পরী যখন বউ By SMsudipBD

বাসর রাতে আয়েশার হাত ধরতেই বরাবরেই অবাক হয়েছি। আয়েশার হাত স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় অধিক ঠান্ডা। তাও কিছু না বলে চুপচাপ ছিলাম। কিন্তু রাতে হঠাৎ যখন আয়েশাকে জড়িয়ে ধরলাম আমি রীতিমত আরো বেশি অবাক হলাম,



 আয়েশার শুধু হাত না বরং পুরো শরীর ঠান্ডা। মনে মনে এসব অদ্ভুত চিন্তা আসতে লাগলো।
আয়েশাঃ কি হল? সেই কবে থেকে দেখছি আপনি কি চিন্তা করছেন?
আমিঃ না আসলে চিন্তা করছিলাম যে আপনার,,,,


পরী যখন বউ By SMsudipBD
পরী যখন বউ By SMsudipBD



আয়েশাঃ আমার কি?






আমিঃ না থাক কিছু না ঘুমিয়ে পড়ুন।
আয়েশার সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগে শুধু আমার সাথে আয়েশার দুবার দেখা হয়েছিল। আর এই দু বারই আয়েশার সাথে আমার শুধু কথা হয়েছে। কখনও তাকে ধরার কথা কল্পনাও করিনি। যাক শরীরের তাপমাত্রা কম এ জাতীয় কিছু চিন্তা করে ঘুমিয়ে পড়লাম।



কিন্তু সকালে উঠে আয়েশার অদ্ভুত সব আচরণ লক্ষ লক্ষ করলাম। আমি প্রায় সব সময় সকালে উঠে যায়। অর্থাৎ পাঁচটা ছয়টার দিকে। কিন্তু আজ আজব হলেও সত্য দশটার আগে ও আমার ঘুম ভাঙেনি। যদিও রাতে অন্যদিনের তুলনায় 2-1 ঘণ্টা দেরিতে ঘুমিয়েছিলাম। কিন্তু এত দেরিতে তো আমি ঘুম থেকে উঠি না।



ঘুম থেকে উঠতেই আরো বড়োসড়ো একটি ধাক্কা খেলাম। টেবিলে হরেক রকমের খাবার সাজানো। যদি গুনে দেখি তাহলে 30 আইটেম এর বেশি হবে। কিন্তু এত গুলো খাবার কে খাবে? ঘরে শুধু আমি আর আয়েশা থাকি। আমার মা-বাবা থাকে গ্রামে। বিয়ের পরে তারা বলেছে বৌমাকে নিয়ে শহরে যেতে। তারা কিছুদিন পরে আসবে। এতগুলো খাবার দেখে মনে মনে কল্পনার রাজ্যে ডুব দিলাম। একটা মেয়ের পক্ষে এতগুলো খাবার বানানো সম্ভব?আয়েশার প্রত্যেকটা কাজ আমাকে রীতিমত অবাক করছে।
আয়েশাঃ কি হলো এভাবে কি দেখছেন?
আমিঃ না মানে এত গুলো খাবার কে খাবে?


আয়েশাঃ কেন আপনি খাবেন আর কোন কথা হবে না তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আসুন। আমি খাবার রেডি করছি।
মনে মনে চিন্তা করতে লাগলাম এই মেয়ের কাজ সব অস্বাভাবিক কেন? শুধু সকালেই নয় দুপুরে, সন্ধ্যা ও রাতে প্রায় হরেক রকম খাবারের ব্যবস্থা করেছে। সারাদিন শুধু কাজ করলো একটু বিশ্রাম ও নিতে দেখলাম না। হিসাব করে দেখলাম প্রায় 16 ঘণ্টার অধিক কাজ করেছে। বিষয়টা আমাকে আরো বেশি অবাক করলো। কিন্তু আরেকটি বিষয় জানলে আপনারা ও অবাক হবেন। মেয়েটি সারাদিন কাজ করেছে অথচ কিছুই খাইনি। আমি অনেক জোর করেছি খাওয়ার জন্য। যতবারই বলেছি কিছু খেয়ে নাও সে বলেছে তার খিদে নেই। তার নাকি কখনো খিদে লাগেনা। এখন শুধু মেয়েটির কথা শুনে অবাক হচ্ছি না বরং ধীরে ধীরে ভয়ও লাগছে।
মনে মনে একটা চিন্তা আসছে মেয়েটা কি মানুষ নাকি জ্বীন।আর এসব চিন্তা করতে পারছিনা। ভয়ের মাত্রাটা অধিক হারে বাড়তে লাগলো।



