রাত যখন গভীর Season:02 Part :27

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :27
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :27
 রাত যখন গভীর Season:02 Part :27


সুমি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখতে পেল.
রহমান(শয়তান প্রিন্স জিন)  বসে আছে বিছানার উপর। 
সুমি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসতেই রহমানের চোখ জোড়া সুমির দিকে পড়ে। 
সুমি টিশার্ট টা টানছে।সুমির মাথা দিয়ে টপটপ পানি ঝরে পড়ছে। ঠোঁটের কোণে ও এখনো জল জমে আছে। 
রহমান বিছানা থেকে উঠে সুমির কাছে চলে আসে। 
রহমান বলেঃ আমার কাপড় কেনো পড়লে?
সুমি বলেঃ আআ..... আসলে। আমি কাপড় পাচ্ছিলাম না।তাই বাধ্য হয়ে পড়লাম।সরি রি.....রি
সুমির তুতিয়ে বলা কথা গুলোতে  রহমান বেশ মজা পাচ্ছে। তাছাড়া,সুমির মুখ খানা একদম ভয়ে চুপসে গেছে। 
রহমান সুমির এমন অবস্থা দেখে হেসে দেয় । 
সুমি বলেঃ হাসছেন কেন?
রহমান জিন বলেঃ বারে কি করবো?
তোমার এই ভয়ে চুপসে যাওয়া মুখ অন্য কেউ দেখলে ও হেসে দিতো।
সুমি বলেঃ ওই মিয়া এতো হাসানি কেন.?
আমাকে নিয়ে মজা লও মিস্টার রহমান।
আজ আপনাকে কি করি দেখেন। 
এটা বলে,সুমি ঝাপিয়ে পড়ে রহমান এর শরীরের উপর। রহমান ও ছেড়ে দেবার পাত্র নহে।
সুমির কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড়াতে থাকে।এক পর্যায়ে, রহমান কিছু একটার সাথে ধাক্কা খেয়ে বিছানার মধ্যে পড়ে যাচ্ছিলো।কিন্তু  সুমি রহমান থেকে খানিকটা দুরত্বে ছিলো।তাই রহমান তাল সামলাতে সুমির হাতটা ধরে ফেলে ছিলো। 
তবে,হাত ধরে উপকার হয়নি।কারণ, রহমানের গায়ের উপর পড়ে যায় সুমি।দুজনে তাল সামলাতে পারে নি।
সুমি এখন রহমানের একদম খুব কাছে।
সুমির নিশ্বাস ভারি হয়ে যাচ্ছে। রহমান এর সাথে সুমির একদম তেমন দূরত্ব নেই ।
দুটি ভেঙ্গে যাওয়া হৃদয় চাইলে অনায়াসে এক হয়ে যেতে পারে।তাছাড়া,দুটো ভাঙ্গা হৃদয় মিলে একটা হৃদয় ও হতে পারে।
হঠাৎ করে, 
সুমির টিশার্ট টা উঠে গেছে কোমরের দিকে।অবশ্য হঠাৎ না,সুমি নাড়াচাড়া করার ফলাফল এটা। যার ফলে সুমির উরুর থেকে পা অবধি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। 
সুমি বারবার টিশার্ট টা টানছে নিচের দিকে।  কিন্তু কাজ হচ্ছে না।
রহমান আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে সুমি কে।
 রহমান আজ মেয়ে টাকে ভালোভাবে দেখছে।
সুমির চুলের পানি এসে পড়েছে রহমানের মুখে। রহমান যেনো কোন এক ঘোরে চলে যাচ্ছে।হারিয়ে যাচ্ছে কোন এক অজানা সুখের  রাজ্যে। 
এমন সময়, দরজা তে.....
💮
💮
জান্নাত দাঁড়িয়ে আছে বারান্দায়। লাবু এসে একটা চা দিয়ে গেছে।কালকে সবাই চলে যাবে। 
জান্নাত এর মনের কালবৈশাখী ঝড় টা এখনো থেমে যায় নি।
জান্নাত আপন মনে বলেঃ বিশ্বাস ঘাতক দের কোন মাফ নেই।
কেনো লুকিয়েছে সে জে জিন পরী?
সত্যি তো চাপা থাকে না।বেরিয়ে আসে।সে কি জানতো না!
হঠাৎ করে কেউ একজন টান দেয় জান্নাত এর হাতটা ধরে। জান্নাত লক্ষ্য করে দেখে এটা মুগ্ধ। 
জান্নাত বলেঃ আপনার কি লাজলজ্জা কিছু নেই? 
আপনি এতো বেহায়া কেন?
এতো বড় মিথ্যা বলার পর আপনার মন এখানে আসার জন্য সাই দিলো কেমনে?
ওহু আপনি + আপনার মন দুজন ই বেহায়া। 
মুগ্ধ বলেঃ 
মন কে তো অনেক শাসন করি,মনটা যে শুনে না বারণ।সে চাই তার ভালোবাসা, ছাড়তে পারে না তোমাকে পাওয়ার আশা। 
জান্নাত বলেঃ এসব বেহায়া কথা আপনি কেমনে বলতে পারেন?
