রাত যখন গভীর Season:02 Part :43

 #রাত যখন গভীর 

#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 

#(jannatul mawa moho)

Season:02

Part :43

************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :43
রাত যখন গভীর Season:02 Part :43


রিনি বলেঃ আ,,,,,, আপনি?
আমার স্যার ওকে।আর কিছু না!!!!
ইনতিয়াজ বলেঃ তাই বুঝি!!!
এমন বলে,রিনির কোমরে আমার জড়িয়ে ধরে।
ইনতিয়াজ বলেঃ আমার প্রিয়তমা মনে হচ্ছে, কোন কারণে রেগে আছে। কি করছি বলো?
ভুল করে থাকলে মাফ করে দাও।
রিনি অভিমানী স্বরে বলেঃ এতো দিন একটু ও আমার খবর নেন নি।আমার সাথে দেখা করেন নি।
আজ মেয়ে গুলো আপনাকে কি ভাবে হা করে দেখছিলো।তারা তো পারছিলো না আপনাকে খেয়ে ফেলতে। তাছাড়া,
কি দরকার ছিলো এতো ড্রেস আপ করার?
ইনতিয়াজ বলেঃ আহা তাহলে এ ব্যাপার।আচ্ছা শোনো।আমি এ কদিন প্রতিদিনই তোমার রুমে প্রবেশ করেছি।আমার ঘুম কুমারী কে দেখে চলে আসতাম। একদম বাচ্চার মতো করে ঘুমাও এখনো।
তাছাড়া, একটা অনুষ্ঠানে আসলাম।একটু ভালো ভাবে কাপড় চোপড়া পড়াবো না নাকি?
আরেক টা কথা বলো তো,তুমি কেনো চুল গুলো খোলা রেখে আসছো?
আর শাড়ি কেনো পড়লে?
রিনি বলেঃ শাড়ি পরার পর আয়নার মধ্যে দেখলাম খোপা করার চেয়ে, খোলা চুলে বেশী ভালো লাগছিলো।
ইনতিয়াজ বলেঃ আর তোমার খোলা চুল আমাকে মাতাল করে দিচ্ছে। শাড়ি + খোলা চুল, আমার রিনির এরূপ আমাকে ঘায়েল করে দেয়।
রিনি বলেঃ দেখি আমার কোমরটা ছাড়েন। আর কতক্ষণ এভাবে দাড়িয়ে থাকবেন?
ইনতিয়াজ বলেঃ তাহলে একটা কিসমিস দাও?
রিনি বলেঃ একদম না।
ইনতিয়াজ বলেঃ তাহলে ছাড়ছি না।তোমাকে এভাবে জড়িয়ে ধরে থাকবো।
রিনি বলেঃ বাত্তামিজ কাহিকা।
এই বলে,রিনি প্রিন্স ইনতিয়াজ এর ঠোঁটের কাছাকাছি ঠোঁট জোড়া নিয়ে গেল। তারপর, চোখের পলকেই ঠোঁটের কাছ থেকে সরে গিয়ে ইনতিয়াজ এর গালে কিস করে। ইনতিয়াজ তো পুরাই বেকুব হয়ে গেল।
ইনতিয়াজ বলেঃ এটা কি হলো?
আমি তো মনে করছি।সিট।
রিনি বলেঃ ইস শখ কতো।
এবার ছাড়েন। চলেন অনুষ্ঠানে ফিরে যায়।
ইনতিয়াজ বলেঃ এখন তো জিতে গেলে।নেক্সট টাইম পারবা না।আচ্ছা চলো যায়।
রিনি তার মায়ের পাশে বসে আছে। ইনতিয়াজ, বরাবর রহমান কে এড়িয়ে যাচ্ছে।
রহমান হঠাৎ করে, ইনতিয়াজ এর হাত ধরে বলেঃ কি কথা বলবি না?
দেখ আমি সুমির সংসার করছি।আর অনেক সুখে আছি।তাছাড়া, রিনির সাথে যা করছি,সে সব এখন মনে পড়লে মনে হয় সব আমার পাগলামি। রিনি কে আমি এখন শুধু বন্ধুর বউ এর চোখে দেখি।ভুল তো হয়েছে মাফ কর?
আর কতো দূরে রাখবি।
আর জাদু যা শিখেছি।সব আমি কখনো প্রয়োগ করিনি।কারণ যার কাছ থেকে শিখেছি সেই কথা বলে না।তাই কখনো ব্যবহার করিনি এসব।
