# গল্পঃ #বোঝা

--ঠাসস ঠাসস।ঠাসস ঠাসস।(বাবা আমাকে লাঠি দিয়ে মারছেন)
---বাবা,আমাকে তুমি কেন মারছো?আমি কি করেছি?(আমি)
---কেন তুই জানিস না তুই কি করেছিস?(বাবা।রেগে)
---আমাকে না বললে আমি জানব কি করে?
---ঠাসসস ঠাসস।এতকিছু করার পরেও কেমন ভাব করেছে যেন কিছুই জানে না।(ভাইয়া)
# গল্পঃ #বোঝা
# গল্পঃ #বোঝা

---বাবা,আমি সত্যি বলছি আমি কিছু জানি না।দয়া করে আমাকে আর মেরো না।আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।
---তুই যা করেছিস তার কাছে এই কষ্ট কিছুই না।
---বাবা,বিশ্বাস করো আমি কিছু করি নেই।
---বিশ্বাস আর তোকে?কখনই না।ঠাস ঠাসসস।
---ভাইয়া,তুই তো আমাকে বিশ্বাস কর।আমি সত্যিই কিছু করি নেই।
---ঠাসস ঠাসস।একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করে আবার বলছিস কিছু করি নেই?
---কোন মেয়ের জীবন?(অবাক হয়ে)
---ঠাসস ঠাসস।মেয়েটার জীবন নষ্ট করে এখন এমন ভাব করছিস যাতে কিছুই জানিস না।
---ভাইয়া,আমি সত্যিই বলছি আমি কিছু জানি না।
---চুপ।তোর ঐ মুখ দিয়ে আর একটা কথাও বলবি না নাহলে তোর ঐ মুখ আমি ভেঙ্গে ফেলব।(বাবা আমার মুখের দুই পাশে হাত দিয়ে চাপ দিয়ে)
---অঅহ!বববাবা লললাগছে।(ব্যাথার কারণে মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না)
---লাগুক আরও বেশি করে লাগুক।(আরও জোরে চাপ দিয়ে)
---বববাবা আআআমি তততোমার পপপায়ে পপপরি দদদদয়া কককরে আআআমাকে ছেড়ে দাও।আমি অনেক ব্যাথা পাচ্ছি।
---আমার মান-সম্মান জলে ডুবানের আগে মনে ছিল না?এখন ব্যাথা পাচ্ছি ব্যাথা পাচ্ছি করছিস কেন?
---বববাবা পপপপ্লিজ আআআমাকে আর কষ্ট দিও না।সত্যি আমি অনেক ব্যাথা পাচ্ছি।
---কষ্টে কি দেখলি এইতো মাত্র শুরু।আমার মান-সম্মান আর ঐ মেয়েটার জীবন নষ্ট করার আগে যখন তোর কষ্ট হয় নেই তাহলে এখনও কোন কষ্ট হবে না।
.
কথাটা শেষ করে বাবা আর ভাইয়া আমাকে আরও বেশি করে লাঠি দিয়ে মারতে লাগল।আমার চিৎকার শুনে মা ঘর থেকে বেরিয়ে আসল।
.
---মা,তুমি বাবাকে একটু বলো না যাতে আমাকে না মারে।বাবার মার আমি সহ্য করতে পারছি না।(মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করে দিয়েছে)
---সাগর,তুই এইটা কি করে করতে পারলি?তুই আমাদের নিজের সন্তান না হওয়া সত্যেও তোকে আদর দিয়ে বড় করেছি।তবুও তুই এমন একটা কাজ কি করে করতে পারলি?(মা)
---নিজের সন্তানকে যতটা না আদর দিয়েছি তার চেয়ে তোকে বেশি আদর দিয়েছি।যার ফল আজকে আমাদের পেতে হচ্ছে।বাবা আমাকে লাঠি দিয়ে মারতে মারতে)
---আমি তোমাদের নিজেদের সন্তান না?(অবাক হয়ে মার দিকে তাকিয়ে)
---না।তুই আমাদের সন্তান না।যদি তুই আমাদের সন্তান হতি তাহলে কি কোনদিন এমন জঘন্য কাজ করতে পারতি ?
---তাহলে আমার মা-বাবা কে আর কোথায়?
---আমরা জানি নাকি তোর মা-বাবা কোথায়?তোকে তো বাবা রাস্তা থেকে কুঁড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল।
---তাহলে ছোটবেলায় তুমি যখন বলতে আমাকে কুঁড়িয়ে পেয়েছিল সেই কথা সত্য ছিল?(অবাক হয়ে)
---সত্য নাহলে কি বলতাম নাকি?(বাবা আর ভাইয়া আমাকে কথাগুলো একদিন দিয়ে বলছে আরেকদিক দিয়ে মেরেই চলেছে)
---তোমাকে আমি আগেই বলেছিলাম এই ছেলেকে বাড়িতে রাখার দরকার নেই।এই ছেলে একদিন তোমার মান-সম্মান ডুবিয়ে ছাড়বে।দেখলে তো আমার কথা মিলে গেল?