ছাদে গিয়ে জ্বীন নিয়ে কয়েকটি আর্টিকেল পড়তে লাগলাম। জ্বীনদের স্বভাব কেমন হয়? প্রায় প্রত্যেকটা আর্টিকেলই আমাকে অবাক করছে। কারন কোন না কোন আর্টিকেল এর সাথে আয়েশার মিল রয়েছে।
একটা আর্টিকেলে বলা হয়েছে জ্বীনরা দেখতে স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় অনেক সুন্দর হয়। এই পয়েন্টটা আয়েশার সাথে মিলে গেল। মেয়েটি দেখতে অসম্ভব সুন্দর।
আর্টিকেলে বলা হয়েছে জ্বীনরা কোন বিশ্রাম ছাড়াই সারাদিন কাজ করতে পারে, কিন্তু অবাক হলেও সত্য এই পয়েন্টটিও আয়েশার সাথে মিলে গেছে।
আবার আরেকটি আর্টিকেলে বলা হয়েছে জ্বীনদের কখনো ক্ষুধা লাগে না। এভাবে অনেকগুলা আর্টিকেল পড়েছিলাম।



কিন্তু একটা আর্টিকেল সত্যিই আমার আকর্ষণ কেড়ে নিল।জ্বীনদের কে যখন যেটা বলা হয় তারা সেটা করার জন্য প্রস্তুত থাকে। এই আর্টিকেলটি পরে আমার মাথায় কিছু বুদ্ধি আসলো। চিন্তা করলাম আয়েশার উপর এপ্লাই করা যাক। আমি নিচে গিয়ে দেখলাম আয়েশা কাজ করছে।
আমিঃ আয়েশা একটু এদিকে আসুন?
আয়েশাঃ বলুন?



আমিঃ সোফায় গিয়ে একটু বসুন।
মনে মনে চিন্তা করছিলাম প্রশ্ন করবে কি জন্য বসব। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে সোফায় বসে থাকল। আমার কৌতূহল আরও বেড়ে গেল।
আমিঃ আমার সাথে রুমে আসুন।




আমি আয়েশাকে নিয়ে রুমে ঢুকলাম।
আমিঃআয়েশা আমাকে একটি গান শোনান?
আয়েশা গান গাওয়া শুরু করল। খুব মধুর কন্ঠ।
আমিঃ আয়েশা একটু জানালাটা লাগিয়ে দিন।
আয়েশা জানালা লাগিয়ে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকলো।
আমিঃ আচ্ছা একটু খুলে দিন।




আমি আয়েশার ধৈর্য পরীক্ষা করা শুরু করলাম। কারণ একটি আর্টিকেলে বলা হয়েছে জ্বীনদের অনেক ধৈর্য্য রয়েছে।
আমিঃ আয়েশা আবার খুলে দিন, আবার লাগিয়ে দিন, আবার খুলে দিন, আবার লাগিয়ে দিন, আবার খুলে দিন, আবার লাগিয়ে দিন।
এভাবে প্রায় অনেক বার বললাম কিন্তু অবাক করার বিষয় আয়েশা একবারও বিরক্ত না হয়ে আমার হুকুম পালন করল। সময় যত ঘনিয়ে আসছে আয়েশার প্রতি কৌতূহল আমার ততই বেড়ে যাচ্ছে।
আমিঃ আয়েশা আপনি এখনই আমার সামনে আপনার....

পরী_যখন_বউ
PART—1
Romantic Love
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ , ,
About Author
1 comment
Sort by