রাত যখন গভীর Season:02 Part :16

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :16
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :16
 রাত যখন গভীর Season:02 Part :16


প্রিন্স এর উঠানের পাশে করে কদম ফুলের গাছ আছে। ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে, কদম ফুল এর মন মাতাল করা ঘ্রাণ, সামনে আছে প্রিন্স এর মন ঘায়েল করা বৃষ্টি বিলাসী। 
প্রিন্স এখন অনেকটা কাছাকাছি আছে রিনির।এমন সময় প্রিন্স (ইনতিয়াজ) আলতো করে রিনির কোমরে স্পর্শ করে। রিনি একটু কেঁপে ওঠে। রিনি পিছনে ফিরে দেখে প্রিন্স(ইনতিয়াজ)।
প্রিন্স রিনির ঘাড়ে ঠোঁট জোড়া স্পর্শ করে দেয়। রিনি অবিরত কেঁপে চলছে। প্রিন্স তার হাত দিয়ে রিনির চুল গুলো খোপা করে দেয়। 
প্রিন্স বলেঃ এ চুল আমাকে মাতাল করে দেয়। খোলা চুল, আর তোমার মায়াবী চাহুনি আমাকে অস্থির করে দেয় রিনি।তাই বলেছি চুল গুলো খোলা না রাখতে। আমি যে প্রতিশোধ এর নেশা তে ভুল কাজ করেছি। চাইছিনা এমন কিছু আবার হোক।
তবে এমন কিছু হবে তোমাকে হালাল ভাবে অর্জন করার পর। 
এমন সময়, প্রিন্স এর মুখ রিনির কানের কাছে নিয়ে গেল। প্রিন্স এর নিশ্বাস এসে লাগছে রিনির কাঁধে।প্রিন্স বলে উঠেঃ
"ঝুম বৃষ্টি, 
মাতাল করা ফুলের ঘ্রাণ, 
বৃষ্টিতে ভেজা, 
লেপ্টে থাকা শাড়ি, 
চোখের চেপ্টে যাওয়া কাজল,
চুল এর শেষ প্রান্তের জলের বিন্দু,  
পাগল করে রে মায়াবতী , 
পাগল করে।
এ রূপ মারাত্মক বল ভয়ংকর বল।
হৃদয়ে সৃষ্টি করছে
নাম না জানা,
 অন্য এক ঝড়।"
(কবিতাঃলেখিকা জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া) 
রিনির শরীর জুড়ে বিদ্যুৎ খেলে যাচ্ছে।একে তো বৃষ্টি তার উপর থেমে থেমে ঠান্ডা স্রোত। আর এখন প্রিন্স এর এমন আকষ্মিকভাবে স্পর্শ। 
প্রিন্স রিনি কে ছেড়ে দেয়। প্রিন্স এর নজর গেল মাটিতে পড়ে থাকা একটা বস্তুর উপর। 
প্রিন্স মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে যাই জিনিস টা কি ভালো ভাবে দেখতে লাগলো। 
প্রিন্স বলেঃ আরে এটা তো রিনি তোমার নুপুর। 
নাচানাচি করতে করতে ফেলে দিছো আরকি?
প্রিন্স নুপুর টা তুলে নেই। রিনির পা টা প্রিন্সের উরুর উপর রাখে।রিনির শরীর কাঁপুনি দিচ্ছে।রিনি কাতুকুতু ও লাগছে। প্রিন্স পা ধরেছে তাই।
 প্রিন্স নুপুর টা রিনির পায়ে পড়িয়ে দিল।
এবার প্রিন্স দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে, 
অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রিনির মুখে  পড়া বৃষ্টির পানি গুলো দিকে।
সেই পানি গুলো রিনির গায়ে 
খুব সুন্দর করে সমান তালে পড়ছে । বৃষ্টি ফোটা গুলো  রিনির শরীর বেয়ে নেমে আসছে। বৃষ্টির পানিতে ভিজে রিনির সৌন্দর্য আরও দ্বিগুণ 
বেড়ে গেছে। 
প্রিন্স এভাবে কতক্ষণ তাকিয়ে ছিল সে জানে না।তবে বেশ কিছু সময় পর, 
প্রিন্স বলেঃ রিনি চল।আর কতো ভিজবে?  বেলা তো অনেক হয়েছে। রাত হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া, কাল না হয় পরশু আমাদের পৃথিবীতে যেতে হবে।যদি তোমার ঠান্ডা লেগে যাই তাহলে তো সমস্যা? 
রিনি তো প্রিন্স এর কোন কথা শুনছে না।প্রিন্স তাই বাধ্য হয়ে রিনিকে কোলে তুলে নেই। রিনির শরীর থেকে টপটপ পানি পড়ছে। প্রিন্স বেচারা কাক ভেজা ভিজে গেছে। 
এমন সময় রিনি বলেঃআন্না আমি যাবো না।আমি আরও ভিজবো।আ আ আ আ.......
