রাত যখন গভীর Season:02 Part :22

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :22
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :22
 রাত যখন গভীর Season:02 Part :22


নিজের স্বার্থ হাছিল করে তুমি বলা হচ্ছে। 
আমার জীবন টা শেষ করে দিলি শালার রহমান জিন।মা মা মা....... আমার এখন কি হবে, ভে ভে কান্না করছে সুমি।
হঠাৎ করে ওয়াশরুমের দরজা টকটক শব্দ হচ্ছে। সুমি একইভাবে কান্না করে যাচ্ছে। কিন্তু টকটক শব্দ টা বেড়ে যাচ্ছে। সুমি এবার কান্না বন্ধ করে।দরজা টা খুলতে  গেলো। সুমি দরজা খুলে দেখে, রহমান( শয়তান প্রিন্স জিন)  দাঁড়িয়ে আছে। 
সুমি বলেঃ আ.... আপনি? কি চাই? সব তো নিয়ে নিলেন। এখন আবার কি? এটা বলে সুমি আবার ভে ভে করে কান্না করে উঠে। 
সুমি সবাই কে আপনি করে বলে।তবে  রাগ বেশি উঠলে তুই  বলে। আবার  মাঝে মাঝে তুমি বলে ফেলে। 
রহমান জিন বলেঃ এই মেয়ে ভেঁ ভেঁ করে কান্না করলে একদম শেষ করে দিবো।কুচি খুকি হয়ছো নাকি?just STOP crying. কিছুটা চিৎকার করে। 
সুমি ভয় পেয়ে যায়। সুমি আবার চুপিচুপি হালকা শব্দ করে কান্না করছে। 
রহমান জিন নিজের উপর থেকে  নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। কারণ, রহমান এর রাগ উঠলে সে সব কিছু থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। 
রহমান জিন সুমি হাত দুটো ধরে সোজা ওয়াশরুমের দেয়ালে শক্ত করে ধরে। 
রহমান বলেঃ এই তোর এতো কান্না করার কি আছে?  তুই আমার বিবাহিত বউ? তোর সাথে  আমার যেমন ইচ্ছে যা ইচ্ছে তাই করতে পারবো!
এতো নেকামি আমাকে দেখাস না একদম।
সুমি আবার কান্না করে দেয়। রহমান এবার সুমির হাত দুটো আরো শক্ত করে ধরে। নিজের ঠোঁট জোড়া সুমির ঠোঁটের মধ্যে ডুবিয়ে দিল। সুমি ছটফট করছে। সুমির ব্যর্থ চেষ্টা করছে রহমান এর হাত থেকে রেহাই পেতে। সুমি রেহাই তো পেলনা বরং ওয়াশরুম এর ঝর্ণা টা অন হয়ে গেছে সুমির এলোমেলো ভাবে হাত,পা নাড়াচাড়ার ফলে। 
বেশ কিছুক্ষণ পর রহমান জিন সুমি কে ছেড়ে দেয়। রহমান বলেঃ কি হয়েছে এখন? বলছিনা বেশী নেকামি করবি না।আবার নেকামি করে কান্না করিস।তারপর দেখিস কি করি!এমনিতে রিনির জন্য চিন্তায় শেষ হয়ে যাচ্ছি তার উপর তোরে জাস্ট অসহ্য লাগে। কি জানি নাম তোর?
ওহ টুমি মনে হচ্ছে। আরে দূর তোর নাম তো সুমি।তোরে এতটাই অসহ্য লাগে যে তোর নাম টা ও মনে থাকে না।
রহমান ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। সুমি ভেজা শরীরে বসে বসে অশ্রু ঝরাচ্ছে।
সুমি লক্ষ্য করে  
আবার বাহির থেকে শব্দ আসছে।রহমান জিন চিৎকার এর স্বরে বলেঃ এই ভিজে ভিজে বসে থাকিস না।তাড়াতাড়ি বের হো।হোদায় তুর আবার অসুখ হবে।
সুমি রহমানের কথা শুনতে পেল কিন্তু ইগনোর করে।সুমি বসে ছিল কতক্ষণ সে জানে না।
হঠাৎ করে রহমান জিন ওয়াশরুমে এসে বলেঃ কিরে তুরে কি বলছি? বের হসনি কেন?
