রাত যখন গভীর Season:02 Part :08

#রাত যখন গভীর
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :08
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :08
রাত যখন গভীর Season:02 Part :08

রিনির সারা শরীর ভয়ে চুপসে গেছে।রিনির মনে হাজারো প্রশ্ন তবে নেই কোন উত্তর। এক মনে ভেবেই চলেছে। 
রিনি মনে মনে বলেঃ আমি এক মাস ধরে এখানে আছি। হায় আল্লাহ। মা বাবা তো পাগল প্রায় মনে হয়।আমার কিছু একটা করতে হবে। না হয় সারাজীবন এখানে থাকতে হবে। 
রিনির রুমের দরজা তে কে যেন কড়া নাড়ে।রিনি তাড়াতাড়ি চোখ বন্ধ করে দেয়। একটা কালো অবয়ব আস্তে আস্তে রিনির দিকে আসছে। রিনি  হালকা চোখ জোড়া খুলে দেখে, একটা কালো বিড়াল খুবই ভয়ংকর দেখতে। চোখ জোড়া নীল, বিড়াল টার সম্পূর্ণ শরীর কালো বলতে একদম কুচকুচে কালো। বিড়ালটা রিনির মুখের কাছে চলে আসে। এক নজরে তাকিয়ে আছে রিনির দিকে। 
বিড়াল টা বলেঃ মেউ মেউ করে। এরপর ব'লে, 
kaash ki tum meri
Maut hoti
Toh ek din mil hi
Jaati😩
Rini you don’t have any idea about my feelings for you.because, you donot try to understand my feeling anytime. Love u rini.
রিনি তোমাকে প্রথম দেখে মনের সুপ্ত আসনে বসিয়ে ছিলাম।এখন আমার প্রতি নিশ্বাসে তুমি আছো শুধু তুমি।
এমন সময় বিড়াল টার পেছন থেকে কেউ একজন রহমান ভাইয়া বলে ডাক দেয়।
আরে তাসনিয়া এটা তো তাসনিয়া।রহমান এর একমাত্র বোন।
দুজনে বিড়াল থেকে মানুষ রুপ নিয়ে নে। দুজনে জিন।।তাই তারা তাদের রুপ সহজে পরিবর্তন করতে পারে।জিনদের মধ্যে অনেক জিন পশু পাখির রুপ ধরে থাকতে পছন্দ করে। 
রহমান ও তাসনিয়া, 
।দুজনের চোখ নীল রঙের। অসম্ভব ফর্সা দু'জনই।দুজন কে দেখে বুঝার উপায় নেই তারা যে রিনি কে সবার চোখ এর আড়ালে নিয়ে এসেছে। আর ১ মাস ধরে রেখেছে। দুজন এর চেহারা একদম নিষ্পাপ লাগছে হুহ।।তারাই এমন ব্যবস্হা করেছে কেউ যেন রিনির খবর না পাই।যে চেষ্টা করবে, তার জন্য অপেক্ষা করছে ভয়ংকর কিছু।।। 
তাসনিয়া বলেঃ কি করস এখানে? ১মাস ধরে তো দেখছিস।আরোও দেখার কি আছে। বলতো?আর আমি আমার প্রিন্স (ইনতিয়াজ) কে দেখি না কত দিন হলো!!! 
রহমান(বিড়াল এবং প্রিন্সের বন্ধু) বলেঃজানিস একটা কথা।  সৃষ্টি কর্তা কারো উপর অবিচার করে না।কাউকে রুপ ঢেলে দিয়েছেন তো কাউকে দিয়েছেন মায়া।মেয়ে টার মুখে অনেক মায়া।যতো দেখি মন ভরে না রে।আল্লাহ ওর মুখে যে কি পরিমাণ মায়া দিয়েছে যা দেখে এক মূহুর্তের মধ্যে যে কেউ ঘায়েল হয়ে যাবে।আমিও ব্যাতিক্রম নই।
তাসনিয়া(বিড়াল এবং রহমানের বোন) বলেঃতুই ওর জন্য এত কিছু করছস?
ও যদি তুকে ভালো না বাসে তাহলে? 
তুই ওকে এত ভালোবাসিস কেন?
