হবে কথা বাসর ঘরে - Honeymoon Night Love Story - Romantik Love Story -- ভালবাসার অনুভূতি

হবে কথা বাসর ঘরে - Honeymoon Night Love Story - Romantik Love Story -- ভালবাসার অনুভূতি

হবে কথা বাসর ঘরে - Honeymoon Night Love Story - Romantik Love Story -- ভালবাসার অনুভূতি
হবে কথা বাসর ঘরে - Honeymoon Night Love Story - Romantik Love Story -- ভালবাসার অনুভূতি

মা-বাবার কথা মত তাদের পছন্দের মেয়েকে বিয়েটা করেই ফেললাম।বিয়ে পরে কি হল সেটা জানার জন্য সম্পূর্ণ গল্পটি মন দিয়ে পড়ে নিবেন,কেমন।

আর সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ে আপনিও অব্যশই এই অনুভূতিটি অর্জন করবেন।আসলে কি জীবন এমন হয়।সত্যি কি এত সুখ জীবনে অর্জন করা সম্ভব হয়ে থাকে।

বিয়ে পরে বাসর ঘরে......
আমি যখন বাসর ঘরে ঢুকতে যাবো ঠিক সেই মুর্হুতে দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেলাম।

বুকের ভিতর হার্ট বিট টা যেন ক্রমাগত বাড়তেই লাগল।

জীবনের প্রথম কোন মেয়ের কাছে যাবো। তাও আবার একই ঘরের মধ্য ভেবে কেনো জানি আমার ভয় ভয় লাগছে।

ভাবিরা,বন্ধুরা আমার অবস্থা দেখে তারা জোর করে বাসর ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে বাহিরে থেকে দরজাটা আটকে দিল।

দেখি লাল বেনারসী শাড়ি পড়ে আমার বউটা বক্স খাটের উপর মাথায় লম্বা ঘুমটা দিয়ে বসে আছে।

আমি আস্তে আস্তে করে তার দিকে এক পা দু পা করে এগিয়ে গেলাম।আমি কাছে যেতেই বউ আমাকে সালাম দিল।

বউয়ের সালামের উওর দিতে গিয়ে আমার গলাটা আটকে গেল।ভয়ে যেন গলাটা আমার শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।এমন সময় নতুন বউ পানির গ্লাস বাড়িয়ে দিয়ে বলল এই নেন পানি খেয়ে নেন।

আসলে তখন ঐ মুর্হুতে আমার পানির খুব প্রয়োজন ছিল।তার পরে এক গ্লাস পানি আমি ঢগ-ঢগ করে খেয়ে ফেললাম।

তার পরে আস্তে করে বউকে বললাম অনেক ধন্যবাদ।

বউ নরম সুরে বলল ধন্যবাদ বলতে হয় না,বলেন শুকরিয়া।

আমি তার বাধ্যগত হয়ে বললাম শুকরিয়া।

দরজাটা বন্ধ করে আসেন।

আমি তার কথায় আস্তে আস্তে করে দরজাটা বন্ধ করে আসলাম।

তার পরে বউ আমাকে প্রশ্ন করল আপনার কি ওযূ করা আছে।না করা থাকলে যান ওযূ করে আসেন।

আমি মনে মনে বিবাহিত বন্ধুদের কে গালি দিলাম।বাসর ঘরে যে ওযূ করে ঢুকতে হয় সেই শালারা বিয়ে করেছে আমাকে তো বলেনি বাসর ঘরে ওযূ করে ঢুকতে হয়।অনন্ত বউয়ের কাছে আমাকে ছোট হতে হতো ও না।

তার পরে আমি ওয়াসরুম গিয়ে ওযূ করে আসলাম।

তার পরে বউ বলল চলেন।আমরা দুজনে দু রাকাত নফল নামাজ পড়ে আমাদের নতুন জীবন শুরু করি,কেমন।

নামাজ পড়া শেষ করে দুজনেই খাটের উপর বসলাম।

তার পরে বউ আমাকে প্রশ্ন করল, আপনি কি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন।না পড়লে এখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বেন আর কোন অবস্থাতেই নামাজ কাযা করবেন না।

ওকে.....ঠিক আছে।

আমি মনে মনে ভাবছি বউ তো আমাকে হুকুম করেই যাচ্ছে।করুক খারাপ কিছু তো বলছে না।

এমন সময় বউ বলল আমরা দুজন জন আজ সারা রাত গল্প করব।আপনার জীবনের ছোট বেলার গল্প বলবেন তার পরে আমার টা বলবো।

