বৈধ ভালবাসা - পর্ব ১১ - Part Story

 বৈধ ভালবাসা - পর্ব ১১ - Part Story


হ্যালো
-ফোন অফ হয়ে গিয়েছে কেনো সায়নী?লাইন কেটে যাওয়ার পর কল ব্যাক করেছিলাম,অফ বলছে।
-আসলে একটু সমস্যা হয়েছিলো।

বৈধ ভালবাসা - পর্ব ১১ - Part Story

বৈধ ভালবাসা - পর্ব ১১ - Part Story 



-মোবাইল এর সমস্যা?আমি তোমার জন্য নতুন মোবাইল পাঠাবো।
-আরে না।আমার মোবাইল ঠিক আছে।কোনো সমস্যা নেই মোবাইল এর।আসলে অন্য কারণে...মানে লাইন কেটে যাওয়ার জন্য আমি দুঃখিত।
পাবেল বুঝতে পারে সায়নী লাইন কেটে যাওয়ার কারণ তাকে বলতে ইচ্ছুক নয়।কতো কারণ-ই হতে পারে।সব বলতে হবে বলে কথা নেই।
সায়নীর কাছ থেকে আগে নাম্বার নেয়া হলেও তাকে ফোন দিয়েছে সে এই প্রথম।হয়তো হঠাৎ পাবেলের কণ্ঠ শুনে সে নার্ভাস হয়ে গিয়েছে।তাই সে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বলে-
আরে ঠিক আছে সায়নী।আমার সাথে এতো ফর্মালিটি করার প্রয়োজন নেই।
-ধন্যবাদ।
-আহা!
-কি?
-এটাও কিন্তু...
-বুঝেছি আর বলবোনা।
-গুড।
-কি যেনো বলছিলেন তখন?
-ওহ,বলছিলাম আম্মুরা তোমাদের ওখানে যেতে চায়ছেন।আমাদের বিয়ের কথা আগানোর জন্য।কখন যাবে?
অনেক চেষ্টা করেও সায়নী পারছেনা পাবেল কে সব খুলে বলতে।আফরানের সাথে পাবেলের বিষয়ে কথা বলতে মনেই ছিলোনা তার।কিন্তু পাবেল কে অন্ধকারে রাখা কি ঠিক হবে!মোটেও না।
আবার পাবেল কে জানালে সে যদি রেগে গিয়ে গণ্ডগোল করে!উফ ভাবতে পারছেনা আর সে।কি করবে,কি করা উচিত!
-কোনো সমস্যা সায়নী?
-আসলে...
-বলতে পারো আমাকে তুমি।
-আমি এই বিয়েটার জন্য এখনও প্রস্তুত নয়।
-কিন্তু তোমাকে আগেই জানানো হয়েছে আমার কথা তবুও কেনো তুমি এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারোনি?
-তখন তো আর আপনার সাথে মিশতে পারিনি আমি।
-ওহ এই ব্যাপার!তা এখনও মিশছো কই?
-বুঝিনি।
-আমার সাথে কোথাও যাওয়া দূরের কথা।
একটা ফোনও দাওনি।
-আপনিও দিতে পারতেন।
-হাহা চালাক!
-হুম।
-তাহলে তোমার সময় লাগবে ভাবতে?
-হুম,কিছুদিন।
-ঠিক আছে নাও সময়।
-তবে ফুফুদের নিয়ে বেড়াতে আসেন।
বিয়ের কথা না হয় অন্য একদিন তুলবেন তারা।
-হুম আইডিয়া খারাপ না।আমি আম্মুকে বলবো।কাল আসবো আমরা দুপুরের আগে।
-ঠিক আছে,এখন রাখি।
-হুম।
পাবেলের মা যখন সায়নীর কথা পাবেল কে জানায় তখন থেকেই তার মনে সায়নীর জন্য একটু একটু করে ভালোবাসা জমতে থাকে।
শেষ দেখেছিলো সায়নীকে ৯বছর আগে।৯বছর আগেই পাবেল আমেরিকা চলে যায় পড়াশোনার জন্য।তার পরিবার দেশে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকলেও এই ৯বছরে সে একবারো আসেনি।
পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপে প্রেম-ভালোবাসা এসব করার সুযোগও পায়নি।মা যখন সায়নীর কথা বলে তাকে,
যোগাযোগ করার ইচ্ছে থাকলেও করেনি সে।মায়ের দেখানো কিছু ছবিতে সায়নীকে দেখে সে।৯বছর আগের সায়নীর সাথে এই সায়নীর সব-ই মিল রয়েছে।দেখতে সুন্দরী,মেধাবী,মায়েরও পছন্দ।সায়নীর চেয়ে বেস্ট জীবন সাথী আর কেউ হতে পারেনা তার জন্য।সব কিছু ভেবে সেও বিয়েতে রাজী হয়ে যায়।কিন্তু সায়নীর কি হয়েছে হঠাৎ!
-আম্মা কি করো?
-আরে হাসির মা আসোনা ভেতরে।
-জানো আম্মাজান কি হইছে?
-কি হয়েছে?
-আব্বাজানে তার বউরে পায়েল উপহার দিছে দুইডা।
-মানে?
-কি জানি দিবস আছেনা?
-ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে দিয়েছে?
-হা।
-তুমি কি করে জানো?
-আমি ওই ঘরে গেছিলামতো।দেখছি।
-আফরান কে একটু বলতে পারবে আমি ডাকছি?
-আইচ্ছা।
আমাকে গিফট দিলে মুনিরাকেও দিতে হবে!তার মানে আমার সাথে সকালে সময় কাটালে রাতে মুনিরার সাথে....
নাহ,দুই নৌকায় পা দিয়ে আফরান চলতে পারবেনা।কিছুতেই না।
আফরান দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই সায়নী তার শার্ট এর কলার ধরে জিজ্ঞেস করে-
মুনিরাকে পায়েল দিয়েছো কেনো?
-ওর মা কথা টানছিলো, আজকের দিনে...
-ওদের সবাইকে খুশি রাখার দায়িত্ব তোমার?
-সায়নী পাগলামো করছো এখন তুমি।
আফরান থেকে খানিকটা দূরে সরে সায়নী আবার বলতে শুরু করে-
তোমার দুইটা বউ দরকার আসলে।নাহলে বিয়ে তুমি করতে না।আর ভূলেই যখন করেছো ওই মেয়ের সাথে আটকে যেতেনা।
সায়নীর পাশে গিয়ে আফরান তার কাঁধে হাত রেখে বলে-
সায়নী শোন প্লিজ?
সায়নী তার হাতটি সরিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে-
গায়ে হাত দিবেনা একদম।কি শুনবো!খালুতো চায়বেন তার বন্ধুর মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য বিপদ থেকে।তাই তোমাকে অনুরোধ করেছে বিয়েটা করার জন্য।তুমিও ঢ্যাংঢ্যাং করে বিয়েটা করে নিলে।কেনো?তুমি পারতেনা বিয়া ছাড়াই মেয়েটাকে বাড়িতে তুলে আশ্রয় দিতে?পরে না হয় দেখে শুনে পরে অন্য কোথাও বিয়ে দিতে।না তুমি তা করোনি।আসলে তুমি ওকে দেখে লোভ সামলাতে পারোনি।একদিকে আমাকে রেখেছো অন্যদিকে মুনিরাকেও।মেয়ের প্রতি এতো লোভ তোমার!তুমি একটা চরিত্রহীন পুরুষ।
এই কথাটি শুনে আফরান নিজের রাগ সংযত করতে না পেয়ে সায়নীর গালে কষে একটা চড় দেয়।
আফরানের এমন কাণ্ডে সায়নী বোকার মতো আগের জায়গাতে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
সায়নীকে শান্ত অবস্থায় দেখে আফরান তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে-
আমি কেনো বিয়েটা করেছি আমি জানিনা।কিন্তু বিশ্বাস করো মুনিরাকে নিয়ে আমার মাথায় এসব ফালতু চিন্তা আসেনি।আমি ওকে ডিভোর্স দিয়ে দিবো খুব তাড়াতাড়ি।আর পায়েল জোড়া ওর মায়ের মুখ বন্ধের জন্য দিয়েছি।তাও আমার ভূল হয়েছে।
সায়নী কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।
চোখে আস্তে আস্তে অন্ধকার দেখছে সে।
আফরানের শরীরের সাথে তার শরীর একেবারেই লেপ্টে যাচ্ছে।
-কি ব্যাপার সায়নী কথা বলছো না কেনো?
-
-এই সায়নী?
কোনো সাড়া না পেয়ে নিজের বুক থেকে সায়নীকে সরাতে গিয়ে আফরান বুঝতে পারে সায়নী বেহুঁশ হয়ে গিয়েছে।এমন অবস্থায় তার কি করা উচিত বুঝতে না পেরে জোরে চিৎকার দিয়ে উঠে আফরান।
তার চিৎকারে বাসার সবাই সায়নীর রুমে এসে দেখে সায়নীর মাথা কোলের উপর রেখে মাটিতে বসে আফরান কেঁদে চলেছে।
-আম্মু আসবো?
-হুম পাবেল আয়।
-সায়নীর সাথে কথা হয়েছিলো।
-কি বলেছে সে?
-বিয়ের কথা আর কিছুদিন পরে বললে ভালো হয়।
-এটা বলেছে সায়নী!কিন্তু কেনো?
-আসলে আমরা আগে একে অপরকে চিনতে চাই।
-নতুন করে চেনার কি আছে!
-না মানে....
-ওহ প্রেম করতে চাস বিয়ের আগে এটা বলনা?
-আম্মু!
-হাহা।ঠিক আছে কর তোরা প্রেম।কিন্তু এক মাসের বেশি সময় দিতে পারবোনা।
-হেহে।তাতেই হবে।তবে কাল ওদের বাসায় আমাদের সবাইকে যেতে বলেছে।
-তাই নাকি!বেশ ভালো হলো।
আফজাল ভাইয়ের সাথেও দেখা হবে।