প্রিন্স বলেঃ মেজাজ টা খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু এমন করলে।ভালো মত চুপচাপ হয়ে থাকো।এখন বাসায় ঢুকে যাবো।
রিনি বলেঃ তাহলে, ওই যে কদম ফুল এর ঘ্রাণ আসছে। আমার কদম ফুল চাই।আ আ আ আপনি ফুল নিয়ে দিন! আমি সত্যি আর ভিজবার বাইনা করবো না।প্লেজ।
প্রিন্স অসহায় দৃষ্টিতে রিনির দিকে তাকিয়ে আছে। বেচারার একদম বৃষ্টি পছন্দ না।তার উপর ভিজে একাকার হয়ে গেছে। প্রিন্স মনে মনে বলছেঃ এই মেয়ে যে খচ্চর। ফুল না নিয়ে দিলে জ্বালিয়ে ছাড়বে। 
তাই প্রিন্স রিনিকে কোল থেকে নামিয়ে গাছে উঠে ফুল নেয়। রিনি খুশি হয়ে ফুল নিতে দৌড়ে প্রিন্স এর কাছে যাই।প্রিন্স খেয়াল করে নি রিনি এসেছে।কারণ রিনিকে বাসার দরজা তে রেখে এসেছিল। 
প্রিন্স বেশ কিছু ফুল নিয়ে একটা লাফ দেয়। বাস খেল খাতাম।রিনির গায়ের উপর গিয়ে পড়লো প্রিন্স। 
রিনি বলেঃ মা.....  গু।
আমি যে মরে গেলাম। শেষ আমি আজকে। 
প্রিন্স আশা করেনি এই পাগল টা এখানে চলে আসবে।তাই,প্রিন্স  কেবলা কান্তের মতো ভেবলেষ হিনভাবে তাকিয়ে আছে রিনির দিকে। 
প্রিন্স উঠে দাড়িয়ে যায়। রিনি উঠার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছেনা।তাই,প্রিন্স, 
রিনিকে আবার কোলে তুলে নেয়।
দুজনে বাসায় প্রবেশ করে। প্রিন্স ফ্রেশ হতে গেল।কিন্তু যাওয়ার আগে বলে গেছে, রিনি তুমি ও কাপড় টা পাল্টে নাও।তুমি যে  রুমে ছিলে সে রুমে কাপড় রাখা আছে। প্রিন্স চলে গেল। 
রিনি আছে নিজের তালে।
কে শুনে কার কথা।রিনি তো কদম ফুল গুলো পেয়ে মহা খুশি। ভিজে কাপড়ে বসে আছে। ফুল গুলো নিয়ে সুগন্ধি নিচ্ছে । এই ফুল গুলো বড্ড প্রিয় রিনির।
প্রিন্স এসে যখন দেখে রিনি এখনো বসে আছে। তার মেজাজ টা খারাপ হয়ে যায়। 
প্রিন্স বলেঃ এই এখনো কাপড় না পাল্টে কি করছো ঠান্ডা লাগলে কি করবে?
রিনি কোন কথাতে পাত্তা দিল না।আপন মনে ফুল গুলো থেকে সুগন্ধি নিয়ে যাচ্ছে। 
প্রিন্স এবার ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। রিনিকে আবার কোলে তুলে নেই। রিনি চটফট করছে।নক দিয়ে আঁচড় ও দিছে।প্রিন্স তো নাছোড় বান্দা। এক ফোটা ও ছাড়লো না কোল থেকে। সিড়ি বেয়ে উঠতে লাগলো। 
রিনি বলেঃ কি করছেন?
আবার কোলে নিলেন কেন?
প্রিন্স কোন উত্তর না দিয়ে। সোজা সিড়ি দিয়ে উপরে উঠেই  চলছে ।মেইন ছাঁদে উঠে পড়ে। 
প্রিন্স এর বাড়ির ছাদের উপর একটা ফুল বাগান আছে। তার পাশে একটা সুইমিং পুল আছে। 
প্রিন্স টাস করে কোল থেকে রিনি কে ফেলে দেয় সুইমিং পুল এর মধ্যে। 
প্রিন্স  বলেঃ তাকো এবার ভিজে ভিজে। উপরের বৃষ্টি আর সুইমিংপুল এর পানি।মজা বুঝ।
রিনি বে বে কান্না করছে।রিনি সাঁতার জানে না।তাছাড়া রিনির সুইমিং পুলের মধ্যে ভয় করে। 
রিনির মনে হয়, সুইমিংপুলের মধ্যে কেউ তার পা টানে।তাই বড্ড ভয় পাই। 
তবুও, 
রিনি আস্তে আস্তে সুইমিংপুল এর সিড়ি টা ধরে।এইটুকু আসতে  কই বার যে নাকানি চুবানি খাইয়েছে সে জানে আর আল্লাহ জানে।
প্রিন্স তাকিয়ে আছে রিনির দিকে। রিনি আস্তে করে প্রিন্স এর পা টা ধরে। আর হাত দিয়ে একটা টান দেয়।প্রিন্স চিন্তা করেনি।এই পাগল এমন কিছু করে বসবে।টান দেয়ার ফলস্বরূপ,  প্রিন্স ও পড়ে যায় সুইমিংপুলে।
এবার প্রিন্স এর আরও রাগ ফেঁপে  উঠলো।রিনির কোমরটা স্পর্শ করে।একটানে প্রিন্স এর গায়ের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে।  রিনি কাপঁচে প্রিন্স স্পষ্ট বুঝতে পারছে।তবুও সেদিকে দৃষ্টি পাত না করে সুইমিংপুলের মাঝ বরাবর নিয়ে গেল রিনিকে। 
তখনই, প্রিন্স....... 
