রাত যখন গভীর Season:02 Part :25

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :25
 *****
রাত যখন গভীর Season:02 Part :25
 রাত যখন গভীর Season:02 Part :25


একথা শেষ করতেই রিনি,
হঠাৎ করে, প্রিন্স রহমান জিন উদাও হয়ে গেছে। 
প্রিন্স দাঁড়িয়ে আছে। সমুদ্রে তীরের কাছে। এমন সময়, কে যেনো পিছন থেকে প্রিন্সের কাঁধে হাত দিলো।প্রিন্স পিছনে ফিরে দেখে,,,,,,
এটা আর কেউ না তার সো কল্ড বেস্ট ফ্রেন্ড রহমান।যার জন্য এতো সব হলো।
প্রিন্স (ইনতিয়াজ) বলেঃতুই আমার পিছনে কেন নিলি?
যা চলে যা।এখন তো ভালোই হলো  তাইনা! রিনিকে তুই ও পেলি না? 
আমিও পেলাম না।মেয়ে টার জীবন টা নষ্ট করে দিলাম আমি। তুই ওইখান থেকে কেমনে আসলি?
তাদের সবাই কে কি বললি!
তাছাড়া কেমনে বুঝলি বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে পারিস মতো যে আমি বৃত্ত টার গুণাবলি কমিয়ে দিছি!!!
রহমান ( শয়তান প্রিন্স জিন) বলেঃ সবার মধ্যে থেকে হঠাৎ করে গায়েব হলাম।রিনি কথা বলছিলো ওর কথা শেষ হতেই চলে আসলাম।
আমি জানতাম, তুই আসার সময় এমন কিছু করে দিবি।
তাছাড়া, 
বিশ্বাস কর, আমি জানতাম না এতো কিছু হয়ে যাবে!আমাকে মাফ করে দে।প্লিজ। প্রিন্স। প্লিজ। 
প্রিন্স বলেঃ রহমান একটা কথা কি জানিস,
সবার  সাথে দেখা হলে,
এমন আচরণ করবি,যাতে 
তোমার মৃত্যুতে তারা 
কাঁদে এবং বেঁচে থাকলে
দির্ঘায়ো কামনা করে।(হযরত আলী রাঃ)বলেছেন।
আমার কষ্ট গুলো একান্ত আমার নিজের। যা মাফ করে দিলাম।আমার প্রিয় নবী (সাঃ)যদি তার শত্রু ও অন্যায় করিকে মাফ করতে পারে তাহলে আমি কেন পারবো না!
মাফ করে দেওয়া হচ্ছে শ্রেষ্ঠ গুণ। রহমান যা মাফ করে দিলাম।
রহমান জিন বলেঃ তাহলে, আগের মতো জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে নে।
আমি খুব অনুতপ্ত, আজকে রিনির কথা শুনে আমার ভুল বুঝতে পারছি। আমার জন্য সব হলো।মাফ করলি বলছস,তাহলে  কি জড়িয়ে ধরবি না,???তাছাড়া তুই চাইলে শাস্তি দিতে পারিস।শাস্তি মেনে নিবো!
প্রিন্স বলেঃ জানিস রহমান,এই পৃথিবীতে সে সবচেয়ে বেশি অসহায়, যে নিজের অভিমান, রাগ, কষ্ট কিছু কাউকে দেখাতে পারে না। আমি ও তেমন একজন। 
তাছাড়া কষ্ট গুলো আমি কুড়িয়ে রাখছি।আজ কষ্ট পেতে ও ভালো লাগে। কেউ একজন বলেছিল,people will throw Stone at you,
Don't throw them back. 
Collect them all And build an empire. 
আমি তুকে মাফ করে দিলাম। কিন্তু আমাদের সম্পর্ক টা আগের মতো করতে পারবো না।সরি
কিছু সম্পর্ক এমন তাকে,যেগুলো  শেষ হয়ে ও শেষ হয়না।
মায়ার টানে অথবা,
অভ্যাসগত কারণেই 
সম্পর্ক গুলো মাঝ পথে ঝুলে থাকে।
তুর আর আমার বন্ধুত্ব এই পর্যায়ে আছে। 
যারা আমার ক্ষতি চায়,তাদের আঘাত করবো না।তাদের সামনে একটু হাসি মুখে বাচবো।দেখা যাবে আমি আঘাত করলে যা কষ্ট পেতো।ও তার চেয়ে ও বেশি কষ্ট পাবে।
তুর জন্য এটাই অনেক বড় শাস্তি হবে। আমাকে সামনে দেখবি হাসি খুশি। কিন্তু ভেতর টা যে চুরমার হয়ে গেছে তা তুই জেনে ও কিছু করতে পারবি না।তিলে তিলে অনুতপ্ত হবি।কষ্ট পাবি তুই।
রহমান জিন বলেঃ প্লিজ এমনটা করিস না।আমি চাই সব আগের মতো হয়ে যাক।তুর রাগ, অভিমান সব কিছু সহ্য করার জন্য আমিতো আছি রে?তুর কষ্টের মধ্যে সান্ত্বনা দিতে আমি আছি! 
