বৈধ ভালবাসা - পর্ব - ৩ - Legal Love - Boidho Valobasa

 বৈধ ভালবাসা
পর্ব - ৩ - Legal Love - Boidho Valobasa

প্রতিদিন রাত হলে পাশের রুমে চলে যাবা।তোমার সাথে এক রুমে রাত কাটানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।তাই রাতে যেনো তোমায় এই রুমে না দেখি।নিজ দায়িত্বে চলে যাবে।"

বৈধ ভালবাসা
বৈধ ভালবাসা


ঘুম ভেঙ্গে যায় মুনিরার।চোখ মেলে দেখে চারদিক আলোকিত হয়ে আছে।বাহিরে পাখির কিচিরমিচির শব্দ শোনা যাচ্ছে।কিন্তু এই ভোর বেলা স্বপ্ন দেখছে সে!মাথাটা বোধহয় খারাপ হয়ে গিয়েছে।
শোয়া থেকে উঠে বসতেই মনে পড়ে যায় কাল রাতের ঘটনা।এসব কথা আফরান বলেছিলো তাকে।সারারাত এসব নিয়ে চিন্তা করেছে তাই হয়তো মাথা থেকে যায়নি।কিন্তু আফরানের এমন ব্যবহার করার কারণ কি হতে পারে।বিয়েটা হয়তো স্বাভাবিক-ভাবে হয়নি।কিন্তু যেভাবেই হোক সেতো এখন তার বউ।তাহলে কি আফরানের তাকে পছন্দ হয়নি বা তার কোনো প্রেমিকা আছে!
-এই উঠো?
-উহু পরে উঠবো।
-হুম তারপর কেউ আমাদের নিয়ে সন্দেহ করুক।
-করলে করুক।জানুক সবাই।
-আফরান যখন জানানোর সময় ছিলো তুমি জানাওনি, এখন এমনভাবে বলছো যেনো সব স্বাভাবিক আছে।
শোয়া থেকে বসে সায়নীর দিকে মুখ তুলে আফরান বলে-
আমি সবটা স্বাভাবিক করে দিবো।এবার আর ভূল হবেনা। তুমি যে স্বপ্ন গুলো দেখেছিলে সব সত্যি হবে।আমি,এই বাড়ি সব তোমার হবে।আমাদের জমজ বাচ্চা হবে।এসব তোমার স্বপ্ন-না?সব পূরণ হবে।একটু ধৈর্য্য ধরো।
-তোমার উপর ভরসা আছে আমার।
-হুম।
-এখন যাওতো।
-না যাবোনা।
-মানে?
-এদিকে আসো আরেক দফা....
-মাইর চালাবো এখন।যাওতো।
-তাড়িয়ে দিচ্ছো?
-দিচ্ছি।কেউ দেখে ফেলার আগে যাও প্লিজ।
-হুম হুম যাচ্ছিরে বাবা।
নিজের রুমে যেতেই আফরান দেখতে পায় মুনিরাকে।কালো রঙের সুতির শাড়ি পরেছে সে।কানে ছোট ঝুমকো,চুল গুলো খোপা করা,মাথায় শাড়ির আঁচল দিয়ে কাপড় দেওয়া সব মিলিয়ে বেশ লাগছে তাকে।
-বাহ,সুন্দর।
আফরান তার প্রশংসা করেছে!এমন কিছু হবে ভাবতে পারেনি মুনিরা।যদি জানতো আফরানের ভালো লাগবে তাহলে চোখে একটু কাজল,
ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক দিয়ে সেজে থাকতো সে।
মুখে হাসি নিয়ে আফরানের উদ্দেশ্যে বলে-
ধন্যবাদ।
-হুম,সবসময় এইরকম ভদ্র-ভাবে চলাফেরা করবা।কালকের মতো বেহায়াপনা যেনো আর দেখি।
কথাটি বলেই ড্রয়ার থেকে কাপড় বের করে ওয়াশরুমে চলে যায় আফরান।
একটু আগেই যে মুখে হাসি ফুটেছিলো এক রাশ চিন্তায় মুনিরার হাসি গায়েব হয়ে যায়,মনে যা আশা জমেছিলো তা মিথ্যে হয়ে যায়।
