রাত যখন গভীর Season:02 Part :09

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :09
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :09
রাত যখন গভীর Season:02 Part :09


লাবু,রেশমি, রাহাত হুজুর লক্ষ্য করে। তাদের রুমের লাইট অন এন্ড অফ হচ্ছে। একটু পর দেখে,
জিন রাজা (রশিদ),রানী(লোভা),সাথে রাজকন্যা শাম্মি আছে। কৌশল বিনিময় করার পর।সবাই বসে।লাবু কিছু মিষ্টি আনে।সবাই কে সার্ব করে দেয়। এমন সময়, 
অর্ক বলেঃ হঠাৎ কি মনে করে আসলেন?
জিন রাজা বলেঃ আপনাদের সাথে দেখা করতে। সাথে রিনি মার সাথে একটু দেখা খরবো
।ওই দিন পর থেকে আর খুঁজ খবর নেয়া হয়নি।সেদিন যে গেলাম আর তো দেখা করিনি।তাই ভাবলাম বেড়িয়ে আসি।
রাহাত হুজুর বলেঃ হুহ রিনি।রিনি তো বলে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ।তারপর, বলে
মেয়ে টা ওই দিনই গায়েব হয়ে গেছে রাতের সময়।আমরা কোন রহস্য উদ্ধার করতে পারিনি।
শাম্মি, রশিদ,লোভা ৩ জনই চমকে উঠে। কথা টা তাদের  বড্ড কষ্ট দিয়েছে। মেয়ে টা কে দেখতে আসলো,আর কি যে মর্মাহত হওয়া কথা শুনলো।
শাম্মি বলেঃ আমাদের জানাননি কেন?
রাহাত হুজুর বলেঃ রাজা মশাই কে জান্নাত ঢেকেছিল। কিন্তু সারা দেইনি।
আজ প্রায় ১ মাস হয়ে গেছে। তাছাড়া, বন্ধু রা সবাই আসছে আজকে। আরও অনেক কিছু অদ্ভুত ঘটনার সামনে পড়ছি আমরা।তাই, রিনির রহস্য উদ্ধার করেই ছাড়বো।  
রাজা রশিদ বলেঃ আচ্ছা সবাই আসুক।আমরা ও থাকি। সবাই মিলে চিরুনি অভিযান চালিয়ে দেখবো।ইনশাআল্লাহ খুঁজে ও পাবো।
লোভার ও খারাপ লাগলো। আহারে,মেয়ে টা যে কই আছে, আল্লাহ ওকে দেখে রেখো।
লোভা বলেঃ আচ্ছা, আমার ছেলে কি মুক্তি পাবে না?সারাজীবন কি সাগরে ভেসে বেড়াবে?
অর্ক বলেঃ ভাগ্য ঠিকই আপনার ছেলে কে মুক্তি দিবে।সঠিক সময়ে সব কিছু হবে।সো চিন্তা করবেন না।
সবার মন খারাপ।তাছাড়া,  কখন যে ওরা এসে পৌছাবো আল্লাহ জানে।অপেক্ষা করছে ওদের আসার জন্য।  
গাড়ি চালাচ্ছে হাবিব। মেইন রোড এ উঠে পড়ে।একটু পর,বড় একটা ট্রাক তাদের দিকে ছুটে আসছে। হাবিব ঘাবড়ে গিয়েছে।এমন সময় ট্রাক সামনা সামনি আসতেই, মুগ্ধ হাবিবের হাতের উপর হাত দিয়ে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেয়। এতে করে একটা পাথরের সাথে গাড়ি ধাক্কা খেয়ে একটা বট গাছের গিয়ে আবার ধাক্কা খেল গাড়ি ।সবাই সুরক্ষিত ছিল তবে জান্নাত পিছনের দিকে বসাতে ধাক্কা লেগে,  একটু ব্যথা পেয়েছে।সামনে সিট বেল পড়ে ছিল তাই ওদের কিছু হয়নি। মাথা দিয়ে রক্ত পড়ছে। মুগ্ধ পিছনের সিটে চলে  আসে।সুমি কে সামনে পাঠিয়ে দেয়।হাবিব গাড়ি টাকে খুব সতর্কতার সঙ্গে আবার রাস্তায় তুলে।হাবিব গাড়ি চালাচ্ছে। 
