রাত যখন গভীর Season:02 Part :12

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :12
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :12
রাত যখন গভীর Season:02 Part :12


সবাই মনোযোগ দিয়েছে।মুগ্ধ শুরু করে।কাল রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়লো। তখন আমার মনে কেন জানি অদ্ভুত লাগছিল। মনটা বারবার আনচান করছিল। মন অস্থির হয়ে থাকলে ঘুম আসে না।তাই ঘুমাতে পারিনি।কি করবো চিন্তা করতে করতে। 
রাতে ছাদে গিয়ে বসেছিলাম।অমাবস্যার রাত,বিদঘুটে অন্ধকার। গুমট একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল।সঙ্গী হয়েছে আমার মনের আনচান অনুভুতি। রাতে কি করবো কিছু করতে না পেরে। আমি আনমনে কিছু একটা ভাবিতেছিলাম।তখনই মন চাইলো একটা গান গাই।তাই 
মনে মনে একটা গান ও ধরেছিলাম,
"বকুলের ও মালা শুকাবে
রেখে দিবো তার সুরভি। 
তুমি চোখের আড়াল হও,
পলকে বাঁধনে রও,
জেনে রেখো আমিও ছিলাম, 
এই মন তোমাকে দিলাম।
এই প্রেম তোমাকে দিলাম। "
গান শেষ হতেই কারো যেন নুপুর এর ঝুমুর ঝুমুর শব্দ শুনতে পেলাম। তবে শব্দ টা অনেকটা দূরের থেকে আসছিল।তাই আমি নুপুরের শব্দ কোথা থেকে আসছে জানার জন্য রাস্তায় চলে যায়। তবে, 
আমি অনেক টা পথ চলার পর ও কাউকে দেখতে পেলামনা।
যখনই মন স্থির করি, ফিরে বাসায় চলে আসবো।তখনই নাকে একটা ঘ্রাণ পাই।এই ঘ্রাণ টা যে আমার খুব চেনা।রাতের মৃদু বাতাসে ঘ্রাণ টা বারবার নাকে আসছিল।মে অজানা আতংক।  আমি আর পিছপা হয়নি।কারণ এই ঘ্রাণ জান্নাত এর আমি জানি। খুব ভালো ভাবে বুঝতে পারি ওর গায়ের সেই মিষ্টি ঘ্রাণ। সোজা ঘ্রাণ টা যেদিক দিয়ে আসছে ওইদিকে যাচ্ছিলাম।যখন একটা নদীর তীরে আসি।তখন দেখি,জান্নাত হাত, পা ছোটাছুটি করছে। সেই মুহূর্তে হার্ট বিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপক্রম হয়েছিল। সাথে সাথে ঝাপিয়ে পড়লাম নদীতে। এরপর তীরে নিয়ে যায়। 
অতঃপর বাসায় নিয়ে আসি।বাকিটা তো আপনারা জানেন ই।।
মুগ্ধ ইচ্ছে করে,কৃত্রিম শ্বাস এর ব্যাপারে বলে নি।কারণ জান্নাত জানতে পারলে,লঙ্কা কান্ড বাধিয়ে ফেলবে।
সবাই মুগ্ধ কে কৃতজ্ঞতা জানাই। সবাই মিলে সকালের নাস্তা করে নেই। এরপর ই শুরু হবে তাদের কার্যক্রম।হাবিব অল্প একটু নাস্তা করে নিজের রুমে প্রবেশ করে। 
হাবিব ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে মোবাইল টা দেখছে।আড়ালে শাম্মির কিছু ছবি তুলেছিল।সেগুলো কেমন হয়েছে দেখছে? 
তখনই, হাবিবের চোখ জোড়া গেল আয়নাতে। টাস করে মোবাইল পড়ে যায়। 
হাবিব বলেঃ ইয়ে মানে, আপনি এখানে? আয়নাতে কি করছেন?আমার রুমে অনুমতি ছাড়া কেন আসছেন? তুক্কো আমার আয়না তে?
শাম্মি বলেঃ এইখানে না আসলে জানতাম ই না আমার ছবি তুলে রাখা হচ্ছে। ওই মিয়া কারো অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা যাই না জানো না?আরোও আসছে আয়নাতে কেন অনুমতি নিয়ে আসেন্নি বলতে।ঢং।।।
হাবিব বলেঃ আসলে, আসলে।। 
শাম্মি বলেঃ আসলে কি?