শারীরিক সুখেই কি শান্তি পাওয়া যায়!যেখানে মানসিক সুখ-টা নেই।শাওয়ার টা ছেড়ে দিয়ে পানির নিচে বসে আছে সায়নী।আফরান শুধু তার এতে কোনো সন্দেহ নেই।তবে সকলের চোখে যে বিবাহিত বউ,তার কাছ থেকে আফরান কে সরানো কি সহজ হবে!কিন্তু আফরানের সাথে তার নিজের সম্পর্ক-টা অনেকটায় এগিয়ে গিয়েছে।সে কি করে মানবে মাঝপথে এসে আফরান থেকে দূরে সরে যেতে হবে!না সে পারবেনা,কিছুতেই না।
গোসল সেরে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসে আফরান।মুনিরা তারই অপেক্ষা করছিলো।তার জানতেই হবে আফরানের সমস্যা কি।
-শুনছেন?
-কি হয়েছে?
-আমি কি দেখতে খারাপ?
-তা আয়নায় দেখলেই পারো।
-নিজেকে খারাপ লাগেনা আয়নায়।
-
-কিছু বলছেন না কেনো?
-এসব ফালতু কথা বলার সময় নেই আমার।
কথাটি বলে আফরান চলে যেতে চাইলে মুনিরা তার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলে-
মানলাম আমাদের বিয়েটা স্বাভাবিক-ভাবে হয়নি।তাই বলে এমন করবেন আপনি!বিয়ে করা বউ হই আপনার আমি,নিজেদের একটা সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা কি করা উচিত না?
-অবশ্যই উচিত না।
-কোনো কারণ নিশ্চয় আছে।সেটা জানতে চাই আমি।আমাকে পছন্দ হয়নি নাকি প্রেমিকা আছে?
-ভালোবাসা আছে আমার।তাই তোমাকে পছন্দ করার কথা আমি ভাবতেই পারিনা।সে সময় মাথা কাজ করেনি আমার কি করবো মাথায় কিচ্ছু আসেনি,ভূল হয়েছে তোমাকে বিয়ে করে।প্লিজ দুরুত্ব বজায় রাখবে আমার থেকে।খুব তাড়াতাড়ি তোমাকে ডির্ভোস দিবো আমি।
কথা গুলো বলেই আফরান চলে যায়।
মুনিরা দাঁড়িয়ে থাকে আগের জায়গাতেই।
তার জীবন-টা এতো এলোমেলো কেনো!সুখ কি তাকে ধরা দিবেনা!
-মুনিরা নাস্তা করতে এসো।
সায়নীর ডাকে ঘোর কাটে মুনিরার।সায়নীর দিকে তাকাতেই দেখে চুল বেয়ে পানি পরছে তার।
-আপু সকালে গোসল করলেন যে?
-অভ্যাস আমার।চলো তুমি,নাস্তা করবে।
-চুল ভালোভাবে মুছে নিয়েন নাহলে ঠাণ্ডা লেগে যাবে।
-হুম।
মুনিরাকে নিয়ে সায়নী ডাইনিং টেবিলের দিকে এগোয়।আর মনে মনে বলে,"হুম অভ্যাস এটা আমার,এই অভ্যাস যে আফরান করেছে।"
রাত ৯টা।আফরানের রুম-টা সাজানো হচ্ছে।
আফজাল খানের কথামতো বাসর ঘর সাজানো হচ্ছে।আফজাল খান সন্ধ্যায় ছোট-খাটো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নতুন পুত্র বধুর জন্য।
সায়নীকে দায়িত্ব দেয়া হয় মুনিরাকে সাজানোর।মুনিরাকে সে নিজের মনের মতো করে সাজিয়ে দেয়,যেমনটা এমনদিনে তার সাজার ইচ্ছে ছিলো।তবে সে জানে যতই মুনিরাকে সাজানো হোক, আফরান তাকে স্পর্শ-ও করবেনা।
মুনিরাকে নিয়ে সায়নী আফরানের রুমে যায়।
খাটে গিয়ে বসিয়ে দেয় মুনিরাকে।সাজানো রুমটা দেখে তার বুকের ভেতর হাতুড়ি পিটাতে শুরু করে মতো লাগে।বিছানায় ফুল দিয়ে লেখা দেখে A+M।এমন-টাকি লেখার কথা ছিলো!
