গল্প-ঘৃতকুমারী

    গল্প-ঘৃতকুমারী     
গল্প-ঘৃতকুমারী
গল্প-ঘৃতকুমারী

(দুই পর্বের গল্প,অাপনাদের ভালো লাগলে ২য় পর্ব খুব শীঘ্রই দিব)
১ম পর্ব......
-তোমাকে না কতবার বলেছি এসব পাগলামি না করতে,তারপরেও কেন কর??(নিধি)
- পাগলামি কই দেখলে?তোমাকে একটু নীল শাড়ি অার নীল কাচের চুড়ি পড়ে দেখতে চেয়েছি। (নিলয়)
-পাগলামি নয়তো কি?তুমি জান অামি শাড়ি পড়ি না। তারপরেও কেন বল?
-ঠিক অাছে..পড়তে হবে না।দেখতে চাই না তোমাকে শাড়িতে।
এভাবে মাঝে-মাঝেই নিধি অার নিলয়ের মাঝে ছোট-ছোট বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। নিলয় খুবই সাধারন ঘরের ছেলে।তবে ভীষণ রোমান্টিক।অার নিধি কঠিন বাস্তবাদী মেয়ে। নিধি বেশির ভাগ সময়ই নিলয়ের এমন ছোট-ছোট অাবদার অপূর্ণ রেখে দেয়।তবুও নিলয় নিধিকে পাগলের মত ভালোবাসে।
তাদের সম্পর্কের শুরুটাও বেশ অদ্ভুত।
দুবছর হয়ে গেল তাদের সম্পর্কের। তবুও নিলয়ের কাছে মনে হয়, এইত সেদিনের কথা ।
-দোস্ত কই যাস?(রাফি)
-এইত দোস্ত একটু শহরে যাব। বোনের জন্য ঘৃতকুমারী অানতে হবে। (নিলয়)
থাক দোস্ত পরে অাড্ডা দিব। বাই।
নিলয় এক দোকানের সামনে এসে দাড়ালো। বেশ ভীড়। মনে হয় সবাই অাজই গাছের চারা কিনতে এসেছে।
-এই যে মামা..ঘৃতকুমারী গাছ অাছে কি??
-যে মামা,এডাই অাছে।
-কত মামা?
নিলয় ঘৃতকুমারী নিয়ে রাস্তায় নামতেই হঠাত পেছন থেকে এক মেয়ে কন্ঠের ডাক শুনতে পেল-
-এই যে মিস্টার শুনছেন
নিলয় বিরক্তি নিয়ে পিছু ফিরে তাকাতেই অবাক হয়ে গেল।বেশ মায়াবী মুখ অার কালো চোখের এক মায়াবী মেয়ে।কবি হুমায়ুন অাহমেদ মনে হয় এই মেয়ের জন্যই লিখেছেন-মেয়ে জাতটাই মায়াবতীর জাত।
-এক্সকিউজ মি,মিস্টার
নিলয় এতক্ষনে বাস্তবে ফিরল।
-জি অামাকে বলছেন?(নিলয়)
-জি,অামার একটা হেল্প করবেন?
-বলেন শুনি(নিলয়)
-অাসলে অামি ঘৃতকুমারী নিতে এসেছি। কিন্তু দোকানে নাকি একটাই ছিল সেটাও অাবার অাপনি নিয়েছেন, তাই অাপনাকে বলছি যদি কিছু মনে না করেন ওটা অাজ অামাকে দিন। খুব দরকার। অামি অাপনাকে দ্বিগুন টাকা দিব।
-টাকা লাগবে না। নিন
সাথে-সাথে মেয়েটা নিয়ে চলে গেল। অাশ্চর্য একবার ধন্যবাদ দেয়ারও প্রয়োজন মনে করল না। নিলয় নিজেও জানে না কেন সে এমন করল।
সপ্তাহখানিক পরে এক দিন....নিলয় শপিং করতে এক মলে এসেছে।
-এই যে ভাই, ঐ শাড়িটা দেখি তো
এমন সময় এক মেয়ে নিলয়ের পাশে এসে ঐ একই শাড়িই দেখতে চাইছে। ঠিক তখনিই
-অারে অাপনি সেই ঘৃতকুমারী না?
