#অচেনা_কেউ #পর্ব_৬

#অচেনা_কেউ
#পর্ব_৬
লেখক_আয়াত_মুস্তারিহ_আয়ান
.
.
#অচেনা_কেউ #পর্ব_৬
#অচেনা_কেউ #পর্ব_৬
আমার সামনেও আয়ান দাড়িয়ে আছে আবার বাসার নিচেও আয়ান..
.
মানে এ কেমন পরিস্থিতি আমি বলে বুঝাতে পারবো নাহ.
ভয়ে আমার গায়ের লোম দাড়িয়ে যাচ্ছে..
এতোটা ভয় যা বলার বাহিরে..
সারা ঘরে হাসির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে তার..
.
কিন্তু হঠাৎ সব থেমে গেলো..
তার চোখ থেকে পানি পড়তেছে..
আমি এখন আরো অবাক হলাম..
যে এতোক্ষন ওতো শব্দ করে হাসতে পারলো সে এখন এভাবে কাদছে??
.
আমি আবার স্বপ্ন দেখছি না তো..??
.
সে আমায় কি যেনো বলতে চাইলো..
.
কিন্তু হঠাৎ করে জোড়ে একটা আওয়াজ হলো আর সে রুমে নেই..
.
আমি অনেক বড় শক খেলাম..শক সামলাতে না পেরে অজ্ঞানই হয়ে গেলাম..
.
জ্ঞান কখন ফিরে জানি নাহ..
কিন্তু আমি চোখ খুলতেই পাশে আয়ান কে বসে থাকতে দেখি..
মা বাবা আমার সামনে..
.
মা পায়ের কাছে বসে কাদছে আর বাবা ঘরে পায়চারি করতেছেন..
.
আমাকে চোখ খুলতে দেখেই তাদের মুখে হাসি ফুটে উঠে..
.
.
কি হয়েছে কি হয়েছে বলে সবাই আমাকে জিজ্ঞেস করে..
আমি শুধু বলি যে মাথা ঘুরে গেছিলো.
সত্যিটা কাউকে বলি নাহ..
.
আয়ান বেশি সিরিয়াস ছিলো..সে আমার থেকে যেনো সত্যিটা শুনেই ছাড়বে..
.
আমি অনেক কষ্টে না বলে থাকি..
সবাই চলে যায়..একটু পরেই রুম থেকে.আয়ান আমায় বাহিরে ঘুরতে নিয়ে যেতে চাইলেও আমি যাই নাহ..
.
.
আমি রুমে শুয়ে আছি..
সন্ধ্যা ছুই ছুই..
.
এমন সময় বারান্দা দিয়ে একটা নীলচে বাদামী রং এর পাখি আমার রুমে প্রবেশ করে..
এমন পাখি আমি কখনোই দেখি নি এর আগে..
.
পাখিটি এতোটা সুন্দর যা বলার বাহিরে..
.
পাখিটি এসে আমার খাটের এক কোণে বসে..
.
আমি প্রথমত একটু তাকিয়ে নেই তার দিকে.
অদ্ভুত একটা সৌন্দর্য আছে পাখিটির।।
.
আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি এমন সময় পাখিটি কথা বলে উঠে..
.
.
আয়েশা বেবি..
>আয়েশা বেবি নাম টা পাখিটির মুখে ততোটা শক হই যতোটা শক আম হয়েনি পাখিটির কথা বলাতে..
.আমি চিন্তাও করতে পারছি না এই নামে আবার আমাকে কেউ ডাকবে..
ফারহান তো আমায় সেই একি নামে ডাকতো..
কিন্তু ফারহান তো..
আর এই পাখিটি কথাই কিভাবে বলছে??
নাকি আমি স্বপ্ন দেখছি??


আমি এসব ভাবছি..হঠাৎ পাখিটি কথা বলে উঠে আবার.
আয়েশা বেবি..তুমি অনেকটাই শুকিয়ে গেছো...
শরীরের কি যত্ন নেও না নাকি তুমি??
>হুম আমি নেই..
>যত্ন নিলে তো শরীরের এই অবস্থা হতো নাহ তোমার..
>আরে?? কে তুমি??কথা কিভাবে বলছো তুমি??
>আরে আজব ব্যাপার.. আমি এক বিষয়ে কথা বলছি আর তুমি কথা উল্টা ভাবে নিচ্ছো??
>না মানে..
>অন্য কথা কেনো ভিতরে আনো??
>আচ্ছা একটা পাখি হয়ে কিভাবে কথা বলতে পারছো তুমি??
>আমি সব পারি..ভালোবাসতেও পারি..কিন্তু কষ্ট হলো যাকে ভালোবাসলাম তাকে পাওয়া হলো নাহ..
>কি??কি বলতে চাচ্ছো তুমি??
>খুব ভালোবাসতাম তোমায় আয়েশা বেবি..কিন্তু
>কিন্তু কি??
>কিন্তু..
.