মোটেও না।শুধুই A+S লেখার কথা,এই রুমটা সায়নীর জন্য সাজানোর কথা।আর খুব তাড়াতাড়ি এমনটায় হবে।সাজানো বাসর ঘর-টা এলোমেলো করে দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও করলোনা সে।
ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে পা বাড়িয়ে দেয় রুম থেকে বেরুনোর জন্য।আর তখনি আফরানের বন্ধুরা আফরানের সাথে মজা করতে করতে তাকে নিয়ে রুমের কাছে আসতেই সায়নী কে দেখে থেমে যায় তারা।সায়নী যে আফরানের ভালোবাসা এটা তাদের অজানা নয়।
-কি ভাইয়ারা থামলেন কেনো?বন্ধুর বাসররাতে এমন মজা করতে হয়।মজাতো আমিও করবো,আমিতো উনার খালাতো বোন।দেখি আফরান সাহেব টাকা দাও।
-কিসের টাকা?
-এই যে বাসর ঘরে ঢুকবে...
-হুম দিচ্ছি টাকা।
সায়নীর হাত ধরে টেনে রুম থেকে বের হয়ে যায় আফরান।একটু দূরে গিয়ে বলে-
প্লিজ লক্ষিটি মাথা ঠাণ্ডা রেখো।আজ বাসায় মেহমান আছে তাই আমাকে ওই ঘরেই থাকতে হবে।কিন্তু আমার মন-টা তোমার কাছেই থাকবে।বিশ্বাস করোনা আমাকে?
-করি।
আশেপাশে তাকিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে সায়নীর হাতে আলতো করে চুমু খেয়ে নিজের রুমের উদ্দেশ্যে চলে যায় আফরান।
সায়নীকে নিয়ে তার ওই ঘরে যাওয়ার কথা ছিলো,তাহলে কেনো তাকে ফেলে আফরান অন্য মেয়ের কাছে চলে গেলো!কি থেকে কি হয়ে গেলো!সামনে আরো কি হবে তার জানা নেয়।সে বিশ্বাস করে আফরান কে।কিন্তু তবুও যে ভয় করছে তার খুব।
আফরান কি পারবে আজ রাত ওই মেয়ে থেকে দূরে থাকতে!
দরজা বন্ধ করে খাটের দিকে তাকাতেই মুনিরাকে দেখতে পায় আফরান।গোলাপি রঙের কাতান শাড়ি পরা,ঠোঁটে লিপস্টিক,চোখে কাজল,
কপালে টিপ,ভারী গহনা পরে বসে আছে মুনিরা।
সাজটা ভালো মানিয়েছে তাকে।আফরান মুনিরার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে এগিয়ে যায় তার দিকে।আফরান কে এগিয়ে আসতে দেখে মুনিরার বুক ধুকধুক করে উঠে।সে ভেবেছিলো আফরান এই ঘরে আসবেনা বা তাকে তাড়িয়ে দিবে।কিন্তু দরজা লক করে সে এগিয়ে আসছে,,তাহলে কি আফরান সব ভূলে মনিরাকে মেনে নিবে নিজের জীবন সঙ্গী হিসেবে!
(চলবে)
লেখা: Saji_Afroz
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!