Bangla Love story "বাংলা লাভ স্টোরি" পাগলি দ্বিতীয় / শেষ পার্ট

Bangla Love story  "বাংলা লাভ স্টোরি"  পাগলি  দ্বিতীয় / শেষ পার্ট

মোঃ রাশেদুর ইসলাম শিমুল (আবেগি ছেলে)
দ্বিতীয়/শেষ পার্ট



Bangla Love story  "বাংলা লাভ স্টোরি"  পাগলি  দ্বিতীয় / শেষ পার্ট
Bangla Love story  "বাংলা লাভ স্টোরি"  পাগলি  দ্বিতীয় / শেষ পার্ট



---যান ওদের কাছেই যান, আমার কাছে কী?????
---কি বলো কার কাছে যাব আমি, আমার লক্ষি বৌকে
ছেড়ে????
---ক্যান, যাদের সাথে এতখন হেসে হেসে গল্প করলেন????
এবার আসল ঘটনা মাথাই ডুকলো। ওর ভাবি ও বোনদের
সাথে গল্প করছি সকালে, সাথে ওকে খোঁচা দিয়ে কথা
বলছি, আবার এ বাড়িতে এসেও সেইরাম আড্ডা দিসি।
আমি তো আর ইচ্ছা করে আড্ডা দেই নি।
কেও নিজে এসে আড্ডা দিলে কি তাঁকে নিষেধ করা
যায়????
---আমি তো নিজের ইচ্ছাই আড্ডা দেইনি।ওরা ধরলো
তাই...
---তাই জমিয়ে আড্ডা দিলাম হু, আর সকালে যা
করলেন????
---সকালে আবার কী করলাম???
---ক্যান শালী আধা ঘরওয়ালী, যান এখন পুরো করে নিয়ে
তাদের সাথে ঘুমান।
---আরে ওইটা তো কথার কথা।
---আমি সব বুঝি যান এখন।
বলেন মুখ ঘুরিয়ে বসে রইলো।
টান দিয়ে বুকের উপর নিয়ে নিলাম।
---এই ছাড়ুন আমাকে।
---উহু ছাড়া তো যাবে না। আমার বৌ কে আমি জরিয়ে
ধরছি, তাতে কার কী???
---দরকার নেই ছাড়েন।
---রাগ করে না, পাগলী, বোঝনা ক্যান।
---আমি সব বুঝি, এখন আমাকে ছাড়েন।
দিলাম ছেড়ে, যাও।
সরে গিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে, আর বলছে,
এখন তো অনেকে দরকার নেই। এখন অনেকে আছে
আমাকে কী দরকার, একটুও ভালবাসে না, কেও । আমি
তো এখন পর।
এই হলো মেয়ে মানুষ, যেখানে মুনি ঋষিগন এদের মন
বুঝতে অক্ষম, আমি অধমের কী ক্ষমতা আছে। যাই
পাগলিটার মান ভাংগাই।
এবার আরো শক্ত করে জড়িয়ে নিলাম,
---এই পাগলি বুঝিস না ক্যান, তোকে ছাড়া আমার চলবে
না, তুই আমার সব। আমি বাধ্য হয়ে আড্ডা দিসি। না হলে
সবাই বলবে শাবনাজের বর টা অহংকারী, কারো সাথে
কথা বলেনা।
তখন তোমার ভাল লাগতো।
এবার মানটা মনে হয় কিছুটা কমেছে।
---উহু, আমার বর খুব ভাল, কেও পচা বললে কবর আছে।
---তাই, আমি তো তোমার কেও না, তাহলে।
---কে বলছে, আপনিই আমার সব।
---তাহলে রাগ করো ক্যান???
---ওদের সাথে কথা বলেন ক্যান, শুধু আমার সাথে কথা
বলবেন।
---আচ্ছা, এত ভালবাস ক্যান।
---কী, আমার বরকে আমি বাসবোনা তো কে বাসবে।
---হয়ছে ঘুমাই।
---হু চলেন...
