রাত যখন গভীর Season:02 Part :23

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :23
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :23
রাত যখন গভীর Season:02 Part :23


সুমি কিছু না বলে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।তখনই, আচমকা সুমি ও রহমান জিন একটা রুমে আবিষ্কার করে নিজে দের কে।দুজনের চোখ বন্ধ  করে  ছিল। 
রহমান জিন আকর্ষণ টা আর এখন অনুভব করছে না।সুমির কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেই রহমান।
রহমান (শয়তান জিন) চোখ জোড়া খুলে দেখে। সামনে তার বন্ধু প্রিন্স (ইনতিয়াজ)  বসে আছে। প্রিন্স এর চোখ লাল হয়ে আছে।রাগে ফুসফুস করছে ও জোরে জোরে  নিশ্বাস নিচ্ছে ।প্রিন্স এর রাগ হলে, জোরে জোরে নিশ্বাস নেই এটা রহমান জিন জানে।
অন্য দিকে, 
এমন সময় চোখ জোড়া খুলে সুমি  দেখে। তার সামনে তার সব আপন জন বসে আছে। সুমি তাড়াতাড়ি উঠে। 
সুমি ও শয়তান প্রিন্স এবং প্রিন্স ইনতিয়াজ এর  বৃত্ত থেকে বেরিয়ে অন্য বৃত্ত প্রবেশ করে। 
আর জান্নাত কে জড়িয়ে ধরে। 
রহমান তার বউকে ক্ষতি করতে পারবে না।কারণ  তাদের নিয়মে নেই। তাদের নিয়ম মোতাবেক কোন প্রকার ক্ষতিকর  জাদুর প্রয়োগ বউয়ের উপর না করা।যদিও  বউ মানুষ হোক বা জিন হোক।একথা না মানলে রহমানের রাজ্যে শাস্তি দেয়া হয়।
তবে,
সুমির বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই। 
তখনই, রহমান ও বের হতে চাইলো।কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে। 
প্রিন্স (ইনতিয়াজ)  এমন সব দোয়া পড়ে বৃত্ত বানিয়েছে।শয়তান প্রিন্স যাতে কিছু করতে না পারে।আর যাতে বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে না পারে।কারণ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতেই ক্ষতি করবে রহমান সবার।
সবার আগে, 
প্রিন্স বলেঃ বাহ রহমান! তুই ও যে কখনো আমার বন্ধু ছিলি ভাবতেই ঘৃণা হচ্ছে। কেন এমন করলি? আমার ভালবাসার মানুষ টা ও আমাকে খারাপ মনে করে। আমার প্রিয় বোন ও আমাকে শাস্তি দিতে পরোয়া করে নি!
যে বোন এর আপন জন ছিলাম আমি ।আমার বোন শাম্মি আমাকে ছাড়া এক মূহুর্ত ও কাটাতো না সে যে কতো কষ্টে তার দিন গুলো পার করেছে সে জানে আর আল্লাহ পাক জানে।বল রহমান তুই এমন কেন করচস? কেন তুই বলিস নি তুই শয়তান রাজ্যের প্রিন্স???? 
কেন বন্ধু নামের পবিত্র একটা সম্পর্কের অমর্যাদা করচস?
কেনো রহমান কেনো?কেনো নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলি???
রহমান চুপ হয়ে বসে আছে। কিছু বলছে না। রিনি নিরব হয়ে তাকিয়ে আছে। রহমান এবার তার পিছনে ফিরে দেখে। সাথে সাথে দেখে রিনি।।।।
রহমান এবার মুখ খোলে বলেঃ আরে রিনি???? 
তুমি কি ভালো আছো? আরেকটুর জন্য তোমাকে আমার করতে পারলাম না!!!
রিনি,
 " তুই ছাড়া হয়তো,
 কেউ বুঝতে পারবে না,
এই মনের আবদার, 
তাই তো ছুটে আসি রোজ,
আমি বার বার, 
তোর চোখের সেই মায়ার, 
আড়ালে চাই হারিয়ে যেতে।
দিবি কি একটু টাই!!!
এটা বলতেই,প্রিন্স শক্ত করে রহমান জিন কে ধরে। প্রিন্স বলেঃ তুর সাহস তো কম না,
তুরে কি জিজ্ঞেস করলাম তুই কি বলছিস? তুর এইসব পাও কথা শুনতে চাইনা।
সত্যি বল,কেন এসব ব্লেন্ডার করলি?কেন সুন্দর সম্পর্ক গুলো নষ্ট করে দিলি???
রহমান আবার চুপ হয়ে বসে আছে। এমন সময় রিনি মুখ খোলে বলেঃ আপনি কেনো এসব করছেন?
কেন বা আমার জীবন নষ্ট করলেন? কি দোষ ছিলো আমার???