সুমি চুপ হয়ে আছে। তারপর, রহমান জিন কি যেন চিন্তা করে। সুমি কে কোলে তুলে নেই। রুমে নিয়ে আসে।সোফায় বসিয়ে দেয়। 
রহমান জিন বলেঃ তাড়াতাড়ি এই স্কার্টটা ও টপসটা পড়ে নে।তুকে মা ডাকতে আসবে।
সুমি দেখে একটা লাল রঙের টপস ও স্কার্ট।সুমি চুল গুলো খোলা রাখে। ড্রেস টা পড়ে নেই। সুমি আয়নার সামনে বসে আছে। সুমির ঠোঁট জোড়া একদম ক্ষত বিক্কত হয়ে গেছে। সুমি ঠোঁটে হাত দিতেই ব্যথা তে কাতরে ওঠে। 
সুমি রেডি হয়ে যাই।রহমান প্রিন্স ও রেডি হয়ে যাই। রহমান একটা শেরওয়ানি পড়েছে। হালকা ডার্ক রঙের। দুজন কে বেশ লাগছিল। 
একটু পর রহমানের মা আসে।দুজনকে বড় একটা হল রুমে নিয়ে গেল। রহমান জিন বলেঃ আমার সাথে রিনির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিয়ে টা কেমনে জানি এই মেয়ে টার সাথে হয়ে গেছে। এখন আমি বিচ্ছেদ চাই। 
রহমান জিন এর মা বলেঃ তুই তো জানিস আমাদের বংশের পরম্পরা হচ্ছে একটাই বিয়ে হয়। বউ যদি মারা ও যায় আর দ্বিতীয় বিয়ে করে না।তাই তোর এই মেয়ে সাথে ই থাকতে হবে। কিভাবে কি হলো জানি না।তবে ভাগ্যের এর পরিণতি মেনে নিতে হবে তুর। জীবন এ সুখে থাকতে চাস তাহলে মেনে নিতে শিখ।
হল রুমের সবাই এক কথা বলে। বেশ কিছু সময় পর দুজন আবার রুমে প্রবেশ করে। 
রহমান জিন বলেঃ এই তুই আমার জীবন টা শেষ করে দিছস।তুরে আমি ছাড়বো না।
সুমি বলেঃ যদি আমি বলি আপনি আমার জীবন নষ্ট করে দিলেন।
রহমান জিন বলেঃ বেশি মুখ চলছে তোর।তোরে বলে রহমান এগিয়ে আসছে সুমির দিকে। 
সুমি ভয়ে চুপসে যায়। কারণ, প্রিন্সের চোখ জোড়া একদম নীল রঙ ধারণ করেছে।এমনিতে নীল রঙের যে সেটা বোঝা যায় না। তবে মাঝে মাঝে খুব উজ্জ্বল হয়ে যাই চোখ জোড়া। 
রহমান এগিয়ে আসছে সুমি পিছিয়ে যাচ্ছে। সুমি খেয়াল করে নি পেছনে যে বিছানা আছে।পিছাতে পিছাতে সোজা বিছানা তে গিয়ে পড়লো টাস।
রহমান কিছু টা ঝুকে পড়ে সুমির উপর। রহমান জিন বলেঃ আমার সাথে মুখে মুখে কথা বলা!তুর সাহস তো কম না।
সুমি বলেঃ প্লিজ আর করবো না।ছেড়ে দেন।
রহমান কে যেন ভেবে নেই। তারপর, 
রহমান সোজা হয়ে দাড়িয়ে যায়। তারপর পাশে থাকা চেয়ার টাতে বসে পড়ে। 
সুমি অশ্রু সিক্ত চোখে তাকিয়ে আছে রহমানের দিকে। 
রহমান  চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে চেয়ারে।সুমির চোখ দুটো কখন জানি বন্ধ হয়ে গেছে। সুমি ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেছে। 
💮
💮
তোর চিন্তায় আমি আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাচ্ছি লাম। কামাল এগিয়ে আসে রিনির দিকে। রিনির মা বাবা দুজন রিনিকে জড়িয়ে ধরে। 
কামাল বলেঃকেমন আছিস? কতদিন দেখিনা মা তোকে?
