনি।
সকল আয়োজন শেষে শ্বশুর বাড়ি রওনা হলাম।
সেখানে পৌছো সেইরকম আদর আপ্রায়ন। নতুন জামাই
বলে কথা। এই জন্যই বলে শ্বশুর বাড়ি মধুর হাড়ি।
সন্ধাই আরো অনেক শালী ও ভাবিদের সাথে বসে অনেক
গল্প করলাম। বৌ সেই সকালের পর আর কোন কথাই
বলেনি আমার সাথে।
রাতের খাবার খেয়ে বৌয়ের রুমে এলাম ঘুমাতে।
এখনো কোন কথা বলছে না।
---বৌ...



----
---ও বৌ.... কী হলো কথা বল.....
----
---কী হলো কিছু তো বলো। টেনে নিলাম বুকের মাঝে।
নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো....
কী হলো কিছুই বুঝলাম না।




এর পর যা বললো তা শুনে তো আমি পুরাই হ্যাং, আমি
হাসব না কাঁদবো???????
পরের পার্ট খুব তারাতারি আসবে।
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!