মহা বিপদে পড়ে গেলাম এখন কি গল্প বলবো।

আমি বললাম এখন কি গল্প বলবো।

এমন সময় বউ আমাকে এমন প্রশ্ন করে বসল।যার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

বউ আমাকে বলল আপনি কি কখনো প্রেম ট্রেম করেছেন।

এই প্রশ্নের কি উওর দিবো। ভাবলাম কেবল নামাজ পড়ে আসলাম মিথ্যা কথা কি করে বলি।

তাই বউকে সত্যি কথা বলতে লাগলাম।

সত্যি কথা বলতে কি প্রমের কথা শুনলে আমার খুব হাসি পায়।

আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি তখন পাড়ার একটি মেয়ে খুশবু। তাকে আমার খুব ভালো লাগত।ভিশন মায়াবি চেহারা ছিল।ও ক্লাস অষ্টম শ্রেণীতে পড়ত। লুকিয়ে লুকিয়ে খুশবুকে দেখা ছাড়া আমার কোন কাজ ছিল না।

স্কুল শেষে স্কুল গেটে ওর জন্য আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম।খুশবু ওর বান্ধুবীদের সাথে বাড়িতে যেতো আর আমি ওর পিছনে পিছনে যেতাম।

মুখ ফুটে কোন দিন খুশবুকে বলতে পারি নাই ভালো লাগার কথা। মনে মনে কত প্ল্যান করেছিলাম খুশবুকে ভালোবাসি কথাটা বলে দিবো কিন্তু সেই কথাটি বলার মত সাহস আমার হয়ে ওঠেনি।
তার কিছু দিন পরে জানতে পারলাম খুশবু নাকি ওর মামা তো ভাইকে ভালোবাসে।

মনে একটি আঘাত পেয়ে আমি সেখান থেকে কেটে পড়লাম।

ক্লাসের সব চেয়ে সুন্দরী মেয়ে আয়েশা। এক সময় তাকে আমার খুব ভালো লেগে যায়।

আমি একটা ক্লাস ও মিস করতাম না আয়েশার জন্য।

আয়েশা প্রতিদিন সব সময় প্রথম সারিতে বসত।তাই আমিও প্রতিদিন আগে আগে প্রথম সারিতে বসতাম শুধু আয়েশাকে দেখার জন্য।

ক্লাসে বসে লুকিয়ে লুকিয়ে শুধু আয়েশাকে দেখতাম।শুধু আমি না অনেক ছেলেরাই তার দিকে তাঁকিয়ে থাকত।যখন অন্য ছেলেরা আমার মত আয়েশার দিকে তাঁকিয়ে থাকত।তাদের প্রতি আমার খুব হিংসা হত কারণ আয়েশাকে শুধু আমি দেখবো তারা কেন ওর দিকে তাঁকিয়ে থাকবে।

যখনি আমার চোখ আয়েশার দিকে পড়ত তখনি আয়েশা মিটিমিটি হাসত।তখন আমার মাঝে একটি ভালো লাগা কাজ করত।

ভাবতাম আয়েশাও মনে হয় আমাকে ভালোবাসে।

এক বার মনে মনে ভাবলাম আয়েশা কে একটি চিঠি দিবো।

সারা জেগে একটি চিঠিও লিখে ফেললাম আয়েশাকে দিবো বলে।

দুঃখের বিষয় হল বুক পকেট থেকে চিঠি টা বের করে আয়েশাকে দেওয়ার মত সাহস আমার হয়নি।

এক দিন শুনলাম আয়েশার বাবা যেহেতু পুলিশ সেহেতু ট্রান্সফার হওয়াতে আয়েশারা সবাই নাকি মাগুরা চলে গেছে।

মনের মধ্য আরেকটি ধাঁক্কা খেলাম।

যখন স্কুল শেষ করে কলেজে পা দিলাম।তখন কলেজের একটি মেয়ে আমার মন কেড়ে নিল।নাম তার মিম।

ভাবলাম স্কুল জীবনে যা হবার তা হয়ে গেছে কিন্তু এই মেয়েটার সাথে আমার প্রেম করতেই হবে।

কিন্তু সমস্যা তো আমার একটাই ঐ যে ভালো লাগার কথাটি বলার মত সাহস আল্লাহ্ আমাকে দেয় নি।যে কোন মেয়েকে সহজ ভাবেই বলে দিবো যে আমি তোমাকে ভালোবাসি।

