রাত যখন গভীর Season:02 Part :04

 #রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :04
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :04
রাত যখন গভীর Season:02 Part :04

হাজার প্রশ্নের মাঝে কোন উত্তর নেই। পরদিন সকালে,
অর্ক সবাই কে কল দেয়। 
অর্ক বলেঃ দুস্ত তোমাদের সবাই কে নিজের  বাসায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য আসতে হবে। রিনি কে ফিরে পাওয়ার পর সবাই যার যার বাসস্থানে ফিরে যেতে পারবে।
সবাই সম্মতি জানালো।তবে সবাই জানালো বিকালের দিকে সবাই পৌঁছে যাবে। 
অর্ক সকাল ৯ টার দিকে লেপটপ নিয়ে কাজ করছিল। কানে  ইয়ারফুন দিয়ে গান চলছে। অর্ক কাজ করতে বসার আগেই লাবুকে মাছ ভাজা রান্না করতে বলে।অর্কের প্রিয় খাবারের তালিকায় মাছ ভাজা একদম প্রথমে।
লাবু আপন মনে কাজ করছে।তবে তার একটু পর মনে হচ্ছে, সে ছাড়া অন্য একজন রুমে আছে। লাবু একটা মুচকি হাসি দেয়।লাবু জানে এটা আর কেউ না অর্ক। একটু পর, 
লাবু বলেঃ অর্ক ফ্রিজ খুলে মাছ গুলো বের করে দাও।
ফ্রিজ খুলার শব্দ পেল লাবু।লাবু কাজ করছিল তাই মাছগুলো পেছন দিক থেকে হাত দিয়ে এগিয়ে দেয় কেউ একজন । কিন্তু লাবুর চোখ কপালে উঠে গেল। যখন দেখে, যে মাছ দিল তার হাতে অস্বাভাবিক লোমশ। 
লাবু মনে হচ্ছে, এটা তার অর্ক নই।অন্য কেই।কারণ তার অর্কের হাতে কোন লোম নেই।
 তাহলে এটা কে?
এতক্ষণ ধরে কি করছে পিছনে দাঁড়িয়ে ?
দরজা তো বন্ধ করা ছিল কেমনে প্রবেশ করেছে?? 
লাবু সাহস করে পিছনে ফিরে তাকাই। যা দেখে তার জন্য একদম প্রস্তুত ছিল না। এটা অর্ক।কিন্তু অর্ক তো দেখতে এই রকম উদ্ভব নই।বড্ড অদ্ভুত দেখতে লাগছে অর্ক কে।একটু আগে ও তো লাবু তার অর্ক কে দেখেছে। ঠিকই ছিল ।লাবু হাত দিয়ে স্পর্শ করে দেখে অর্ক রুপি মানুষ টাকে।। সাথে সাথে সেই প্যারানরমাল জিনিস টা একটা ভয়ংকর রুপ ধারণ করে। সারা দেহে লোপ, চোখ জোড়া লাল, নক গুলো লম্বা লম্বা, ভয়ংকর শরীর কাঁপুনি দিয়ে একটা হাসি।লাবুর তো ভয়ে শরীর দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত প্রবাহিত হয়েছে। 
একটু পর, সেই প্যারানরমাল জিনিস টা লাবুর কাছে চলে আসছে।লাবু ভয়ে একটা চিৎকার দেয় অর্ক।অর্ক প্লিজ হেল্প মি।এই কথা বলে, লাবু সেন্স লেস হয়ে পড়ে যায়। লাবুর চিৎকার অর্কের কান অবধি পৌঁছাতে পারে নি। অর্কের কানে ইয়ারফুন ছিল।যেখানে হাই সাউন্ড দিয়ে গান চলছে। তবে, লাবুর চিৎকার শুনতে পেল, রাহাত হুজুর এর মা।
রাহাত হুজুর এর মা।তাড়াতাড়ি করে লাবুর বাসার দরজার সামনে আসে। কিন্তু দরজা বন্ধ। অর্ক কে অনেক ডাক দেই। কিন্তু কোন সাড়া দিচ্ছে না অর্ক।
অতঃপর, 
রাহাত হুজুর এর মা লক্ষ্য করে। জানালা খুলা।তিনি আর দ্বিতীয় বার চিন্তা না করে।জানালা টা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। তিনি লাবু কে খুজতে লাগলেন। অবশেষে লাবু কে পেলেন রান্না ঘরে।ওনি লাবুর কাছে গিয়ে যা দেখেন!!!!তা দেখে একদম শিহরিত!!! 