ইনতিয়াজ বলেঃ নিজের ভুল বুঝতে পারছিস এটা অনেক। আর জাদু প্রয়োগ করিস।সমস্যা নাই।
আর এদিকে আয় বুকে আয়।
ইনতিয়াজ ও রহমান জিন দুজন দুজনকে কোলাকুলি করেছে।আসলে বন্ধুত্ব অনেক মধুর সম্পর্ক।মানুষ মাত্র তো ভুল সে ভুলের শাস্তি সারা জীবন দেয়া টিক না।ইনতিয়াজ ও তাই তাদের মধুর সম্পর্ক টা আগের মতো করার জন্য অতীত কে ভুলিয়ে আবার আপন করে নিয়েছে রহমান কে।
ইনতিয়াজ বলেঃ তো বন্ধু, এবার আমার বিয়ের জন্য কিছু কর।
রহমান জিন বলেঃ আগে জান্নাত এর টা শেষ করি।চল তোর বাবা রাজা মশাই রশিদ কি জানি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবেন বলেছে।সবাই কে একত্রিত হতে বলেছে।
হাবিব,হাবিবের মা,রাজা,রানী লোভা,রাবেয়া, কামাল,রিনি,শাম্মি, রহমান,সুমি,ইনতিয়াজ, অর্ক,লাবু,রেশমি, রাহাত সবাই উপস্থিত আছে। জান্নাত এর মা বাবা ও আছে। অন্য দিকে, জান্নাত এর অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে। মেহমান চলে গেল সবাই। জান্নাত এবং মুগ্ধ ও তাই সবার সাথে উপস্থিত হয়েছে।
হাবিবের মা বলেঃ রশিদ সাহেব, আমি আপনার মেয়ে টা কে আমার ছেলে হাবিবের জন্য চাইছি।আপনি কি দিবেন?
রাজা মশাই রশিদ বলেঃ এটা তো আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। আমি ইনশাআল্লাহ দিবো।আপনার হিরার মতো ছেলে কে আমার মেয়ে কে হস্তক্ষেপ করতে পেরে আমি চিন্তা মুক্ত হবো।
রানি লোভা বলেঃ আমার কোন আপত্তি নেই।
ইনতিয়াজ বলেঃ আমার ও কোন আপত্তি নেই।
জান্নাত বলেঃ যা শালা হাবিব তোর টিকিট ও কেটে গেছে।ওয়েলকাম তো মেরেজ লাইফ।
জান্নাত এর মা বলেঃ মাশাল্লাহ ভালো প্রস্তাব তবে।আমি চাইচি আগে জান্নাত এর বিয়ে টা হয়ে যাক তারপর না হয় শাম্মি ও হাবিবের বিয়ে হবে।সবাই কি বলেন?
সবাই বলেঃ হা টিক আছে। তাহলে কাল জান্নাত এর গায়ে হলুদ করি।পরদিন বিয়ে।
মুগ্ধে মা বাবা বলেঃ আমাদের কোন আপত্তি নেই। আমরা তো আরও খুশী ঘরের মেয়ে কে তাড়াতাড়ি ঘরে তুলতে পারবো।
সবাই যার যার মতো রেস্ট নিতে চলে গেল। জান্নাত ফ্রেশ হয়ে বসে আছে নিজের রুমে। চিন্তা করছে,কি অদ্ভুত যাকে মনে মনে চাইতো আজ তারই হয়ে গেছে।
জান্নাত বলেঃ মুগ্ধের দোয়া কবুল হয়েছে।আমি তো কল্পনা ও করিনি এমন কিছু হবে।
হঠাৎ করে, জান্নাত এর বেলকনিতে টুকা দেয় কেউ একজন। জান্নাত কিছু টা ভয় পেয়ে যায়। কে হতে পারে এতো রাতে? জান্নাত আস্তে আস্তে এগিয়ে গেছে। আর দেখতে পেল মুগ্ধ। মুগ্ধ তার ডানা গুলো মেলে ধরেছে।
মুগ্ধ বলেঃ মিস জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া চৌধুরী কি আমার সাথে একটা জায়গা তে যাবে?
