[ Sanaton ] হরিদাস ঠাকুর

হরিদাস ঠাকুরকে একজন মুসলিম রাজা বলেছিল যে, "তোমার কৃষ্ণের নাম জপ বন্ধ করে আল্লাহর নাম জপ করা উচিত।" তিনি তখন বললেন যে তিনি কৃষ্ণের নামজপ বন্ধ করতে পারবেন না।
তারপর তারা তাঁকে বলল, "তুমি যদি কৃষ্ণের নামজপ বন্ধ না করো তাহলে তোমাকে শাস্তি দেওয়া হবে।"
তিনি উত্তরে বললেন, "তোমরা আমার সারা শরীর খন্ড খন্ড করে কেটে ফেলতে পারো কিন্তু যতক্ষণ একটি খন্ডও অবশিষ্ট থাকবে সেই খণ্ডটিও হরিনাম করতে থাকবে।" (হাস্য)
তারপর তাঁকে ২২ বাজারে চাবুক মারা হল। লোকেরা তাঁকে চাবুকের আঘাতে মেরে ফেলতে চাইলো। কিন্তু তিনি কৃষ্ণের দ্বারা সুরক্ষিত রইলেন এবং যদিও তারা তাঁকে চাবুক মারছিলো, তাঁর দেহে কোন চিহ্ন পড়েনি। তখন যাদের উপর চাবুক মারার দ্বায়িত্ব ছিল তারা ২২ বাজার ঘোরার পর খুবই দুঃখিত হয়ে বিলাপ করতে লাগলো। হরিদাস ঠাকুর বললেন, "তোমরা এতো দুঃখিত কেন?"
"আমরা দুঃখিত কারণ তুমি এখনো মারা যাওনি।"
"কেন?"
হরিদাস ঠাকুর
হরিদাস ঠাকুর


"কারণ রাজা আমাদের মৃত্যুদন্ড দেবে, কেননা আমরা চাবুক মারা সত্বেও তুমি মারা যাওনি।"
তিনি বললেন, "তাহলে আমি যদি মারা যাই, তাতে কি তোমরা খুশি হবে?"
"হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমরা খুবই খুশি হব যদি তুমি মারা যাও।"
তখন তিনি বললেন, "ঠিক আছে।"
এই বলে তিনি শুয়ে পড়লেন এবং সমাধিস্থ হলেন, তখন তাঁকে বাইরে থেকে মৃত বলে মনে হচ্ছিল। তারা কোন শ্বাস -প্রশ্বাস নিতে দেখল না এবং কোন হৃদস্পন্দন শুনতে পেল না।
"সে মারা গেছে! সে মারা গেছে! রাজাকে গিয়ে বল! এবার তিনি আমাদের বড় পুরস্কার দেবেন। আমরা বেঁচে গেলাম, সে মারা গেছে!"
তারা নবাব, সেই বাদশার নিকট দৌড়ে গিয়ে বলল, "সে মারা গেছে। সে মারা গেছে। আমরা আমাদের কাজ করেছি।" তখন রাজা দেখতে এলো এবং তারা পরীক্ষা করে জানাল, "হ্যাঁ, সে মারা গেছে।" রাজা বলল, "তাহলে এখন তাকে পোড়ানোর ব্যবস্থা কর।" কিন্তু পুরোহিত এসে বলল, "না, ওকে পোড়ানো যাবে না আর না তো কবর দেওয়া হবে। ওর আত্মাকে শান্তিতে বিশ্রামের অনুমতি দেওয়া যাবেনা। ওকে নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দাও যাতে কাক, কুকুর এসে ওর মাংস খায় এবং ওর আত্মা শান্তির অভাবে চারিদিকে দিশাহীন হয়ে ঘুরে বেড়ায়, কারণ ও সঠিক পথ অনুসরণ করেনি।"
তখন রাজা বলল, "ঠিক আছে, একে নদীতে ফেলে দাও।" তখন দুজন লোক তাঁকে ওঠানোর চেষ্টা করল কিন্তু হরিদাস ঠাকুর যেহেতু হৃদয়ে কৃষ্ণের ধ্যান করছিলেন তাই তিনি খুব ভারী হয়ে উঠলেন, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মতো ভারী। সেই দুজন তাঁকে এক ইঞ্চিও নাড়াতে পারল না। রাজা হতভম্ব হয়ে গেলো, "আরো লোক আনো, ওকে সরাও, ওকে নদীতে ফেলে দাও, ফেলে দাও।"
"ওকে টানো, ফেলো নদীতে।" কিন্তু তাঁকে সরানো গেল না।
রাজা বলল, "হাতি আনো।" তারা হাতির সাথে দড়ি দিয়ে তাঁর দুই পা বাঁধলো এবং টানলো, চিৎকার করতে লাগলো, "আহ!!" খোঁচা দিলো। কিন্তু তবুও তাঁকে সরানো গেলো না, কী করা যায়?
তারপর হঠাৎ হরিদাস ঠাকুর তুলোর বলের মতো হালকা হয়ে গেলেন। তাদের একজন তখন তাঁকে বলের মত করে নদীতে ছুঁড়ে ফেলল। তখন তিনি নদীর পৃষ্ঠে ভাসতে থাকলেন। বাতাস উল্টো দিকে থেকে বইতে লাগলো এবং তিনি অন্য পারে গিয়ে ধাক্কা দিলেন, তাঁর জ্ঞান ফিরল এবং তিনি নদী থেকে লাফিয়ে উঠলেন,
"হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।"
তিনি নৃত্য করতে লাগলেন এবং দূরে চলে যাচ্ছিলেন। তখন রাজা ও কাজী বলল, "দেখ!" তারা এটা বিশ্বাস করতে পারল না। রাজা তৎক্ষণাৎ বলল, "ডাকো........., আমাকে এক্ষুনি একটা নৌকা এনে দাও।" রাজাকে তার লোকেরা অন্য পারে নিয়ে গেল। অন্য পারে যেতেই সে হরিদাস ঠাকুরের পেছনে দৌড়ে এলো, ভূপতিত হয়ে হরিদাস ঠাকুরের চরণ জড়িয়ে ধরল, "আপনি কৃপা করে আমার অপরাধ মার্জনা করুন। আমি আপনাকে চিনতে পারিনি, আপনি একজন মহান পীর..... আপনি একজন মহান গুরু।"
তিনি বললেন, "আমি তোমাকে ক্ষমা করতে পারি যদি তুমি প্রতিজ্ঞা কর যে তোমার রাজ্যে কেউ - মানুষকে হরিনাম জপে বাধা দেবেনা। তখন পুরোহিতও দৌড়ে এলো এবং ভূপতিত হয়ে হরিদাস ঠাকুরের চরণ জড়িয়ে ধরল। "কৃপা করে আমাকে ক্ষমা করুন। আমি অনেক বড় ভুল করেছি।" তারপর এভাবে তারা প্রতিজ্ঞা করল যে তারা আর কোনো বাধা দেবে না। হরিদাস ঠাকুর তাদের ক্ষমা করে দিলেন। "
~শ্রীল জয়পতাকা স্বামী গুরুমহারাজ,
👉বুধবার, ১২ই জানুয়ারি, ১৯৮৩।
#কপি পোষ্ট শ্রীল প্রভুপাদের শিক্ষা পেইজ হতে।
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!