রাত যখন গভীর Season:02 Part :45

 #রাত যখন গভীর 

#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 

#(jannatul mawa moho)

Season:02

Part :45

************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :45
রাত যখন গভীর Season:02 Part :45


সামনে মুগ্ধ ও তার পরিবার। তবে তাদের মাঝে একটা পর্দা আছে।হুজুর এসেছে।সামনে রাখা আছে মিষ্টি এবং খেজুর। সবাই অধির আগ্রহ নিয়ে বসে আছে। অতঃপর,
হুজুর সাহেব বলেনঃজান্নাতুল মাওয়া মহুয়া হচ্ছে অমুক এর মেয়ে, ২৫,০০০০০টাকা কাবিনের জন্য ধার্য করা হয়েছে। জনাব মুগ্ধ হচ্ছে অমুকের পুত্র।জান্নাত আপনি যদি এই বিয়ে তে রাজি থাকেন তাহলে কবুল বলেন।।।
বলুন মা কবুল।
জান্নাত বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে ছিলো।জান্নাত এর মা বলেঃ মা, কবুল বল?
তোর কি কোন সমস্যা হচ্ছে?
তোই কি খুশি না?
এদিকে জান্নাত কবুল বলছে না। মুগ্ধের তো চিন্তা শুরু হয়ে গেছে।
মুগ্ধ মনে মনে বলছেঃ হায় আল্লাহ, এই মেয়ে কি তাহলে বিয়ে করবে না?
নাকি বিয়ে করার যে কথা দিয়েছে তা ভুলে গেছে?
হুহ কি হবে আমার?
মুগ্ধের বুকে ধুকপুক করছে। কি হতে চলছে!!!
জান্নাত এর বাবা পাশ থেকে বলেঃ আমার মামুনির কি হয়েছে?
মা,কবুল বল।সবাই অপেক্ষা করছে তো!!!
জান্নাত বলেঃ বাবা,তোমাকে ছেড়ে কি ভাবে থাকবো?
পারবে তো তুমি ও মা আমাকে ছেড়ে থাকতে?
জান্নাত এর বাবা বলেঃ মা এটা প্রকৃতির নিয়ম। মেয়ে যতই আদরের হুক না কেনো।
মেয়ে কে বিদায় দিতে হয় মা বাবার বুকে পাথর চাপা দিয়ে।
জান্নাত এর মা বলেঃ আমরা চাই তোই সুখে থাক।তাছাড়া, তোর যখন ইচ্ছে হবে চলে আসিস।
মুগ্ধের মা বলেঃ মা,তোমাকে আমার মেয়ের মতো করে রাখবো।আমার একটা মাত্র ছেলে। মেয়ে নেই।মেয়ের সাধ তোমাকে দিয়ে মিটাবো।
জান্নাতের চোখে অশ্রু। একটু পর গড়িয়ে পড়বে গাল বেয়ে। সুমি বলেঃ জান্নাত, এবার তো কবুল বল?
রহমান বলেঃ শালি সাহেবা কি মতামত বদলে ফেলেছে নাকি?
রিনি বলেঃ খালামনি আপনার কোন সমস্যা হচ্ছে নাকি?
তখনই, জান্নাত বলেঃ কবুল।
সবাই বলে উঠেঃ আলহামদুলিল্লাহ।
হুজুর বলেঃ আবার বলেন মা,আলহামদুলিল্লাহ কবুল?
জান্নাত পরপর আরও ২ বার আলহামদুলিল্লাহ কবুল বলে। মুগ্ধ তো এক মিনিট সময় ও নষ্ট করে নি।হজুর বলার পর পরই আলহামদুলিল্লাহ কবুল বলে দেয়।
সবাই কে খেজুর খাওয়ানো হলো। তারপর সবাই কে মিষ্টি মুখ করানো হলো।
মুগ্ধের মা বলেঃ তাহলে সবার সাথে রাতে দেখা হবে। আমরা আসি।
সবাই চলে গেল। জান্নাত প্রচুর কান্না করছে। রিনি বলেঃ এতো কান্না করছেন কেনো?