আপনার খবর আছে,আজ আপনাকে মজা দেখাবো।
 এই বলে,শাম্মি  আয়না থেকে বেরিয়ে মোবাইল টা নিতে আসছিল। এমন সময় হাবিব মোবাইল টা নিয়ে ভো দৌড় দিল।শাম্মি ও কম কিসের। পিছু নিলো। দুজনের দৌড়াদৌড়ি একদম ছাদ অবধি চলে গেল। দুদিন আগের বৃষ্টির জন্য ছাঁদ কিছুটা পিছলে ছিল। শাম্মি, হাবিব কে অলমোস্ট ধরে ফেলছিল। তার আগেই টাস করে পড়ে যায়। হাবিব, শাম্মি কে ধরতে গিয়ে। শাম্মির পায়ের সাথে লেগে গিয়ে শাম্মির উপর পড়ে যায়।দুজনের চোখাচোখি হয়ে গেছে। শাম্মির মুখ লজ্জায় রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে।
 হাবিবের ঠোঁট একদম শাম্মির ঠোঁটের ২ ফিট দূরত্বে ছিল।শাম্মি চোখ বন্ধ করে ফেলে। হাবিব আস্তে করে সরে যায়। হাবিব তার হাত বাড়িয়ে দেয়।
হাবিব বলেঃ উঠে পড়েন।
 শাম্মি চোখ জোড়া খুলে দেখে হাবিব দাঁড়িয়ে আছে। হাত বাড়িয়ে। শাম্মি একটা মুচকি হাসি দেয়। এই হাসি যেন কিছু একটা ইশারা করছে। 
হাবিব মনে মনে বলছে, একটা মেয়ের মন পেতে হলে তার কব্জি শক্ত করে ধরতে হয়না। আলতো করে মেয়েটার হাতটা মুঠোয় পুরে নিতে হয়।এতে মেয়ে টা ব্যথা ও পায় না আবার মেয়েটার মন ও খারাপ হয় না।
হাবিবের মনে একটা চাপা আনন্দ। শাম্মির এই মৃদু হাসি যেন কোন ভালো কিছুর ইশারা করছে। 
এই বলে, রিনি এগিয়ে যাচ্ছে বোতলটার দিকে,প্রিন্স এর মনে চাপা উত্তেজনা কাজ করছে।রিনি বোতলে হাত দেয়। রিনির খুব জানতে ইচ্ছে হচ্ছে। কি আছে ভেতরে?,এত আকর্ষণীয় লাগছে কেন এই বোতালটা কে?
রিনি আর সাত,পাঁচ না ভেবে বোতল টার মুখ খুলে ফেলে। চারপাশে একটা মিষ্টি ঘ্রাণ চড়িয়ে পড়ে । রিনির খুব চেনা মনে হচ্ছে এই ঘ্রাণ টা কে।হঠাৎ চোখ জোড়া গেল বোতলে।হালকা হালকা ধোঁয়া বের হচ্ছে। রিনি চোখ জোড়া বন্ধ করে, রিনি মাতাল করা সেই  ঘ্রাণ টা নিচ্ছে। তখনই, কেউ একজন মিষ্টি স্বরে বলে, রিনি।।।।।ও রিনি।
রিনি বলেঃ কে?
কেউ একজন বলেঃ চোখ তু খুলে দেখো। 
রিনি চোখ জোড়া খুলে দেখে এটা প্রিন্স (ইনতিয়াজ)। রিনির মনে পড়ছে এটা সেই বোতল যেটাতে প্রিন্স কে বন্দী করা হয়েছিল। রিনি একদম অবাক হয়ে গেছে। কেমনে কি হলো?প্রিন্স রিনি কে জড়িয়ে ধরে। 
রিনি এবার বলে উঠেঃ কেমন আছেন? কেমন ছিলেন? 
প্রিন্স বলেঃ আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি ছিলাম। 
রিনি বলেঃ বোতল বন্দী জীবনে কেমনে ভালো ছিলেন?অতীত চিন্তা করে কি আপসোস হচ্ছে না? 
প্রিন্স বলেঃ রিনি,একটা কথা মনে রাখবে,যে অবস্থায় থাকোনা কেন।ভালো থাকবে।ভালো থাকার চেষ্টা করবে।কেননা ভালো থাকতে হলে জীবনে থাকা চাই সন্তুষ্টি। আর সেজন্য বর্তমান কে বর্তমান দিয়েই বিবেচনা করতে হবে। উপভোগ করতে হবে  সবটা আনন্দ আজই।কেননা যা চলে যায়, বা গিয়েছে তা আর ফিরে আসবেনা।অতীত হয়তো কষ্টের ছিল তা ভুলে থাকতে পারলেই ভালো থাকতে পারবো।তাছাড়া যা আছে তা অমূল্য, তাকে সাজাতে হয়।আমি ও সাজাবো আমার যা আছে তা দিয়ে। 
 এইতো তা তাই বললাম আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি রিনি।
তখনই, 
প্রিন্স আবার  বলেঃ এই দিকে কাছে আসো!আমাকে শক্ত করে ঝাপটে ধরো???
রিনি চোখ গোল  গোল করে তাকিয়ে আছে, 
রিনি বলেঃ কি বলছেন এসব?
প্রিন্স বলেঃ আমার কোন ছোঁয়াছে রোগ নেই। সো চিন্তা করিও না।যা বললাম তাই কর।
আর খুব শক্ত করে আঁকড়ে ধরবে কিন্তু। তোমার সাথে কি হয়েছে কে করছে এমন?
এখানে কেমনে আসলে? 
সব শুনবো।
তার আগে এখন দেখি তো গায়ে কেমন শক্তি আছে? 
কত শক্ত করে আঁকড়ে ধরতে পারো?
রিনি এক মূহুর্ত দেরি না করে।হুরমুডিয়ে প্রিন্সের বুকের সাথে মিশে যায়। খুব শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে। রিনি স্পষ্ট অনুভব করতে পারছে প্রিন্স এর শ্বাস প্রশ্বাস। 
প্রিন্স তখন, একটা দীর্ঘ শ্বাস নেই। সাথে সাথে, 
চোখ বন্ধ করে,,, 
চলবে........
কি হতে চলছে ???😬😬😬😀
আপনাদের কি মনে হয় রিনি ও প্রিন্স কি করছে? 
***
অনেক আপু কালকে সাহায্য করেছে, সাথে মনোবল বাড়িয়েছে।আমি হার মানবো না।ইনশাআল্লাহ আপনাদের ভালোবাসাই সিক্ত হয়ে এগিয়ে যাবো।
অনেক ভালোবাসা নিও বুবুরা।।😍
ভাইয়াদের ও ধন্যবাদ। 
[ গল্প কেমন হচ্ছে জানাবেন ]
?? 😧😧😧😧
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!