রাত যখন গভীর Season:02 Part :05

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :০৫
************
রাত যখন গভীর Season:02  Part :05
রাত যখন গভীর Season:02  Part :05



প্রিন্স(ইনতিয়াজ) কিছু শব্দ শুনতে পাচ্ছে। কিন্তু,
প্রিন্স বুঝতে পারছে না কিসের শব্দ।
আসলে,সেদিন বড় মাছটা বেশ কিছু মাছ খাওয়ার সময় গাছপালা, লতাপাতা পেটের ভিতরে ঢুকে যায়। যার ফলে সব জিনিস একসাথে ঘর্ষণের সৃষ্টি করছে। তাই শব্দ টা উৎপন্ন হচ্ছে।
প্রিন্স(ইনতিয়াজ) এর আজকে খুব উদ্ভুত লাগছে। মাছটা অস্বাভাবিক ভাবে চলাচল করছে। রীতিমতো একদিক থেকে অন্য দিকে ছুটে চলছে। প্রিন্স মন থেকে চাইছে এই মাছের পেটের থেকে বেরিয়ে আসতে। কিন্তু শেষ মেষ পারবে তো?
হাবিব দুপুরে ওয়াশরুমে গেল।গোসল করবে। তার আগে, 
সে প্রাকৃতিক কাজ করছিল। এমন সময়,ওয়াশরুমের গোসল করার অংশ টাতে। একটা মেয়ের কান্না করার শব্দ শুনা যাচ্ছে।হাবিব দের ওয়াশরুম টা অনেক বড়।তাই ভালো ভাবে হাবিব কে কান্না করছে দেখতে পেল না। 
অতঃপর,
হাবিব প্রাকৃতিক কাজ শেষ করে আস্তে আস্তে সেদিকে এগিয়ে গেছে।গোসল করার এইদিকে একটা পর্দা আছে। হাবিব কিছু টা দ্বিধা নিয়ে পর্দাটা সরিয়ে দেয়। এমন সময় দেখতে পেল একটা মেয়ে।
লক্ষ্যনিয় বিষয় হচ্ছে, 
মেয়ে টার মুখটা চুল দিয়ে ঢেকে রাখা।হাবিব কাছে আসতেই, 
মেয়ে টা এবার চুপ হয়ে যায় ।
হাবিব বলেঃ কে আপনি? আমার ওয়াশরুমের মধ্যে কেমনে আসলেন???কি করেছেন এখানে?
মেয়ে টা আস্তে আস্তে তার মুখটা হাবিব এর সামনে আনে।
হাবিব এর সামনে, চুল দিয়ে ঢেকে রাখা, মুখটা এনে, 
একটা অট্টহাসি দেয়। 
হাবিবের ঘাঁ চমচম করছে।
হঠাৎ করে ওয়াশরুমের লাইট গুলো অন আর অফ হতে লাগলো। হাবিবের ভয়ে শরীর হিম হয়ে যাচ্ছে।
সেই মেয়ে টা আস্তে আস্তে মুখ থেকে চুল গুলো সরিয়ে নেই। হাবিব যা দেখে তা যদি একটা হার্ট এর রোগী দেখতো তাহলে মাস্ট বি হার্ট অ্যাটাক হতো।
অসম্ভব ভয়ংকর একটা মুখ। থুতনি টা ফুলে আছে। চোখ জোড়া লাল,নাক টা চেপ্টা, বণর্না করা যাবে না এমন অদ্ভুত দেখতে।
মেয়ে টা হাবিবের গলা টিপে ধরে। হাবিব আর সহ্য করতে পারে নি। 
মাাা মাা মাা মাা বলে,ডাক দেয়। একটু পরে,
সেন্স লেস হয়ে পড়ে। 
হাবিব বেঁচে আছে তো?
নাকি বাথরুমে মরা পড়ে আছে?
প্যারানরমাল জিনিস টা কি চাই?
রিনিকে স্ফটিকে দেখতে পাওয়ার পর থেকে কেন এমন হচ্ছে হাবিবের সাথে?