লাবুর পুরো শরীর বাঁকা হয়ে গেছে। মুখ থেকে সাদা সাদা থুথু বের হচ্ছে। চোখ জোড়া বড় বড় করে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। শরীরের কাপড় কিছু টা ছিড়ে গেছে। 
কি হতে চলছে? 
সুমি ও জান্নাত  ভয়ে চোখ বন্ধ করে আছে। একটু পর সকাল হবে,সকাল হলেই তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে  বেরিয়ে যাবে।বেরিয়ে গিয়ে ফুচকা খেয়ে নিবে।জান্নাত  ও সুমি টেনশন হোক বা ভয় পেলে ফুচকা খেলে একটু শান্তি অনুভব করে।ফুচকা খেয়ে বিকাল হতেই বেরিয়ে যাবে  সোজা অর্কের বাড়ির  উদ্দেশ্যে।
সুমি ও জান্নাত   একটু আগে  যা দেখেলো।তা দেখে  রীতিমতো ভয়ে চুপসে যায়।যার ফলস্বরূপ সকাল হওয়া অবধি চোখ বন্ধ করে আছে। 
 আসলে,গতকালকে কামালের কথা, ওর সুরক্ষিত থাকার কথা চিন্তা করে। জান্নাত  ও সুমি, কামালের বউ রাবেয়া কে তাদের সাথে রেখে দেয়। রাবেয়া ও দ্বিমত করেনি।কামাল বাসায় ফিরে যাই।রাতে ৩ জনে রাতের খাবার খেয়ে নেই। তবে রাবেয়া এখন অনেকটা স্বাভাবিক আচরণ করছে।৩ জনে ঘুমিয়ে পড়লো। 
মাঝ রাতে, আনুমানিক রাত ১ টার দিকে। জান্নাতের মোবাইলের শব্দে সুমির ঘুম ভেঙ্গে গেলো। সুমি দেখে জান্নাত বেমালুম  ঘুমাচ্ছে।সুমি জান্নাত এর মোবাইল নিয়ে দেখে, মুগ্ধের  শখানেক কল ও টেক্সট দিয়ে মোবাইল একদম শেষ করে দিচ্ছে। 
লাস্ট কয়েক  একটা টেক্সট সুমি পড়ে দেখে, সেখানে লিখা ছিল, 
,,,আশা ছিল মনে মনে 
,,প্রেম করিব তোমার সনে
,,তোমায় নিয়ে ঘর বান্ধিব 
,,,গহিন বালুর চরে গো
,,গহিন বালুর চরে,,,😍😍😍
আরেকটা ছিল,
কেউ চেয়ে পাই না,আর যেটা পেয়ে হারায়,সেটা অবহেলা করে।একদিন সব ছেড়ে চলে যাবো,কারোর বিরক্তির কারণ হবো না😥
পরের আরেক টা টেক্সট, 
চিরচোনা তুমি অমৃত 
,,ভালোবাসা। 
অজান্তে ভাংচো কারো আশা।
,,তার কাছে তুমি সব,
মনে রেখো সব দেখচে রব😣😣
(কবিতা লেখক:কাইছার উদ্দিন বিজয়।)
সুমি উত্তর দেয় ঃ মুগ্ধ ভাইয়া, আপনি যাকে টেক্সট করে যাচ্ছেন সে বেমালুম ঘুমাচ্ছে। আচ্ছা, আপনার কষ্ট হয়না?গত ১ বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছেন? 