কি তুর কষ্ট কি আমার সাথে ভাগ করে নিবি না???
প্রিন্স বলেঃ যারা নিজের সান্তনা নিজেকে দিতে শিখে যায়, তারাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে।তাছাড়া আমি কাদলে সবসময় কেউ না কেউ এসে মাথায় হাত রাখবে নাহ।তাই নিজের জীবন সঙ্গী নিজের হতে হয়।
আমি একাই নিজেকে সামলে নিবো। তুই তুর রাস্তায় চল আমি আমার রাস্তায় চলি।
আর শোন রহমান, তুকে যে আমি মাফ করলাম তার বিনিময়ে যদি কিছু চাই দিবি?
রহমান জিন বলেঃ একটা কথা মনে রাখিস, 
when your intention are pure you Don't lose anyone. They lose you.
তুই কিন্তু আমাকে হারিয়ে ফেলবি!আমার ইন্টেশন কিন্তু এখন খারাপ কিছু করা না।।।
তাছাড়া, 
কি চাস বল?
সব দিবো তুকে!!!জাস্ট মুখ খুলে বল।।।😟😟😟
প্রিন্স বলেঃ তুই সুমিকে রাজ্যে নিয়ে যা।তাকে তুর বউ এর অধিকার দে।তার সাথে সংসার কর।
তাকে কখনো কষ্ট দিস না।
তাছাড়া, রিনি কথা কি আর বলবো!
এতো কিছুর পর।  আমি জানি তুই আর রিনির সামনে যাবি না।
তাই এই বিষয়ে আর কিছু বললাম না।
রহমান জিন বলেঃ তুই কি আমার কাছ থেকে এটাই চাস?
এর বিনিময়ে কি আমাদের বন্ধুত্ব ফিরে পাবো?
প্রিন্স বলেঃহ্যা এটাই চাই।চিন্তা করিস না সময়ের সাথে সাথে সব ক্ষত মুছে যাবে,তখন আবার আমাদের মধ্যে যে অদৃশ্য দেয়াল এর সৃষ্টি হয়েছে সেটা মুছে যাবে। তবে আমি একা থাকতে চাই। 
এখান থেকে চলে যা।নিজের রাজ্যে চলে যা।আমাকে একটু একা থাকতে দে।
নিজেকে একটু সামলে নি।
আর শোন,রহমান
যাওয়ার আগে একটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যা।আমার কাছে তুর পরিচয় লুকায়িত করছিলি কেন??? 
সত্যিটা বলিস নি কেনো?
এতটা সময় ধরে !!! 
রহমান জিন বলেঃ আমি তুর কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের দোয়া শিখতে পারার লোভে প্রথমে বন্ধুত্ব করলে ও।সময়ের সাথে সাথে তুই অনেক আপন হয়ে গেছস।
আমার রাজ্যের সাথে তোদের সম্পর্ক তেমন ভালো না।যদি সত্যি জানতি,তখন যদি আমাকে দূরে সরিয়ে দিতি।সেই ভয়ে নিজেকে গোপন করে ছিলাম।
প্রিন্স বলেঃ একবার যদি বলে দেখতি।আমি কি করতাম দেখতে পারতি।
এই বিশ্বাস ছিল তুর বন্ধুত্বের উপর। আমার বন্ধুত্ব এতোটা ঠুনকো ছিল না।বুঝতে পারলি না রে।হায় আল্লাহ। 
আর শোন তুই চলে যা এবার।আমার আর কিছু জানার নেই। তবে তুই যখন সুমিকে আপন করে স্বাভাবিক হয়ে সংসার করতে পারবি।তখনই আমার সামনে আসিস।এর আগে তুর মুখ দর্শন করাইস না আমাকে।
রহমান জিন বলেঃ এই কোন উভয় সংকটে ফেলে দিলি!! এমন করিস না। প্লিজ। 
প্রিন্স বলেঃ তুই কি যাবি নাকি আমি দোয়া পড়ে তুকে জ্বালিয়ে ফেলবো!
রহমান জিন ভালো ভাবে জানে প্রিন্স এমন কিছু করবে না।তাছাড়া, 
রহমান এর ক্ষতি করতে না পারলে ও প্রিন্স নিজের ক্ষতি করে বসবে।তাই রহমান চলে গেল। 
প্রিন্স তাকিয়ে আছে সমুদ্রের জলের দিকে।এক ঝাঁক পাখি উড়ে বেড়াচ্ছে।
প্রিন্স বলেঃ এই সেই জায়গা রিনি।যেখানে তোমাকে প্রথম দেখে ছিলাম।
আর প্রথম দেখাতে ভালো লাগা হয়ে যাই। তারপর ভালোবাসা।।।
হুহ্ 
রিনি একটা কথা কি জানো, 
আমাকে দেখে তুমি 
 মুখতো ফিরিয়ে নাও, কিন্তু তুমি  কি জানো। আমি তোমার ছায়া দেখে ও তােমাকে চিনতে পারি।
এতো অবহেলা আর যে সইতে পারছিনা।
 একটা কথা কি জানো রিনি,
ভালবাসা সম্পর্কে সক্রেটিস ঠিকই বলেছেন, ভালবাসা অগ্নিকুন্ড।
আর শেক্সপিয়ার বলেছেন,ভালবাসা পাগলামি।
অ্যারিস্টোটল বলেছেন, ভালবাসা অভিশাপ। 
রিনি,তোমার কাছে আমার ভালোবাসা গুলো তোমার অভিশাপ মনে হয়। কিন্তু এই পাগল হার মানবে না।তার পাগলামি আরও বাড়িয়ে দিবে।তুমি ভালোবাসতে বাধ্য হবে। নিজ মুখে বলবে,ভালবাসি প্রিন্স। rini,just wait and watch. আমি কি করি!!!!