আপনি যে হারে কান্না করছেন।রাতে তো বিয়ের সাজে আপনার কান্নার জলে সমুদ্র হয়ে যাবে।আর আমরা সবাই এতে হাবুডুবু খাবু।
জান্নাত এবার ফিফ করে হেসে দেয়। রহমান বলেঃ জান্নাত আমি মনে করেছি, তুমি এই বুঝি বলবে।আমার পক্ষে এই বিয়ে করা সম্ভব না। আমি এই বিয়ে তে রাজি না।হা হা।
সুমি বলেঃবাহ রে আমি জানতাম এমন কিছু হবে না। জান্নাত একটু সময় নিচ্ছিলো আরকি।বিয়ে তো ৩,৪ দিনের বাঁধন না সারাজীবন এর তাই শেষ মূহুর্তে এসে ও একটু চিন্তা করছিলো।
জান্নাত বলেঃ সুমি তোই বুঝতে পারলি।হুহ।
শাম্মি বলেঃ হয়েছে। এই বিষয় বন্ধ করো।সবাই মিলে রাতের জন্য রেডি হয়ে যাই। আগে জান্নাত কে রেডি করি।তারপর এক জন এক জন করে সবাই।
রিনি বলেঃ ঠিক বলেছো।
শাম্মি, সুমি,রিনি নিজ হাতে সাজিয়ে দিচ্ছে জান্নাত কে। জান্নাত এর প্রিয় রঙের মধ্যে একটা হলো লাল রঙ।সবাই বলে, এই রঙে নাকি জান্নাত কে বেশ লাগে।
তবে,যার সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিলো,সে আকাশি রঙের লেহেঙ্গা কিনে ছিলো।কিন্তু, মুগ্ধ ভালো ভাবে জানে জান্নাত এর পছন্দ। তাই ইমার্জেন্সি অর্ডার দিয়েছে।লাল রঙের লেহেঙ্গা। তাছাড়া, ওই ছেলের পক্ষ থেকে যা দিয়েছে সব কিছু মুগ্ধ নিজে নিয়ে গিয়ে গরিবদের দিয়ে দিয়েছে। জান্নাত এতে বাঁধা দেয় নি। জান্নাত ও চাই না সেই ছেলের স্মৃতি রাখতে।
জান্নাত কে লাল রঙের লেহেঙ্গা পড়ানো হয়েছে।
জান্নাত এর শাশুড়ী অনেক গুলো গহনা দিয়ে গেছে। ওনার আদেশ সব কিছু যেনো জান্নাত পড়ে। জান্নাত এর গলা, হাত,কপালে টিকলি। একদম জান্নাত এর গায়ে গহনা দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে। জান্নাত একদম রেডি।
আস্তে আস্তে বাকিরা রেডি হয়ে গেছে।
জান্নাত এর মা রুমে প্রবেশ করে। জান্নাত এর মা বলেঃ মাশাল্লাহ আমার মেয়ে কে একদম রাজকন্যার মতো লাগছে। নজর যেনো না লাগে।
জান্নাত একটা হাসি দেয়। মাকে জড়িয়ে ধরে। জান্নাত এর চিৎকার করে কান্না আসতে চাইছে তাও সামলে নিলো।জান্নাত এর মা জান্নাত এর কপালে একটা চুমু দেয়।
জান্নাত এর বাবা রুমে আসে। জান্নাত এর বাবা বলেঃ আমার রাজকুমারী তাহলে, স্বপ্নের রাজকুমার এর সাথে চলে যাবে?
জান্নাত বলেঃ না যাবো না।তোমার কাছে রেখে দাও।
জান্নাত এর বাবা বলেঃ পাগলি মেয়ে আমার। আমি নিজ হাতে, রাজকুমার এর হাতে তোলে দিবো।
জান্নাত, বাবার গালে একটা চুমু দেয়। জান্নাত এর বাবা, জান্নাত এর মাথা তে হাত বুলিয়ে দেয়।
রাতে সব মেহমান চলে এসেছে। মুগ্ধ ও জান্নাত এর অনেক গুলো ছবি তোলা হয়েছে। তাদের কিছু কাপাল পিক ও তোলা হয়েছে।