লাবুর পুরো শরীর বাঁকা হয়ে গেছে। মুখ থেকে সাদা সাদা থুথু বের হচ্ছে। চোখ জোড়া বড় বড় করে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। শরীরের কাপড় কিছু টা ছিড়ে গেছে।এমন অবস্থা দেখে রাহাত হুজুর এর মা কিছু টা ভয় পাই। সাথে সাথে অর্ককে ডেকে আনে।
অর্ক একদম বাকশক্তি হারিয়ে ফেলে। অতঃপর লাবু কে কোলে করে বেড রুমে নিয়ে গেল। রাহাত হুজুর এসেছে। অর্ক ও রাহাত হুজুর মিলে দোয়া ও মন্ত্র পড়ে। 
একটা পানিয় বানায়।যা লাবুর গায়ে ছিটিয়ে দেয়। লাবু একটু পর জেগে ওঠে। লাবু জেগে উঠার পরেই রাহাত হুজুর ও তার মা ঘরে চলে যায়।
লাবু বলেঃ অর্ক,আমি পানি পান করবো।
আর অনেক খিদে পেয়েছে। কিছু আন?
অর্ক বলেঃ তোমাকে একা রেখে কেমনে যাই?
লাবু বলেঃ তুমি রান্না ঘরে যাও। আমি ভিডিও কলে থাকি।
অর্ক এবার আস্বস্ত হলো।রান্না ঘরে গেল অর্ক।সাথে ভিডিও কলে আছে লাবু।
সব কিছু ঠিকই ছিল। কিন্তু অর্ক রুম থেকে বেরিয়ে গেছে ৯ মিনিট। তবে ১০ মিনিট হতেই। লাবুর মোবাইলে স্কিনটা কালো হয়ে গেছে।
হঠাৎ করে, মোবাইলে কিছু অস্পষ্ট স্বরে শব্দ বলছে আপনা আপনি।
মোবাইলে শব্দ গুলো ছিলঃ সালছা।মাই হা কো।।সাটোদি হা।
লাবু এসব হিজবিজি কথা বুঝতে পারছে না।একটু পর শব্দ বন্ধ হয়ে গেছে। মোবাইল থেকে আস্তে আস্তে ধোয়া বেরিয়ে আসে। পুরো রুমে ধোঁয়া হয়ে গেছে।
লাবু বারবার মোবাইল ঠিক করার চেষ্টা করছে। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না।এক পর্যায়ে রাগ উঠে গেল লাবুর।
তাই লাবু তার রাগ সামলাতে না পেরে মোবাইলটা কে দূরে ছুড়ে মারে । মোবাইল ছুড়ে মারার সাথে সাথে লাবুর মোবাইল থেকে আস্তে আস্তে কালো ধরনের ধোঁয়ার সাথে কি যেন বের হচ্ছে।
প্রথমে একটা লোমশ হাত বেরিয়ে আসে। আস্তে আস্তে সেই লোমশ প্যারানরমাল জিনিস টা বেরিয়ে আসে।
লাবুর দিকে আসেতে থাকে।
চলে আসতে আসতে, সেটা
একদম লাবুর কাছে চলে আসে। লাবু ভয়ে চুপসে যায়।
লাবু বলেঃ কি চাই?
চলে যান।
সেই প্যারানরমাল জিনিস টা লাবুকে কোন উত্তর না দিয়ে। 
লাবুর বুকে স্পর্শ করতে। তার সেই লোমশওয়ালা হাতটা এগিয়ে দেয়। লাবু এতটা ভয় পেয়ে যায়। যে বিছানা থেকে নেমে দৌড়ে 
যাওয়ার শক্তি ও হারিয়ে ফেলে। সেই প্যারানরমাল জিনিস টা অলমোস্ট লাবুর স্ফীত অংশে হাত দিয়ে বসেছিল। এটা দেখে লাবু চোখ বন্ধ করে। মনে মনে বলছে, আল্লাহ সহায়তা করো।
কিন্তু লাবু শুনতে পেল, অর্ক বলছে,প্রিয়তমা চোখ জোড়া খুলে দেখো।
তোমার জন্য নাস্তা আনছি।।।আর চোখ বন্ধ করে রাখছো কেন?
ঘুম আসছে নাকি?
ধোঁয়া গুলো আর নেই। মোবাইল টা নিচে পড়ে আছে। তাহলে কি হলো এগুলো! 
তাহলে এতক্ষণ ধরে যা ছিল তা কি কল্পনা ?
আর যদি সত্যি হয়!তাহলে, 
কি চাই সে প্যারানরমাল জিনিসটা?
আজ যদি অর্ক ঠিক সময় না আস্তো তাহলে কি হতো? 
