#অচেনা_কেউ #পর্ব_৭

#অচেনা_কেউ
#পর্ব_৭
লেখক_আয়াত_মুস্তারিহ_আয়ান
#অচেনা_কেউ #পর্ব_৭
#অচেনা_কেউ #পর্ব_৭

আয়েশার গলার খুব কাছে ছুড়ি..এমন সময় হুমায়ুন এর ফোনে ফোন আসে..
.
হুমায়ুন এর বউ ফোন করছে..
আয়েশা আওয়াজ শুনে হালকা নাড়া দিয়ে উঠলেও তার ঘুম ভাংগে না পুরোপুরি..
হুমায়ুন ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কেউ বলে উঠে..
.
তোর বউ আর বাচ্চার মুখ দেখতে চাইলে চুপচাপ আয়েশাকে ছেড়ে..নিজের বাড়িতে ফিরে আয়..
নাহলে তোর বউ বাচ্চার লাশ ও পরে যাবে...
.
হুমায়ুন স্থির হয়ে যায়..
এই শহরে কার এতো বড় সাহস যে হুমায়ুন এর পরিবারের গায়ে হাত দিবে??
.
তবুও সে ভয় পেয়ে চলে যায়..
হুমায়ুন শহরের নামি লোক..তাকে দেখে সবাই ভয় পায়.এমন ও অনেক জায়গা আছে যেখানে হুমায়ুন মানেই মৃত্যু..
তবুও হুমায়ুন আয়ানের হয়ে কাজ করে.
অনেক ভালোবাসে আয়ান হুমায়ুন কে..
অনেক বিপদে সাহায্য ও করেছে..কিন্তু হুমায়ুন আজ নিজের পরিবারের জন্য আয়ানের দেওয়া কাজ করলো নাহ..
.
হুমায়ুন কি ভাবে মুখ দেখাবে আয়ান কে এটাই বুঝে উঠছে নাহ..

হুমায়ুন আয়ানের বাসায় গিয়ে দেখে আয়ান ঘুমিয়ে আছে..
সে আর তাকে জাগায় না..সোজা নিজের বাড়ি চলে যায়..
.
.
সকাল হতেই হুমায়ুন আয়ানের কাছে আসে..
.
যখন হুমায়ুন আয়ান কে সব বলে আয়ান শক হয়ে যায় যে সে আয়েশাকে মারতে বলেছে..
.
হুমায়ুন কে জড়িয়ে নেয়..আয়েশাকে না মারার জন্য..কারণ আয়েশাকে এর থেকেও কষ্টের মৃত্যু দিতে চায় আয়ান..
.
আয়ান ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে আয়েশাদের বাসায় যায়.
কলিং বেল দিতেই আয়েশা এসে দরজা খুলে দেয়..
.
আরে আয়ান..এতো সকালে?
>না মানে এমনি আসলাম..
>এসো আম্মু নাসতা রেডি করতেছে একসাথে খাবো..
>হুম চলো..
.
.
আয়েশার বাবা সকালে মিটিং এর জন্য বাহিরে গিয়েছে..
এখন আয়ান আয়েশা আর তার মা বসে নাস্তা করতেছে..
.
আয়েশা কি যেনো ভাবছিলো..
.
এমন সময় আয়েশাকে আয়ান বলে উঠে..
চলো আয়েশা আজ ঘুরতে যাই..
>হুম কোথায় নিয়ে যাবে শুনি??
>পাতালপুর যাবে??.
>হুম যাওয়া যায়..কিন্তু এটা কোথায় পাওয়া যাবে শুনি??
>কেনো??তোমার খাবারের ভিতরে..
>আহহ আয়ান তুমি না.. অনেক বেশি করো..
.
আয়ান হেসে দেয়..