💮
💮
💮
সবাই তো অবাক হঠাৎ রহমান কই গেছে তা দেখে সুমি মন মরা হয়ে বসে আছে।
 অন্য দিকে,  জান্নাত এর বুকের মধ্যে বড় একটা ঝড় ভয়ে যাচ্ছে। জান্নাত এটা কি শুনলো,মুগ্ধ মানুষ নই।একটা জিনপরী।
💮
মুগ্ধ ও এক জায়গায় গিয়ে বসেছিল।কারণ সে কোন মুখে জান্নাত এর সামনে যাবে!
হাবিব ও শাম্মি বসে আছে। কি হয়ে গেছে সবার সাথে। 
শাম্মি বলেঃ আচ্ছা সত্যি এতো থেথো কেন হাবিব???
হাবিব নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে।
 💮
অর্ক অবাক হয়ে আছে। কারণ, সে যদি লাবুর কাছাকাছি না থাকতো তার লাবু কে শয়তান প্রিন্স রহমানের গোলাম টা শেষ করে ফেলতো।
এটা চিন্তা করতেই,অর্কের বুকে মুচড় দিয়ে উঠে। সাথে সাথে লাবুর হাতটা ধরে ফেলে। 
💮
রাবেয়া ও কামাল চিন্তা করছে।কি করবে তারা এখন?
তারা মেয়ে টা কিভাবে স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে আসবে!!!
💮
রাহাত হুজুর বলেঃ রেশমি, তোমার কিছু হলে নিজেকে মাফ করতে পারতাম না।
কারণ, রিনির খুঁজ নেয়ার জন্য এতো বড় মাশুল দিতে হবে জানলে,আমি খুঁজ ই নিতাম না।
রেশমি বলেঃ এমনটা বলে না।এটা তোমার কাজ।
বিপদে একে অপরের পাশে থাকাটা তো মানব জীবনের ধর্ম।
রাহাত হুজুর একটা নিশ্বাস নিয়ে রেশমি কে কাছে টেনে নেই।
💮
💮
অন্য দিকে,
রিনি দাড়িয়ে আছে। একটা হ্রদের কাছে।হ্রদ টা অর্কের বাসার পাশে। 
রিনির মনটা বড্ড জ্বালাচ্ছে। কোন বারণ মানছে না।কাকে জানি মিস করছে!!!!
তাই রিনি মনটা রিফ্রেশ করতে হ্রদে এসেছে।তাছাড়া, এখন সবার মন খারাপ। যে যার মতো করে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছে।।।।। 
রিনি,
 দূরে তাকিয়ে আছে। আর চিন্তা করছে কি কি ঘটে গেছে তার সাথে। 
তখনই, রিনি একটা কবিতা বলেঃ
"প্রতিটি দীর্ঘ শ্বাস হোক,
বেঁচে থাকার শক্তি, 
প্রতিটি দীর্ঘ শ্বাস হোক অতীত টা ভুলে যাওয়ার, 
প্রতিটা অশ্রুর ফোঁটা হোক, 
ঘুরে দাড়াবার দৃঢ় পদক্ষেপ। 
প্রতিটি অশ্রুর ফোটা হোক,
নিজেকে গড়ে তোলার,
আজকের এই মন খারাপের  বিকেলটা হোক, 
এক নতুন আলোর সূচনার।।(কবিতা লেখিকাঃজান্নাতুল মাওয়া মহুয়া) 
রিনি সিদ্ধান্ত নিল। সে নিজেকে গড়ে তোলবে।পড়াশোনা শুরু করবেন।
অতীত টা ভুলে যাবে। একটা খারাপ স্বপ্ন ভেবে।
রিনির অতীত কি সত্যি তাকে ভুলতে দিবে?
নাকি এমন কিছু অপেক্ষা করছে যা রিনি কল্পনা ও করে নি????
চলবে......
***নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড এর সাথে কখনো এমন ব্রেক আপ হয়ে ছিল?
কেন হয়ে ছিলো? কমেন্ট করে বলেন!!!
গল্প টা কি আর বড় করবো!
নাকি শেষ করবো!
আপনাদের মতামতের উপর ভিত্তি করে এগিয়ে নিবো গল্প!!! 
সো মতামত জানান!!!
!! 
আর,
গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে জানাবেন???
(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!