রাত যখন গভীর Season:02 Part :02

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :02
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :02
রাত যখন গভীর Season:02 Part :02



অপর প্রান্ত থেকে কল কেটে গেছে। কামাল পাশে তাকাতেই দেখে,রাবেয়া অট্টহাসিতে হেসে দেয়।রাবেয়ার হাসিটা খুব অদ্ভুত লাগছে। এই হাসি যেস খুব রহস্যময়ী।
কামাল চিন্তায় পড়ে যায়। কারণ একজন মায়ের কাছে তার সন্তান অমূল্য রত্মের মতো।সন্তানের কোন বিপদ হলে মায়ের মনে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়।তাছাড়া আজ ৮ দিন হলো রিনির কোন খুঁজ নেয়। পুলিশ যে খবর দিলো মনে হচ্ছে কোন খারাপ খবর! যেখানে  খারাপ খবর পাওয়ার আশঙ্কা আছে। সেখানে রাবেয়ার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার কথা? কিন্তু একি দেখছে কামাল!রাবেয়া অট্টহাসি যেন থাকছে না।
কিন্তু রাবেয়া অট্টহাসি দিচ্ছে কেন?
কি হতে চলছে রাবেয়ার সাথে। কামালের আজ বড্ড অচেনা মনে হচ্ছে এই রাবেয়া কে।তাদের এত বছরের সংসারে রাবেয়ার এই রুপ আজ প্রথম দেখছে।কেমন যেন অদ্ভুত আচরণ করেছে পুলিশের কল কেটে দেওয়ার সাথে সাথে। কামালের মনে হচ্ছে, মৃত মেয়ের দেহটা রিনির বলে অনুমান করছে পুলিশ। তবে এ কথা শুনে রাবেয়া অনেক খুশি। কিন্তু কেন?যদি সত্যি সত্যি ওইটা রিনি হয়?কামাল মরে যাবে। তার রাজকুমারী কে ছাড়া। নিখুঁজ থাকলে একটা সম্ভাবনা থাকে কোন সময় হয়তো ফিরে পবে!বা নিজে ফিরে আসবে তাদের রিনি।কিন্তু 
পরপারে পাড়ি জমালে তো কখনো আর ফিরবে না😧😦😦
কামাল আর কিছু ভাবতেই পারছে না। আবার লক্ষ্য করে রাবেয়ার দিকে। তবে  রাবেয়া এখন  কান্না করছে। কামাল চিন্তা করে কোন কোল পাচ্ছে না? 
কি হয়েছে রাবেয়ার?
কামাল বলেঃ একটা মানুষ এখন হেসে আবার এখন কেমনে কান্না করে?অদ্ভুত 
আগে কি অপেক্ষা করছে রাবেয়া ও কামালের জন্য ?
কামাল বলেঃ মেয়ে কে হারিয়ে জীবন অর্ধেক বিনষ্ট হয়েছে। তাহলে কি এখন সহধর্মিণীর ও কোন বিপদ ? এই কথা ভাবতেই কামালের বামপাশে চিনচিন ব্যাথা শুরু  করছে।
কামাল বলেঃরাবেয়া এমন করছো কেন?কি হয়েছে? প্রথমে হাসলে এখন কান্না করছো?কি বুঝাই তে চাইছো?নাকি ঢং করছো?
রাবেয়া কিছু বলে না।কান্না থামিয়ে তাকিয়ে আছে কামালের দিকে।এক দৃষ্টি তে।এ দৃষ্টি যেন কামাল কে কিছু বুঝাতে  চাচ্ছে। 
কামাল বলেঃ পৃথিবীতে সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হচ্ছে কি জানো রাবেয়া?  