এখন জান্নাত এর বিদায় এর বেলা।জান্নাত এর হাত ধরে গাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। জান্নাত তার বড় ভাইয়ের গলা জড়িয়ে কান্না করছে। কিন্তু তার ভাই চোখ জোড়া লাল করে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার প্রিয় বোন কে গাড়ি তে উঠিয়ে দেয়। জান্নাত এর মা কান্না করছে।
জান্নাত ও কান্না করছে। সুমি ও চোখ, মুখ লাল করে ফেলেছে। শাম্মি, রিনি দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে। কিছু সময়ের মধ্যে হাসি খুশি যেনো হারিয়ে গেছে।
জান্নাত বসে আছে মুগ্ধের পাশে। মুগ্ধ গাড়ি চালাচ্ছে। বাকিরা পিছনের গাড়ি তে আছে।
মুগ্ধ বলেঃ তা মহারানী এই ভাবে কান্না করছেন কেন?
আমি কি আপনাকে খেয়ে ফেলবো নাকি?
তোমার সাথে কিছু হিসাব মেটানো বাকী আছে।
জান্নাত অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মুগ্ধের দিকে। জান্নাত বলেঃ কি করলাম?
মুগ্ধ বলেঃ আগে কান্না বন্ধ করো?
এতো কান্না করতে হবে নাকি?
তোমার মেকাপ সব চোখের জল এ ভেসে যাচ্ছে। বাসর ঘরে একটু মন ভরে তো দেখতে পার বো না।
জান্নাত হাসি দেয়। জান্নাত বলেঃ এবার বলেন।
মুগ্ধ বলেঃ কবুল বলতে দেরি করেছিলে কেনো?
জানো কত টা ভয় পেয়ে গেছিলাম।মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করছি।হুহ।
কথা বলতে বলতে মুগ্ধ ও জান্নাত বাসায় পৌঁছে যায়। বাসার সবাই পিছনে রয়ে গেছে। মুগ্ধ, জান্নাত কে কোলে তুলে নেই। আস্তে আস্তে এগিয়ে নিয়ে গেল তাদের রুমের দিকে। জান্নাত দেখতে পেল, রুম জোড়ে গোলাপ ফুল এ ভর্তি। টেবিলের কোণায় রাখা আছে, রজনীগন্ধা ও শিউলি ফুল। মুগ্ধ ফুলের পাপড়ি ফ্লোরে ও বিছিয়ে দিয়েছে।
জান্নাত কে আস্তে করে বিছানা তে বসিয়ে দেয়। ততক্ষণে বাসার সবাই চলে এসেছে। সবাই জান্নাত কে মেতে উঠেছে। দীর্ঘ কয়েক ঘন্টার দখল শেষ করে রাত ১ টার সময় জান্নাত ফ্রী হলো।
জান্নাত বসে আছে বিছানার ঠিক মাঝখানে। লম্বা করে ঘুমটা দিয়ে। দরজা তে কারো আগমন এর শব্দ শুনা যাচ্ছে। জান্নাত এর বুকের মধ্যে ধুকধুক শুরু হয়ে গেছে।
মুগ্ধ এসেছে রুমে। মুগ্ধ বলেঃ জান্নাত,
এটা বলতেই, জান্নাত বিছানা থেকে নেমে সালাম করে। তারপর,
মুগ্ধ বলেঃ ওজু করে নাও।নামাজ পড়তে হবে।
জান্নাত ওজু করে নেই।
দুজনেই নামাজ পড়ে নেই।
মুগ্ধ বলেঃ জান্নাত, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ অবশেষে নিজের করে পেলাম তোমাকে।
জান্নাত বলেঃ শুকরিয়া। আমি ও আলহামদুলিল্লাহ অনেক খুশি।
মুগ্ধ আস্তে করে দু-হাতে জান্নাত এর মুখ খানি স্পর্শ করে।
মুগ্ধ বলেঃ
" হারিয়ে যেতে চাই,
তোমার এই চোখের গভীরে,
হারিয়ে যেতে চাই
তোমার এই মায়াবি হাসির মাঝে।
হারিয়ে যেতে চাই,
তোমার হাতে হাত রেখে,
পাড়ি দিতে চাই,