মুগ্ধ জান্নাত এর মাথা থেকে রক্ত মুছে দিচ্ছে।জান্নাত রক্ত দেখে বেহুশ হয়ে যায় । মুগ্ধের রুমাল টা বেধে দেয় ক্ষত স্থানে। সবার চোখ এর আড়ালে ক্ষত স্থানে একটা চুমু দেয়। মুগ্ধ হালকা পানি দেয় জান্নাত এর সেন্স ফেরানোর জন্য। অবশেষে, সেন্স ফিরে  আসে। জান্নাত মাথা তে হাত দিয়ে দেখে ব্যথা নেই। কপালে জাস্ট একটা রুমাল বাধা।
জান্নাতএর বসে থাকতে থাকতে ঘুম পাচ্ছি লো।তাই ঘুমিয়ে পড়লো। আস্তে করে,জান্নাত এর মাথা টা গিয়ে পড়ে মুগ্ধের কাঁধে।
মুগ্ধ বলেঃ
খুঁজি তোমায় অদৃশ্য শহরে, 
কাটেনা সময় তোমারও 
প্রহরে।
খুঁজি তোমায় এসে ফিরে 
যাওয়া ঢেউয়ের মাঝে, 
খুঁজি তোমায় অথিতি 
পাখির মাঝে। 
তোমায় দেখি নতুন ভোরের 
কুয়াশায়,
তাই তো থাকি তোমার এক
 পলক চাহনির আশায়।। 
ভালবাসি ভালবাসি ভালবাসি
 তোমায় জান্নাত..... (কবিতা লেখকঃবিজয়)
হঠাৎ, জান্নাত এর ঘুম ভেঙ্গে গেলো। নিজেকে মুগ্ধের বুকে দেখে লজ্জা পেল। 
গাড়ি চলছে। সবাই দোয়া পড়ছে যত দ্রুত সম্ভব পৌঁছাতে হবে।আর মাত্র আধা কিলোমিটার দূরত্বে আছে সবাই। এমন সময়, গাড়ির আয়নার মধ্যে কার যেন বিবৎস চেহারা দেখে। সবাই ভয়ে চুপসে গেছে। 
তখনই, মুগ্ধ বলেঃ আয়নার মধ্যে না তাকিয়ে সামনে গাড়ি চালিয়ে যাও।
আর একটু পর সবাই অবশেষে অর্কের বাসায় পৌঁছে যায়। একটু গাড়ি তে রেস্ট নিয়ে।রাবেয়া কে সহ নিয়ে অর্কের বাসায় প্রবেশ করে। 
কিন্তু অর্কের বাসায় প্রবেশ করতেই, রাজা,লোভা এবং শাম্মি কে দেখে অবাক হয়ে যাই সবাই। 
সবার মনে একটাই প্রশ্ন, ওরা কেন এসেছে? আসছে,তবে আমরা যেদিন আসলাম সেদিন কেন আসলো????
তবে সবাই প্রশ্ন নিয়ে চিন্তা করলেও হাবিবর তাকিয়ে আছে শাম্মির দিকে।শাড়ি টাতে বেশ লাগছে।একদম পরী র মতো। বাস্তব,পরী লাগতো,যদি পেছনে দুটো ডানা থাকতো।তখনই, 
প্রিন্স বোতল এর ভিতর থেকে মহিলার গতিবিধি লক্ষ্য করছে।কোন ভাবে যদি বের হতে পারে তাহলেই হলো।বের হয়ে, সবার প্রথমে রিনির কাছে যাবে।রিনি যে কেমন আছে খুব জানতে ইচ্ছে করছে প্রিন্স এর।মেয়ে টার পাগলামি গুলো বড্ড মিস করছে প্রিন্স।
তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, প্রিন্স জানে না এখন কার বাসায় আছে?তাছাড়া, রিনিও যে এই ঘরে আছে তাও জানে না।অবশ্য, বোতলের ভিতরে, প্রিন্স এর শক্তি কাজ করে না।আধু মিল হবে তো রিনি ও প্রিন্স এর? 
এমন সময়, রিনি কেউ একজন এর পায়ের শব্দ শুনতে পেল। রিনি চোখ বন্ধ করে দেয়। দরজা খুলে রহমান প্রবেশ করলো।
আবার রিনি কাছে চলে আসে। কপালে একটা চুমু দিতে গিয়ে ও দিল না।রহমান আবার বলেঃ
jindegi mey sabkuc
Malum nehi hota,kuc
Baat or paal hudko bana 
Lena cahie.
কিন্তু বিবেক বাঁধা দিল রিনি।তোমাকে স্পর্শ করতে পারিনি।তোমাকে যখন দেখি দেখে দেখে  থাকতে মন চাই। যদি সাধ্য থাকতো তাহলে তোমাকে ২৪ ঘন্টা আমার সামনে রাখতাম।আমার সামনে তোমাকে রেখে অপলক দৃষ্টি তে তাকিয়ে থাকতাম। আসলে, 
tomko jab dektahu na,
Tab mere dilmey kuc
Hota hey.