এটা ভাবতেই, লাবুর গাঁ শিহরিত হয়ে উঠে।।।
সুমি ও জান্নাত  এতক্ষণ লক্ষ্য করেনি।একটা রক্তের স্রোত বেরিয়ে আসছে তাদের বিছানার নিচের থেকে। 
দুজনে বিছানার নিচে উঁকি দেয়।তারা দেখে একটা খোলা চুলের মেয়ে তাদের বিছানার নিচে।কি যেন করছে?
সুমি তাদের রুমের ড্রিম লাইট জ্বালিয়ে দেয়। সেই হালকা আলো তে সুমি ও জান্নাত দেখে ,রাবেয়া কি যেন কটমট করে শব্দ করে খাচ্ছে।
জান্নাত  আরেকটু চোখ নাড়িয়ে দেখে পাশে পরে আছে সাদা সাদা লোম।
জান্নাত  বলেঃ সুমি আমার সাথে আই?
সুমি জান্নাত এর সাথে তাদের ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করে।জান্নাত , সুমিকে তাদের খরগোশ এর খাঁচার দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।
সুমি বলেঃ কই নিচ্ছেস?
এই রুমে কেন আনলি?
জান্নাত  বলেঃ চুপচাপ সাথে আই।
খাঁচার সামনে আসে। 
দু'জনে দেখে তাদের খরগোশ টা নেই।
সুমি বলেঃ আমাদের খরগোশ টা কোথায়?
জান্নাত  আবার শোবার ঘরে নিয়ে গেল সুমিকে।
জান্নাত  সুমি কে বিছানার নিচে পড়ে থাকা সেই সাদা লোম দেখিয়ে দেয়। তারা এতক্ষণে বুঝতে পারে, এই রক্ত তাদের প্রিয় খরগোশ এর।
সুমি আস্তে আস্তে বলে উঠে,বিছানার নিচে কে?
হালকা লাইটের মধ্যে স্পষ্ট দেখতে পেল, রাবেয়া চোখ জোড়া লাল লাল করে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। এটা দেখে তারা দুজনে এক দৌড় দেয়।
তারা দুজন একদম তাদের বাসার বাইরে চলে আসে। আর নিজেদের লুকিয়ে রাখে একটা ঝোপঝাড়ে।সকাল হলেই তারা বেরিয়ে যাবে।কিন্তু রাবেয়া তখন ঘর থেকে বেরিয়ে আসে! 
ভয়ংকর অগোছালো চুল, রক্ত মাখা মুখ। 
আর বলছে,কই তোরা?
কই গেলি?
সামনে আই????
কি হবে সুমি ও জান্নাতের সাথে ????
শেষ মেষ কি পারবে রিনির রহস্য উদ্ধার করতে?
জিন রাজা (রশিদ) খুব চিন্তিত। কারণ তার বউ জিন(লোভা) দরজা আটকে বসে আছে। সেদিনের পর থেকে। একদম বের হচ্ছে না।জিন রাজা চিন্তায় পড়ে যায়। 
লোভা কি তাহলে ছেলের জন্য আমাদের উপর রেগে আছে? 
কিন্তু প্রিন্স যা করলো,তার শাস্তি সে পেয়েছে!তার কর্মের ফল সে পেল।
তাহলে কি লোভা এটা মানতে নারাজ তার ছেলে যে অন্যায় করেছে???? 
তার কি ধারণা তার ছেলে নির্দোষ?
চলবে....
*****ধরের আপনি ওয়াশরুমে গেলেন, লাইট বন্ধ হয়ে গেছে। তখনই প্যারানরমাল কিছুর উপস্থিতি বুঝতে পারেন????
তখন কি করবেন?? 😴😴😴
সবার কাছে মজার মজার উত্তর আশা করছি???!!!! 
😵কমেন্ট করে বলেন 😉😉😉
***একটু অসুস্থ, জ্বর, ঠান্ডা লাগছে,মাথা ব্যথা।। তাও গল্প টা লিখলাম। 😟
যদি কালকে কোন গল্প পোস্ট না করি মনে করবেন অসুস্থতা বেড়ে গেছে। তাই দুঃখীত আমি।
২২ তারিখ গল্প দিব।যদি অসুখ বিসুখ ভালো না হয় তবুও দিবো।
অপেক্ষা করাতে আমার ও ভালো লাগে না । ****
[ গল্প কেমন হচ্ছে জানাবেন ]
*বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন 😍😍😍
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!