রাত যখন গভীর Season:02 Part :10

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :10
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :10
রাত যখন গভীর Season:02 Part :10


রিনিকে খাওয়া শেষ করে। রহমার পানি টা এগিয়ে দেয়। তারপর, 
রহমান বলেঃরিনি,আমি তোমাকে বিয়ে করছি।
এটা বলে,রিনির হাতটা ধরে। 
রহমান আবার বলেঃ
পরশু মানে আগস্ট এর ২ তারিখ আমাদের বিয়ে। কাল আমাদের গায়ে হলুদ হবে। আমি তোমাকে প্রিন্সের মতো অবৈধ ভাবে স্পর্শ করতে চাইনা।সম্পূর্ণ বৈধ ভাবে নিজের করতে চাই। তাছাড়া, মানুষের সাথে হঠাৎ কথা বন্ধ হয়ে যাওয়া, আর দম বন্ধ হয়ে যাওয়া একই কথা। আমি চাই আজীবন তোমার সাথে কথা বলতে। মৃত্যুর আগ অবধি তোমার অবুঝ মনের কথা গুলো শুনতে। তোমার কথা বলা যেন বন্ধ না হয়।সব সময় কিচির মিচির কথা বলেই যাবে।সারাজীবন এর এই বাঁধনে পরশু বেধে নিবো ওগো রূপসী কন্যা।চাইলে ও পারবে না ছাড়তে। সবার শেষে বলে,
Ek tum ho jo
Kuch kehti nahi,
Ek tumhari yaadein hai,
Jo chup rehti nahi....
এই কথা বলেই রিনির প্রতি উত্তর এর অপেক্ষা না করেই রুম থেকে বেরিয়ে আসে রহমান। রিনি এখনো নিজের কানকে বিশ্বাস কর তে পারছেনা।
মেয়ে টার ধৈর্য এর বাঁধ যেন একদম ভেঙ্গে যায় যায় অবস্থা । হাত, পা ঘুটিয়ে বসে আছে রিনি। চোখ গুলো বড্ড জ্বালাচ্ছে, অনবরত টপটপ পানি ঝরে পড়ছে। 
রিনি বলেঃ ইয়া, আল্লাহ। মা- বাবার দুইজনের সম্মতি না থাকলে কোন কাজ করা উচিত নই।আমার ভুলের জন্য আজ আমি নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছি।আসলেই, মা বাবা কোন একজনের মনে ও যদি  কষ্ট পাই।তাহলে সন্তান কখনো সুখে থাকেনা।
ইয়া মাবুদ,আমার ভুলের শাস্তি কি এখনো শেষ হয়নি।বাবার অমতে সেদিন বের হওয়ার এতো বড় শাস্তি ।আর কতো প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে???? 
বন্ধ ঘরে, অন্ধকার করে রেখেছে রিনি।এই বন্ধ করে, অবিরত অবুঝ মেয়ের মতো কান্না করে চলছে। কিন্তু তার কান্না শুনার জন্য কেউ নেই। মায়ের কোলে মাথা রেখে শোয়ে থাকলে যে কতটা কষ্ট কমে তা আজ রিনি হারে হারে টের পাচ্ছে।
রিনি বলেঃ আমার মনে না জায়গা করতে পারলো প্রিন্স(ইনতিয়াজ)
না পারলো রহমান।তাদের কাছে আমার মনটা কিছু না।আমি যেন তাদের খেলনার পুতুল। আজ থেকে সব ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিলাম যা হবে মেনে নিবো।আল্লাহ যা করেন।যদি এক পর্যায়ে আমার মরণ ও হয় হাসি মুখে মেনে নিবো।
তাছাড়া, 
সবাই বলে কাউকে 
কষ্ট দিয়ে সারাজীবন 
সুখী  থাকা যায় না।
কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় 
সুখী তারাই থাকে
যারা অন্যকে কষ্ট দেয়।।।
মেনে নিবো সব কষ্ট। মনে করবো আমার মাঝে কোন অনুভূতি নেই। 
এসব বলে বলে, রিনি
কান্না করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লো,নিজে জানে না। কতক্ষণ ঘুমালো রিনি জানে না।ফজরের আযান কানে আসে।রিনি জেগে ওঠে। গোসল করে নেই। কারণ সারারাত ফ্লোরে ঘুমিয়ে ছিল। তাছাড়া মানসিক ভাবে প্রস্তুতির জন্য একটা গোসল করে মনটা হালকা করে নেই। অতঃপর  নামাজ পড়ে। রিনি তাকিয়ে আছে জানালা দিয়ে। একটু দূরত্বে একটা সাগর দেখা যাচ্ছে। সাগরের প্রত্যেকটা গর্জন যে কিছু বলতে চাইছে। রিনির আজ প্রিন্স এর কথা মনে পড়ছে। কারণ, এত সব কিছু যখন ঘটে  গেছিলো রাতের গভীরে রিনির সাথে। তাই রিনি, প্রিন্স কে মনে মনে স্বামী হিসেবে মেনে নিয়েছে। কিন্তু কাল থেকে রিনির নামের পাশে থাকবে অন্য একজনের নাম।একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে। 
হঠাৎ দরজার মধ্যে কড়া নাড়ে কেউ। রিনির মনে হচ্ছে, কেউ রুমে প্রবেশ করেছে। রিনি যেমন ছিল তেমনই বসে আছে। দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তাসনিয়া(রহমানের বোন)।
তাসনিয়া বলেঃ এই যে এইদিকে আসেন?