 এসব বলে রিনি কান্না করছে। সবাই নিরব হয়ে আছে। কারণ তারা কথা বললে,সমস্যা সমাধান না হয়ে সমস্যা বাড়বে তাই।তারা চুপ থাকাটা শ্রেয় বলে মনে করছে।
তখনই,রহমান জিন বলে উঠেঃযদি জানতাম তোমার কষ্টের কারণ হব আমি।তোমার এক ফোটা অশ্রুর কারণ হব আমি।তবে সত্যি বলছি আমি কখনোই আসতাম না তোমার জীবনে।শুধু দূর থেকে ভালোবেসে যেতাম তোমায়।
রিনি বলেঃ তাহলে হঠাৎ করে এসে ঝড়ের গতিতে কেন আমার জীবন নষ্ট করলেন??? 
রহমান জিন বলেঃরিনি মনে রেখো,খুব যারে অবহেলিলে, সে তো মরে বাঁচিলে, তুমি বৃথা জল ফেলবে একদিন!!সেদিন যেনো তোমার দুচোখ জল না ফেলে। সেদিন শুধু দুহাত তুলে দোয়া করো,যতো পারো ততবার।অনেক ভালোবাসি রিনি তাই এমন করেছি।হয়ছে নে এবার উত্তর কি পাইছো?
রিনি বলেঃ মিথ্যা হলো রাতের অন্ধকারের মত,আর সত্যি হলো দিনের আলোর মতো।রাতের শেষে দিন আসবেই এটাই সত্যি। 
রহমান জিন তুমি যতো কথা ঘোরার চেষ্টা করো না কেন সত্যি, একদিন সবার সামনে আসবেই। আপনি কি বলবেন না কেনো এসব করেছেন?
রহমান চুপ হয়ে আছে। রহমান মনে মনে বলছে,রিনি, আসলে, নিরবতা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চিৎকার। যেটা বুঝতে পারার,ক্ষমতা সবার নেই। এবং তোমার ও নেই। সত্যি জানলে সবাই আমাকে আরও দূরে সরিয়ে দিবে।
রহমান এর নিরবতা সবার রাগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রিন্স বারবার নিজের রাগ কে কন্ট্রোল করছে।কারণ, কোন অঘটন ঘটলে সত্যি টা জানতে পারবে না তারা সবাই। 
রিনি এমন সময়, বলে উঠেঃরহমান জিন তুমি যদি সত্যি না বলো তাহলে নিজের হাত কেটে ফেলবো আমি!!! তারপর একদম কাহিনি শেষ হয়ে যাবে আমার।
আর আমার অভিশপ্ত এই জীবনের।
প্রিন্স (ইনতিয়াজ) বলেঃ রি..... রি নি....
প্লিজ এমন কিছু করো না।তাছাড়া তুমি কি বৃত্ত থেকে বেরিয়ে চুরি টা আনলে?
 যদি বৃত্তের  থেকে বের হয়ে থাকো তাহলে অনেক সমস্যা হবে। ইভেন সবাই রিস্কে পড়ে যাবে।
রিনি বলেঃ হা হা কি মনে করলে!  আমি এতো বোকা।এটা আমি এখানে আসার আগেই নিয়েছি।
আমি জানি বৃত্ত থেকে বেরিয়ে পড়লে মসিবত হবে। তাই,নাস্তা করার সময় নিজের শরীরে লুকিয়ে রেখে ছিলাম চুরিটা। আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি।আমি আর বাঁচতে চাইনা! এমন রহস্যময়ী জীবন আমাকে ভেতর থেকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। আমি ক্লান্ত। 
আরেকটা কথা, 
মানুষ যখন কষ্ট পাই তখন সেই মানুষ টা পরিবারের কাছে শান্তি খুঁজে।পরিবার কে কাছে না পেলে মানুষ টা তার প্রিয় মানুষের কাছে গিয়ে শান্তি খুঁজে। প্রিয় মানুষ, পরিবার, ফ্রেন্ড সার্কেল  কোথাও গিয়েই যখন মানুষ শান্তি খুঁজে পাই না সম্ভব তখনই সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া। কেউ কেউ আত্মহত্যার পথটাও বেচে নেয়।
আমার ক্ষেত্রে ও এমন হয়েছে। আমি শান্তি পাই নি,পাচ্ছি না।তাই এই সিদ্ধান্ত টা নিলাম।
রাবেয়া বলেঃ মা, ঠান্ডা হো।প্লিজ চুরি টা ফেলে দে।তুর কিছু হলে আমি মরে যাবো!!!