মুগ্ধ বলেঃ সুমি,আসলে কথা হচ্ছে। 
অভ্যেস হয়ে গেলে ব্যথাকে ব্যথা মনে বলে মনে হয়না।(সমরেশ মজুমদার)।
মানুষ নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পছন্দ করে,সে চায় তাঁকে খুঁজে বের করুক। বিশ্বাস কর,একদিন ঠিকই ওর মন মন্দিরে আমার ঘর হবে। আরেকটা কথা আছে না,
always say yes,i have a failure. I have many failure in my life but one day i will a big success in my life. And that day i will win my jannat Heart 😇
জান্নাত এর প্রতিটি স্পন্দন আমার নাম প্রতিফলিত হবে।জীবনে আশা হারানো আমি শিখি নি।চেষ্টা করে যাবো।সেই মায়াবতীর মনে একটু স্থান করে নেওয়ার। 
সুমি বলেঃ আচ্ছা ভাইয়া।গুড নাইট পরে কথা হবে।
সুমি কল কেটে দেয়। সুমি কিছু একটার কটমট শব্দ শুনতে পাচ্ছে। এমন সময় জান্নাত এর ও ঘুম ভেঙ্গে গেলো। তারা দুজন শব্দ টা শুনতে পেল।
জান্নাত  বলেঃ এই রাবেয়া ভাবি কই?পাশে নেই কেন?
সুমি বেকুব হয়ে গেল। আসলেই এতক্ষণ সে খেয়াল করেনি।
তারা দুজন রাবেয়া কে পুরো ঘরে খুঁজে,কিন্তু কোথাও   পেল না।
আবার রুমে প্রবেশ করে দুজনে।তবে কটমট  শব্দ টা এখন ও হচ্ছে। দুজনে এতক্ষণে 
বুঝতে পারে শব্দেটা তাদের বিছানার নিচের থেকে আসছে। 
দুজনে এতক্ষণ লক্ষ্য করেনি।একটা রক্তের স্রোত বেরিয়ে আসে বিছানার নিচের থেকে। 
দুজনে বিছানার নিচে উঁকি দেয়।তারা দেখে, .... 
সুমি ও জান্নাত  কি দেখছে?
আচ্ছা কিসর রক্ত বিছানার নিচে?? 
শব্দ টা কিসের? 
রেশমির অবস্থা অনেকটা ভালো হয়েছে।তবে রেশমি এখন ও সে রাহাত রুপি মানুষ টাকে স্বপ্নের মধ্যে দেখে।রাতে ঘুমের মধ্যে বারবার জেগে ওঠে।খুব ভয়ংকর স্বপ্ন আসে রেশমীর। তবে রাহাত হুজুর তার বউ কে যথেষ্ট যত্ন করছে।রেশমী তার স্বামীর যত্ন পেয়ে একদম বাধ্য শিশুর মতো। রাহাত হুজুর যেমন বলছে তেমনই করছে।আজ কাল রাহাত হুজুর তার বউয়ের সাথে প্রতিযোগিতা করে। 
**স্ত্রীর সাথে খেলার প্রতিযোগিতা করা সুন্নাত। রাসুল (সাঃ) এবং আয়েশা (রাঃ) রাত্রিতে সবাই ঘুমোলে দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন( ইবনে মাজাহঃ১৯৭৯,আবু দাঊদঃ২৫৭৮)
স্বামীদের উচিত বউ কে শুধু শোবার সঙ্গী মনে না করে।সুখে,দুঃখের মধ্যে এক সাথে এক হয়ে থাকা।
👑
হাবিব আজ ১ মাস ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে রিনির সন্ধানের জন্য। অবশেষে,আজ স্ফটিকে দেখে, রিনির একটা ভিউ ফুটে উঠেছে। রিনি  ঘুমাচ্ছে। 
হাবিব বলেঃ মেয়েটার মুখ একদম মলিন হয়ে গেছে। 
হাবিব আরো তথ্য বের করতে চেষ্টা করছে। কিন্তু আর পাচ্ছে না।তবে এটা জেনে খুশি রিনি যে বেঁচে আছে। 
হাবিব  খুশিতে  ডগমগ হয়ে অন্য রুমে গিয়ে একটা চিপস নিয়ে নিজের রুমে প্রবেশ করে। কিন্তু রুমে প্রবেশ করে তার চোখ জোড়া গেল আয়নার দিকে। আয়নার মধ্যে দেখে,একটা মেয়ে মুখ দেখতে পারেনি।অবশ্য মুখ দেখা যাচ্ছে না। মেয়ে টা হাবিবের বিছানার মধ্যে বসে আছে। হাবিব তার বিছানার মধ্যে দেখে কেউ নেই। কিন্তু আয়নার মধ্যে স্পষ্ট দেখতে পেল এখন ও পাচ্ছে একটা মেয়ে। 