---ওকে এই বাড়িতে এনে ভুল যখন আমি করেছি তখন এর শাস্তি ওকে আমিই দিব।
---বাবা বাবা,ভাইয়াকে আর মেরো না।ভাইয়াকে ছেড়ে দাও।দেখ না ভাইয়ার শরীর দিকে কত রক্ত বের হচ্ছে।(নিধি)
.
ঘরের থেকে আমার ছোট বোন(নিধি)দৌঁড়ে আমার সামনে এসে।একটা কথা বলে রাখি বাবা আর ভাইয়া আমাকে বাড়ির সামনে রাস্তায় মারছে।
.
যার কারণে অনেকেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার মার খাওয়া দেখছে।আমার বাবা অনেকটা রাগি মানুষ।তাই কেউ সাহস করে ফিরাতে আসছে না।
.
---নিধি,সরে যা।ওকে আমি আজকে শেষ করে দিব।(বাবা)
---ভাইয়া ভাইয়া তুই তো অন্তত ভাইয়াকে আর মারিস না।দেখ না ভাইয়ার শরীর দিয়ে কত রক্ত বের হচ্ছে।(নিধি বড় ভাইয়ের কাছে গিয়ে বড়ভাইয়ের হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে)
---নিধি,ঘরে যা।
---না।আমি আমার ভাইয়াকে ছেড়ে কোথাও যাব না।আমি আমার ভাইয়ার সাথেই থাকব।(নিধি আমাকে জড়িয়ে ধরে।কান্না করতে করতে)
---নিধির মা তুমি নিধিকে এখান থেকে নিয়ে যাও।
.
যখন শুনলাম আমি ছোট থেকে এতদিন যাদের আমার মা-বাবা জেনে এসেছি তারা আসলে আমার মা-বাবা না তখন থেকে আমি কেমন জানি মূর্তি হয়ে বসে রয়েছি।
.
আমার দুই চোখ শুধু মায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে আর মা আমাকে মার খেতে দেখে,আমার রক্তাক্ত শরীর দেখেও আমার কাছে আসছে না।
.
আমাকে মার খাওয়ার হাত থেকে বাঁচাচ্ছে না,বাবা আর ভাইয়াকে থামাচ্ছে না।
.
নিধি এখনও আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে।আমাকে ছাড়ার কোন নামই নেই।মা নিধিকে ধরে টানছে তবুও নিধি আমার গলা জড়িয়ে ধরে আমার বুকের সাথে মিশে রয়েছে।
.
নিধি আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে দেখেও বাবা আর ভাইয়া আমাকে মারা বন্ধ করে নেই।তবুও আমাকে মেরে চলেছে।
.
হঠাৎ করে নিধি "আআআআউ আআআউ"করে জোরে চিৎকার করে উঠল।
.
হয়ত আমাকে জড়িয়ে ধরেছি তাই হাতে একটা বাবা বা ভাইয়ার বাড়ি লেগেছে।
.
নিধি বাড়ি থেকে "ভ্যাউ ভ্যাউ" করে কান্না করতে শুরু করে দিল।বাড়ি লাগার সাথে সাথে নিধি আমাকে ছেড়ে দেয় আর মা নিধিকে নিয়ে কিছুটা দূরে চলে যায়।
.
নিধির কান্না দেখে বাবা আর ভাইয়া দুইজনেই নিধির কাছে চলে যায় আর নিধির ব্যাথা পাওয়া জায়গায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।
.
কিছুসময় পর বাবা নিধির চোখে জল দেখে আমার দিকে আরও রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলতে লাগল....
.
---তোর জন্য আমার সাত বছরের নিষ্পাপ মেয়েটা ব্যাথা পেয়েছে।(বাবা)
---তোর জন্য আমার আদরের বোনটা ব্যাথা পেয়েছে।তোকে আমি ছাড়ব না।(ভাইয়া)
.
আমি তখনও মূর্তির মতো বসে ছিলাম।শরীর দিয়ে আমার অবিরাম রক্ত বের হচ্ছিল।
.
তবুও আমার কোন হুস নেই।আমার কানে শুধু একটা কথাই বাজছে।
.
আর তা হলো "তুই আমাদের ছেলে না।তোকে আমরা রাস্তা থেকে কুঁড়িয়ে পেয়েছি।"
.
নিধি এই বাড়ির সবার প্রাণ।একসময় আমিও এই বাড়ির প্রাণ ছিলাম।এখন কি তা আমি জানি না।
.
আর তাদের প্রাণ যখন ব্যাথা পেয়ে কান্না করছে তাও আবার আমার কারণে।এইটা দেখে বাবা আর ভাইয়া রাগি দৃষ্টিতে আমার দিকে ধেঁয়ে আসতে লাগল।
.
# চলবে
# গল্পঃ #বোঝা
# বিঃদ্রঃ ভুলক্রুটি ক্ষমা ও সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট করে সাথে থাকবেন। আপনাদের লাইক কমেন্ট দেখলে মনে হয় গল্পটা আপনাদের ভালো লেগেছে এবং আপনারা গল্পটা পড়েছেন,আর তাতে করে আমার ও পরবর্তী পর্বটা দেওয়ার আগ্রহ বেড়ে যায়।
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!