[ Life Story ] গল্পঃ জীবন যন্ত্রণা

স্বামীর কাছে শুধু রাতের উপভোগের জন্যই ছিলাম আমি।আর আমার নরম দেহটাই ছিলো তার পছন্দের তালিকায়।
কিন্তু আমার যে রাতের সুখ ছাড়া আরও কিছু চাই সেটা তার বুঝার ক্ষমতা হয় নাই।

গল্পঃ জীবন যন্ত্রণা
গল্পঃ জীবন যন্ত্রণা


আমার নাম নীশি।আজ থেকে এক বছর আগে শফিকের সাথে আমার পারিবারিক ভাবেই বিয়েটা হয়েছে।বিয়ের কয়েক মাস খুব ভালোভাবে সময় কাটলেও এখন যেন তা শুধুই স্বপ্ন।
আজ আমি পাঁচ মাসের প্রেগন্যান্ট। কিন্তু আমার ভালো মন্ধ দেখাশোনার মতো কেউ নেই।শফিক আছে শুধু চাকরীর ব্যস্ততায়।বিয়ের ১ বছর পর বাচ্চা নিয়েছি।সে চায়নি আমি এখুনি বাচ্চা নেই কিন্তু বাধ্য হয়েই আমাকে বেবিটা নিতে হয়েছে।ভেবেছিলাম বাচ্চা নিলে হয়তো আমার প্রতি তার একটু মায়া কাজ করবে।কিন্তু পাঁচ মাসের অন্তসত্তা থাকা সত্তেও আজ আমাকে তার বাড়ির যত কাজ আছে কুয়ো থেকে পানি তোলা,কাঁচা ঘর কত দিন পর পর পাশের পুকুর থেকে মাটি এনে সারা বাড়ি নেপ দেওয়া,রান্নার জন্য যত মশলা সব পাটায় ফেসানো তারপর তিন বেলা রান্না এটা তো প্রতিদিনের রুটিন মাফিক কাজ।কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাই তবু তাদের কাজ শেষ হয় না।রাতে আবার শাশুড়ীর পা টিপে দিতে হবে।এখনো কারেন্ট আসে নাই এই এলাকায় তাই রাত ভরে শাশুড়ী কে হাত পাখা দিয়ে বাতাস দেওয়া যেন নিত্য দিনের কাজ।
বাড়িতে শুধু শশুর,শাশুড়ী আর আমি থাকি। কাজের ব্যস্ততার কারনে শফিক কে থাকতে হয় বাহিরে।শফিক একটা প্রাইভেট কম্পানীতে মোটামোটি ২০ হাজার টাকার বেতনে চাকরি করে।আর তার চাকরি দেখেই আমার বাবা মা কিছু না ভেবেই প্রস্তাব দেওয়ার সাথে সাথে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে।কিন্তু শফিক যে কেমন তা আমার পরিবার এখনো জানতে পারে নাই।মাঝে মাঝে মা কে বললে বলে ধৈর্য় ধরে থাকো ঠিক হয়ে যাবে।কিন্তু যখন শফিক আমায় বিয়ে করে,তখন আমার পরিবারকে বলেছিলো যেখানে চাকরি করে সেখানে বাসা ভাড়া করে থাকবে।আজ যদি এই কথা শফিক কে ফোন দিয়ে বলতে যাই আমার উপর আরও চড়াও হয়।আজ শফিকের সাথে আমার বিয়ে হয়েছে ঠিকই।কিন্তু বিয়েটা মোটেও তার সাথে হওয়ার কথা ছিলো না।বাবা মায়ের মত কে গুরুত্ব দিয়েই বিয়েটা করেছি,তবে কেন আমার জীবনে এতো কষ্ট।
আমি যখন বাপের বাড়ি থেকে বিয়ের পর শশুরবাড়ি আসি তখন আমার নিজের জন্মস্থান কে পরস্থান করে তারপরেই এসেছি।আর শশুরবাড়ি কে এক নিমিষেই আপন করে নিতে চেয়েছি।