জান্নাত কিছু বলে নি।জাস্ট সোজা গিয়ে মুগ্ধ কে জড়িয়ে ধরে। মুগ্ধ মুচকি হাসি দেয়।
মুগ্ধ, জান্নাত কে নিয়ে পাড়ি জমিয়েছে অজানা জায়গার উদ্দেশ্যে।অবশেষে তারা একটা নির্জন সাগরের পাড়ে এসে পড়েছে।
জান্নাত দেখে,সাগরের তীরে অনেক গুলো গোলাপের পাপড়ি দিয়ে ছিটিয়ে দিয়েছে।তার মধ্যে বড় বড় করে লেখা,will you marry me?
মুগ্ধ জান্নাত এর সামনে আসে।হাটু ঘেরে বসে। দু'হাতে তালি দিতেই। আকাশের মধ্যে বড় বড় করে লেখা উঠেছে, i love you jannatul Mawa mohoya.will you marry me?
জান্নাত একদম অবাক হয়ে যাই। মুগ্ধ বলেঃ জান্নাত, তুমি শুধু আমার। বলেছিনা আমার হবে দিন শেষে।নিয়তি ও সঙ্গ দিয়েছে।জানো,
হঠাৎ করে, কাল ভোর বেলাতে সুমি কল দেয়। আর বলে তোমার সাথে যার engagement হওয়ার কথা ছিলো।তাদের পরিবার তোমাকে বউ করতে চাইছে না।তো সুমি আমাকে বলে,
আমি কি তোমার সাথে বিয়ের বাঁধনে বাধতে রাজি কি না?
তুমি তো জানো আমি তুমি বলতে পাগল। আর সুমি বলা কথা তো আমার স্বপ্ন পূরনের মতো।সাথে সাথে মা বাবা কে জানালাম।তারা তোমাকে আগে থেকে চিনে।এবং পছন্দ ও করে তারা ও রাজি। যার ফলে পরিণতি তুমি আবার হবু বউ।
তো এবার বলো তুমি আমাকে ভালোবাসো নাকি?
পরশু সারাজীবনের সঙ্গী হতে রাজি তো?
জান্নাত বলেঃ আমি ও আপনাকে অনেক ভালোবাসি। মা বাবার দিকে তাকিয়ে সব কিছু এড়িয়ে গেছিলাম।
পরশু আমি আপনার সারাজীবনের সঙ্গী হতে রাজি।রাজী আমি মুগ্ধ। রাজি
জান্নাত চিৎকার করে বলে, i love youuu mogdhu.
জান্নাত এর বলা কথা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে বারবার।মুগ্ধ জান্নাত কে জড়িয়ে ধরে। জান্নাত মুগ্ধের চোয়ালের মধ্যে চুমু দেয়। মুগ্ধ অবাক হয়ে যাই। জান্নাত মুগ্ধ কে ধাক্কা দিয়ে সাগরের পানিতে চলে গেল।
মুগ্ধ ও পিছু নিলো জান্নাত এর।জান্নাত পানিতে নেমে যাই। মুগ্ধ ও নেমে যাই।
দুজন ই ভিজে টুইটুম্বুর হয়ে গেছে। মুগ্ধ জান্নাত এর গায়ে পানি দিচ্ছে, জান্নাত ও তাই করছে।
হঠাৎ করে, মুগ্ধ জান্নাত এর কোমর স্পর্শ করে। আর একটা টান দেয় জান্নাত একদম এক টানে মুগ্ধের বুকে এসে পড়েছে।
মুগ্ধ বলেঃ জান্নাত তোমার মাঝে যে নেশা আছে। সে নেশা তে আসক্ত হয়ে যেতে চাই।
এটা বলে, মুগ্ধ, জান্নাত এর মুখ ধরে আর জান্নাত এর ঠোঁটের সাথে ঠোঁট জোড়া মিলিয়ে দেয়। জান্নাত বারবার শিহরিত হচ্ছে।
মুগ্ধ বলেঃ আচ্ছা এতো মিষ্টি কেন?
জান্নাত বলেঃ যাহ।এই বলে,আবার পানি মারছে।
জান্নাত লজ্জা তে লাল হয়ে গেছে।
দুজন সুখী হবু দাম্পত্যর সুখের মহূর্তের সাক্ষী হয়েছে,এই বিশাল আকাশ সাথে আছে রোমাঞ্চকর সাগর। এই মুহূর্ত যে কেউ জান্নাত ও মুগ্ধ কে দেখলে মনে করবে,পৃথিবীতে তাদের চেয়ে সুখী আর কেউ নেই।