এতোদিন বিশ্বাস ঘাতক করার পর!!!! 
মুগ্ধ বলেঃ জান্নাত, আসলে, 
আমি বলি না নিজের মুখে, আমায় বলায় মনের মুখ।
জান্নাত বলেঃ যত্তসব। চললাম। ফারদার আমার সামনে আসবেন না।
মুগ্ধ বলেঃ ভালোবাসি জান্নাত। একটা মিথ্যা কি মাফ করে দেয় যায় না???  
আমার হৃদয়ে শুধু তুমি আছো। ভালবাসি অনেক জান্নাত। 
জান্নাত বলেঃনাহ যায় না। তাছাড়া এসব লাভ টাভ আমি মানি না।এতো লাভ এর কথা আসে কেমনে??? 
মুগ্ধ বলেঃ 
It's my love.who came from my heart and i know my heart.
জান্নাত বলেঃ whatever. I don’t Trust u.
মুগ্ধ বলেঃ জান্নাত, 
may be you aren’t serious about my love.that's why you Don't Trust me.
জান্নাত বলেঃ সিরিয়াস হবো কেন?
মিথ্যােক একটা।
আমি জাস্ট ঘৃণা করি।মিথ্যা বাদিদের।
মুগ্ধ বলেঃ 
আমি না তোমাকে জোর করতে পারিনা।কারণ ভয় মনে, অনেক যে ভালোবাসি তোমাকে।তার জন্য দুটি লাইন লিখতে গেলে খাতা ফুরিয়ে যাবে। তোমাকে আমি ভোরের সূর্যের আলোতে দেখি।তাকে আমি খোলা আকাশে মেঘের ঢেউয়ে দেখি।তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি। 
জান্নাত বলেঃ ভালো থাকবেন।আশা করি আমাদের আর দেখা হবে না ইনশাআল্লাহ। কালকেই চলে যাবো।এখন আমি বাসার ভিতরে যায়। 
জান্নাত বাসায় বারান্দায় গিয়ে। একটু পিছনে ফিরে বাসায় ঢুকে যায়। 
মুগ্ধ  নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে আছে জান্নাত এর চলে যাওয়া।
💮
💮
অনুষ্ঠানে প্রবেশ করে দুজনেই। কিন্তু অনুষ্ঠানে প্রবেশ  করতেই, রিনির কেমন যেনো একটা অনুভূতি হচ্ছে। 
হঠাৎ করে একটা গান শুরু হয়েছে,রিনির বড্ড মনে বাধছে গানটা,
chal, chal ve tu bandeya,
Uss galiya
Jahaan koi kisi ko na
Jaane
Kya rehna wahaan par
Sun bandeya,
Jahaan apne hi na
Pehchaane,,,,
গান শেষ হতেই, রিনির বারবার মনে হচ্ছে আশেপাশে খুব কাছের মানুষ আছে। আনচান ভাবটা কাটাতে চাই রিনি।তাই,
এমন সময়, রিনি ডাক দেই ঐশী কে।
রিনি বলেঃ ঐশী..... 
ঐশী বলেঃ হুম বল।
রিনি বলেঃ আচ্ছা, কেউ কারো প্রতি অব্যস্ত হয়ে গেলে তাকে কি অনুভব করে সবসময়? 
ঐশী বলেঃ no way.এটা তো অব্যস্ত না।এটা ভালোবাসা।একমাত্র ভালোবাসার মানুষ টা কে অনুভব করা যায়।  আর ভালোবাসা তে অব্যস্ত বলতে কোন শব্দ নেই রিনি।তোই কেন জিজ্ঞেস করছিস?
রিনি বলেঃ আরে এমনি।
ঐশী আবার বলেঃ আর হে।ভালোবাসে ফেলার পর যদি প্রিয় মানুষ টাকে কাছে না পাওয়া যায় ।তখন মনে হবে,রঙিন জীবন টা সাদা ও কাল হয়ে গেছে। 
রিনির কিচ্ছু ভালো লাগছে না কান্না আসতে চাইছে। কিন্তু কেনো এমন হচ্ছে? 
ঐশী বলেঃ কিরে কি হলো?কি সমস্যা বল আমাকে?
চোখে অশ্রু দেখতে পাচ্ছি মনে হচ্ছে! 
রিনি বলেঃ কই এমন কিছু না।
ঐশী বলেঃআসলেই,
আমরা খুব দুঃখ পুষে রাখি।হঠাৎ এক একদিন আমাদের কত পুরানো কথা মনে পড়ে যায়। আর বুকের ভিতর আচমকা একটা ধাক্কা লাগে। যার ফলে চোখে অশ্রু এসে পড়ে। 
রিনি বলেঃ হুম। আচ্ছা শোন ঐশী আমি একটু ওয়াশরুমের মধ্যে যাচ্ছি। 
ঐশী বলেঃ আচ্ছা যা।তাড়াতাড়ি আসিস।বর, বউ এসে পড়েছে। তাদের বেশ মানিয়েছে।তাড়াতাড়ি আসবি কিন্তু ছবি তুলবো।
রিনি বলেঃ হুম। 
রিনি ওয়াশরুমে চলে গেল। আর ওয়াশরুমে
গিয়ে ইচ্ছে সুখে কান্না করে। রিনি নিজে ও বুঝতে পারছে না।কেনো কষ্ট হচ্ছে? 
