Love With Classfriend - বান্ধবীর সাথে প্রেম

Love With Classfriend - বান্ধবীর সাথে প্রেম


- তুই কি নীল কে ভালোবাসিস??
-হুম, বাসি।
Love With Classfriend - বান্ধবীর সাথে প্রেম
Love With Classfriend - বান্ধবীর সাথে প্রেম


-তাহলে বলিস না কেনো, ওরে??
-ইচ্ছে হয় না বলতে।দূর থেকে ভালোবাস তে ও আলাদা একটা মজা আছে বুঝলি??
আমি বিজ্ঞের মত মাথা নাড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালাম, বেনসন কোম্পানির। দাম টা মেইবি ১০/১২ টাকা।আসলে খেয়াল নেই কত টাকা, আকাশের প্যান্ট থেকে মেরে দিয়েছি ত!!
"একটা দিবি??"আমি এবার একটু অবাক হয়ে অবনীর দিকে তাকালাম৷,
" তুই?এটা খাবি??"
মুচকি হেসে হ্যা সূচক মাথা নাড়ালো অবনী।
"আজ আমার কোন কারন ছাড়া খুব খুশি খুশি লাগছে!"
"নীল কে প্রপোস করবি নাকি??"
"হুম, তুই কিভাবে বুঝলি??"
"এমনি মনে হলো আর কি। "
"ওহহ,আচ্ছা । আজ উঠি রে, বাসায় ফিরতে দেরী হলে মা আবার চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিবে। "
কিছু না বলে আমি আমার মত আবার একটা সুখটান দিলাম।
"বাসায় যেয়ে নীল কে ফোন দিয়ে প্রপোস করব,কি বলিস?ফোন প্রপোস বুঝলি??"
" হুম, ভাল ত। কাল ট্রিট দিস কিন্ত বার্গার +চিকেন ফ্রাই! "
"ধ্যত তুই এত পেটুক কেন রে?? এত খাই খাই করিস কেন?দেখবি তোর এই ভুড়ির জন্য কেও তোকে বিয়ে করবে না! "
"হুম ভাল ত৷ "
"আর গায়ের রঙ ও ত মাশাল্লাহ । "
"হুম"


"ধ্যাত তোর সাথে কিছু বলাই বেকার। আমি বাসায় যাচ্ছি , বায়"
আমি আবার ও মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলাম।
কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না,এখন পর্যন্ত প্রায় ২ বার বুকের ভিতর কেও যেন খুব জোরে হাতুড়ি দিয়ে বারি দিয়েছে। আচ্ছা আমার সামনেই কি নীল এর নাম উচ্চারন করতে হবে??কেন আর কারো সামনে পারে না??আমাকেই পেলো সারা দুনিয়াতে??
প্রায় ২০ মিনিট ধরে ট্রাই করে করে অবনী কে ফোন এ পেলাম,
"নীল ভাই কি বলে??"
"কিছু শর্ত দিয়েছে। " রিনরিনে গলায় বলল অবনী।
"তোর ছেলে বন্ধু থাকবে না,তাদের সাথে ফোনে কথা বলা যাবে না এই ত??"
"হুম।" এবার একটু যেন বেশি ই সরু হয়ে গেল অবনীর গলা।
"হাহা, গলা এত সরু করার কারন কি?? বফ হলে একটু সেক্রিফাইস ত করতেই হবে। "
"না আসলে সেটা না,অন্য কারনে। "
"কোন কারন??" একটু সন্দেহ গলায় প্রশ্ন করলাম।
"তোর সাথে আর বৃ ষ্টি হলেই ছাদের যেয়ে ভিজতে পারব না রে।মানে তোর সাথে একটু কথা সাক্ষাৎ কমিয়ে দিতে বলেছে এই আর কি!"
হাতুড়ির বারি টা এবার যেন একটু বেশি ই জোড়ে লাগল বুকে। কিছুক্ষন চুপ থেকে হো হো করে হাসা শুরু করলাম।।
"কি রে ছাগলের মত এমন ভ্য ভ্য করে হাসছিস যে??"
