মহাভারতের কথা

মহাভারতের কথা
কুরুবংশের বৃত্তান্ত
ডক্টর প্রণব কুমার সাহা

ব্রহ্মার পুত্র দক্ষের পঞ্চাশটি কন্যা ছিল যাদেরকে তিনি পুত্রতুল্য জ্ঞান করতেন। জ্যেষ্ঠা কন্যা অদিতি থেকে বংশানুক্রমে বিবস্বান (সূর্য), মনু, ইলা, পুরূরবা, আয়ু, নহুষ ও যযাতি উৎপন্ন হয়। যযাতি একজন ধর্মাত্মা বেদজ্ঞ ঋষি ছিলেন।
শুক্রাচার্যের অভিশাপে রাজা যযাতি দুর্জয় জরায় আক্রান্ত হলেন। শাপ প্রত্যাহারে যযাতির অনুরোধে শুক্রাচার্য বললেন, ইচ্ছা করলে জরা অন্যকে দিতে পারবে। যযাতি জ্যেষ্ঠ পুত্র যদুকে তাঁর জরাগ্রস্তের কথা বলেন এবং তাঁর যৌবনভোগ এখনো তৃপ্ত হয় নি বিধায় তাঁর জরা নিয়ে পুত্রের যৌবন তাঁকে দিতে বললেন। পুত্র তাতে রাজী হলো না। তারপর যযাতি একে একে তাঁর অন্য তিন পুত্রকে বলেন কিন্তু কেউ জরা নিয়ে যৌবন দিতে সম্মত হন নি।
যযাতির কনিষ্ঠ পুত্র পুরু রাজী হয়ে পিতার জরা গ্রহন
করলেন।
পুরুর যৌবন পেয়ে যযাতি অভীষ্ট বিষয় ভোগ, প্রজাপালন এবং বহুবিধ ধর্মকর্মের অনুষ্ঠান করতে লাগলেন। সহস্র বৎসর অতীত হলে তিনি বুঝতে পারলেন, কাম্য বস্তর উপভোগে কখনও কামনার শান্তি হয় না, ঘৃতসংযোগে অগ্নির ন্যায় আরো বৃদ্ধি পায়। তাই তিনি পুত্র পুরুর যৌবন ফিরিয়ে দিয়ে রাজ্যও তাকে দিয়ে দিলেন।
পুরুর বংশে দুষ্মন্ত নামে এক বীর্যবান রাজা ছিলেন। ভরত রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার পুত্র। তিনি ছিলেন একজন ক্ষত্রিয় চন্দ্রবংশীয় রাজা।
মহর্ষি বিশ্বামিত্র এক কঠোর তপস্যায় রত হলে দেবরাজ ইন্দ্র তার তপোভঙ্গের জন্য স্বর্গের অপ্সরী মেনকাকে প্রেরণ করেন। মেনকার রূপসৌন্দর্যে বিশ্বামিত্রের তপভঙ্গ হলো। বিশ্বামিত্রের ঔরসে তার গর্ভে একটি কন্যার জন্ম হলে তিনি সদ্যোজাত কন্যাকে হিমালয়ের শীর্ষে মালিনী নদীর তীরে ফেলে স্বর্গে ফিরে যান। ঋষি কন্ব কন্যাটিকে কুড়িয়ে পেয়ে তাঁর কুটিরে এনে নিজ কন্যারূপে পালন করতে থাকেন। তিনি এই কন্যার নাম রাখেন শকুন্তলা।
কয়েক বছর পর, মহারাজ দুষ্মন্ত মৃগয়ায় এসে কন্বের তপোবনে শকুন্তলাকে দেখে তার রূপে মুগ্ধ হয়ে তিনি তাকে গান্ধর্ব মতে বিবাহ করেন এবং গর্ভসঞ্চার করেন। পরে তিনি রাজধানীতে ফিরে আসেন এবং ঋষি দুর্বাশার অভিশাপে শকুন্তলার কথা বিস্মৃত হন।

কিছুদিন পর দুষ্মন্তের ঔরসে শকুন্তলার গর্ভে এক পুত্রের জন্ম হয়। ঋষি কন্ব এই পুত্রের নামকরণ করেন সর্বদমন। পুত্রকে নিয়ে শকুন্তলা দুষ্মন্তের প্রাসাদে উপস্থিত হলে দুর্বাশার অভিশাপের প্রভাবে দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে চিনতে পারেন না। পরে অবশ্য ঘটনাচক্রে শাপপ্রভাব উত্তীর্ণ হলে স্ত্রী-পুত্রের সঙ্গে দুষ্মন্তের মিলন ঘটে। সর্বদমনের নতুন নামকরণ হয় ভরত।
ভরত বহু রাজ্য জয় ও বহুশত অশ্বমেধ যজ্ঞের অনুষ্ঠান করে সার্বভৌম রাজচক্রবর্তী হন। তিনি সমগ্র ভারতীয় ভূখণ্ড জয় করেন। এই কারণে তার রাজত্ব ভারতবর্ষ নামে পরিচিত হয়।
তাঁর বংশের এক রাজার নাম হস্তী, তিনি হস্তিনাপুর নগর স্হাপন করেন। হস্তীর চার পুরুষ পর কুরু রাজা হন, তাঁর নাম অনুসারে কুরুজাঙ্গল দেশ খ্যাত হয়। তিনি যেখানে তপস্যা করেছিলেন সেই স্হানই পবিত্র কুরুক্ষেত্র। কুরুর অধস্তন সপ্তম পুরুষের নাম প্রতীপ, তাঁর পুত্র শান্তনু। জয় মহাভারতের জয়। হরে কৃষ্ণ ।।
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!