-জি..ওহ অাপনি...অাচ্ছা অাপনার কিন্তু ধন্যবাদ পাওনা অাছে।
-সেদিন এর ঐ ঘৃতকুমারীর জন্য?
-বাহ অাপনার তো দারুণ স্মৃতি শক্তি..অাসলে ঐদিন অামি ভীষণ তাড়ায় ছিলাম তাই অাপনাকে thanks ও দেয়নি।
-Its ok...অাজ অামাকে একটা help করেন তাহলেই হবে।
-জি অবশ্যই বলুন
-অামারর শাড়ি কিনতে হবে। But কোনটা নিব বুঝতে পারছি না
-সিওর...ঐ যে ঐটা নিতে পারেন.কিন্তু কার জন্য?
-অামার মায়ের জন্য।
-ওহ তাহলে এটাই ভালো লাগবে
-thanks.. যদি কিছু মনে না করেন তাহলে অামরা কি একসাথে কফি খেতে পারি।
-সরি অাজ না। অন্যকোন দিন
অাজব.. মেয়েটাকে কফি অফার করলাম অথচ সে না করে দিল। মেয়েটা বেশ mature বটে। অারে ধুর মেয়েটার তো নামই জানা হল না। নামটা যে জানতে চাইব তার খেয়ালই ছিল না। মেয়েটার চোখের দিকে তাকালে কেমন যেন ঘোর কাজ করে। কিছুই মনে অাসে না। মনে হয় অনন্তকাল ঐ চোখে চেয়ে হারিয়ে যায়।
এসব ভাবতে-ভাবতে নিলয় বাড়ি ফিরে যায়। এরপর থেকে নিলয় প্রায়ই মেয়েটার কথা ভাবতে থাকে। যেন মেয়েটাকে নিলয় ভালোবেসে ফেলেছে। মজার ব্যাপার হল যার প্রেমে সে পড়েছে তার নামটা পর্যন্ত জানে না।তাই নিলয় মনে-মনে তাকে ঘৃতকুমারী কন্যা নামেই ডাকে।
এরপর প্রায় মাসখানেক কেটে গেছে। নিলয়ের কলেজে অাজ নবীন বরণ অনুষ্ঠান। নিলয় একটা গান দিয়েছে। তারই অনুশীলন করছিল। মাঠটা সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। নিলয় ও তার বন্ধুরা মিলে পুরো অনুষ্ঠান এর অায়োজন করেছে।
-অারে অাপনি এখানে?
নিলয় অাবারও সেই চিরচেনা কন্ঠের ডাক শুনে চমকে ওঠে। পিছু ফিরে দেখে সেই ঘৃতকুমারী কন্যা। অাজ মেয়েটাকে অপরূপা লাগছে। খুব সুন্দর করে সেজেছে।
-অাচ্ছা অাপনি অামাকে দেখলে কোথায় যেন হারিয়ে যান। ব্যাপার কি বলেন তো?
-সরি। অাপনি অামাদের কলেজে?
-এইত অামার ছোট ভাইয়ের নবীন বরন দেখতে এসেছি।
-ওহ..অাপনার ভাই এই কলেজে পরে?(অাগে জানলে যে কি করতাম)
-কিছু বললেন?
-না..অাচ্ছা মিস ঘৃতকুমারী অাপনি কতক্ষন থাকবেন এখানে?
-ঠিক নেই..যদি অাপনাদের প্রোগ্রাম ভালো লাগে তাহলে শেষ করেই যাব।বাই দা ওয়ে অামার নাম কিন্তু নিধি।
-সুন্দর নাম। একদম অাপনার মতই।
-flirt করছেন?
-তা অার পারলাম কই। অাপনি কই যেন পড়ছেন?