রিনি চুপচাপ তাসনিয়ার কাছে গেল।এমন সময়, তাসনিয়া তার হাতে হাততালি দেয়। হাততালি দেয়ার সাথে সাথে বেশ কয়েক টা মেয়ে রুমে প্রবেশ করে। রিনি লক্ষ্য করে দেখে.
সবার হাতে একেক টা থালি আছে। একটা তে আছে, হলুদ লেহেঙ্গা, সাজ সজ্জা, ফুল, হরেক রকমের জিনিস। 
তাসনিয়া বলেঃ রিনি তুমি কাল থেকে শয়তান জিনের একমাত্র পুত্র বধু হবে। তাছাড়া, একমাত্র শক্তি শালী  শয়তান জিন প্রিন্স রহমান এর বউ হবে। আজ তোমার গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়েছে। চুপচাপ, কোন কথা না বলে, বসে পড়।ওরা তোমাকে প্রস্তুত করবে।
রিনি বসে পড়ে। একটা শব্দ ও বলে নি।কারণ কাল রাতেই সব কিছু ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।তবে,
রিনি একটা জিনিস বুঝতে পারছেনা।প্রিন্স(ইনতিয়াজ) তো ভালো জিন।নেহাত আমার সাথে খারাপ কিছু করেছে। তবে,
তাদের তো কোন শত্রু নেই। কারণ, খারাপ জিন দের এড়িয়ে চলতো তারা। যার ফলে, প্রিন্সদের ধারণা তাদের শত্রু নেই।তাহলে, রহমানের সাথে বন্ধুত্বের সৃষ্টি কেমনে?প্রিন্স কি জানতো না? রহমানের জন্ম পরিচয়ের বিষয়ে???এমন সময়, 
কে যেন একজন বলে উঠে ঃ.......
প্রিন্স (ইনতিয়াজ) এর আজ বড্ড অদ্ভুত লাগছে। মন টা আনচান করছে।অবশ্য এই উদ্ভব অনুভূতি টা কাল থেকে শুরু হয়েছে।তবে সকাল থেকে মন খু ডাক দিচ্ছে। তার মনে হচ্ছে, খুব কাছের কিছু দূরে স্বরে যাচ্ছে। আপন কাউকে হারিয়ে ফেলছে।তবে এমন কেন হচ্ছে স্পষ্ট বুঝতে পারছে না।তাছাড়া বোতলটা ও এখনো একি জায়গায় আছে। 
প্রিন্স কি তাহলে কিছু একটা হারিয়ে ফেলছে?????
অর্কের বাসায় প্রবেশ করতেই, রাজা,লোভা এবং শাম্মি কে দেখে অবাক হয়ে যাই সবাই।তখনই, 
শাম্মি বলেঃ সবাই কেমন আছেন?আপনারা আমাদের দেখে নিশ্চিত অবাক হয়ে গেছেন।
অতঃপর, শাম্মি সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলে সবাই কে। সবাই ফ্রেশ হয়ে একসাথে বসে। 
অর্ক বলেঃ মুগ্ধ ভাই,আপনার চেম্বার বন্ধ রাখছেন নাকি?