হা......হা......হা।

কলেজে জীবনে এসে আবার একটি ধাঁক্কা খেলাম।

আমি আসলেই অনেক বোকা। তা না হলে কি করে ভাবি আমার মত গাইয়া খেত গোবিন্দ পুর গারোয়ান পাড়া গ্রাম থেকে আসা কলেজের ছাত্র কে শহরের একটি সুন্দরী মেয়ে ভালোবাসার জন্য নিজেকে এখনও নিজেকে সিঙেল রেখেছে।

এক দিন দেখলাম মিম কলেজে শেষ করে একটি ছেলের সাথে রিক্সায় চড়ে রিক্সার হুক লাগিয়ে চলে গেল।

এভাবে প্রতি দিন দেখতাম মিমের জন্য ছেলেটি কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকত।তার পরে জানতে পারলাম মিম নাকি ঐ ছেলেটিকে ভালোবাসে।

তার পর থেকে আর কোন মেয়ের দিকে আমি নজর দেয়নি।

আসলে আমার ভালো লাগা গুলো ভালো লাগা পর্যন্ত সিমা বন্ধ ছিল।

কখনো ভালো লাগা গুলো ভালোবাসার বাস্তব রূপ পায়নি।

বউ আমার গল্প শুনে হেসে ফুটে পরছে।

তার পরে হাসতে হাসতে বলল সত্যি ই তো আপনি খুব বোকা।

আসলেই আমি বোকা।

ভাগিস আপনি বোকা ছিলেন।তা না হলে আমার ভালোবাসার ভাগ্য কত আপনার কাছে থেকে অন্য মেয়ে ভালোবাসা নিয়েই নিতো।আসলেই তো আমার ভালোবাসার ভাগ যদি সত্যি আপনি অন্য কোন মেয়েকে দিতেন তাহলে মেরে আপনার হাড্ডি ভেঙে দিতাম।

আপনার কপাল ভালো যে আমি আজ পর্যন্ত কোন ছেলের সাথে প্রেম করিনি।শুধু আপনাকে মনে প্রাণে ভালোবাসবো বলে।

আমার সব ভালোবাসা যত্নে রেখে দিয়েছি শুধু আপনাকে দেওয়ার জন্য।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে সব সময় আল্লাহর কাছে মনের মত এক জন স্বামী চেয়েছি।

আল্লাহ্ আমার সেই কথা রেখেছেন।

আমিও অনেক আবেগের সুরে বললাম আল্লাহর কাছে লাক্ষ কোটি শুকরিয়া।যে বিয়ের আগে আল্লাহ্ আমাকে কোন মেয়েকে ভালোবাসার মত সুযোগ করে দেননি।

হুম এখন থেকেই শুধু আমাকেই ভালোবাসবেন,কেমন।

আচ্ছা,কিন্তু তুমি আমাকে কেনো আপনি আপনি করছো।

আপনি তো তুমি করে বলার মত অনুমতি দেন নাই।

স্বামীকে তুমি করে বলার জন্য কোন অনুমতির প্রয়োজন হয়। এখন থেকে আর আপনি নয় শুধু তুমি করে বলবে,ওকে।

বউয়ের হাতটি ধরার জন্য মনটা আমার আনচন আনচন করছে।সাহস করে বলেই ফেললাম আমি কি তোমার হাতটি একটু ধরতে পারি।

বউ হেসে দিয়ে বলে ফেলল তুমি এত কেনো বোকা।বউয়ের হাত ধরতে স্বামীর অনুমতি লাগে নাকি।

সাহস করে বউয়ের হাতটি ধরেই ফেললাম।আমি তোমার কাছে সারা জীবন বোকাই থাকতে চাই।আজ বোকা বলেই তোমার মত এক জন সুইট বউ পেয়েছি।

বউ আমার হাতটি শক্ত করে ধরেই রইল।

আর আমি মনে মনে আল্লাহর দরবারে লাক্ষ কোটি শুকরিয়া জানালাম।তিনি আমাকে জীবনের সব শ্রেষ্ট উপহার দিয়েছেন "আলহামদুলিল্লাহ্"।

Writer By Probashi Mohammed Hasan Chowdhury

Tag:- হবে কথা বাসর ঘরে - Honeymoon Night Love Story - Romantik Love Story -- ভালবাসার অনুভূতিtrue sad love stories that will make you cry, sad stories about love and death, true sad love stories in hindi, heart touching short sad love stories, true sad stories, painful love stories, short sad love story, sad love stories movies
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!