রাত যখন গভীর Part :08

Story :#রাত যখন গভীর 
writer:#jannatul mawa moho
writer :
Part :08
রাত যখন গভীর Part :08
রাত যখন গভীর Part :08


ঠিক তখনই আমি দেখলাম একটা পিচ্চি মেয়ে গান গাইছে। পরনে ছিল সবুজ রঙের শাড়ি আর চুল গুলো খোলা ছিল। কোমর ছাড়িয়ে হাঁটু অবধি চুল। অসাধারণ এক মায়াবী কণ্যা।
চোখ জোড়া কাজলের খালি দিয়ে আকাঁ।আর ঠুটেঁ ছিলো লাল লিপস্টিক। বেশ মানিয়ে ছিল সাজটা।
মূলত তাকে ভালো লেগে যাই, তার ঘনকালো চুলের গোছার জন্য ।আর ভুবন ভোলানো হাসির জন্য। তার হাসি টা বেশ সুন্দর। আমি তাকে গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।কিন্তু সে তো সে কথা জানে না।
সে তার আপন মনে গান গেয়ে চলেছে । আর ওকে ঘিরে বসে থাকা ছেলে মেয়েরা মুগ্ধ হয়ে গান শুনছে। 
হঠাৎ সে গাইতে শুরু করে, 
"দেখা হাজারো দাফা আপকু
পির বেকারারি কেচি হে,
তখন,
আমি বলে উঠিঃ বাহ।আমার অনুভূতির সাথে খাপেখাপ খেয়ে গেছে।
তবে আমি খেয়াল করিনি আমি ওর খুব কাছে চলে আসি।
আর একটা কথা আমাদের জীনেদের মেয়েদের সুন্দর চুলের প্রতি দূর্বলতা থাকে। 
তাই রাতে কোথাও গেলে মেয়েদের চুল সামলে রাখা উচিত। 
কিন্তু তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে।তার চুল আর তার সাজ।সন্ধ্যার হলকা আলো আর আধারের সময়ে তাকে আরো সুন্দর করে তুলেছে। 
বলতে পারেন, সেই মুহুর্তে তার সৌন্দর্য কয়েক শ গুণ বেড়ে গিয়েছিল।
তার খুব কাছে চলে গেছিলাম। যার ফলে তার চুলের অপরুপ ঘ্রাণ আমার নাকে পাচ্ছিলাম।অনুভব করতে পারছিলাম সেই মন মাতানো সৌরভ।
আমি উপলব্ধি করলাম আমি ওর থেকে ২ ইঞ্চি দূরত্বে আছি। 
কবিরা ঠিকই বলেছেনঃ মেয়ে দের চুলে এক অপরুপ ঘ্রাণ থাকে। যা মন উতালপাতাল করে দেয়। 
সেদিন গান শেষ হতেই সবাই চলে যেতে লাগলো। আমি সেই মেয়েটির পিছু নিলাম। 
ওর বাড়ি টা চিনে নিলাম। 
সেই মায়াবিনীর নাম ছিল রিনি।
প্রশ্ন আসতে পারে, নাম কেমনে জানলাম? 
যখন সে বাসায় ফিরে যাই।তখন তার মা রাবেয়া বলেছিলঃরিনি ফিরে আসচস।এত
দেরি হলো কেন? 
আমি সেই ভাবে সেদিন তার নাম জানতে পারলাম। 
এরপর আমি রাজ্যে ফিরে আসি।কারণ শাম্মি চিন্তা করবে দেরি হলে।
কিন্তু সেদিন রাতে আমার অবাধ্য মন আবার পাগলামি শুরু করে বসে। 
তখন ইচ্ছে হচ্ছিল, মায়াবতীর চুলের ঘ্রাণ নিতে,তার কালো আকর্ষনীয় চুলগুলো দেখতে। 
আমি আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনি। অবশেষে সেদিন রাতে রিনির বাসায় প্রবেশ করি।রিনির রুম খুঁজে পেতে কষ্ট হলো।কিন্তু শেষে ঠিকই খুঁজে পেলাম। 
আমি যখন রুমে গেলাম। দেখি সে বাচ্চা মেয়ের মত ঘুমাচ্ছে। তার ঘুমন্ত মুখ দেখে আমি আরও ঘায়েল হয়ে গেলাম। 
আসলে কিছু কিছু মেয়েদের ঘুমন্ত মুখ দেখতে অসাধারণ লাগে।
আমি তাকে ছুয়ে দিতে চাইলাম। কিন্তু পারলাম না। 
আমি চিন্তায় পড়ে যায়। কেন এমন হলো? 
আমি আমার শক্তি ব্যবহার করে দেখি যে ঠিক কি কারণে এমন হচ্ছে? 