রহমান জিন বলেঃভালোবাসা হলো ঠিক জ্বলন্ত আগুন এর মতো। তুই যদি কোন ভাবেই আগুন জ্বালিয়ে ফেলিস,এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারবি না যে তা জ্বলতেই  থাকবে। এজন্য রিনি কে প্রতিটি দেখি, আর জ্বালানি দেয়।অবশ্য, জ্বালানি দিয়েই যেতে হবে। 
ঠিক তেমনই,তুই যদি চাস যে তুর ভালোবাসার মানুষ টি চিরকাল তুর সাথে থাকুক তবে অবহেলা নয়,তাকে ও প্রতিদিন নতুন করে ভালোবাসা তে হয়।নতুন করে উপলব্ধি করতে হয়।
তাসনিয়া বলেঃ বাহ বাহ ভাই লা জাবাব।আমিও চাই প্রিন্স কে!!তাকে ওভালবাসা দিবো।রিনির কথা ভুলিয়ে দিবো।।।
রহমান বলেঃ খুব শীঘ্রই পেয়ে যাবি।
দু'জন ই রুম থেকে বেরিয়ে আসে। রিনি চোখ জোড়া খুলে। তার মন বড্ড খারাপ হয়ে যায়। রিনির চোখ দিয়ে অশ্রু টলটল করে ঝরছে। 
রিনি বলেঃমেয়ে হয়ে জন্মানো সহজ,কিন্তু মেয়ে হয়ে বেঁচে থাকা টা অনেক কষ্টের। হাসতে গেলে ও ভাবতে হয়।আর কাঁদতে গেলে ও ভাবতে হয়। কোথায় যেতে গেলেও ভাবতে হয় ।হাই আল্লাহ বড্ড ভুল হয়ে গেছে, সেদিন কেন যে বেরিয়ে ছিলাম।আমার জীবন টা নষ্ট হয়ে গেল এটা বলে ডুকরে কেঁদে দেয়। 
রিনি আবার বলেঃ আমার কি দোষ? প্রথমে প্রিন্স নিজের প্রতিশোধ নিয়েছে। এখন, অন্য জন ১ মাস ধরে আমাকে আটকে রেখেছে। এরা জিন এদের চোখ ফাকি দিবো কেমনে।  রিনি প্রচুর কান্না করছে। 
এমন সময়, রিনি কেউ একজন এর পায়ের শব্দ শুনতে পেল। কে যেন আসছে। তবে কে আসছে? 
তার রুমে আবার!!!!
মহিলা দা নিয়ে আস্তে আস্তে মাছটা কেটে ফেলছে।হঠাৎ দাঁ টা মাছের পেট বরাবর এসে, কিছু একটাতে গিয়ে আটকে যায়। মহিলা দেখে পেট টা ভালো ভাবে দেখে। তারপর ,সে একটা খুব সুন্দর কাচের বোতল। অনেক রঙিন দেখতে।মহিলার এটা পছন্দ হয়েছে।বোতল টা একদম আনকমন।  তাই ভালো ভাবে পরিস্কার করে নিজের রুমে রেখে দেয়। 
মহিলা মাছটা রান্না করে নেই। পুরো ঘরে রান্নার সুগন্ধি তে মু মু করছে।মহিলা মাছের টুকরো গুলো সাজিয়ে নে।টেবিলে রেখে দেয়।এরপর নিজে খেতে যায়। 
প্রিন্স আল্লাহ পাক এর কাছে শুকরিয়া আদায় করে।
প্রিন্স বলেঃ তবে এখন এইভাবে বোতল বন্দী হয়ে কারো রুমের সৌন্দর্য বাড়ালে হবে না।বের হতে হবে।
প্রিন্স চিন্তার মধ্যে পড়ে যায়। কেমনে বের হবে???? 
জান্নাত(মহু),মুগ্ধ, সুমি,কামাল,রাবেয়া। গাড়ি তে আছে। তারা যখনই, হাবিবের বাসার গলির মধ্যে প্রবেশ করে। তখনই, দেখে  একটা মহিলা হাবিবের বাসার সামনে বসে আছে। মহিলাটা আস্তে আস্তে তাদের গাড়ির সামনে চলে আসে। 
কামাল গাড়ি চালাচ্ছিল।মুগ্ধ বলেঃ গাড়ি সোজা চালিয়ে যাও।একদম হাবিবের বাসার দরজায় গিয়ে থামাবে।
কামাল ঠিক তাই করলো।রাবেয়া এখন ও ঘুম। এর মধ্যে মুগ্ধ আবার ঘুমের ইনজেকশন পুস করে দিয়ে ছিল রাবেয়া কে।যদি জেগে ওঠে, তাহলে মারাত্মক কান্ড করবে।
সবাই গাড়ির থেকে নেমে যাচ্ছে। সবার শেষে জান্নাত বেরিয়ে আসতেই হুঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছিলো।এমন সময় মুগ্ধ ধরে ফেলে। 
জান্নাত তাড়াতাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। কেউ লক্ষ্য করার আগে। অতঃপর, 
হাবিবের বাসায় কলিং বেল টিপ দেয় সুমি।একটু পর হাবিবের মা আসে। সবাই কে দেখে খুশি হয়।তবে জিজ্ঞেসো দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মুগ্ধ এর দিকে।
কামাল বলেঃ আন্টি এটা আমাদের নতুন বন্ধু। তবে নিচু স্বরে বলে, ভবিষ্যতে দোলাভাই হবে।
হাবিবের মা বলেঃ ওহ নতুন বন্ধু। ছেলে তো দেখতে মাশাল্লাহ হিরার টুকরোর মতো। আসো আসো সবাই ভেতরে আস।রাবেয়া কই?