কেনো বারবার অনুভব করছে? 
কি চাই এমন?কেনো যে মনের মাঝে মেঘের সৃষ্টি হয়েছে? কিচ্ছু বুঝতে পারছে না রিনি।।।
কান্না করার পর মনটা একটু ভালো হয়ে যাই। রিনির ও ভালো লাগছে। ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। 
ওয়াশরুম থেকে সামনে যেতেই লেহেঙ্গা টা কিছু একটার সাথে আটকে যায়। রিনি খেয়াল করে নি।
যার ফলে সামনে এগিয়ে যেতেই টাস করে পড়ে যায়। 
অবশ্য রিনি মনে করছে, সে পড়ে গেল । কিন্তু সে চোখ জোড়া খুলে দেখে সে পড়ে যায় নি।
তাকে কেউ একজন ধরেছে। 
লোকটার হাত রিনির কোমরে। লোকটা রিনি কে দাড়াতে সাহায্য করে। 
রিনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। রিনি অপলক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে একটা লোকের দিকে।যে রিনি কে পড়ে যাওয়া থেকে বাচিয়েছে।
লোক টা অবিকল প্রিন্স (ইনতিয়াজ) এর মতো. 
রিনি লোকটা কে ভালো ভাবে দেখতে লাগলো। 
অতঃপর, 
রিনি বলেঃ আপনি ইনতিয়াজ না?
এখানে কি করেছে?
লোকটা বলেঃ কি?
ইনতিয়াজ কে? 
আমি কোন ইনতিয়াজ না।
আমি হলাম মাহমুদ। 
রিনি বলেঃ কিন্তু আমার যে মনে হচ্ছে আপনি ইনতিয়াজ এবং এটা উপলব্ধি হচ্ছে। 
লোকটা বলেঃ
কোন বিষয় ভালো ভাবে বুঝার জন্য বা উপলব্ধি করার জন্য অভিজ্ঞতা বড্ড প্রয়োজন। 
তোমার কোন প্রমাণ আছে যে আমি ইনতিয়াজ অর হোপ সো,আমি কে সে বিষয়ে তোমার অভিজ্ঞতা নেই।মিস কি নাম আপনার? 
পিচ্চি মেয়ে উপলব্ধি ও করে হা হা...
রিনি বলেঃ রিনি।
লোকটা বলেঃ হ্যাঁ মিস রিনি।আপনাকে পড়ে যাওয়া থেকে বাচিয়ে দিলাম ধন্যবাদ ও দিলেন না।any way.
এমন সময় ঐশী আসে সেখানে। ঐশী বলেঃ মাহমুদ স্যার আপনি? 
আপু অনেক্ক্ষণ ধরে বলছে স্যার কেন আসছে না?
আপনি দেখা করে নেন,
লোকটা চলে গেল। ঐশী বলেঃ আবে রিনি কি পেঁচাল বাধালি বল এবার। কি কি বলছিস মাহমুদ স্যার কে?তোই তো আর জানিস না উনি কত বড় মাপের একজন লোক।
রিনি বলেঃ কত বড় মাপের একজন লোক তা জানার দরকার নেই। আগে বল,
ওনার নাম মনে হচ্ছে মাহমুদ না।ইনতিয়াজ মনে হয়? 
রিনি খুব ভালো ভাবে দেখলো লোকটা কে। অবিকল প্রিন্স এর মতো। প্রিন্স সাদা চশমা পরতো না লোকটা পড়ে। 
প্রিন্স শার্ট ইঙ্ক  দিয়ে পড়তো না।
লোকটা পড়ে। 
কিন্তু লোকটা স্টাইলিস আছে তবে,attitude দেখায়।প্রিন্স তো এমন না।
প্রিন্স তো রিনি বলতে পাগল।রিনিকে দেখলে দেখে থাকে।কিন্তু এইলোক তো পাত্তা দিলো না।তাহলে কি দুজন আলাদা?? 
ঐশী বলেঃ আবে কই হারালি?
ওনার নাম মাহমুদ। আর হা।
মাহমুদ স্যার যে কে তুর কোন আইডিয়া আছে।শুন ওনার পরিচয়। 
ঐশী আবার বলতে শুরু করেঃ
চলবে..... 
কে এই লোক? 
অবিকল প্রিন্স এর মতো কেন মাহমুদ??? 
আইডিয়া থাকলে এই নিয়ে কমেন্ট করে বলেন??? 
তাছাড়া,
গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে জানাবেন???
(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!