গল্পঃ-মাফিয়া গার্লফ্রেন্ড

গল্পঃ-মাফিয়া গার্লফ্রেন্ড
পর্বঃ-১
লেখকঃ- নীল অনুভূতি

কলেজের গেটে ঢুকতেই পিছন থেকে কে যেনো বলো উঠলো প্যান্টের চেইন এভাবে খুলে রেখে কেউ কলেজে অাসে নাকি? এমনটা অাগে কখনো দেখি নাই।


গল্পঃ-মাফিয়া গার্লফ্রেন্ড
গল্পঃ-মাফিয়া গার্লফ্রেন্ড


--অামি পিছনে তাকিয়ে দেখি একদল মেয়ে হা হা করে হাসতে হাসতে কলেজের গেট দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।
.
--অামি অবাক হয়ে মেয়েগুলোর হাসি দেখতেছি। এমন সময় মেয়েগুলো বলে উঠলো অামাদের দিকে না তাকিয়ে প্যান্টের চেইনের দিকে লক্ষ কর।
.
--অামি পেন্টের চেইনের দিকে তাকাতেই জিবে কামড় দিয়ে বসলাম। এতোটা লজ্বায় এর অাগে কখনো পড়ি নাই। অার ওদিকে বজ্জাত মেয়েগুলো হাসতে হাসতে চলে গেলো। মেয়েগুলো একটু ভালো ভাবে অামাকে বলতে পারতো। এতো গুলো মেয়ে অামার প্রেস্টিজ পামছার করে দিলো।
.
--অাসলে অাজকে কলেজে প্রথম দিন ওদিকে অামার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গিয়েছিলো তাই তাড়াহুড়ো করে অাসতে গিয়ে প্যান্টের চেইনটাই দিতে ভুলে গেছি।। ভাগ্য ভালো ভিতরে অারেকটা ছোট পেন্ট ছিলো। লজ্বা লজ্বা। তা না হলে প্রেস্টিজের একদম ফালুদা হয়ে যেতো।
.
--যাই হোক যেটা হবার হয়ে গেছে সেটা ভেবে অার লাভ নেই। এতো কিছু না ভেবে চোখ বন্ধ করে প্যান্টের চেইনটা দিয়ে সামনের দিকে হাটা শুরু করলাম। কলেজে তেমন কোন পরিচিত বন্ধু নেই।। তাই রুমে ঢুকেই প্রথমে কয়েক জনের সাথে পরিচিত হয়ে বন্ধুত্ব বানিয়ে নিলাম।
.
--এমন সময় সিজান বলে উঠলো দোস্ত কলেজের গেটের সামনে তোকে দেখলাম একদল মেয়ের দিকে তুই তাকিয়ে ছিলি অার মেয়ে গুলো তোর দিকে চেয়ে হি হি করে হাসছিলো। কাহিনি কি বলতো? প্রথম দিন কলেজে এসেই প্রেমে পড়ে গেছিস নাকি?
.
--অারে দোম্ত সে কথা অার বলিস না সে এক অন্য রকম ঘটনা ঘটে গেছে। প্রথম দিনই অামার প্রেস্টিজের বারোটা বেজে গেছে।
.
--এমন সময় পাশে থেকে ফাহিম নামের এক বন্ধু বলে উঠলো হ্যা দোস্ত অামি দেখলাম তোকে একদল মেয়ে তোর দিকে তাকিয়ে হি হি করে হাসছিলো। যাই করিস দোস্ত মেয়েগুলোর থেকে দুরে থাকিস।ওদের মধ্যে একজন লেডি ডন মেয়ে অাছে। সে নাকি বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। মেয়েটা একদম সুবিধের নয় খুব সাংঘাতিক।। শুনেছি মেয়েটার বাবার টাকা পয়সার কোন অভাব নেই। মুখে যেটা বলে সেটাই করে থাকে। কলেজের সব থেকে সাংঘাতিক মেয়ে। কাউকে ভয় পায় না। কলেজের সব ছেলের ক্রাশ ওই মেয়েটা কিন্ত কেউ ওকে ভয়ে প্রোপজ করতে পারে না। খুব ডেন্জারাস মেয়ে।
.
--এসব গল্প করতে করতে এমন সময় ক্লাস রুমে স্যার চলে অাসলো।
.
--ক্লাস শেষে কিছুক্ষন পরে কলেজ থেকে বের হয়ে বাসার দিকে রওনা দিলাম। সেই সাথে ছোট করে অামার পরিচয়টা অাপনাদের দিয়ে দিয়। নাম সুমন অাহম্মেদ। বাবা মায়ের ছোট ছেলে। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে পড়ি।
.
--কিছুক্ষন পরেই বাসায় চলে অাসলাম।
.
--রুমে ঢুকতেই অাম্মু বলেলেন......
বাবা প্রথম দিন কলেজ কেমন কাটলো?
.
--অার বলো না মা প্রথম দিন কলেজে গিয়ে প্রেস্টিজ পামছার হয়ে গেছে.
.
--কেন কি এমন হয়েছে কারো সাথে কোন ঝামেলা করেছিস নাকি?
.
