লেইট ম্যারেজ

  লেইট ম্যারেজ   
দিন যত যাচ্ছে বিয়েটা ততোই কঠিন হচ্ছে। এটা বিয়েশাদি না, হয়ে গেছে যুদ্ধ! একধরনের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা শুরু হয়েছে। মাত্র ২০ বছর, হ্যাঁ ! মাত্র ২০ বছরে তুমুল চেন্জ এসেছে সোসাইটিতে। একটা নোংরা অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। স্টাবলিশ লাইফ, কালারফুল কালচার ও ব্রাইট ফিউচারের পেছনে সবাই ছুটছে! ক্যারিয়ার আর গ্ল্যামারের ঝনঝনানি বাজছে পুরো সোসাইটিতে।
লেইট ম্যারেজ
লেইট ম্যারেজ

২৫+ অবিবাহিতা নারী ঘরে ঘরে বসে আছে। বিয়ে হচ্ছে না, জিজ্ঞেস করলে জানবেন, ভালো যোগ্যতাসম্পন্ন পাত্র পাওয়া যাচ্ছে না! যোগ্যতাসম্পন্ন পাত্র খুঁজতে খুঁজতে কখন যে নিজেই অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে তার খবর কে দিবে! বিশ বছর আগেও ২৫+ অবিবাহিতা কয়টা মেয়ে আপনি সোসাইটিতে দেখেছেন? এখন তো সংখ্যা প্রায় অর্ধেক ছাড়িয়ে গেছে। এখনও বহু সংখ্যক মেয়ের বিয়ে বাকী রয়ে গেছে।
আজকাল ছেলেরাও ৩০ এর আগে বিয়ে করতে চায় না। কিভাবে করবে? যে এক্সপেক্টশনের লিস্ট তার হাতে এই সোসাইটি ধরিয়ে দিয়েছে সেটা সে চাইলেও ৩০/৩৫ এর আগে পারবে না। একটা ছেলের স্টাডি শেষ হবার পর জবে ঢুকতে মিনিমাম ২৮/২৯বয়স হয়ে যায়। জবে ঢুকার পর ফিউচার, ক্যারিয়ার, বিয়ের দেনমোহর ও অন্যান্য খরচ এসব যোগাতে আরো ৩/৪ বছর চলে যায়। ৩৩/৩৪বছর বয়সে একটা ছেলের বিয়ে করার আগ্রহ অনেকটাই কমে যায়।
কি কারনে কমে যায় সেটা অন্য কেউ না বুঝলেও এই বয়সের ছেলেরা খুবই ভালোভাবে জানে। একটা পুরুষ যৌবনপ্রাপ্ত হয় ১৪/১৫ তে, সে বিয়ে করে ৩৩/৩৪ বছর বয়সে!! একটা নারীর নারীত্ব আসে ১২/১৪ তে, সেখানে সে বিয়ে করে ২৫/২৬ বছর বয়সে!! এই যে লম্বা একটা 'বিগেস্ট গ্যাপ' এটার কারন কি? মানুষ যখন কোনো কিছু সহজ পথে না পায় তখন সে বাঁকা পথেই চাওয়া পূরণ করতে চাইবে।
এই বাঁকা পথের মাধ্যম ইউজ করছে ফোন, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু, ভাইবার এসবে। এজন্যই তো লিটনের ফ্ল্যাট কালচার শুরু হয়েছে। আর এসব যখন এভাবেই পাওয়া যাচ্ছে তাহলে বিয়ে করার দরকারটাই বা কি? আর মানুষ প্রচুর অপশন পাচ্ছে। সবার হাতে ২/৪ জন করে রেডি আছে। একজন চলে গেলে কোনো ব্যাপার না। অন্যজন তো আছেই!
অনেকে বলবে ভালো জব, বা টাকা ইনকাম না করলে বউকে খাওয়াবে কি?? এই বিষয়ে আমার কিছু কথা আছে। আমাদের ১/২ জেনারেশন আগেও ১২/১৪ বছরের মেয়ে ১৮/২০ বছরের ছেলের বিয়ে হয়েছে। তাদেরকে কি ছেলের বাবা খাওয়াইছে?? কই তারা কি না খেয়ে মরে গেছিলো?? তাদের বংশ থেকেই তো আমরা বর্তমান প্রজন্ম এসেছি।
উন্নত পশ্চিমা দেশের ব্যাপার অন্যরকম। সেখানে যেমন ক্যারিয়ার আছে, ঠিক তেমনি ২০+ বয়সে ভালো জব বা কাজের ব্যবস্থা আছে। আমরা ব্রিটিশ কলোনীর গোলামী সিস্টেমের পড়াশোনা করছি, যেখানে মানুষের অর্ধেক জীবন পার হওয়ার পর কাজ পাওয়া যায়। এটাতো ব্রিটিশরা করেছিলো, আমরা যাতে সবদিক দিয়ে অকর্মন্য থাকি! বয়স ৩০-এর পরে বাচ্চা নিলে সে বাচ্চা পরিপুর্ন মানসিক বিকাশ পায় না।
যাই হোক, ঐ ৩৩/৩৪ ছেলে যখন বিয়ের জন্য পাত্রী খুজে তখন সে সুন্দরী খোঁজে। কারন সে এতোবছর ধরে দেখে এসেছে যে, ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে মেয়েরা বিন্দুমাত্র আপোষ করে না। তাই পুরুষেরাও গ্ল্যামার বা সৌন্দর্যে কোনও আপোষ করবেনা এটাই স্বাভাবিক। তখন তারা বিয়ে করে ১৮/২০ বছরের মেয়েকে! এই যে লম্বা সময় গ্যাপ, তাতে তাদের না হয় মেন্টালিটি ম্যাচ, না হয় ফিজিকাল ম্যাচ। তার ফলে কি হয়? বিয়ের কিছু দিন পর হয় তাদের ডিভার্স হবে, আর না হয় সেপারেশন অথবা পরকীয়া!
আর ওদিকে ২৮/৩০ বছরের উচ্চশিক্ষিত মেয়ে, যে এতোদিন যোগ্যতাসম্পন্ন পাত্র খুঁজে পায়নি, যে কিনা ক্যারিয়ার নিয়ে খুব ফোকাসড ছিলো, সেও কিন্তু এতদিনে যোগ্যতাসম্পন্ন পাত্র খুঁজে পাচ্ছে। কিন্তু তার বয়সের ছাপ, আর মলিন মুখ দেখে উল্টো পাত্রপক্ষের কাছেই রিজেক্ট হচ্ছে! শেষমেষ অন্তত প্রাইমারী স্কুল টিচার পাত্র হলেও চলবে এমন ভাবনা ভাবছে!
আসলে দোষটা কারো নয়। দোষটা হচ্ছে আমাদের চিন্তার, মানসিকতার ও তথাকথিত সামাজিকতার। যে সমাজ একজন নিরপরাধ মানুষের হত্যা ঠেকাতে পারেনা, সঠিক সময়ে একজন মানুষের রুজির ব্যবস্থা করতে পারে না। সেটা কিসের সমাজ??? সেই সমাজের কথা কেনো শুনতে হবে????
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!