💮
💮
💮
জান্নাত, 
I love you yesterday, 
I love u still
I always Have. 
I always will.
এই কথা টা বলে মুগ্ধ, আরো কিছু টা কাছে আসে জান্নাত এর। মুগ্ধ, জান্নাত এর কাঁধে একটা ভালবাসার স্পর্শ অংকন করে দিল। 
জান্নাত এর ভয়ে নাজেহাল অবস্থা। 
এমন সময় জান্নাত বলেঃ আরে রানি(লোভা) আপনি?
এটা বলতেই, মুগ্ধ ছেড়ে দেয়। জান্নাত কে আর পাই কে। দেয় একটা দৌড়।
মুগ্ধ অট্টহাসি দেয়। আর বলেঃ
 "পালিয়ে পালিয়ে রবে কদিন,
ফিরতে হবে এই নীড়ে, 
অপেক্ষাই গুনছি প্রহর, 
আসবে কবে এই নীড়ে। 
(কবিতা লেখিকাঃজান্নাতুল মাওয়া মহুয়া) 
জান্নাত রুমে প্রবেশ করে হাফ ছেড়ে বাঁচল। এমন সময় হাবিব চিৎকার দিয়ে উঠে। 
শাম্মি স্তব্ধ হয়ে পাশে বসে আছে। সবাই সেখানে উপস্থিত হয়। 
সবাই বলেঃ কি হ'য়েছে?
ঘুমের মধ্যে তোমার এমন চিৎকার শুনে ভয়ে আছি।কি হয়েছে বল।
হাবিব স্ফটিক এর দিকে দেখিয়ে দেয়। সবাই তাকিয়ে আছে। তবে, রাজা,রানী(লোভা),রাজকুমারি(শাম্মি) কোন প্রতিক্রিয়া দেখায় নি।
বাকি সবাই ভয়ে চুপসে গেছে। 
এমন সময়, 
রাজা(রশিদ) বলেঃমানুষের মধ্যে যেমন ভালো খারাপ আছে। তেমন জিনদের মধ্যে ও আছে। তবে অনেকে জিনের অস্তিত্ব নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে। 
কুরআনের  বাণী তে আছে, 
And the jinn we create before from scorchingfire.
And we did certainly create man out of clay From an altered blake Mud. 
কুরআনের মধ্যে জিন ও মানব জাতি নিয়ে ভালো ভাবে ব্যাখা দেয়া আছে। 
তাছাড়া আমাদের মধ্যে খারাপ জিন আছে। যেমনটা  মানুষের মধ্যে আছে, 
কিছু মানুষ রুপি অমানুষ। 
 যে খারাপ জিনের ছবি স্ফটিক এর মধ্যে দেখতে পেলে।সে ই খুব সম্ভব সুমি কে নিয়ে গেল ।জানিনা সুমিকে আর ফিরে পাবে কিনা।ওরা সবচেয়ে খারাপ জিন।তারা সবসময় বিভিন্ন পশুর রুপ ধারণ করে। তবে বেশির ভাগ ধরে, কালো বিড়াল এর রুপ।আমরা সবসময় ওদের এড়িয়ে চলতাম।
সবাই মন মরা হয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে। 
মুগ্ধ সবাই কে মনোবল দিচ্ছে এমন কিছু হবে না।সব ঠিক হয়ে যাবে। 
কামাল, অর্ক,রাহাত হুজুর, হাবিব সবাই একটু শান্ত হলো।
 আসলে,কিছু সম্পর্ক রক্তের, কিছু সম্পর্ক মানুষের তৈরি। আর কিছু সম্পর্ক স্রষ্টার তরফ থেকে পাওয়া উপহার। 
এমন একটা মুহূর্তে, সবাইকে শান্ত করেছে মুগ্ধ তাই তাদের মনে হচ্ছে, তাদের সাথে মুগ্ধের এমন একটা সম্পর্ক আছে বা সম্পর্ক সৃষ্ঠি হয়ে গেছে। যা তাদের জন্য আল্লাহর দেয়া উপহার। 
সবাই এবার রিনিকে ও প্রিন্স কে খুঁজড়ে মনোযোগ দিল।কারণ, প্রিন্স এর কাছে শক্তি আছে। যা দিয়ে খুব সম্ভব সুমি কে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে!!!!
চলবে.......
****রিনির সাথে কি হবে এখন?
প্রিন্স এর রাগ কেমনে যে কমবে??😬😬😬
রহমান জিন নিয়ে কিছু বলে যাইয়ো??? গল্প পড়ে যাওয়ার সময়।কারণ আজকে অল্প সময়ের মধ্যে আরেক পর্ব দিছি তাই???😉😉😉
[ গল্প কেমন হচ্ছে জানাবেন ]
?? 😍😍😍😉
(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!