অবশেষে বুঝতে পারছি, সে রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুর কুরছি পড়ে ঘুমিয়ে ছিল। তাই তাকে পাশে যাওয়া বা স্পর্শ করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।
রাতে ঘুমানোর সময় আয়াতের কুরছি পড়লে জীনরা ধারে কাছে আসতেই পারে না।
আমার ক্ষেত্রে ও তাই হলো।
আমি তাই সামনে থাকা চেয়ারে বসে রিনি কে দেখছিলাম। রাত যখন গভীর হতে থাকে রিনি নাড়া ছাড়া শুরু করে দেয়। 
সে ঘুমানোর সময় প্লাজু আর ফতুয়া পড়ে ছিল। 
নাড়াচাড়া করার ফলে ফতুয়া কিছুটা উঠে গেছে। যার ফলে কোমরের খানিকটা দেখা যাচ্ছে। 
তার কোমরে একটা কুচকুচে কালো তিল ছিলো। বেশ আকর্ষনীয় লাগছিল। 
বেশ কিছুক্ষণ ছিলাম রিনির রুমে। 
কিন্তু ফজরের আযান দিতেই আমি রাজ্যে ফিরে আসি। এইটুক বলে,প্রিন্স চুপ হয়ে যায়।
লাবু বলেঃ তারপর কি হলো?? 
প্রিন্স আবার বলতে শুরু করে,
আমি আবার সকালে রিনি কে দেখতে গেলাম। 
সে স্কুলে যাচ্ছিলো।
আর আমি আমার রুপ কিছুটা কালচে ভাব এনে ওর সামনে স্কুলের পথে ইচ্ছে করে ধাক্কা খেলাম।
রিনি বলেঃ ওই মিয়া, চোখ জোড়া কি বাসায় রেখে আসছেন নাকি চোখ জোড়া বন্ধ করে চলেন???
আমি বলিঃ উমমম।২ টাই সঠিক। 
রিনি আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে স্কুলে চলে গেল। 
আমি দাড়িয়ে থেকে তার চলে যাওয়া দেখছিলাম। 
এই ভাবে রোজ দেখা হতো।
তবে রিনি কখনো আমার সাথে ভালো ভাবে কথাই বলতো না।
আর আমি যখন প্রতিদিন স্কুলের পথে দাড়িয়ে থাকতাম। আমার এক বন্ধু আমাকে সঙ্গী দিতো।জীন বন্ধু আরকি।।
সে বন্ধু হলো,রহমান জীন।
রহমান বলেঃ আরে জীন রাজ্যে কত অপ্সরা তোর উপর মরে।আর তুই কিনা এই মেয়ের জন্য ফিদা হয়ে গেলি???
প্রিন্স বলেঃ ও হাজারের মধ্যে একজন। পৃথিবীতে আমার চোখ ও সেরা রূপবতী। 
এইভাবে চলতে থাকে।
প্রিন্সকে দেখলেই রিনি রাগী একটা মুখ বানিয়ে চলে যেতো। 
তবে প্রতিদিন রিনির রুমে প্রিন্স যেতো। ধরা,ছোঁয়া যেতো না।শুধু দূর থেকে দেখা যেতো। সে প্রতিদিন আয়াতুল কুরছি পরতো। তাই এমনটা হতো।
তবে বেশ লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম রিনি কে।যত দেখতাম ততবেশি ভালো লেগে যেতো। 
একদিন স্কুলের রাস্তায় ওর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। 
একটা ছেলে খুব handsome করে।স্কুলের অপজিটের দোকানে দাঁড়িয়ে আছে। 
রিনি প্রতিদিন এই দোকান থেকে "পানি পুরি"/ পুস্কা খেতো। 
তাই আমার নজর সে দোকানের দিকে ছিল।
রিনি আজ ও গেলো সে দোকানে।কিন্তু সেই ছেলেটা রিনি দোকানে প্রবেশ করতেই হাঁটু গেরে প্রপোজ করে বসে। 
রিনি কোন কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে চলে গেল। 
আমার বন্ধু রহমান বললোঃ মামা, যা করার তাড়াতাড়ি করো না হলে,
"আম ও যাবে চালি ও পাবে না"
প্রিন্স বলেঃ আচ্ছা কাল কে কিছু করবো!
পরদিন সকালে প্রিন্স ১০০ টা গোলাপ আর বেশি করে চকলেট আর একটা পুস্কার দোকান সহ রিনির অপেক্ষাই আছে। 
রিনি আসতেই প্রিন্স হাঁটু বাজ করে ফুল দিলো।
কিন্তু ঠিক তখনই, 
রিনি.......
চলবে.....
***আর মন্তব্য করে জানাবেন কেমন হচ্ছে?আপনাদের সবার মন্তব্য আমার জন্য অনেক মূল্যবান।। আপনার একটা মূল্যবান মন্তব্য আমার লেখার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়!!!****
[আর আপনারা একদিনে আমার পেইজকে যেভাবে সাপোর্ট দিয়েছেন অনেক ধন্যবাদ। আর আপনারা আমার গল্পে টাইমলাইনে যেভাবে রেসপন্স করেন।সেভাবে পেইজে ও রেসপন্স করলে খুশি হবো।আর সম্ভব হলে, গল্প গুলো শেয়ার করবেন।।। ]
[আর আমার সব গল্প আমার page এ দেয়া হবে।লিংক দিলাম,
আমার গল্প ভালো লাগলে page এ like দিয়ে পাশে থাকবেন।
আর আবার বলছি Instagram এ ও পোস্ট করছি গল্প টা ওই খানে ও পড়তে পারবেন। instagram account : jannatul_mawa_moho]
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!