রাত যখন গভীর Season:02 Part :০৬

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :০৬
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :০৬
রাত যখন গভীর Season:02 Part :০৬


তাহলে কি লোভা এটা মানতে নারাজ তার ছেলে যে অন্যায় করেছে???? 
তার কি  ধারণা তার ছেলে নির্দোষ?
প্রিন্স হঠাৎ করে শুনতে পেল কিছু মানুষ কথা বলছে।
 তারা বলছে, এই মাছটা বহুত বড় আছে। তই মেলা দামে বেচবার পারোম!
অন্য একজন বলে উঠেঃতুই মিয়া এক্কান কাম কর! এই মাছডা লইয়া, রাজ বাড়িত তুইয়া আই।মেলা ভালো দাম দিবো।
প্রিন্স এর মনে আশার আলো জ্বলে উঠে। তাহলে কি অতি শিগগির মুক্তি পেতে চলছে প্রিন্স(ইনতিয়াজ)??? 
হঠাৎ করে কিসের জানি পানি এসে পড়েছে রিনির মুখে। অস্পষ্ট স্বরে বলেঃ মা,একটু ঘুমায়। ডিস্টার্ব করো না।
কিন্তু আবার হালকা কিছু পানি এসে রিনির মুখে পড়ে। রিনি রাগী মোড নিয়ে চোখ জোড়া খুলে। 
কিন্তু একি এটা কোথায়? 
সে তো তার বাসায় ছিল এখানে কেমনে?
পাশে তাকিয়ে দেখে বৃষ্টি হচ্ছে। আর এতক্ষণ তার মুখে বৃষ্টির পানি পড়ছিল। 
এমন সময়, 
রিনি কার জানি পায়ের শব্দ পেল।সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে দেয় রিনি।রিনি আলতো করে চোখ জোড়া খুলে দেখে, একটা মাঝ বয়সী মহিলা রুমে প্রবেশ করে। রিনি দিকে তাকিয়ে আছে।রিনির দিকে তাকানোর, 
সাথে সাথে ভয়ে চুপসে যায় মহিলা । 
মহিলা বলছেঃ হায় হায়। আইজ আমার কি হয়বো।
সাহেব যদি জানতে পারে,রিনি ম্যাডামের মুখে পানি পড়ছে। আমি জানালা বন্ধ করি নাই।আজ আমার চাকরি যাবে।ইয়া আল্লাহ বাঁচাও।
মহিলা টি জানালা বন্ধ করে দেয়। রিনির মুখ আলতো করে টিস্যু দিয়ে মুছে দেয়। 
যাওয়ার সময় দরজা বন্ধ করে দেয় আবার।
রিনি চোখ জোড়া খুলে। 
রিনি বলেঃকোথায় আমি? কে এই মহিলা?
কোন সাহেব এর কথা বলছে???
সুমি ও জান্নাত  ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে আছে। রাবেয়া তাদের হন্য হয়ে খুঁজে যাচ্ছে।
 সুমি বলেঃজান্নাত,আজকেই মনে হচ্ছে আমাদের শেষ দিন?ইশ,তোর জিজুর সাথে শেষ দেখা ও হলো না!
জান্নাত  বলেঃ হুহ্। মনে হচ্ছে। তুই ঠিক বলছিস।রাবেয়া আমাদের দেখতে পেলে।আমাদের খরগোশ টার মতো করে খেয়ে নিবে।সাথে মানুষের গোশত খাওয়া 
উপভোগ করবে।
দুজনের মুখ দিয়ে একটা দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে আসে। 
হঠাৎ, জান্নাত তার কাঁধে কারো স্পর্শ অনুভব করল। 
জান্নাত  আলতো করে বলেঃ
কে?
দুজনে পিছনে ফিরে দেখতে পেল, মুগ্ধ। 
জান্নাত  বলেঃ আপনি এখানে কি?
আর এই সময় কেমনে?