সেটা হচ্ছে  নীরবতা পালন করা।উত্তর দিবে না এই তো?তাকো চুপ করে। 
হঠাৎ, 
একথা  বলে ১ মিনিট পার হতে না হতেই,  
কামাল মাথা ঘুরে পড়ে যায়। 
প্রিন্স(ইনতিয়াজ) চোখ জোড়া খুলে দেখে। সে সাগরের অতলে পড়ে আছে।উত্তাল সমুদ্র এখন নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। 
সমুদ্র দেখে বুঝার উপায় নেই। কি ভয়ংকর প্রলয়ের সৃষ্টি হয়েছিল।
 প্রিন্স সাগরের নিচের দৃশ্য দেখছে। রকমারি মাছ সাথে বিভিন্ন ধরনের লতা, পতা।অসম্ভব সুন্দর লাগছে।
কিছু কিছু ছোট ছোট মাছ।বিভিন্ন রঙের। জড়ো হয়ে আছে প্রিন্সের বোতলের আসে পাশে। 
প্রিন্স বলেঃ 
বোতলের ভিতর থেকে এত সুন্দর লাগছে,
না জানি বাস্তব রূপে দেখলে কতো সুন্দর হতো এই সাগর তলের ভিতর!!😍
 এমন সময় প্রিন্স  লক্ষ্য করে,  একটা বড় মাছ প্রিন্সের বোতলের দিকে এগিয়ে আসছে তিব্র গতিতে। প্রিন্স এ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই।
 প্রিন্স কিছু করতেও পারছেনা।মাছ টাকে বোতলের কাছে আসা থেকে বিরত করতে পারছেনা। কারণ বোতল বন্দী অবস্থায় প্রিন্সের কোন জাদু কাজে আসবে না।
প্রিন্স বলেঃ  মাছের এগিয়ে আসা দেখে মনে হচ্ছে মাছ ব্যাটা,আমাকে সহ  বোতল টা পেটে চালান করতে আসছে ।
 আমি  বাকি জীবন এই মাছের পেটে কাটাতে চাইনা।😣😣
প্রিন্স বোতল বন্দী থাকলেও প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য দেখতে পেরে তার ভালোই লাগছিল।বন্দী হয়ে তার কোন আপসোস নেই। তার প্রতিশোধের শাস্তি এটা।সে মেনে নিয়েছে। এমনি নিয়ম এটাই নিয়তি।  তার বোন শাম্মি বলেছিল, জীবনে ভুল করলে,জীবন তার আপন নিয়মে ঠিকই শাস্তি দিয়ে দেয়।কথায় আছে না" মাপ তার বাপ কে ও ছাড়ে না"। 
 তবে প্রিন্স  একদম চাইনা ওই মাছের পেটে তার আস্তানা হোক । মাছ যে গতি তে বোতলের দিকে এগিয়ে আসছে দেখে বুঝতে পারা যাচ্ছে মাছ ব্যাটা এক বারে পুরো বোতল নিজের মুখে চালান করবে😥😥
 কি হতে চলছে প্রিন্সের সাথে? তাহলে কি সত্যি প্রিন্সের বাকী জীবন মাছের পেটে কাটাতে হবে?? রিনির সাথে তার একটা বার দেখা করার ইচ্ছে কি ইচ্ছেই থেকে যাবে????? 
হাবিব বারবার চেষ্টা করছে তার স্ফটিক দিয়ে রিনি কোথায় আছে? কোন অবস্থায় আছে?  সেটা অনুসন্ধান করার চেষ্টা চালাচ্ছে । 
কিন্তু বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।তবে স্ফটিক বেশি নাড়াচাড়া করার ফলে আগের কিছু ভিউ ফুটে উঠছে।স্ফটিক তো অতীত দেখায়।তাই স্ফটিকে বেশি বল প্রয়োগ হওয়াতে অতীত তে অল্প অল্প প্রচ্ছদ দেখাচ্ছে। হাবিব ও হেল্প লেস। বাধ্য হয়ে তাকিয়ে আছে।অসহায় দৃষ্টিতে স্ফটিক এর দিকে ।
এমন সময় হাবিব দেখে  স্ফটিকের মাঝে হঠাৎ করে শাম্মির একটা ভিউ /চিত্র ভেসে উঠে।এই টা সেদিন মহু,সুমি,অর্ক,রাহাত হুজুর, লাবু,কামাল কে দেখিয়ে ছিল হাবিব।
হাবিব সেদিন  শাম্মি কে প্রথম দেখায় মন মন্দিরে ছোট একটা জায়গায় আসন দিয়ে ফেলে এই অপসারী কে।তবে অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করে।
প্রেমে পরার মতো অবস্থা আরকি 😅
।হাবিব চাইছে অপসারীর সাথে আবার দেখা হোক।কিন্তু এটা কি সম্ভব? 