মুগ্ধ বলেঃ হুম। এখানে আসবো বলে বন্ধ রাখছি।
সুমি তাদের সাথে যা যা হয়েছে সব খুলে বলে। হাবিব ও সব কিছু খুলে বলে। হাবিবের সাথে ও সুমি, জান্নাতের সাথে যা হয়েছে তা শুনে, অর্ক ও রাহাত হুজুর লাবু এবং রেশমির সাথে যা যা হয়েছে তা খুলে বলে। সবাই বিস্ময় হয়ে যাই। সবাই মুগ্ধ কে ধন্যবাদ দেয়।সুমি ও জান্নাত কে রক্ষা করার জন্য।সুমি কে সবাই বলে,ভালোই করেছিস, মুগ্ধ কে নিয়ে এসে। 
এমন সময়, 
রাজা রশিদ বলেঃ হুহ অনেক কিছু ঘটে গেল।তবে এর পেছনে কে আছে অনুমান করতে পারছি।রিনি মা কে খুঁজে পাই।তারপর দোষী দের সাজা দেবার ব্যবস্হা করবো।
লাবু ও রেশমী বলেঃ সবাই আসেন খেতে বসি।রাত তো অনেক গভীর হয়েছে।
সবাই খেতে যাচ্ছে।সাথে রাবেয়া ও যাচ্ছে। তাছাড়া, এইখানে রাবেয়া আসার পর থেকে একদম স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ঘুমের ইনজেকশনের ইফেক্ট কেটে যেতেই স্বাভাবিক হয়ে গেছে।সবার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সুমি ও জান্নাত এর কাছে ক্ষমা চাইলো।তারা অবশ্য, মাফ করে দেয়। কারণ, রাবেয়ার কোন দোষ ছিলো না। যা করছে, প্যারানরমাল কিছু একটা করেছে।সবাই প্রফুল্ল মনে টেবিলের দিকে যাচ্ছে। 
 তবে, সবার পেছনে ছিল, রাজা মশাই ও মুগ্ধ। 
রাজা মশাই বলেঃ মাহাবুব উদ্দিন মুগ্ধ। একদম বাবার মতো হয়েছো।তবে তোমার বিষয়ে জান্নাত জানে তো?
মুগ্ধ একটু চমকে উঠে। নিজেকে সামলে নিয়ে মুগ্ধ বলেঃ আপনি কেমনে জানেন আমার বাবার দেয়া নাম।
রাজা মশাই বলেঃ তুমি যে জিন তা আমি তোমাকে দেখে বুঝতে পারছি। অবশ্য এমনি এমনি তো আর রাজা হয়নি জিন রাজ্যের।আর তোমার বাবা আমার বন্ধু। আমি জানি তুমি জান্নাত কে অসম্ভব ভালোবাস।তবে,নিজের বিষয়ে না লুকিয়ে সব সত্যি বল।কারণ, বিশ্বাস ভেঙ্গে গেলে,আর জুড়া লাগনো যায় না।বিশ্বাস হলো আয়নার মতো। ভেঙ্গে গেলে জুড়া লাগাতে পারবে না শত চেষ্টা করে ও।
ভালোবাসা,পবিত্র ইচ্ছে, বিশ্বাস, যোগ্যতা থাকলে ভালবাসা কে জয় করা যায়। সব কিছু গুণ তোমার মাঝে দেখতে পাচ্ছি, 
 তাছাড়া তুমি পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছ।।তুমি খুব ভালো ভাবে রাখতে পারবে জান্নাত কে।তোমার অস্তিত্বের কথা টা বলে দিবে।আশা করছি,রিনি কে খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে।
মুগ্ধ একটা মৃদু হাসি দিয়ে বলেঃ ইনশাআল্লাহ। 
সবাই রাতের খাবার শেষ করে। কথা মতে,কাল সকাল থেকে শুরু হবে তাদের অনুসন্ধান।ছেলেরা ২ টি রুমে, মেয়ে রা বাকি দুটি রুমে ঘুমাতে গেল। 
ঘুম একটু গভীর হতেই, জান্নাত এর ঘুম ভেঙ্গে গেলো। জান্নাত রুম থেকে বেরিয়ে আসে, জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। দেখে,,,,,,, 
চলবে........
হাবিব ও শাম্মি একে অপরের সঙ্গী হয় তাহলে কি ভালো হবে নাকি খারাপ???কমেন্ট করে,  জানাবেন কিন্তু না হয় ওদের জন্য কিছু করতে পারবো না।।।। 
😀
এখন কি হবে রিনির যে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে???? 😞😞😞😥😥
তোমাদের দাওয়াত দিছে রহমান জিন,আসবে তো????
[ গল্প কেমন হচ্ছে জানাবেন ]
?? 😧😧😧😧পর্ব কালকের টা আরোও বড় করে দিবো।কেউ আবার অভিমান করিয়েননা।😍😍
আপনারা চাইলে, 
আমার Instagram এ কানেক্টে থাকতে পারেন।Instagramid(jannatul_mawa_moho)
*বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন 😍😍😍
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!