কোন এক অজানা পথে।
[কবিতাঃ জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া]
জান্নাত বলেঃ আজ থেকে জান্নাত সম্পূর্ণ আপনার।হারিয়ে যেতে নেই কোন বাঁধা। আমি ও হারিয়ে যেতে চাই আপনার এই ভালোবাসার রাজ্যে।
মুগ্ধ আলতো করে একটা চুমু দেয়।
দুজনের জীবন এর নতুন এক সূচনা ঘটেছে। যে জীবন এ আছে শুধু ভালোবাসা। আছে একে অন্যের প্রতি সম্মান,আছে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস।
অন্য দিকে, রিনির মনে ও অনেক খুশি। তাদের সম্পর্ক ও পবিত্র নাম পাবে।রিনির আজ খুশী তে নাচ তে মন চাইছে। রিনি তাড়াতাড়ি ঐশী কে কল দেয়।
ঐশী বলেঃ মনে পড়ছে তাহলে?
রিনি বলেঃ কি বলিস?
তোরে তো সবসময় মনে পড়ে।
ঐশী বলেঃ মাহমুদ স্যার যে আশে পাশে ছিরো।তাই আমাকে ভুলে গেছস।জানি সব।
রিনি বলেঃ যাহ বেশি বলস।
ঐশী বলেঃ এবার বল,জান্নাত খালামনির বিয়ে কেমন কাটলো?
বিসিএস ক্যাডার দেখতে কেমন?
মুগ্ধ আঙ্কেল কি আসছিলো নাকি?
রিনি বলেঃ আরে তোরে তো বলিনি। বিয়ে হয়েছে মুগ্ধ আঙ্কেল এর সাথে। বেশ সানদার বিয়ে হয়েছে। ওফ।
ঐশী বলেঃ অনেক খুশি লাগছে।মেরি জান এবার বলো তোমার টা কখন?
রিনি বলেঃ খুব শীঘ্রই। গুড নিউজ পাবি।
এভাবে বেশ কিছুক্ষণ চলছে তাদের আলাপ।জান্নাত এর ঘর থেকে মেহমানরা বিদায় জানিয়ে চলে গেল। রিনি রা ও চলে গেল। যার ঘরে সে সে।
সকালের আলোতে ঘুম ভেঙ্গে গেলো জান্নাত এর। জান্নাত নিজেকে আবিষ্কার করে মুগ্ধের বুকে। জান্নাত একটা মিষ্টি হাসি দেয়।
জান্নাত একটু নড়াচড়া করার জন্য মুগ্ধের ঘুম ও ভেঙ্গে গেলো। মুগ্ধ সাথে জান্নাত এর কপালে একটা চুমু দেয়।
জান্নাত বলেঃ এটা কেনো?
মুগ্ধ বলেঃ কেউ একজন বলেছে,সকাল বেলা বউ কে চুমু দিলে সারাদিন ভালো ভাবে যায়।
জান্নাত বলেঃ ওমা।তাহলে, আমার দিন ও ভালো যায় মতো আমি ও একটা চুমু দিবো আমার বর কে।
দুজন ই খুব সুখী আছে।তাদের ভালোবাসার যেনো কোন কমতি নেই। জান্নাত এর বিয়ে হয়েছে ৩ দিন হলো।আর, জান্নাত বসে আছে মুগ্ধের জন্য। আজ তাদের বেড়াতে যাওয়ার কথা এক সাথে।
হঠাৎ নাকি,চেম্বারে ইমার্জেন্সি রোগী দেখতে হচ্ছে। তাই নাকি আসতে দেরি হচ্ছে । জান্নাত বসে বসে কি করবে চিন্তা করছে। এমন সময় রিনির কথা মনে পড়ে। তাই,
জান্নাত কল দেয় কামাল কে।তাছাড়া, আজ রিনির ব্যাপারে ও বলবে।তাদের সম্পর্কের পবিত্র একটা পরিণতি হলে বেশ ভালো হবে।
জান্নাত বলেঃ হ্যালো।
কামার বলেঃ কি রে?
কি খবর তোর?
বিয়ে করে ভুলে গেলি নাকি?
জান্নাত বলেঃ
চলবে....
[গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে বলেন প্লিজ ]
(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!