  হাবিব বলেঃ যত দেখি তত মনে হয় কম দেখি তাকে।হাবিবের মনে হচ্ছে শাম্মির কোন এক মায়া আছে। না হলে কেন এত মনে নাড়া দিচ্ছে।তার স্মৃতি ।
হুহ মায়া জিনিস টা আসলেই মারাত্মক। তবে চেহারার মায়ার চেয়ে কথার মায়া আরও বেশি মারাত্মক। 
হাবিব শুধু শাম্মির রুপে নই। তার কথার মায়ার মধ্যে ও পড়ে গেছে।যেদিন প্রথম দেখা হয়েছে এর পর প্রতি রাতে স্বপ্নে শুধু শাম্মি থাকে।প্রতিটা মূহুর্তে শাম্মির সেদিনের বলা কথা গুলো কানে এলার্ম এর মতো টুনটুন করে।
ইস মেয়েটার কথায় ও অনেক মায়া।হাবিব তার কল্পনার মধ্যে ডুবে আছে।😣😣😣😣😣
 হঠাৎ হাবিব শুনতে পাই,পাশের বাসার আয়ান একটা ছড়া কাটছে।
আয়ানের ছড়ার শব্দে হাবিব বাস্তবে ফিরে আসে। আয়ান হচ্ছে হাবিব এর প্রতীবেশি।অসম্ভব মিষ্টি একটা ছেলে।বয়স বেশি না ৮ বছর। শখের বসে কবিতা লিখে। তবে খুব সুন্দর করে আবৃত্তি করতে পারে। 
আয়নের ছড়াটা ছিলো, 
,,,,, কুয়াশা ভরা সকালে পুষ্প 
,,হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আমি 😍
নীল পরী রুপে হয়তো সামনে
,,,,এসে দাঁড়াবে তুমি 😇
সব ভালবাসা প্রকাশ করতে, না পারলেও 😑
তোমাতেই বিভোর হব আমি ☺
তুমি কোন অদৃশ্য মায়ার, 
পাহাড় সমান ছায়া, 
চাইলেও পারিনা ছাড়তে😥😥
তোমার মায়া😟😟
কবিতা লেখকঃ(বিজয়) 
হাবিব এক মনে কবিতা শুনছিল।
হাবিব বলেঃ আসলেই নীল পরী রুপে সামনে এসেছিল শাম্মি সেদিন। নীল শাড়ি। ইস!
হাবিবের অবশ্য নীল রঙ অনেক প্রিয় ।তার প্রিয় রংয়ের শাড়ি তে এক অপসারী কে দেখে মুগ্ধ হয়ে যাওয়া ব্যাপার টা স্বাভাবিক। 
তবে, 
হাবিবের এখন শাম্মির জন্য ২ লাইন কিছু বলতে মন চাইছে। অনেক ভেবে হাবিব বলেঃ 
tumhein hazar baar
 dekh kar😯
Bhi dil nahi bharta😥
Har baar lagta hai😣
Ek baar aur😍
Writer :(mohoua)
আসলেই সেদিন দেখে মন ভরেনি হাবিবের। তাই স্ফটিক থেকে সেই অপসারীর মুখখানা মোবাইলে ক্যামেরা বন্দী করে হাবিব।তারপর, 
আবার ডুব দেয় শাম্মির স্মৃতির মায়াজালে।হাবিব এর আজকাল এটা একটা প্রিয় কাজ হয়ে গেছে। যখন তখন শাম্মির কথা ভাবা😊😊
এই রাহাত উঠে পড়ো?আর কতক্ষণ ঘুমাবে?রাতে জেগে থাকবে।নামাজ টা পড়ে যে ঘুম দাও একদম ঘুম ভাঙ্গে তোমার দুপুরে। 
রাহাত হুজুর বলেঃ আহা!রেশমি।বিরক্ত কর না।আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করছি।তাই রাতে ঘুমাইনা।
এতক্ষণ চলছিল রাহাত হুজুর ও তার বউ রেশমির কথোপকথন। 
রাহাত হুজুরের মিষ্টি বউটা তার ঘুম নষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগেছে। 
রেশমি বলেঃ উঠবে নাকি বল?😠
নাকি পানি দিবো?