পরের দিন বাড়ি ফিরে এলাম, কিছুদিন পরেই আবারো
কর্ম স্থলে ফিরে আসতে হলো। ছুটি শেষ। আব্বু আম্মুর
কথাই বৌকে সাথে করে নিয়ে আসলাম।
খুব ভালই চলছে আমাদের সংসার, এখনো অভিমান করে,
নামাজ এক ওয়াক্ত বাদ দিলে সেদিন কথা, খাওয়া সব
বন্ধ, যদি সিগারেটের গন্ধ পাই বলবে আজ আপনার মিষ্টি
বন্ধ।
যদিও আমি বেচাড়া সিগারেট খাইনা, বৌ সেটা জানে।
তার কড়া নিষেধ, যে সিগারেট খাই তার আশপাশেও
থাকা যাবে না।
কখনো কোন জিনিস নেয়ার জন্য জিদ করে না। পছন্দ
গলে বা দরকার হলে বলবে, কিনি দিলে দিই। না হলে
বলি পরে।
এসব নিয়ে কখনো রাগ করে না, জানে পরে ঠিকই দিব।
এই যুগে এরকম মেয়ে পাওয়া খুবই কষ্ট, আল্লাহ আমার
কপালে এরকম একজন দিবন সাথী রাখছে, সেজন্য হাজার
শুক্রিয়া দরবারে।
কিন্তু কি করবো সব সময় তো নিজেকে সেভ রাখা সম্ভব
নয়। তাই মাঝে মাঝেই একটু অভিমান সয্য করতে হয়।
মাঝ রাতে উঠে বলবে উঠেন তাহাজ্জুতের নামাজ
পড়বো।
তারপর উঠে নামাজ পরে ফজর নামাজ পরে তারপর বলবে
এখন একটু ঘুমিয়ে নিন। নাশতা রেডি করে ডাকছি।
এর পর নাশতা রেডি করে ডাকবে, আমি খাওয়া শেষে
অফিস যাই, পাগলিটা বাড়ি একা।
সকালে আমি ওকে খাইয়ে দিই, আর রাতে পাগলিটা
আমাকে।
এইটা পাগলির আদেশ।
বলে সকালে আমি কাজ করি তাই আপনি খাইয়ে দিবেন।
আর আপনি সারাদিন অফিসে কাজ করে ক্লান্ত থাকেন
তাই রাত্রে আমি খাইয়ে দিব।
একদিন রাতে খেয়ে গল্প করছি, আগামি কাল ছুটি তাই
একটি বেশিই রাত করছি।
বৌ লজ্জা লজ্জা মুখে বললো
---আপনাকে একটা কথা বলার ছিল।
---বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে, বলো।
---না মানে আমি.....
---আরে বলো তো।
---আসলে আপনি
---আরে কী আমি আপনি আপনি করছো বলে ফেলো।
---আপনার আব্বু আম্মু দাদা দাদি হতে চলেছে।
---কী, আমি তো শেই খুশি, পাগলিটাকে আরো শক্ত করে
বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। কপালে একটা চুমু একে
দিলাম। এতটা খুশি এর আগে কখনো হয়নি। সেদিন
বুঝছিলাম বাবা হবার খুশি কাকে বলে।
পাগলিটা লজ্জাই মুখ তুলছে না। পাগলিটাকে বুকের
সাথে জরিয়ে ধরে ফোনটা খুজতে লাগলাম। ফোন হাতে
নিয়ে আব্বুকে কল দিলাম। আম্মু ধরলো, আব্বু মনে হয় এখন
বাড়ি।
আম্মু আব্বুকে জানিয়ে দিলাম খুশির খবর টা এরপর শ্বশুর
বড়িতেও জানালাম, দুই পরিবারের সবাই খুব খুশি।
পরের দিন পাগলিটাকে বললাম রেডি হও ঘুরতে যাব।
আধা ঘন্টা পরে একটা পরী যখন এসে দাড়ালো আমার
সামনে। আমি হা করে তাকিয়ে আছি। পড়নে কাল শাড়ি,