একটু পরে আয়েশা রেডি হয়ে আসে..
আজ নীল শাড়ি পড়েছে আয়েশা..
.
দেখে মনে হচ্ছে একদম যেনো আকাশ থেকে পরী নেমে এসেছে..
.
আয়ান আয়েশার হাত ধরে বাসা থেকে বের হয়..
.
তারা একটা রিকশাতে উঠে আর চলতে থাকে..
.
আচ্ছা আয়েশা..রিকশাতে একটা ভয় পাওয়ার জিনিশ আছে যানো কি??
>রিকশা তে ভয়??
>হে..
>এটা আবার কিভাবে??
>এই দেখো তুমি যদি পরে যাও বা তোমায় কোন গাড়ি যদি এসে মেরে দেয়.
বাচার সম্ভাবনা ৫% থাকবে মাত্র..
.
আমি বুঝিনি কিছু আয়ান
>আরে এমনি বললাম..
>এমনি এমনি কেউ কিছু বলে নাহ..
>বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট আয়েশা..
>আমি বুদ্ধিমান নাহ..
>তো??
>বুদ্ধিমতি..
>হাহাহাহা..
.
.
আয়েশা আর আয়ান পার্কে গিয়ে বসে..এমন সময় একটা গান বাজতে থাকে আশে পাশে..
.
গানের সুরটা খুব চেনা লাগছে আয়েশার..সে বুঝতে পারতেছে নাহ সুর টা কেনো তার চেনা লাগছে কিন্তু চেনা লাগছে খুব..
সে দৌড়ে যায়..
সেখানে গিয়ে দেখে একটা ছেলে গান গাইছে..
.
গানের দিকে তার তেমন খেয়াল নেই কিন্তু সুরের দিকে আছে..
সুরটা তার চেনা লাগছে..
এমন সময় আয়ান এসে তার ঘাড়ে হাত দিলো..
সে চমকে উঠে..
.
আয়ানের দিকে ভালো করে তাকাতেই দেখে তার চোখ লাল..
.
>আয়ান তোমার চোখ লাল কিভাবে??
>আরে পোকা পরেছিলো।।
>ওহ..
>আয়েশা তুমি জানতে চাও না..যে আমি কে??
>হে..আর কিভাবে সবাই তোমায় চিনে কিন্তু আমি নাহ..
>ওকে চলো আমার সাথে..
>কোথায়??
.
আজকে আমার বাসায় নিয়ে যাবো তোমায়..
.
আচ্ছা..

.

আয়েশা অন্ধের মতো বিশ্বাস করে ফেলে আয়ানকে..
.
সে আয়ানের সাথে আয়ানের বাসায় যাচ্ছে..
.
.
এদিকে সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে আয়েশার কোন খবর নেই..
সে বাসায় আসছে নাহ..
.
আয়েশার মায়ের চিন্তা হচ্ছে..
.
আয়েশা আসছে না কেনো.. এমন সময় আয়েশাদের বাসায় কলিং বেল বাজে..দরজা খুলতেই বাহিরে আয়ান দাড়িয়ে ছিলো.
আয়ান আয়েশা কোথায়??
>আন্টি..
>আর তোমার মাথা বেয়ে রক্ত কেনো পড়ছে??
>আন্টি আমি আর আয়েশা পার্কে বসে ছিলাম..
হঠাৎ আয়েশা উঠে কোথায় যেনো দৌড় দেয়..
আমি তার পিছনে যেতে যাবো তার আগেই কে যেনো এসে আমার মাথায় বারি দেয়..
আমি অজ্ঞান হয়ে যায়..
চোখ খুলতেই দেখি আমি নদীর ধারে পরে আছি৷

আমি কিছু না ভেবে সোজা চলে এলাম এখানে..
আন্টি আয়েশাকি বাসায় আসে নি?।
.
.
না তো বাবা..
.
তাহলে সে গেলো কোথায়???
.
.

#চলবে..
.
.
আয়ানের মাথায় তো কে জানি আঘাত করে ছিলো তাহলে আয়েশাকে কে নিয়ে গেলো??
নাকি আয়ান ই নিয়ে গিয়ে মিথ্যা বলতেছে??
কোনটা হতে পারে?কমেন্ট করুন..আর কেমন লাগছে গল্প তাও জানাবেন
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!