এককথা শুনে রাহাত হুজুর তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে নেমে যাই। 
ঠিক সেই মুহূর্তে, রেশমি মাথা ঘুরে পড়তে যাচ্ছিলো।রাহাত হুজুর তার বাহুতে টেনে নিয়ে আসে তার মিষ্টি বউটাকে।কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার রেশমীর চোখ জোড়া বন্ধ হয়ে গেছে।  
রাহাত হুজুরঃবউ ও বউ,উঠ প্লিজ।কি হয়েছে? 
রেশমি আমার চিন্তা হচ্ছে কিন্তু। 
রাহাত হুজুর ডেকেই চলছে রেশমি কে কিন্তু রেশমির কোন সাড়াশব্দ নেই। রাহাত হুজুর কান্না করছে। 
রেশমি তুমি সবাই কে খুশি রাখার চেষ্টা করতে করতে, নিজের জীবন থেকেই খুশি কবে চলে গেছে বুঝতে পারনি।
আমি এতটা কেয়ারলেস কেমনে হলাম।তোমার জীবনে খুশির ঠিকানা আমি। আমি যখন তোমার যত্ন নেই তুমি বল, দুনিয়াতে আমার দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহার হচ্ছে আমার তোমার প্রতি যত্ম নেয়া😥😥
।তবে আমার কাজের চাপে তোমার খুশি আমি ঠোঁটে বজায় রাখতে পারিনি।সরি প্রিয়।। 
চোখ জোড়া অশ্রু সিক্ত হয়ে গেছে রাহাত হুজুরের।ছেলে রা সহজে কান্না করে না।তবে মনে গহীনে তীব্র আঘাত পেয়ে আহত হলে।কষ্ট টা কান্না হয়ে বের হয়ে যাই। 
রাহাত হুজুর বলেঃ রেশমি কথা দিচ্ছি।আমার যতই কাজ থাকুক না কেন!
তোমাকে আমি সময় দিব।এমন ভুল আর হবে না।প্লিজ চোখ জোড়া খুল।
রাহাত হুজুরের কান্না তে রাহাত হুজুর এর মা আসে রুমে। সাথে সাথে চেচামেচি শুনে অর্ক আসে।লাবু বাবার বাড়ি গেছে আজ সকালে। তবে অর্ক, তার প্রিয়তমা কে সকাল থেকে মিস করছে।আসলে পৃথিবীতে সব চেয়ে বেশি যন্ত্রণা দায়ক কষ্ট হলো কাউকে miss করা।😨😨😨😨
অর্কের ঘুর কাটে রাহাত হুজুর এর ডাকে।
অর্ক দেখ না আমার রেশমির কি হলো????
অর্ক বলেঃদেখি সর।
অর্ক রেশমির শ্বাস ভালো ভাবে চলছে নাকি দেখছে। আর হার্ডবিট কেমন চেক করে দেখে।
অর্ক বলেঃ হাসপাতালে চল
তবে ভাবীর নরমাল মাথা ঘুরছে। তাও নিশ্চিত করতে ডাক্তারের কাছে চল।তবে?
রাহাত হুজুর বলেঃ তবে কি?
অর্ক বলেঃ মনে হচ্ছে এর পিছনে অদৃশ্য কিছুর হাত আছে।অদৃশ্য জিনিস টা মারাত্মক ভাবে ক্ষতি করতে চেয়েছে।তুমি পাশে ছিলেন বলে পারেনি হয়তো। 
রাহাত হুজুর বলেঃ কি বলছো অর্ক?
কে সে?
কি চাই?
কি হচ্ছে সবার সাথে? 
একের পর এক অদ্ভুত ঘটনার সামনে পড়ছে সবাই? 
কি মহা তান্ডব শুরু হতে চলছে তাদের সবার জীবনে?
চলবে......
যদি আমি 
প্রিন্সের জন্য অন্য নায়িকা আনি!
জনগণ কি এটা মেনে নিবে??? 
😵কমেন্ট করে বলেন 😉😉😉
আমার গ্রুপে এড হয়েন! আপনাদের সাথে আড্ডা দিতে খুলসি গ্রুপ টা।তাই যুক্ত হয়ে পাশে থাকবেন।। ☺
*চুপি চুপি গল্প পড়ে গেলে কিন্তু রাগ করবো😥
[তাই গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে জানাবেন? আপনার একটা মূল্যাবান মন্তব্য আমার লেখার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়]
বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন 😍😍😍
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!