[Love story] অভিযোগ । লিখা মোঃ রাফি। পার্ট- ৫

_ তুই এমন করে বলছিস মনে হয় আমি তোর কথা কখনো শুনি নি?
_ না, আগে আমার মাথায় হাত রেখে বলতে হবে।
_ ওকে বাবা, বল এবার। কি জানতে চাস?
_ তোর অতীত।
সোহানার মুখে অতীত শব্দটা শুনে রাফির হাসিখুশি মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গেল।
_স্ট্যাচু হয়ে গেলি কেন? তুই কিন্তু আমার মাথা ছুঁয়ে কথা দিয়েছিস।
_ প্লিজ সোহানা, এটা ভুলে যা না।
_ তুই বলবি না, তাই তো?


[Love story] অভিযোগ ।  লিখা মোঃ রাফি। পার্ট- ৫
[Love story] অভিযোগ ।  লিখা মোঃ রাফি। পার্ট- ৫



_বলার মত আছেই বা কি? ছোটবেলা থেকে আমি বাবা মায়ের আদরের সন্তান ছিলাম। রাজপুত্রের মত আবির্ভাব বলা যায়। স্কুলে ভালো ছাত্র হিসেবে সবাই খুব আদর করত। আর এভাবেই কেটে যায় আমার স্কুল লাইফ। গোল্ডেন এ+ নিয়ে কলেজে ভর্তি হই। স্বাভাবিক ভাবেই রোমাঞ্চিত ছিলাম কলেজের প্রথমদিন। সেই দিনে আমার চোখ আটকে যায় একটা মেয়ের উপর। নীল থ্রী-পিছ পড়া ছিল মেয়েটা। তার সৌন্দর্য যেন নীল কালারটা আরেক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল। কেটে যায় প্রথম দিন এই ভাবেই। পরেরদিন মেয়েটাকে আমাদের ক্লাসে দেখি। কেন যেন অনিচ্ছা স্বত্বেও, বার বার ওর দিকে চোখ পড়ে যাচ্ছিলো। এর মধ্যে একবার দুজনের চোখাচোখিও হয়ে গেলো।
_তারপর?
_ আমি লজ্জায় নিচের দিকে চোখ নামিয়ে নিলাম। তারপর থেকে এই ভাবে চলতো। আমি শুধু ওর দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতাম। যখন ও আমার দিকে তাকাতো আমি চোখ নিচু করে নিতাম। রোজকার রুটিনবাঁধা ছিল এসব। একদিন আমার এই রুটিনে জল ঢেলে দিলো মেয়েটা। আমি ওর দিকে তাকাতেই ও রেগে গেলো।
_এই ছেলে তুমি আমায় চেনো?
_ হুম। আপনি আমাদের ক্লাসের।
_ চুপ। আর আমার দিকে তাকাবেন না। এক মাস ধরে লক্ষ করছি আপনি আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন।
আমি কিছু না বলে মাথা নিচু করে রইলাম। সে দিন থেকে আমি ওকে দেখলে মাথা নিচু করে নিতাম।
ওহ এর মাঝে আমার একটা ছেলে বন্ধু হয়েছিল ও। তেমন পড়তো না, ওর এ্যাসাইনমেন্ট গুলা আমিই করে দিতাম। সেই সুবাদে সে আমার ভালো বন্ধু ছিল। ওর নাম ছিল রাশেদ। খুব দুষ্টু ছিল। অনেক প্রেম করতো। আমি যখন মেয়েটাকে দেখতাম ওই দিনের পর থেকে, তখনই মাথা নিচু করে নিতাম অথবা পথ চেইঞ্জ করে নিতাম।
_ একদিন আমি আর রাশেদ বসে আছি। তখন ওই মেয়েটা আসলো।
_রাশেদ ভাই, আপনার বন্ধু হাবলাটাকে আপনি কিছু শিখাতে পারেন না?
_ কেন? তোমার মনে কি ওর জন্য ঘন্টা বাজছে নাকি?
_ আমার না তোমার বন্ধুর বাজে। কিন্ত ভয়ে বেচারা বলার সাহসটুকু পর্যন্ত পায় না।
_ কিরে দোস্ত তলে তলে এত কিছু? আর আমি জানি না!
_ আরে তেমন কিছু না।
_এই ছেলে?? আমার নাম জানো?
_ না জানা হয়নি।
_ নাম জানো না আবার প্রেম করতে চাও? আমি নুসরাত।
পরের দিন ক্লাসে যেতেই নুসরাত এগিয়ে এলো।
_রাফি তুমি কি আমায় ভালোবাস?
আমি কিছু না বলে চুপচাপ রইলাম।
_তোমার মত হাবার আর প্রেম করা লাগবে না।
এই বলে নুসরাত চলে যেতে লাগলেই আমি নুসরাতের হাত ধরে বলিঃ- ভালোবাসি, বড্ড ভালোবাসি তোমায়।
সেই থেকে শুরু আমাদের প্রেম। ক্লাসে আর চোখে দেখা সবাইকে ফাঁকি দিয়ে প্রেম করা, আর অন্য সব জুটির মত আমরা সিনেমা, ফুসকা, রিক্সা করে ঘুরে বেড়ানো, রেল লাইনের পাশ দিয়ে দুজন দুজনের হাত ধরে চলা, কিছুই বাদ যায়নি। দিন যত যাওয়া শুরু করলো ভালোবাসা তত বাড়তে লাগলো। দুজন দুজনের জন্য নেশাক্ত হয়ে উঠলাম।
_ একদিন ক্লাস ফাঁকি দিয়ে দুজন মেলায় ঘুরতে গেলাম। আমি নুসরাতকে দুই ডজন নীল চুড়ি কিনে দিলাম। আর নুসরাত আমায় একটা ঘড়ি গিফট করল। নুসরাত ঘড়িটা পরিয়ে দিলো আমার হাতে।