পাখিটি কিছু বলতে যাবে তার আগেই কোথা থেকে যেনো একটা ছুরি এসে তার গলায় লাগে আর পাখিটির মাথা ঘাড় থেকে পরে যায়..
.
.
আয়েশা চমকে উঠে..চেচিয়ে ঘুম ভেংগে যায় তার..
অন্য ঘর থেকে তার মা বাবা চলে আসে..
.
হে আয়েশা স্বপ্ন দেখছিলো...।
আয়েশার মা বাবা তাকে কিছু জিজ্ঞেস করলে সে সোজা সামটা উত্তর দিয়ে দেয়..
যে সে খারাপ স্বপ্ন দেখছিলো..
.
আয়েশার মা বাবা তাকে সন্ধ্যায় আর ঘুমাতে দেয় না..
.
আয়েশা উঠে মোবাইল হাতে নেয়..
সেখানে দেখে অচেনা কেউ এর নাম্বার থেকে মেসেজ আসছে..
.
রাতে মা কে সাথে নিয়ে ঘুমাবে..এখন তোমার অনেক বিপদ..
.
.
আয়েশা বুঝে উঠে না যে এই মানুষটি কিভাবে যানে তার সাথে কি হতে যাচ্ছে..
.
এদিকে আয়ান আরিশাকে দেখতে যাচ্ছে..
হাসপাতালের ভিতরে ডুকে আবার আরহামের সাথে দেখা তার..
.
.
আরে আয়ান যে..
>হুম আরহাম..
>আচ্ছা আরিশা বাদে আমাদের খোজ নিতে ইচ্ছা হয় না নাকি রে??
>আরে আরহাম তুই তো জানিসই আমি কেমন ব্যস্ত থাকি..
>হে হে..
.
.
আয়ান আরিশার কাছে গিয়ে বসে..
আরিশা..
খুব মিস করছি রে তোকে..
যানিশ আরিশা..
তুই আর আমি বৃষ্টি তে যে ভিজতাম.
তুই যে আমায় বার বার ফেলে দিতি.
আর আমি তোকে ধাওয়া করতাম..
এই দৃশ্য টা চোখের সামনে ভেষে উঠে রে আরিশা..বার বার..
.
তোকে আমি কতোটা ভালোবাসতাম তুই কি জানিশ না রে??
>আরিশা.হে আমি অনেক কষ্ট দিতাম তোকে..কিন্তু মন থেকেই তো ভালোবাসতাম রে আরিশা..
.
কেনো ছেড়ে গেলি তুই আমায়??কেনো??
>ওই আয়েশার জন্য.. তাই নাহ??ওই আয়েশা কে আমি শিক্ষা করে দিবো..তুই চিন্তা করিশ নাহ..আরিশা..তোর থেকে অনেক খারাপ অবস্থা হবে তার.
.
.
আয়ান উঠে পরে..
.
সে নিজের আড্ডায় আসে..অনেক দিন পরে এখানে এলো আয়ান..
মদের বোতল টা হাতে নিয়ে খাওয়া শুরু করলো..
.
কিছুক্ষন পরেই আয়ানের পিএ আবরাহাম চলে এসো..
.
.
স্যার??আজ এতো দিন পরে এলেন যে??
>ওই বেটা তোকে কি আমার পিএ এমনি রাখছি??আমার খোজ নেশ না তুই..
>আসলে স্যার আমি ভাবতাম আপনি আপসেট থাকেন তাই..
>আসল কথা বল..
>স্যার জিএফ এর সাথে একটু গেঞ্জাম চলতেছে তো তাই আর কি...
.
.
জি এফ কথাটা শুনে আয়ানের মেজাজ গরম হয়ে গেলো..আজ আরিশাও তো আয়ানের কাছে থাকতো..কিন্তু এই আয়েশার জন্য সব শেষ হয়ে গেলো.।
.
.
এই তুই হুমায়ুন কে ডাক দে যা..ওর সাথে কথা আছে..
.
.
আয়ান হুমায়ুন আসতেই ওকে বলে আয়েশার গলার রগ কেটে দিয়ে আসতে..
আর হুমায়ুন ও আয়ানের সব কাজ করে দেয়..
এর আগেও অনেক কে মেরেছে এরা..
.
.
আয়ানের কথা শুনে হুমায়ুন নিজের ধারালো ছুড়ি নিয়ে রউনা হয় আয়েশার বাড়ির দিকে..
.
.
.
আর সেদিকে আয়েশা নিজের মায়ের সাথে শুয়ে ঘুমাচ্ছে..
.
হুমায়ুন পাইপ বেয়ে উপরে উঠে..
.
ঠান্ডা হাওয়ার জন্য বারান্দার দরজা খোলা..
হুমায়ুন আয়েশাকে দেখতে পায়..
.
.
সে ছুরি নিয়ে আয়েশার দিকে এগুচ্ছে..
.
আয়েশাকে মারতেই হবে তার...
.
.
সে আয়েশার অনেক কাছে এসে পড়েছে আর ছিড়ি আয়েশার গলায় চালাতে যাচ্ছে..
.
.
.
.
#চলবে..
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!