তবে বাস্তবে দেখতে পাচ্ছে না। 
ব্যাপার টা কি বুঝার জন্য হাবিব আয়নার খুব  কাছে চলে আসে। 
অতঃপর, হাবিব আয়নার সামনে দাড়িয়ে খেয়াল করছে।কিন্তু, একটু পর এক মেয়ে টার মুখ ডেকে দেয় চুল গুলো দিয়ে। মুখ দেখা যাচ্ছে না। আয়নায় একদম হাবিবের সামনে চলে আসে সে মেয়ে টি।মেয়ে টার হাত দিয়ে হাবিব কে আয়নার মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলতে চাইছ।
হাবিব কে রীতিমতো আয়নার ভিতরে টেনেই যাচ্ছে। 
কিন্তু সেই আয়নার মধ্যে থাকা প্যারানরমাল জিনিস টার চেষ্টা সফল হয়নি।
কারণ হাবিবের ওমন গুঙিয়ে গুঙিয়ে শব্দ করাটা তার মা শুনতে পেল। সাথে সাথে রুমে প্রবেশ করে হাবিবের মা।তিনি 
দেখেন,তার  ছেলে আয়নার সাথে লেগে যাচ্ছে।লেগে যাচ্ছে বললে ভুল হবে। আয়নার ভিতরে ঢুকে যাচ্ছে। 
হাবিবের মা আর দেরি না করে। বিভিন্ন ধরনের দোয়া পড়ে বোতলে থাকা পানিতে ফুঁ দেয়। 
অতঃপর, 
পানি গুলো হাবিবের উপর ছিটিয়ে দেয়। সাথে সাথে ধপাস করে বসে পড়ে হাবিব!!!!!!
হাবিব বলেঃ মা, কে সে?
হাবিবের মা বলেঃ বাবা তা আমি জানি না তবে মনে হচ্ছে খুব শক্তি শালী। 
হাবিবের মা হাবিব কে তার রুমে নিয়ে গেল। হাবিব চোখ বন্ধ করে আছে। সে বিকাল হতে বেরিয়ে যাবে  অর্কের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
🔯
অনেক দিন ধরে প্রিন্সের আসে পাশে অন্ধকার হয়ে আছে। কারণ সেদিন মাছ ব্যাটা বোতল টা তার মুখে চালান করে দেয়। এখন প্রিন্সের জন্য মুক্তি পাওয়া অসম্ভব হয়ে গেছে। 
কারণ একটা মাছের পেটে আছে। একথা কেমনে জানবে অন্য কেউ।
আর,রাহাত হুজুর এমন  পদ্ধতি করে দিছে।যার ফলে কোন জিন ও মানুষের পক্ষে সম্ভব না।প্রিন্স (ইনতিয়াজের) অবস্থান জানা।
প্রিন্সের মনে এখন শুধু একটাই অপূর্ণ চাওয়া দেখা পাওয়া । শেষ বারের মতো তার প্রিয়তমা রিনির সাথে।কিন্তু পূর্ণ হবে তো?
নাকি এই অন্ধকার ই তার চিরজীবন এর সঙ্গী হবে??? 
প্রিন্সের আশে পাশে বিদঘুটে অন্ধকারে সে যে কেমনে এত দিন কাটিয়েছে।সে জানে, আল্লাহ পাক জানে। 
প্রিন্স(ইনতিয়াজ) কিছু শব্দ শুনতে পাচ্ছে। কিন্তু...... 
চলবে....
*****ধরের আপনি আয়নার সামনে দাড়িয়ে নিজেকে দেখছিলেন।তখনই, যদি আয়নার মধ্যে এমন প্যারানরমাল কিছু দেখেন????
তখন কি করবেন?? 😴😴😴
সবার কাছে মজার মজার   উত্তর আশা করছি???!!!! 
😵কমেন্ট করে বলেন 😉😉😉
বিঃদ্রঃ আজকে যদি ৩০০ লাইক আর ৩০০ কমেন্ট হয় তাহলে গল্পের পরবর্তী অংশ কালকে সকাল ১০ টা তে দিয়ে দিবো😇😇
চ্যালেন্জ গ্রহণ করতে রাজী তো???😷😷😷
অন্য তাই  গল্প পাবেন পরশু দিন 😩😩😩
[ গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে জানাবেন?
ইনশাআল্লাহ সবার কমেন্টর উত্তর দিবো😇😇😇]
*বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন 😍😍😍
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!