কামাল বলেঃ ও ঘুমাচ্ছে। গাড়ি তে আছে।
হাবিবের মা বলেঃ হাবিব কই তুই?দেখ কারা আসছে?
হাবিব সবাই কে দেখে খুশি হয়ে যাই। কারণ এ কদিন যে ঝামেলা গেছে। আল্লাহ পাক বাচিয়ে রাখছে এটাই অনেক।
একটু পর হাবিবের মা সবার জন্য বিরিয়ানি নিয়ে আসে। অবশ্য রান্না করাই ছিল। হাবিবের জন্য রান্না করেছিল। কেন জানি আজকে একটু বেশি রান্না করে ছিল।সবাই খেতে বসে। হাবিবের মা ও সাথে বসে খাচ্ছে। এমন সময়,হাবিবের মা হাবিবের সাথে যা যা ঘটেছে সব খুলে বলে। সবাই তো তব্দ হয়ে গেছে। 
হাবিব বলেঃ জানিস আমি রিনি কে দেখছি।ও বেচে আছে। 
সবাই খুশি হয়।এরপর খাওয়া শেষ করে। হাবিবের মা কে সবাই সালাম করে।হাবিবের মা লক্ষ্য করে, জান্নাত এর সাথে মুগ্ধ কে বেশ মানিয়েছে।
সবাই অর্কের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে। 
এমন সময়, হাবিবের মা জান্নাত এর কানে কানে বলেঃ মা শুন,ছেলে টার পাশে তুকে ভালই লাগে দেখতে, শীঘ্রই যেন সুখবর পাই।নিজের তো মেয়ে নেই। তুই ও আমার মেয়ের মতো, তুর বিয়ে তে গিয়ে শখ মেটাবো।
জান্নাত একটা ম্লান হাসি দেয়। সবাইকে হাবিবের মা বিদায় দেয়। হাবিব যাওয়ার সাথে সাথে একটা ঠান্ডা বাতাস ঘরের বাইরে চলে গেল। হাবিবের মা এই বিষয় টা লক্ষ্য করলো।
সবাই গাড়ি তে উঠে পড়ে। গাড়ি চালাচ্ছে হাবিব। মেইন রোড এ উঠে পড়ে।একটু পর.......
পর মূহুর্তে।,,
জিন রাজা মশাই বলেঃ শাম্মি, পৃথিবীতে যাবি!!!!
শাম্মি বলেঃ হুম বাবা যাবো।মাকে বলছি আমি। রেডি হতে। তবে বাবা ভাই কে খুব মিস করছি। 
শাম্মি রেডি হতে লাগলো। আজকে সে খয়েরী রঙের শাড়ি পড়ে।পায়ে নুপুর দিল।হাতে আলতা। চোখে কাজল।চুল গুলো হালকা খোপা করেছে।রাজার মেয়ে বলে কথা। এইটুকু সাজগোছ তো চলেই।
শাম্মির মা ( লোভা)  এবং বাবা (রশিদ) সবাই এখন রেডি।একটু পর সবাই বেরিয়ে পড়বে।রাজা রশিদ ঠিক করে, প্রথমে অর্কের বাসায় যাবে।তারপর, রিনির পরিবার কে আসতে বলবে।
অর্ক,লাবু,রাহাত হুজুর, রেশমী একসাথে বসে আছে। জান্নাত, সুমি,রাবেয়া ও বন্ধু দের জন্য অপেক্ষা করছে। তাছাড়া, লাবু ও রেশমী   কে একা কিছু করতে দিতে গেলে বিপদ। সেদিন, রেশমি।ড্রইং রুমে ব্রেসিনটা পরিষ্কার করছিল।হঠাৎ কি যেনো অদৃশ্য শক্তি এসে।রেশমী কে পানির মধ্যে মাথা টা ঢুকিয়ে চেপে ধরে। রেশমির গুঙিয়ে উঠে। রাহাত হুজুর এর মা শব্দ টা শুনে দৌড়ে আসে।না হয়।রেশমী কে আর পাওয়া যেতো না।পরপারে চলে যেতো। তবে, 
মিনিট পাঁচেক পর,অর্ক, লাবু,রেশমি, রাহাত হুজুর লক্ষ্য করে। তাদের রুমের লাইট অন এন্ড অফ হচ্ছে। একটু পর দেখে......... 
চলবে.......
***রিনির জন্য দু'লাইন বলে যান??😟😟😟
রিনির সাথে যা হয়েছে, আপনার সাথে হলে কি করতেন?
[ গল্প কেমন হচ্ছে জানাবেন ]
কমেন্ট না করলে বুঝবো না গল্প খারাপ না ভালো হচ্ছে???  😧😧😧😧😧
*বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন 😍😍😍
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!