"নীল ভাই শেষপর্যন্ত আমারে নিয়ে ডরাইল। আরে ভাই তোর ও ত একটা চয়েস আছে তাই না।আমার মত মোটা কালু রে কে ভালোবাসবে??"
"হুম"
আমার মনে হলো অবনী যেন কিছু বলতে যেয়ে ও আর বলল না ।কেন জানি, আমি খুব করে চাইছিলাম ও যাতে কিছু বলুক, বলুক যে আমার জন্য সে নীল কে ছাড়তে রাজি আছে, আমার সাথে বৃ ষ্টিতে ভিজার জন্য সে নীলের মায়াময় মুখের ভালোবাসি শব্দ টা শোনা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করতে রাজি আছে, শুধু আমাকে সে ছাড়তে পারবে না যে করেই হোক।
নাহ, তা আর হয় নি৷ কল্পনা সবসময় বাস্তব হয় না,অবনী কিছুই বলে নি। আমি শুধু কিছুক্ষন ওর গরম নিশ্বাসের শব্দ শুনে ফোন কেটে দিয়েছিলাম।
তারপর ফোন সুইচ অফ করে নিজেই কিছুক্ষন আনমনে হাসলাম । মানুষের অনুভুতি গুলো খুব সুক্ষ হয়, কিন্ত আমার গুলো মনে হয় একটু বেশিই সূক্ষ। তা না হলে অবনী র মনে আমার অনুভূতির আঘাত গুলো কেন সে বুঝতে পারে না?? নিশ্চই অনুভুতির দো ষ। আচ্ছা আমি মানুষ টা এত স্বাস্থ্য বান, কিন্ত আমার অনুভুতি গুলো এত সূক্ষ কেন?? মন থেকে বড় অনুভুতি বের হয় না কেন??
এমন হাজারো প্রশ্নের মাঝামাঝি তেই আমি ছাদে চলে গেলাম।আকাশ টা কে আজ বড্ড মেঘলা লাগছে, হয়ত কিছুক্ষন এর মাঝেই ঝমঝমিয়ে বৃ ষ্টি নামবে। মনের হাজারো নিষেধ সত্ত্বেও একবার পাশের বিল্ডিং এর ছাদের দিকে তাকালাম, এই বুঝি অবনী ছুটতে ছুটতে ছাদে এলো! মেয়েটা যে বডড বৃ ষ্টি পাগলী , এমন ই একদিন শ্রাবন মেঘের বর্ষনে ও নিজেই আমাকে হাত ধরে ধরে টানতে ছাদে নিয়ে এসেছিল। শিখিয়েছিল কিভাবে বৃষ্টির প্রেমে পড়তে হয়, বৃ ষ্টির প্রতি টা ফোটাকে চোখ বন্ধ করে মন থেকে অনুভব করতে হয়। আমি ও সেদিন বৃ ষ্টির প্রেমে পড়েছিলাম,,ভালোবেসে অনুভব করেছিলাম বৃ ষ্টির প্রতি টা ফোটাকে। কিন্ত আমার মনের লোভ টা হয়তো একটু বেশি ছিল, শত বাধা বারন সত্তেও আমার সুক্ষ অনুভুতি গুলো ঠিক ই ছুটে গিয়েছিল অবনী নামের এক অদ্ভুত মায়াময়ীর দিকে আর সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটা মিনিট প্রতি টা সেকেন্ড আমার অনুভুতি গুলো শুধু চেষ্টাই করে চলেছে কিন্ত আজ পর্যন্ত অবনীর অনুভুতি গুলো কে খুজে পায় নি,পারে নি অবনীর মনে দরজায় কড়া নেড়ে চি ৎকার করে "ভালোবাসি" বলতে৷
চোখ টা বন্ধ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে বৃ ষ্টি পড়ার অপেক্ষা করতে লাগলাম। হাতের মাঝে সেই দিনের অ নুভুতি গুলো আনতে চেষ্টা করলাম, যেদিন ঠিক এই হাত টা শক্ত করে ধরে অবনী আমার সাথে বৃ ষ্টিতে ভিজেছিল।
হঠাৎ মনে হয় এই বুঝি অবনী আমার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে আর খিলখিল করে হাসছে, আর বলছে "কি রে পেটুক, কেমন লাগছে??"