কিন্তু ভাগ্য আমাকে একটা নিকৃষ্ট পরিবারের কাছে নিয়ে ধার করিয়েছে।যারা আমাকে কাজের মেয়ে আর ভোগ্য পণ্য হিসেবে ব্যবহার করে।
কোন কাজ করতে একটু ধেরি হলে উঠতে বসতে খোঁটা দিবে।
আর আমার স্বামী নামক কাপুরুষটা পরিবারের কথায় উঠে আর বসে।
বড় আফসোস হয়,যখন ভাবতে থাকি কেন আমাকে এস.এস.সি পাশ করার পরেই বিয়ে দেওয়া হলো।আমি তো আরও অনেক পড়তে চেয়েছিলাম।
ঈদের ছুটিতে শফিক বাড়িতে এসেছে।আর পাশের রুম থেকে শুনতে পাচ্ছি শাশুড়ী ছেলের কাছে বিচার দিচ্ছে,আমি নাকি সারাদিন একটাও কাজ করি না।নবাবের বেটির মতো ঘুম পারি আর খাই।তখন কষ্টে বুঁকটা ফেঁটে যাচ্ছিলো আর চোঁখ দিয়ে অশ্রু গঁড়িয়ে গঁড়িয়ে পড়ছিলো।আর কতো কাজ করলে তাদের মন পাওয়া যাবে আমার সঠিক জানা নেই।তার নিজের মেয়ে হলে কি এভাবে আমাকে দিয়ে কাজ করিয়ে মিথ্যা কথা বলতে পারতো।
রাত হয়েছে শফিকের কাছে কেঁদে কেঁদে বলছি,
~আমাকে শহরে নিয়ে যাবে না।
এখানে সারাদিন কাজ করতে হয়।আর আমার এখন তো একটু বিশ্রামের দরকার।তুমি বুঝতে পারো না!
~মা বলল,সারাদিন কোন কাজ করো না।কার কথা বিশ্বাস করবো।তোমাকে শহরে নিয়ে যেতে পারবো না আমি।
~ও, এখন নিতে পারবে না,তো যখন বিয়ে করলে তখন বললে কেন?রাতের বেলায় তো ঠিকি আমাকে প্রয়োজন পড়ে।
~বেশি কথা বললে কিন্তু মেজাজ গরম হবে!
নীশি কথা বলা অফ করে,অন্য দিকে মুখ করে শুয়ে পড়েছে।
রাগ করে সেদিন আর সারারাত কথা হয়নি।
পরদিন রাতে,
শফিক সাহেবের মাথা ঘুরছে এতোদিন পর বাসায় এসেছে বউ কে কাছে পেতে চাচ্ছে।বার বার নীশি কে বলা সত্তেও নীশি কোনভাবেই রাজি নয় কারন সে পাঁচ মাসের অন্তসত্তা।আর রাজি না থাকাতে শফিকের মাথায় রক্ত উঠে গেলো।ইচ্ছে মতো নীশিকে বঁকাঝকা শুরু করলো।আর নীশির চোঁখের পানি যেন একমাত্র সম্বল।
সকালের যত কাজ আছে সব শেষ করে নিয়েছে নীশি।দেখতে পেলো তাদের বারান্দার উঠানে বসে পাশের বাসার সুলতানা ভাবি আর শাশুড়ী মুচকি মুচকি হাঁসছে।তখন নীশি গিয়ে বলল,
~এতো হাসি যে কি করে আলোর নিচে চাঁপা পড়ে আছে ভাবিজীর দীর্ঘশ্বাস আর চোঁখের জলে,তা কখনো বুঝতেই পারিনি।
নীশির কথাটা সুলতানাকে অনেক ভাবিয়ে তুলল,কথাটার মানে ঠিক বুঝতে পেরে চুপ হয়ে গেলো।
কারন নীশি জানে সুলতানার স্বামীর কিছু ডিফেক্ট আছে তার নীট ফল শূন্য।
ইস্যুলেস দম্পতি।মোটামুটি অনেক সম্পত্তির মালিক হয়েও অসুখী।সুলতানা অনেক ক্ষেপেছিলো তার স্বামীর উপরে বাচ্চা বাচ্চা করে।কিন্তু কি আর করার কোন লাভ হয়নি।তার উপর আবার স্বামী ওনাকে স্যাটিসফাই করতে পারে না ঠিকমতো।এখন নজর শফিকের উপর পড়তে পারে।শফিকের বয়সও বেশি নয়,চেহারাটাও বেশ।তাই নীশির সন্দেহের পরিমান টা একটু বেড়েই চলছে।