আসলে কি আপনি মুগ্ধ? 
জান্নাতের কথার যেন ফুলঝুরি ছুটছে।একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছে। কথা বন্ধ ই হচ্ছে না।সেই মূহুর্তে,  মুগ্ধ আস্তে করে জান্নাতের মুখ টা চেপে ধরে। 
মুগ্ধ বলেঃ
"প্রতিদিন কিছু কিছু ইচ্ছা মরে যায়, 
অনিচ্ছাকৃত মরে যেতে হয়
অযত্নে মরে যায়। 
প্রতিদিন কিছু কিছু ইচ্ছেরা
নির্বাসিত হতে বাধ্য হয়,
নির্বাসিত হয়।।।
কবিতা টা শুনে জান্নাত  গোঙ্গিয়ে উঠে। 
মুগ্ধ আবার বলেঃ পৃথিবীতে কেউ কাউকে জায়গা করে দেয় না,জায়গা করে নিতে হয়।মিস জান্নাত ।
আর একদিন সেই জায়গাটা আমি করে নিবো।সেদিন থেকে 
তোমার প্রত্যকটা হার্টবিটে আমার নাম ধ্বনিত হবে। 
এখন চুপ থাকো।শব্দ করলে রাবেয়া তোমাকে খেয়ে নিবে।সাথে সুমি ও আমাকেও খাবে।
জান্নাত , মুগ্ধের হাতে কামড়ে দেয়। তাও মুগ্ধ হাত সরাই নি।
তখন মুগ্ধ বলেঃ 
" হাসাতে পারোনা যখন 
কাঁদাতে এসোনা তখন
মন বুঝতে না পারলে 
ভুল বুঝাটা ও বারণ""
ভুল বুঝো না আমাকে। তবে এই মূহুর্তে কোন ভাবেই আমি হাত সরাচ্ছি না।
সুমি বলেঃ আমাদের এখন কি করা উচিত? 
মুগ্ধ বলেঃ একটু অপেক্ষা কর। রাবেয়া বাসায় প্রবেশ করলে,আমরা কিছু করতে পারবো।ততক্ষণ এইখানে মশার কামড় খেয়ে অপেক্ষা করি।
একটু পর রাবেয়া বাসায় প্রবেশ করে।মুগ্ধ, জান্নাত ,সুমি চুপচাপ বাসায় প্রবেশ করে।
 মুগ্ধ বলেঃ এই জান্নাত  একদম চুপ থাকবে। অন্যথায় শাস্তি পাবে।
জান্নাত  মনে মনে বলছে, অরে আল্লাহ তুই যে সাইকো,মুগ্ধের বাচ্চা, বলা যায় না, কি শাস্তি দিয়ে বসিস।তবে তুরে আমি দেখে নিবো।।।
জান্নাত  চুপ হয়ে আছে। সুমি ও পাশে আছে।
মুগ্ধ বলেঃওজু করে নেন। তারপর  আপনারা জায়নামাজ বিছিয়ে বসে পড়েন।সাথে কুরআন শরীফ রাখবেন। অবশ্যই,আয়াতের কুরছি পড়বেন।আমি আসছি।
তারা দুজনেই ঠিক বাধ্য মেয়ের মতো তাই করলো। 
মুগ্ধ বেশ কিছু বড়োই পাতা আনে।ভালো করে সিদ্ধ করে।রাবেয়া তখন ক্লান্ত হয়ে শরীর টা এলিয়ে দেয় শুবার ঘরে। 
মুগ্ধ বলেঃ জান্নাত  এই দিকে আস।রাবেয়ার পাশে গিয়ে আগে অল্প করে পানি ঢেলে দিবে।তোমাকে যখন পিছু করবে তখন ওয়াশরুমের দিকে যাবে।আমরা থাকবো ওয়াশরুম এ।
ঠিক তাই করলো জান্নাত ।রাবেয়া ওয়াশরুমের মধ্যে প্রবেশ করে।মুগ্ধ বরই পাতা  দিয়ে সিদ্ধ করা সব পানি রাবেয়ার শরীরে ঢেলে দেয়। রাবেয়া মাথা ঘুরে পড়ে যায়। সবাই ধরাধরি করে রুমে আনে।ভোরের আলো ফুটে উঠেছে। 
জান্নাত  বলেঃ আমি গাড়ি বের করতে বলছি।সুমি কাপড় ঘুছিয়ে নে।কামাল কে ও রেডি হতে বল।আমরা একটু পর-ই রওনা দিবো।এই ভাবে থাকা সম্ভব না। 
সুমি বলেঃ ওকে।
মুগ্ধ বলেঃ আমাকে ও নিয়ে যাওয়া যাবে?