রিনির তো ঘুম ই আসছে না।কাল তার প্রিয় কালামনির গায়ে হলুদ। তারপর, প্রিয় আঙ্কেল টার বিয়ে।রিনি অনেক খুশি। রিনির এখন খুশী তে ইচ্ছে করছে চকলেট খেতে। রিনি জান্নাত দের
সারা ঘর খুঁজে দেখছে কোন চকলেট পাইনি।রিনি রা সবাই থেকে গেছে।কারণ কাল গায়ে হলুদ তারপর বিয়ে তাই।
রিনি মন খারাপ করে, ছাদের উপর গিয়ে বসেছিল। সবাই ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেছে।তাই একদম নিস্তেজ হয়ে গেছে সারা বাড়ি। রিনি বলেঃ হুহ এখন কি হবে?
আমি চকলেট কই পাবো?
ধুর ভাল্লাগে না কিছু।
তখনই, কেউ একজন রিনির চুল গুলো সরিয়ে রিনির ঘাড়ে ঠোঁটের স্পর্শ দেয়। রিনি কিছু টা কেঁপে ওঠে। হঠাৎ কারো অপ্রত্যাশিত স্পর্শ পেয়ে।
রিনি বলেঃ প্রিন্স আপনি?
ইনতিয়াজ বলেঃ তো কে হবে?
আমার কলিজাটা?
রিনি বলেঃ কেমনে জানলেন?
আমি যে এখানে?
ইনতিয়াজ বলেঃ জাস্ট অনুভব করলাম।
নাও চকলেট। সাথে আইসক্রিম ও আছে। ফুচকা পাইনি।
রিনি বলেঃ কেমনে বুঝতে পারলেন?
ইনতিয়াজ বলেঃ ভালোবাসি তাই।
রিনি রাজ্যের গল্প করছে।আর ইনতিয়াজ মন দিয়ে সব কিছু শুনছে। আসলে প্রিয় মানুষ টার কাছে এমন কিছু কথা জমে থাকে যা শুধু ভালোবাসার মানুষ টা কে বলতে তারা পছন্দ করে। তবে,অনেকে আছে, এসব শুনে না।কিন্তু, ইনতিয়াজ সব শুনছে। কারণ, তারা প্রেমিক প্রেমিকা পরে, তাদের মধ্যে এমন একটা বন্ধন থাকতে হবে যেটা বন্ধুত্বের মতো। ছোট থেকে ছোট বিষয় ও একে অপরের সাথে শেয়ার করবে।
রিনি খাচ্ছে আর বকবক করছে।রিনি খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়লো, ইনতিয়াজ এর বুকে। ইনতিয়াজ রিনি চোখের সামনে কিছু চুল এসেছে সেগুলো পিছনে সরিয়ে দেয়। তারপর,
ইনতিয়াজ ঘুমন্ত রিনির দিকে তাকিয়ে বলেঃ
"আমার হৃদয়ে তোমার কোমল ছোঁয়া,
পালিয়ে যায় সব শূন্যতা।
সময়ের আবর্তে যেনো ভালোবাসা এমনই থাকে,
সারাটি সময় তুমি রবে,
রবে মোর হৃদয়ের গহীনে।"
(কবিতা লেখকঃজান্নাতুল মাওয়া মহুয়া)
ভালোবাসি রিনি।তুমি ঠিকই বলেছো,প্রত্যেকটা সম্পর্ক নির্ভর করে, অনেক ছোট বড় মান অভিমান ও স্মৃতির উপর। ভালোবাসা তখনই, গভীর হয় যখন একজন অন্য জনকে বুঝতে পারে ।
এরপর ইনতিয়াজ চুপচাপ বসে ছিলো।তার বুকের ওপর মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে রিনি।আর ঘুমন্ত রিনি কে দেখছে ইনতিয়াজ।
বেশ কিছু সময় পর.........
চলবে....
প্রিয় মানুষ টার সব কথা মন দিয়ে শোনেন তো?
কমেন্ট করে জানাবেন????
[গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে বলেন প্লিজ ]
(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!