কামাল বলেঃ আমি ও বেচে থাকার ইচ্ছে হারিয়ে ফেলবো।যে জীবনে আমার সন্তান টা আমার চোখের সামনে স্বইচ্ছায় প্রাণ দিবে।আর তার সুখে আমার বউটা ও পরপারে পাড়ি দিবে।চাইনা এমন জীবন!!! আমিও এমন কিছু করে ফেলবো দেখিস।প্লিজ বোকামি করিস না রিনি।ওই রহমান প্লিজ সত্যি টা বলো!!!
রিনি বলেঃ বাবা,মা।
যখন পরিবারের  থেকে শান্তি খোঁজার জন্য উদ্বেগ নিলাম।তখন আমাকে কিডন্যাপ করে ফেলে আমার মা-বাবা ছাড়া অন্য কোন প্রিয় মানুষ ছিল না।তাছাড়া, কলেজে নতুন ছিলাম বলে, তেমন ভালো কোন বন্ধুরা ছিল না।আর যদি থাকতো তাও শান্তি খুজতে যেতে পারতাম না।কারণ, আমি তখনো রহমানের নিয়ন্ত্রণে ছিলাম।মানে আমাকে শান্তি খুঁজার সময় টা ও দেয় নি।রাত যখন গভীর তখনই, হঠাৎ করে উদাও করে ফেলে রহমান।।আমি শান্তি চাই।i Just need peace..... 
হঠাৎ, রহমান জিন একটা গর্জন দিয়ে উঠে। রহমান বলেঃ রিনি প্লিজ এমন কিছু করো না।আমি নিজেকে মাফ করতে পারবো না।রিনি।
রিনি বলেঃ তাহলে, কেন এমন করলেন বলেন? কেনো প্রিন্স ইনতিয়াজ ও প্রিন্স রহমান আমার জীবন টাকে শেষ করে দিলো কেনো????
উত্তর দাও তোমরা দুজনেই!!! 
রহমান জিন বলেঃ হঠাৎ একদিন প্রিন্স আমার কাছে আসে। প্রিন্স বলে,রহমান জানিস আমি না একটা মেয়ে কে দেখে মন দিয়ে বসেছি।মেয়ে টার কন্ঠো ও ঘায়েল করার মতো ছিল। মেয়ে টা অনেক মায়াবী। সাথে তার লম্বা চুল গুলো আরও সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। 
সেদিন আমি বলি,মেয়ে টা কোন  রাজ্যের?কোন জিনের মেয়ে? 
প্রিন্স বলেছিল,সেটা জিনের মেয়ে না।এটা হচ্ছে মানুষের মেয়ে। আর শুন কাল তুকে দেখাবো, স্কুল ফেরার পথে দাড়িয়ে থাকবো।তেতুল গাছের পাশে  আমরা দুজন। এই বলে প্রিন্স চলে গেল। 
আমি ভালো ভাবে বুঝতে পারছি  প্রিন্স মেয়ে টার বিষয়ে সব কিছু জেনে নিয়েছে।
তাই যথারীতি, 
পরদিন সকালে, দাড়িয়ে ছিলাম আমি ও প্রিন্স ইনতিয়াজ তেঁতুল গাছের পাশে। 
তবে,
মেয়ে টা আসে নি সেদিন।কিন্তু,  হঠাৎ করে একদিন, স্কুল ফেরার পথে মেয়ে টার মানে  রিনির দেখা মেলে। আমি ও প্রিন্স সাথে ছিলাম তখন।
সেদিন আমি প্রিন্স কে বলি,আবে শালা,মেয়ে টা সুন্দর নাই,আমাদের রাজ্যে আরও ভালো মেয়ে পাবি।আমার মেয়ে টাকে মানে রিনি কে দেখে পছন্দ হয়নি।
কারণ,সেদিন মেয়ে টার চুল ভর্তি তেল ছিল। তেল সব মুখে এসেছে।যার ফলে  মুখ টা একদম কালো হয়ে গেছে। তার সাথে অগোছালো ড্রেস। একদম কোন শ্রিছাড়া মনে হয় ছিল।
এর বেশ কিছু সময় পর, প্রিন্স আবার আমার কাছে আসে।প্রিন্স বলেঃ চল এক জায়গায় যাই।
আমি মানা করে ছিলাম।প্রিন্স এর বাড়াবাড়ির ফলে তার সাথে যায়। 
প্রিন্স আমাকে একটা ঘরের ছাদে নিয়ে আসে।
আমি লক্ষ্য করে দেখছিলাম। এমন সময় দেখি,একটা মেয়ে চুল গুলো খোলা রেখে। বসে আছে। চেহারা দেখা যাচ্ছে না। আমি উৎসাহ নিয়ে সামনে চেহারা দেখতে গেলাম।তখন আমি দেখি,,,,
চলবে......
((সরি অপেক্ষা করানোর জন্য। সারাদিন অনেক বিজি ছিলাম। তাই এখন সময় পাইছি লিখে ফেললাম।।।)) 
গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে জানাবেন???
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!