নীশি দেখতে পেলো শফিক কারো সাথে কথা বলছে।ঘরে গিয়ে দেখে শফিক আর তার বন্ধু সুজন দুজনে মিলে গল্প করছে।সুজন বলতে লাগল,
~ভাবিকে দিয়ে এখনো কাজ করাস কেন?তার তো এখন এগুলো কাজ করা ঠিক না।
~কাজ করবে না তো বসে বসে খাওয়ার জন্য তো বিয়ে করিনি।
নেক্সট পর্বের লিংক এখনই কমেন্টে দেয়া হবে
কষ্ট করে খুজে পড়ে নেন
কথাটা বলে শফিক বাজারে যাওয়ার জন্য হাতে ব্যাগ নিয়ে রওনা হয়েছে।আর সুজনকে বলল,থাক দুপুরে খাবার খেয়ে তারপর যাস।
সুজন বসে আছে রুমে,নীশি ঘরে এসে এক কথা দু কথা বলতে বলতে মনের যত আবেগ আছে সব বলতে লাগলো।
আমি ছিলাম মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে।কিন্তু বাবা মা সবসময় আমাকে নিয়ে ভাবতো বড় হয়েছি কখন যেন ফুড়ুৎ হয়ে যাই।মানে কোন গুন্ডা বদমাইশ ছেলের খপ্পরে পরে কখন যেন চলে যায়।কারন আমি দেখতে যে অনেক সুন্দরী তা তো বুঝতেই পারছেন।কত ছেলে আমার পিছনে পিছনে ঘুরেছে হিসেব করে রাখলেও, মনে রাখা সম্ভব না।এতোসতো ভেবেই যেই একটু চাকরিওয়ালা ছেলে পেলো,ভালোভাবে তাদের পরিবারের ব্যবহার না দেখেই আমায় বিয়ে দিয়ে দিলো।আর এখন দিনের পর দিন শুধু অশান্তি বেড়েই চলছে।
শারিরীক চাহিদার বাহিরেও মনের যে একটা চাহিদা আছে সেটা কখনো শফিককে বুঝাতেই পারছি না।এইটুকু কথা বলে শেষ করেছে কিন্তু শফিক যে মানিব্যাগ টাই রেখে গেছে তা নীশির জানা ছিলো না।মানিব্যাগের জন্য শফিক বাড়িতে এসে দেখে নীশি কাজ বাদ দিয়ে সুজনের সাথে কথা বলছে,
ওমনেই নীশির সামনে গিয়ে ঠাস করে পা দিয়ে পাঁচ মাসের অন্তসত্তা পেটের মধ্যে লাথি মেরে দিলো।নীশি সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল আর ব্যাথায় কাতরাতে লাগলো।সুজন আহমক হয়ে গেলো থতমত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কি হয়ে গেলো কিছু বুঝতে পারছে না।কেমন জানোয়ার হলে কেউ পেটে লাথি মারতে পারে!
তারপর.....
চলবে........
এরপর আসলে নীশির জীবনে কি ঘটতে যাচ্ছে।
গল্পটিতে স্বামীর দ্বারা অবহেলিত মেয়েদের কাহিনী তুলে ধরা হবে আর সাথে তো থাকছেই শিক্ষনীয় বিষয়।
যদি গল্পটির পরের পর্ব পড়তে চান তাহলে কমেন্টে। সাথে থাকুন।আইডিতে রিকুয়েস্ট দিন।
সবাই লাইক কমেন্ট করবেন।ভালো লাগলে আমার সাথে থাকুন।
~গল্পঃ জীবন যন্ত্রণা
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!