[Love story] অভিযোগ । লিখা মোঃ রাফি। পার্ট- ৭

[Love story] অভিযোগ ।  লিখা মোঃ রাফি। পার্ট- ৭

ডাক্তার যখন রিপোর্ট গুলো দেখছিল তখন আমি বার বার বলছিলামঃ-"প্লিজ ডাক্তার সোহানার কি হয়েছে বলুন।"
_আপনি পেশেন্টের কি হন?
_ আমি ওর ফ্রেন্ড আর উনি ওর মা।
_ দেখুন খুব একটা সুখবর নেই। আল্লাহই ভালো জানেন। তবে রিপোর্ট অনুযায়ী মেয়েটি আর বেশি দিন বাঁচবে বলে মনে হয় না। কারণ ওর ব্লাড ক্যান্সার।


[Love story] অভিযোগ ।  লিখা মোঃ রাফি। পার্ট- ৭
[Love story] অভিযোগ ।  লিখা মোঃ রাফি। পার্ট- ৭


ডাক্তারের কথা শুনে আমি ধপ করে মাটিতে বসে পরলাম। আর আন্টি মাথা ঘুড়ে পড়ে গেল। তারপর ডাক্তার আন্টিকে একটা কেবিনে ভর্তি করে নিল। একটু পর ডাক্তার আমাকে ডাকলো।
_তোমার আন্টির জন্য O+ রক্ত দরকার।
_ আমার তো B+ তাহলে এখন কি করব ডাক্তার?
_ তুমি দেখ কোথাও থেকে মেনেজ করতে পারো কি না। আমি ও ট্রাই করছি ।
আমি বেড়িয়ে পরলাম ব্লাড এর সন্ধানে। কিন্ত কোথাও পেলাম না। আমার চোখ বেয়ে পানি পড়ছে। যারা আমায় জীবন দিল বিপদের দিনে আমি তাদের কিছু দিতে পারলাম না। মাথাটা ব্যথা শুরু করে দিয়েছে। ঠিক এমন সময় কারো কণ্ঠে থমকে গেলাম।
_রাফি তুই এখানে?
পেছনে তাকিয়ে অবাক হয়ে যাই। কারণ ও মেঘলা ছিল। আগের থেকে কেমন জানি দেখতে পালটে গেছে মেঘলা। আমি ওর সামনে দাঁড়াতে চাচ্ছিলাম না। তাই চলে আসতে লাগলাম। এমন সময় মেঘলা ছুটে এসে আমার হাত ধরলো।
_ রাফি তুই কই ছিলি? অনেক কিছু বদলে গেছে এই বছর গুলায়। তোকে অনেক কিছু বলার আছে।
আমি রাগ নিয়ে আমার হাত ছাড়াতে ঝাঁকি দিলাম।
_ কোন সাহসে একজন নেশাখোরের হাত ধরেছিস?
এক ঝটকায় হাতটা মেঘলার হাত থেকে ছাড়িয়ে নিলাম। আর মেঘলার সামনে থেকে চলে আসলাম।
ডাক্তার আমায় দেখে বললো ব্লাড ম্যানেজ হয়ে গেছে ।
রাতে আন্টির জ্ঞান ফিরলো। আমি আন্টিকে বসতে সাহায্য করলাম।।
_আন্টি চিন্তা করবেন না। আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাদের কাছ থেকে এমন ভাবে সোহানাকে নিয়ে যাবে না ।
আন্টি আমায় ধরে চিৎকার করতে লাগলো। সোহানার এখনো জ্ঞান ফিরেনি। আন্টি পাগলামো করছিল। সোহানার এই অবস্তায় আমার ভিতরটা ফেটে যাচ্ছে । কিন্ত আন্টির সামনে প্রকাশও করতে পারছি না। এতে আন্টি আরো ভেঙ্গে পরবে।
আমি ডাক্তার কে অনেক বলে সোহানার কেবিনে ডুকলাম। ওর হাতটা ধরলাম।।
_আমাকে বাঁচতে শিখিয়ে নিজেই চলে যাচ্ছিস? এত স্বার্থপর তো ছিলি না তুই?
চোখ থেকে পড়া নোনা জলগুলো যেন আজ সাক্ষী হয়ে রইলো সোহানাকে ছাড়া রাফির লাইফটা এগুনো অনেকটা অসম্ভব ।
তিন দিন পর সোহানাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। সোহানাকে দেখে আন্টি কাঁদে। আমি নিরবে কাঁদি। সোহানা আমাদের অবস্থা দেখে কিছুটা বুঝতে পারে যে ওর সাথে খারাপ কিছু হয়েছে।
_ রাফি তুই আর আম্মু কি আমার থেকে কিছু লুকানোর চেষ্টা করছিস? ( সোহানা)
_ ঐ তোর আমাকে সন্দেহ হল? ভালোই তো আমি আজ তোর কাছে মিথ্যা বলি ( রাগ দেখিয়ে)
_ রাফি তা না--। কেন জানি আমার মন বলছে আমার বড় কিছু হয়েছে আমি আর বাঁচব না বেশি দিন।
সোহানার কথা শুনে আমি আর স্থির থাকতে পারলাম না। শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরলাম সোহানাকে।
_আর কখনো এমন কথা মুখে নিলে তোর সামনে আমার জীবন শেষ হবে ( কেঁদে কেঁদে)
_ এই পাগল কাঁদিস কেন? তোর চোখের পানি একদম সহ্য করতে পারি না।
_ হুম।
_ আচ্ছা বল আর কয়েকদিন পর তো রেজাল্ট দিবে তখন তুই কোথায় এডমিশন নিবি?
_ তুই যেখানে নিস।
_ দূর পাগল তুই জানিস আমার চোখে শুধু তোর স্বপ্ন গুলো ভাসে। তুই ঢাকা মেডিকেল কলেজে এডমিশন নিবি কথা দে।
_ হুম তোর কথা শুনি নাই এমন হয়েছে কখনো?
_ রাফি আর একটা কথা তোর সাথে কেউ অন্যায় করলে তুই তাকে বকবি না। সরি বলে দিবি। কারণ একদিন সে তার ভুল বুঝবেই।
_ আচ্ছা তুই মুরুব্বিদের মত এত উপদেশ দিচ্ছিস কেন?
_ বলা তো যায় না কখন না থাকি।
_ সোহানা----।( রাফি গলায়)।
অবশেষে আসলো সেই দিন।
চলবে।
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!