-Dhaka Medical college & Hospital এ সেকেন্ড ইয়ার। অাপনার কিন্তু পরিচয় দিলেন না।
-ওহ সরি... অামি নিলয়.. এই কলেজেই science department এ final year এ..
-হুম... অাচ্ছা অাপনি অাজ কিছু দেননি?
-হুম.. অামার একটা গান অাছে।
-তাই..কেমন গান করেন অাপনি?
-একটু পরেই জানতে পারবেন।
একটুপর নিলয় গান করবে।যদিও নিলয় খুব ভালো গায়। তবুও অাজ তার খুব নার্ভাস লাগছে।
নিলয় গান গাইছে
""হও যদি ঐ নিল অাকাশ,
অামি মেঘ হব অাকাশের
হও যদি অথৈ সাগর,
অামি ঢেউ হব সাগরের"""
অার মাঝে-মাঝেই নিধির চোখে চোখ পরছে। নিধি উদাস ভাবে গান শুনছে। যেন হঠাত কিছু হারিয়ে সে অাজ নিস্ব।
-বাহ দারুন গাইতে পারেন অাপনি।
-তাহলে তো অামার গান গাওয়া সার্থক।
-মানে..বুঝলাম না।
-কিছু না। অাচ্ছা অামরা কি বন্ধু হতে পারি?
-হতে পারি যদি অাপনি অামাকে অাজ কফি খাওয়ান।
-oh sure..why not....
এভাবে শুরু হয় নিধি অার নিলয়ের বন্ধুত্বের অধ্যায়। নিলয় মাঝে-মাঝেই এমন সব কান্ড করত নিধির জন্য যে নিধি অবাক যেত।
এইত সেদিন..
-নিধি অাজ বিকালে নদীর পাড়ে অাসবি?
-কেন...নৌকায় করে ঘুরবি নাকি?
-না.. তুই অাসলেই দেখতে পারবি।
-ওকে অাসছি।
নিলয় অাজ নদীর পাড়ে নিধিকে অাসতে বলেছে কারন অাজ নিলয় তার জন্য নদী থেকে তাজা শাপলা ফুল এনে দিবে। চাইলে নিলয় তাকে পরেও দিতে পারত কিন্তু তাতে শাপলা ফুল তাজা থাকবে না। নিলয়ের এসব পাগলামিতে নিধি সায় দিত না। কিন্তু মনে মনে ঠিকই খুব পছন্দ করত।
এভাবেই চলতে থাকে তাদের সম্পর্ক। এরমাঝে নিলয় নিধিকে অনেক বার ভালোবাসার কথা বলতে চেয়েছে কিন্তু পারেনি। কিছুদিন পর রাত ১২টায় নিলয় নিধিকে ফোন করে নিধির বারান্দায় অাসতে বলে...
-নিধি একটু বারান্দায় অায়তো
-এতরাতে বারান্দায়? তুই কি পাগল হয়েছিস?
-প্লিজ না করিস না। অামি তোর বাসার সামনেই অাছি
নিধি অার থাকতে না পেরে বারান্দায় যায়। দেখে... নিলয় গীটার হাতে অার তার সামনে অনেকগুলো মমবাতি জালানো।অার নিলয় বলছে শুভ জন্মদিন নিধি। গানের সুরে সুরে তখন নিলয় তার ভালোবাসার কথাও নিধিকে জানিয়ে দেয়। নিধি শুধু অবাক হয়ে দেখতে থাকে। যেন এমন দৃশ্য নিধি অাগে কখনও দেখেনি। গভীর রাতের মোহময় মায়া অার হাজারও জোনাকির অালোয় নিলয় তার ভালোবাসার মানুষটার মুখ থেকে ভালোবাসি কথা শোনার জন্য অধীর অাগ্রহে অপেক্ষায় দাড়িয়ে এই সুন্দর মায়াময় মুহূর্ত শেষ না হবার প্রতীক্ষা করছে।
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!