দুই হাত ভর্তি কাচের চূড়ি, মাথাই হিজাব। অসাধারন
লাগছে হিজাব পরাতে।
ওকে নিয়ে বের হলাম একটা রিকসা নিলাম ঘন্টা
মিটিয়ে। সারা বিকাল অনেক ঘুরলাম, পাগলিটা
আইসক্রিম, চটপটি ফুসকা খেলো। রাতে ডিনার করে
বাড়ি ফিরলাম।
এখন আর পাগলিটাকে একা কাজ করতে দিই না।
এখন আমি সব কাজে ওকে সাহায্য করি। আর কয়েক মাস
অপেক্ষা। তারপর আসবে সেই খুশির দিন।
বাড়ি একা থাকে বলে চিন্তা হয় তাই, আব্বু আম্মুকে
এখানে এনে রাখছি। শ্বশুর শ্বাশুরি মাঝে মাঝে এসে
দেখে যায়।
মেয়ে দের প্রথম সন্তান সাধারন্ত বাবার বাড়িই হয়।
কিন্তু আমি আমার বাড়িতেই দেখতে চাই আমার
সন্তানকে। তাই আব্বু আম্মু ও শ্বশুর শ্বাশুরি দ্বিমত
করলেও পাগলিটা আমার সাথে ছিল, তাই কেও আর
আপত্তি করে নি।
একটিন অফিসে কাজ করছি, আব্বুর ফোন, ধরতে
---বৌ মার ব্যাথা উঠছে আমরা হাসপাতালে নিয়ে
যাচ্ছি। তুই তারাতারি চলে আয়। বসকে না বলেই বেরিয়ে
পরলাম।
বসকে একটা SMS করে দিলাম।
হাসপাতালে পৌছে দেখি বাবা মা দাঁড়িয়ে আছে,
কাছে গিয়ে জিগেস করলাম।
---শাবনাজ ক্যামুন আছে।
---অপারেশন রুমে নিয়ে গেছে।
খুব টেনশন হচ্ছে, জিবনে আগে কখনোই এত টেনশন হয়নি।
এর মাঝে শ্বশুর শ্বাশুরি ও চলে এলো।
আরো আধা ঘন্টা পরে ডাক্টার বের হলো।
---ডাক্টার আমার স্ত্রী ক্যামুন আছে???
ডাক্টার আশ্চর্য হয়ে
---সবাই সন্তানের কথা জানতে চাই আর আপনি স্ত্রীর
কথা জানতে চাচ্ছেন????
---আসলে আমার স্ত্রীকে অনেক বেশিই ভালবাসি,
সন্তান হতে বাবার বাডিও যেতে দেই নি। সন্তান আরে
পাবো এরকম স্ত্রী আর পাব না আমি।
---আমার ডাক্টারি জিবনে ঘটনা প্রথম দেখলাম। আপনার
স্ত্রী ও মেয়ে দুজনই খুব ভাল আছে। এখন দেখা করতে
পারে। পাশের রুমে আছে।
---আলহামদুলিল্লা। বলে পাশের রুমের দিকে হাটা
দিলাম।
রুমে ঢুকে দেখি বৌ শুয়ে আছে, পাশে শুয়ে আছে ছোট্ট
পরী টা।
কাছে গিয়ে বৌয়ের কপালে একটা চুমু একে দিলাম।
আব্বু আম্মু ও শ্বশুর শ্বাশুরি ও চলে আসছে। আমি সরে
এলাম।
মা গিয়ে ছোট্ট পরীটাকে কোলে নিলো।
এর পর এগিয়ে এসে আমার কোলে দিলো। কোলে নিয়ে
লক্ষ করে দেখি, পরিটা মায়ের জিরক্স কপি। মনে মনে
ভাবছি এখন দুইয়া পরি সামলাতে হবে।
পরের দিন পরি পরির আম্মুকে বাড়ি নিয়ে এলাম।
এখন আম্মুর সময় কাটে ওদের নিয়েই।
অফিস থেকে ফিরে আমিও পরি আর পরির আম্মুর পাশেই
থাকি। দুজনকেই খুব বেশি ভালবাসি।
দোয়া করবেন আমার ভবিষ্যৎ পরি ও পরির আম্মুর জন্য......
(লেখক এখনো অবিবাহিত)
সমাপ্ত
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!