জান্নাত  বলেঃ একদম ই নিবো না।
সুমি বলেঃ নিয়ে যায়। কারণ ওনি না থাকলে , আমরা এতক্ষণে রাবেয়ার পেটে হজম হয়ে যেতাম।মুগ্ধ ভাইয়া,আপনি ড্রেস নিয়ে আসেন।
মুগ্ধ বলেঃ বোন যেতে দিচ্ছ এটাই অনেক। আমি ড্রস ওইখানের শপিং মলের থেকে কিনে নিবো।
সবাই রেডি। রাবেয়া কে মুগ্ধ ঘুমের ইনজেকশন দিয়েছে।সবাই গাড়ি তে উঠে পড়ে। 
মাঝ পথে কামালকে তুলে নেই। সুমি সব খুলে বলে কি কি হয়েছে!!আর মুগ্ধের সাহায্যের কথা ও বলে।কামাল কৃতজ্ঞতা জানাই। 
কামাল বলেঃ আমরা চাইলে, হাবিব কে ও সাথে নিতে পারি??
সবাই সম্মতি জানায়। গাড়ি ড্রাইভ করছে মুগ্ধ। ড্রাইভারের নাকি কি সমস্যা হয়ছে। তাই জান্নাত  মুগ্ধ কে ড্রাইভার বানায়। 
মুগ্ধ গাড়ি তে গান চালিয়ে দিয়েছে। 
গান চলছে,,, 
মাঝে মাঝে তোর কাছে জেনে শুনে হেরে যায়, 
কিছু কথা বলে পেলি, কিছু কথা ছেড়ে যায়। 
অচেনা সকাল হোক,উদাসী বিকেল হোক।
বারে বারে মনে হয় তোর হাতে মরে যায়।।।। 
গাড়ি চলছে হাবিবের বাসার উদ্দেশ্যে।।তবে জান্নাতের মনে প্রশ্ন জেগে ওঠে। মনের মধ্যে এসব প্রশ্ন ছোট একটা ঝড়ের সৃষ্টি করেছে।। 
আচ্ছা, মুগ্ধ রাতে কেমনে আমার বাসায় আসে?
আমি যে বিপদে কেমনে জানলো?
আর কেমনে জানলো, আমরা যে ঝোপঝাডে় আছি?
মুগ্ধ আসলে মানুষ তো?নাকি!!!!!!
হাবিবের মা তার চিৎকার শুনে দৌড়ে আসে।দরজা ভেঙ্গে বের করে হাবিবরকে।নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। ডাক্তার এসে চিকিৎসা করে।হাবিব এখন অনেক টা সুস্থ। 
বসে আছে নিজের রুমে। এমন সময়.... 
চলবে.......
আচ্ছা, মুগ্ধ কে?
আপনাদের কি মনে হয়?? 
�😉😉
কমেন্ট করে বলবেন ???? 
[ গল্প কেমন হচ্ছে জানাবেন ]
কমেন্ট না করলে গল্প দেরিতে দিবো দেইখেন 😧😧😧😧😧
*বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন 😍😍😍
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!