Apko jab dektahu na tab
Marke pir ekbar jineki
Dil karta hey...
রহমান একটা জোরে নিশ্বাস নেই। তারপর, আলতো স্বরে বলে ঃ রিনি ও রিনি।
রিনির কোন সাড়া শব্দ শুনতে পেল না। আবারও ডাক দেই। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না। রহমান জিন কিছু পানি নেই। পানি গুলো রিনির উপর ফেলে দেয়। সাথে সাথে রিনি হুর মোর করে উঠে পড়ে। রিনি ডেব ডেব করে তাকিয়ে আছে রহমান এর দিকে। 
রহমান বলেঃ কেমন আছো? ফ্রেশ হয়ে আস।তারপর কিছু খাবে।
রিনি এক চুল পরিমাণ ও নড়ে নি।রিনি বলেঃ আমি বাসায় যাবো!আমাকে যেতে দিন প্লিজ। আপনার তো কোন ক্ষতি করিনি তাহলে আমাকে এখানে রাখছেন কেন???
রহমান অপলক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে। চটরপটর৷ করে কথা বলা অপসারীর দিকে। কথা বলার সময় রিনির চোখ জোড়া ছোট বড় হচ্ছিল বেশ লাগছিল। 
মনে মনে বলছে, মানুষ যতই শক্তি শালী হোক না কেন, প্রিয় মানুষ টির কাছে সবসময় দুর্বল।
রহমান  ও দুর্বল হয়ে গেছে রিনির প্রতি। আজকাল স্বপ্ন তে ও আসে রিনি নামক মেয়ে টা। 
রহমান বলেঃ সরি এটা সম্ভব হচ্ছে না। যা বলছি তাই কর।
রিনি তো রহমানের কথা তে কর্ন পাত ও করেনি এখনো বসে আছে একেই ভাবে।
রহমান বলেঃ শেষ বার বলছি। অন্যতাই সারাদিন কিছু দিবো না।না খেয়ে থাকতে হবে। 
রিনি এবার ও নিস্তব্ধ হয়ে আছে। 
রহমান রুম থেকে বেরিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। সারাদিন রিনি কে কিছু দেয় নি।খিদের জ্বালায় রিনির নাজে হাল অবস্হা।
রাতের দিকে রহমান আবার আসে রুমে।রিনির ম্লান মুখ সাথে  এলোমেলো চুলে বেশ লাগছে।রাহমানের একটা কবিতা বলতে ইচ্ছে করছে, তাই মৃদু স্বরে বলে, 
" ভালবেসে এই মন, তোকে চাই সারাক্ষণ 
আছিস তুই মনের মাঝে, পাশে থাকিস সাঝে।
কি করে তুকে ভুলবে  এই মন,
তুইই যে আমার জীবন। 
তোকে অনেক ভালোবাসি।। 
রহমান রিনির পাশে বসে। 
রহমান বলেঃ খিদা পাইছে না অনেক? এই নাও বড় মাছ দিয়ে ভাত এনেছি খেয়ে নাও।
রিনি মনে মনে বলছেঃহুম ছুতো মেরে গরু দান করতে এসেছে। সারাদিন না খাইয়ে রেখে এখন এসেছে।
রহমান বলেঃ কই চুপ কেন? নাকি এখন ও খাবে না।অনেকটা রেগে। 
রিনি বলেঃ খাবো না খিদে নেই। 
রহমান রিনির কোন কথাই শুনেনি।জোর করে চামচ দিয়ে খাইয়ে দিচ্ছে। অবশ্য, রিনি প্রথমে না খেতে চাইলে ও এখন চুপচাপ খাচ্ছে। খিদে যে পেয়েছিল।
তাছাড়া না খেয়ে থাকলে অসুস্থ হয়ে যাবে রিনি।তা একদম চাইনা রহমান।
রিনিকে খাওয়া শেষ করে। রহমার পানি টা এগিয়ে দেয়। তারপর রহমান বলেঃরিনি,আমি তোমাকে......
চলবে........
রিনি জন্য কি রহমান কে সেট করে দিবো?
প্রিন্স কে যদি দেবদাস করে দি?জনগণ মেনে নিবে???
কমেন্ট করে মতামত দেন?
মতামত এর উপর বৃত্তি করে সামনের গল্প লিখবো???😀
[ গল্প কেমন হচ্ছে জানাবেন ]
?? 😧😧😧😧
এই গল্প শেষ হতেই না বলা কথা গল্প টা লিখবো।😞
আপনারা চাইলে, 
আমার Instagram এ কানেক্টেড থাকতে পারেন।Instagram id(jannatul_mawa_moho)
*বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন 😍😍😍
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!