কোন এক অদ্ভুত কারনে আবার পাশের ছাদের দিকে তাকালাম। পাঠক রা হয়ত ভাবছেন অবনী এসেছে। নাহ,ও আসে নি।ছাদ টা ও যে আমার মত একা একা বৃ ষ্টির অপেক্ষা করছে।
হঠাৎ আমার কি জানি হলো, প্রায় দৌ ড়াতে দৌ ড়াতে বিল্ডিং এর ভিতরে চলে এলাম। আমাকে দেখাতেই কিনা প্রায় ১ সেকেন্ড এর মাঝেই ঝমঝমিয়ে বৃ ষ্টি পড়তে লাগল। অবাক হয়্ব আমি চেয়ে আছি বৃ ষ্টির দিকে,, প্রতি টা ফোটা যেন আমাকে হাতছানি দিচ্ছে৷ বলছে "আয় আয় ছুয়ে দে আমায়, আয় আয়"
জানিস অবনী ভালোবাসা কাকে বলে আমি জানি না,হয়ত কোনদিন জানতেও পারব না। মোটাসোটা মানুষ দের নাকি ঘিলু কম হয়। তাহলে আমি তার ব্যাতিক্রম হবো কেন??
"ভালোবাসা " এটা আমার বোধগম্য হবে না কোনদিন ও। তবে তোকে ধন্যবাদ, এই বৃ ষ্টির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য, বৃ ষ্টির ভালোবাসার কাব্য শেখানোর জন্য । আমার কি মনে হয় জানিস অবনী, এই শ্রাবন ধারার বর্ষন শুধুমাত্র তোর জন্য ই হয়, হ্যা আমি এটাই মনে করি। পাগল ভাবতে পারিস,তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্ত তোর জন্য ই বৃষ্টি আর বৃ ষ্টির জন্য তুই। এই বর্ষার অঝোর ধারার প্রতিটা খন্ড তোকে চিনে তাই বারবার তোর জন্য ই মর্তে ফিরে আসে।তারা অপেক্ষায় থাকে কবে তুই তোর ভালোবাসার মানুষ টি কে নিয়ে হাতে হাত রেখে চোখ বন্ধ করে এই ধারার ভালোবাসা কে তোর নিজের ভালোবাসা দিয়ে উপভোগ করবি।তবে সেসব দিন হয়ত ভুল বৃ ষ্টির দিন ছিল যে সব দিনে তুই আমায় নিয়ে ভিজেছিলি,তবে এবার আর ভুল হবে না।আমি হতে দিব না,কারন আমি যে আর বৃ ষ্টি তে ভিজব না রে। আমার মনের মাঝে থাকা সকল সূক্ষ অনুভুতি গুলো কে আজ আমি নিজেই তালাবদ্ধ করে রাখব। তোর সাথে ভিজা প্রতি টা সেকেন্ড এর অ নুভুতি গুলো কে সাথে নিয়েই আমি বাচতে চাই। হয়ত কখন ও তোকে আর নীল ভাই কে একসাথে ভিজতে দেখার সৌভাগ্য ও হয়ে যেতে পারে। সেটুকুই যথেষ্ট আমার জন্য। বৃ ষ্টিকন্যা তুই ভাল থাক, তোর ভালোবাসা যেন পূর্ণতা পাক এই আশা নিয়েই আজ আমার মনের অনুভুতি বন্ধ করলাম। কারন বৃ ষ্টি টা যে কখন ও আমার ছিল না, এই অনুভুতি গুলো ও আমার ছিল না আমি শুধু ক্ষনিকের অতিথি হয়ে এসেছিলাম তোর জীবনে। কিন্ত থেকে যাব আর দূর থেকে ভালোবেসে যাব।
কারন,দূর থেকে শ্রাবন ধারায় ঝড়ে পড়া অনুভুতি গুলো কে দেখার সৌভাগ্য ই বা কয়জনের হয়???
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!