_রাফি আমি যদি মরে যাই, তারপরও যেন আমার এই ঘড়িটা তোমার থেকে না হারায়। এটা আমার ভালোবাসার চিহ্ন। এটা তোমার হাতে থাকলে মনে করবে,আমি তোমার সাথে আছি।
সেদিন আমি কিছু না বলে নুসরাতকে জড়িয়ে ধরে কাঁদি। নুসরাত আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে নিজেও কেঁদে ফেলে।
_এই পাগল? কাঁদিস কেন,? মনে রাখবি আমার হৃৎপিন্ড যতদিন চলবে, ততদিন আমি তোর।
দ্বিতীয় বর্ষে টেষ্ট এক্সামের প্রথম দিন আগে নুসরাত আমায় ডাকলো।
_ রাফি একটা কথা বলব তোমায় রাখবা?
_ আমি কি কখনো তোমার কথা ফেলেছি?
_ আগে আমার মাথায় হাত রেখে বল, আমার এই কথা রাখবাই?
_ হুম বলো শুনব ( মাথায় হাত রেখে)।
_ তুমি আমায় ভুলে যাও।
নুসরাতের কথা শুনে,আমি ওর মাথা থেকে হাত সরিয়ে নিলাম।
_প্লিজ নুসরাত, এমন কিছু বল না। তুমি চাইলে আমায় খুন করতে পারো, কিন্তু আমায় ছেড়ে যেও না ( কাঁদতে কাঁদতে ) ।
_ রাফি আমি আমার কথা বলে দিয়েছি। আমার বাবা মা আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে। আমি চাই না তুমি আর আমার সাথে যোগাযোগ করো।
এই বলে নুসরাত চলে যায়। আর আমি জ্ঞানহীন পাগলের মত ঘাসের মাঝে বোবার মত বসে পরি। আমার মুখ থেকে কিছুই বের হচ্ছে না। বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছিল। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম। আর পড়ার দিকে মন বসছে না। তাই আম্মুর থেকে এক হাজার টাকা চেয়ে নিলাম। আর আমি পুরো টাকায় সিগারেট কিনে নিয়ে আসলাম। সারাটা রাত ছাদে বসে সিগারেটের ধোঁয়া উড়িয়েছি। আর পাগলের মত হেসেছি, আবার কেঁদেছি।হঠাৎ করে তখন অসুস্থ হয়ে পড়ায় এক্সামে আমি ১০ মার্কের উপর আন্সার করতে পারি নাই। নুসরাত সম্পূর্ণভাবে আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। আমি তিন দিন পর ওর বাসার সামনে যাই। ওর বাসার সামনে যেতে ও আরো রেগে যায়।
_ রাফি তুমি চলে যাও প্লিজ। তিন দিন পর আমার বিয়ে আমার জীবনটা নষ্ট করো না।
আমি হাসতে হাসতে বললাম, "আর আমার জীবনের যে গতিরোধ থামিয়ে দিয়েছো? কি অধিকার আছে তোমার আমার জীবনটা নষ্ট করার? প্লিজ নুসরাত আমায় ছেড়ে যেও না তুমি?"
_ রাফি আমি আমার ডিসিশন আগেই জানিয়ে দিয়েছি।।
নুসরাত এই বলে চলে গেল। আমি দাঁড়িয়েছিলাম নুসরাত যদি একবার ফিরে আসে সেই আশায়। একটু পর তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। আমি একপাও নড়ি নি নুসরাত ফিরে আসবে সেই আশায়। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে,আমি বাসায় চলে আসি সে দিন। রাতে খুব জ্বর হয়। আমার জ্ঞান ফিরার পর আম্মু বলছিল আমি নাকি দুই দিন অজ্ঞান ছিলাম। এর মাঝে পরিবারের সবাই জেনে যায় নুসরাতের কথা। নুসরাতের আব্বু নাকি বাসায় এসে ওয়ার্নিং দিয়ে গিয়েছিল, আমি যদি আর নুসরাতকে ডিস্টার্ব করি, তবে খুব খারাপ হবে। আম্মুও আমাকে অনেক বোঝালো নুসরাতকে ভুলে যেতে।
কিন্তু আমি কিছুতেই নুসরাতকে ভুলতে পারি না। আগামীকাল নুসরাতের বিয়ে আমি তাই আবার নুসরাতের বাড়িতে গেলাম। নুসরাত অপমান করল। যা ইচ্ছে তাই বললো আর বললোঃ- আমার হুবু বর ডাক্তার। তুই পাগল, তোর হাত ধরে আমি বেড়িয়ে যাব কোন দুঃখে?
খুব আঘাত লাগছিল ওর কথায়। তাই ওর গলা চেপে ধরলাম। বললামঃ- ফিরিয়ে দে আমার সব দিন গুলো। আমার ভালোবাসা, আমার আবেগ, আমার অনুভূতি গুলো। ঠিক তখনই পেছন থেকে কে যেন আমার মাথায় আঘাত করে।।জ্ঞান ফিরতে দেখি আমার পাশে পুলিশ দাঁড়ানো
আমি বললামঃ-আপনারা?
_ পুলিশ লোকটি হেসে বললো তোমার জ্ঞান ফিরার অপেক্ষা করছিলাম। তারপর আমায় জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি আমার অপরাধ জানতে চাইলে পুলিশ লোকটি বলে হত্যার চেষ্টা ধর্ষণ সাথে চুরির অভিযোগ আছে আমার নামে। আর এর প্রধান সাক্ষী নুসরাত সে নিজে এসে অভিযোগ করে গেছে।
চলবে
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!