--বাদ দাও তো মা তোমাকে এসব কথা বলা যাবে না। অামার খুব ক্ষুধা লাগছে তাড়াতাড়ি কিছু খাইতে দাও।।
.
--অাচ্ছা ঠিক অাছে!! তুই ফ্রেশ হয়ে অায় অামি তোর খাবার রেডি করছি।
.
--খাবার শেষে বন্ধুদের সাথে অাড্ডা দিতে বেরিয়ে পড়লাম।.
.
--পরের দিন সকালে অাবার কলেজে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পড়লাম। কলেজের ভিতরে ঢুকতেই পিছন থেকে কারা যেনো বলা বলি করছে দোস্ত কালকের সেই প্যান্টের চেইন খুলা সেই ছেলেটা না? এমন
সব বলছে অার হাসা হাসি করছে।
.
--অামি পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখি সেই বজ্জাত মেয়ে গুলো। এখন দেখতেছি এই কলেজে অামার মান সম্মান বলে কিছু থাকলো না।মেয়ে গুলোর হাসি দেখে থাপ্রাইতে ইচ্ছে করছে। সব শেষ হয়ে গেলো অামার। অামি নিজেকে বললাম সুমন তুই নিজেকে কন্ট্রোল রাখ না হলে বিপদ ঘটে যেতে পারে। অামাকে নিয়ে হাসা হাসি করার প্রতিশোধ সময় হলে ঠিক নিয়ে নিবো।
এই বলে প্যান্টের চেইনটা ঠিক অাছে কি না সেটা দেখে নিলাম যাই হোক অাজকে অার ভুলটা হয়নি তার পরে সামনে হাটা শুরু করলাম।
.
--এমন সময় পিছন থেকে মেয়ে গুলোর মধ্যে থেকে অামাকে একজন ডাক দিলো। অামি শুনেও না শুনার বাহানা করে সামনের দিকে হাটতে থাকলাম।
অাবার অামাকে ডাক দিলো.....
ওই চেইনখুলা ছেমড়া তোকে না ডাকতেছি কথা না শুনে কই যাস।
.
--অামি তো বেশ লজ্বায় পড়ে গেলাম। এই মেয়ে গুলো দেখছি অামার সম্মানের তেরোটা বাজিয়ে ছাড়লো।
.
--পিছন ঘুরে চারিদিকে তাকিয়ে বললাম জ্বী অামাকে ডাকতেছেন?
.
--তোর কি মনে হচ্ছে অন্য কাউকে ডাকছি...এদিকে অায়.
.
--অামি সামনে গিয়ে বললাম কিছু বলবেন?
.
--এমন সময় শার্ট প্যান্ট পরে থাকা একটা মেয়ে বললো নাম কি তোর?
.
--মেয়েটাকে দেখে মেয়ে মনে হচ্ছে না যেভাবে শার্ট প্যান্ট চোখে চশমা পরে অাছে দেখে মনে হচ্ছে এটা ছেলে। তবে দেখতে মাশাঅাল্লাহ অনেক সুন্দর।
.
--অামি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে মেয়েটির দিকে হা করে তাকিয়ে অাছি। এমন সময় মেয়েটি বললো এমন হা করে চেয়ে কি দেখছিস?
.
--ইয়ে না মানে কিছু না। অামার নাম সুমন অাহম্মেদ।
.
--বাহ তোর সামটা বেশ সুন্দর তো।
.
--বাবা মায়ের পছন্দের নাম সুন্দর হওয়াটাই স্বাভাবিক।
.
--পাশে থেকে একটা মেয়ে বললো তুই নিশাত কে চিনস?
.
--অামি একটু মজা করে বললাম। নিশাত নামের মানুষটা ছেলে না মেয়ে নাকি কোন এলিয়েন? তাকে চিনে অামার কি লাভ নিশাত নামে কাউকে চিনি না।
.
--এই কথা বলতেই মেয়ে গুলোর মধ্যে শার্ট প্যান্ট পরে থাকা মেয়েটা অামাকে এক থাপ্পড় কষিয়ে দিলো।।
.
--অামিও সাথে সাথে পাল্টা জবাব দিয়ে দিলাম। ঠাস করে এক থাপ্পড় কষিয়ে দিলাম। (
.
--পাশে থেকে একটা মেয়ে বলে উঠলো তোর এতো বড়ো সাহস তুই নিশাতের গায়ে হাত তুলিস? তোর সাহসতো কম না।
.
--ও তাহলে এই মেয়ের নাম নিশাত!
.
--এই কথা বলতেই ওর বান্ধবিরা সবাই মিলে অামাকে ঘিরো ধরলো। অার কলেজের সবাই অামার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে অাছে।

ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন!!

চলবে..........
পরের পর্ব পেতে রিকুয়েস্ট দিয়ে পাশে থাকুন
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!