রিনি বলেঃ বাবা ভালো আছি।তোমরা সবাই কেমন আছো?
সবাই বলে সবাই ভালো আছে। সবাই অনেক খুশি। তবে তাদের খুশি বেশিক্ষণ ছিল না। কারণ সবার সুমির কথা মনে পড়ে যায়। 
অর্ক বলেঃ প্রিন্স আশা করি,তোমার ভুল বুঝতে পেরেছো!
প্রিন্স (ইনতিয়াজ)  বলেঃ জি।সত্যি আমি বুঝতে পারছি অনেক বড় ভুল করে ফেলছি। তাই সবার কাছ থেকে মাফ চাইছি। 
রাহাত হুজুর বলেঃ আচ্ছা। শুনো প্রিন্স ,সুমির বিয়ে হয়ে গেছে। তোমার বন্ধু রহমান জিন এর সাথে। আমরা সুমি কে ফিরিয়ে আনতে চাই। তোমার সাহায্য চাই।
প্রিন্স বলেঃ আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাবো।
সবাই একসাথে বসে আছে। এমন সময় লাবু বলেঃ আচ্ছা সবাই একসাথে টেবিলে আসেন।আমি ও রেশমী ভাবি হালকা নাস্তার ব্যবস্থা করেছি।
সবাই একসাথে বসে আছে। রাজা মশাই বলেঃ সুমি চলে আসলে আমরা চলে যাবো রাজ্যে।
রানি( লোভা) বলেঃ আমি ও তাই চিন্তা করছি।
সবাই নাস্তা শেষ করে। তারপর, প্রিন্স বসে আছে। রুমে ৩ টা বৃত্ত করেছে প্রিন্স। একটাতে সে একা বসেছে।অন্যটাতে সবাই কে বিভক্ত করে বসিয়েছে।
প্রিন্স মন্ত্র উচ্চারণ করছে।দোয়া পড়ছে।প্রিন্স ভালো ভাবে জানে শয়তান জিন কে কিভাবে হাজির করতে হয়। তবে সে বুঝতে পারে নি, তার সাথে এত বছর বন্ধুর মতো  ছায়া হয়ে একটা বন্ধু রুপি শয়তান ছিল। 
প্রিন্স জীবনে ও রহমান কে মাফ করতে পারবে না। রহমান  বন্ধু হয়ে, তার জীবন টা শেষ করে দিলো।
এমনকি নিজের ভালোবাসার মানুষ টার সামনে ও একদম নিচু করে দিয়েছে। 
প্রিন্স উচ্চ স্বরে দোয়া পড়ছে। 💮
💮
বেশ কিছুক্ষণ সময় পর,রহমান জিন এর কেমন জানি লাগছে। হঠাৎ চোখ জোড়া জ্বলে উঠছে। সারা শরীরে অস্থিরতা কাজ করছে। 
সে আর চোখ বন্ধ করে থাকতে পারছে না। সে নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারছে না। 
এমন সময় সুমির ঘুম ভেঙ্গে গেলো। সুমি বলেঃ আরে এমন করছেন কেন? কি হয়েছে? 
প্রিন্স রহমান জিন এর শরীর কাঁপুনি দিচ্ছে। সুমি বুঝতে পারছে না কি করবে।
রহমান জিন বলেঃ সুমি মি... মি।তুমি আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরো।আমাকে কিছু একটা চুম্বকের মতো করে টানছে। 
সুমি কিছু না বলে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।তখনই, আচমকা সুমি ও রহমান জিন........ 
[[[[আজকের টা একটু ছোট হয়েছে তার জন্য দুঃখীত।আজকে বাসায় মেহমান আসছে তাই!!তাড়াতাড়ি করে কি লিখলাম নিজে ও জানি না।রিভিশন ও দিতে পারি নাই।আপনাদের অপেক্ষা করাতে কষ্ট হয় তাই যতটুকু পারলাম দিলাম।।। ]]]
চলবে......
গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে জানাবেন???
এই গল্প শেষ হলে নতুন গল্প তে ও কি আমাকে একইভাবে সাপোর্ট করবেন ??কেমন্ট করে বলেন।।।??? 😟
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!