-হুম তবে আম্মু প্লিজ বিয়ের কথা তুলোনা এখন।
-আরে বাবা তুলবোনা।মনে থাকবে।
-ধন্যবাদ আমার লক্ষি আম্মুটা।
আস্তে আস্তে চোখ খুলে সায়নী দেখতে পায় সে বিছানায় শুয়ে আছে।চারপাশে বাড়ির সকলে রয়েছে।মুনিরা তার পাশেই বসে আছে।
সায়নী চোখ খুলতে দেখে মুনিরা খুশিতে বলে উঠে-
আপু চোখ খুলেছে।
আফরান ডাক্তার আনার জন্য বের হচ্ছিলো সায়নীর জ্ঞান ফিরছেনা বলে,মুনিরার কথায় সে পেছনে ফিরে সায়নীকে দেখতে পায়।সায়নীর চোখ খোলা দেখে তার শরীরে প্রাণ ফিরে পায়।
আফজাল খান সকলের উদ্দেশ্য বলেন-
সায়নীকে এখন আরাম করতে দেওয়া উচিত আমাদের।
তার কথায় একে একে সবাই বের হয়ে গেলেও মুনিরা আর আফরান দাঁড়িয়ে থাকে।মুনিরা শ্বশুরের উদ্দেশ্য বলে-
আজ আমি আপুর সাথে থাকি?
আফজাল খান কিছু বলার আগেই সায়নী বলে ধীর গলায়-
না তুমি যাও।
আফজাল খান বলেন-
আফরান বউমা কে নিয়ে যা নিজের রুমে।
-কিন্তু সায়নী?
-সেটা আমি দেখছি।
না চাইতেও আফরানকে রুম থেকে বের হতে হয়।
সায়নীর পাশে বসে আফজাল খান বলেন-
তুই কি কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তিত?
ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে সায়নী বলে-
না খালু।কিছুদিন ধরে শরীরটা ভালো লাগছেনা।
-তাহলে একটা ভালো ডাক্তার দেখাতে হবে তোকে।
-কোনো দরকার নেইতো খালু।
-আছে,আমি পাবেল কে বলবো।এখন ঘুমা,
আজ হাসির মাকে বাসায় যেতে নিষেধ করবো।তোর পাশেই থাকবে সে।
-হুম।খালু একটা কথা ছিলো।
-কি মা?
-কাল ফুফুরা আসবেন।
-এটাতো ভালো কথা!
-কিন্তু আমিতো অসুস্থ হয়ে পড়েছি।
-তাতে কি হয়েছে!উনাদের কোনো অযত্ন আমি হতে দিবোনা।
-না সেটা বলছিনা।
-আর কিছু বলিস নাতো।ঘুমা এখন।
এতোদিন নির্ঘুমে রাত পার করেছে সায়নী।
কিন্তু আজ তার খুব ঘুম পাচ্ছে।কোনো কিছু ভাবতে ইচ্ছে করছেনা তার।হয়তো শরীর খারাপ তাই।
এদিকে আফরানের মন ছটফট করতে থাকে সায়নীর জন্য।এটা কি করলো সে!সায়নীর গায়ে হাত তুলছে সে!এই অপরাধের জন্য সায়নী যদি তাকে ছেড়ে চলে যায়?তার ভূলের পরিমাণ কি দিন দিন বেড়ে চলেছে!
আচ্ছা সায়নীর জায়গায় হলে সে নিজেই কি করতো!হয়তো মুনিরা নামক মেয়েটাকে মেরেই ফেলতো।
-আপু কিভাবে বেহুুঁশ হলো?
মুনিরার হঠাৎ প্রশ্নে আফরান চমকে যায়।আমতাআমতা করে বলে-
আমি ঠিক জানিনা।
-কিন্তু আপনিতো ওখানেই ছিলেন।মানে আপনার চিৎকার শুনেই আমরা সকলে আপুর রুমে যাই।
-আমি ওর সাথে কথা বলছিলাম।কথার মাঝে হঠাৎ করেই ও জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ওর এই অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।
-ওহ!আপুকে ইদানিং অসুস্থ মনে হয়।একটা ডাক্তার দেখানো উচিত।
-ঠিক আছে,আমি কথা বলবো ওর সাথে এই বিষয়ে।
শুয়ে পড়ে মুনিরা।কিন্তু মাথায় তার একটা কথায় ঘুরপাক খাচ্ছে,সায়নীর জ্ঞান হারানোর কারণ কি!
সকাল ১১টা......
সায়নীর ঘুম ভাঙ্গে হাসির মায়ের ডাকে।
-আপা মনি?উঠো দেখি।তোমার হবু জামাই আসবেতো।
-উহু খালা,তোমাকে কতবার বলেছি আপা টাপা ডেকোনা আমায়।সায়নী ডেকো।
-আপা মনিতো আদরের ডাক।
সায়নী বিছানায় উঠে বসে।হাসির মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে-
নতুন বউ কে কি আদর করে আপা ডাকো?
-নাতো,তারে আমি ও বউ বলেই ডাকি।
-ও বউ!হাহা।
দুপুর ১২টা....
সায়নীর ফুফুরা তাদের বাসায় উপস্থিত হয়।
তাদের সাথে পাবেল আসেনি।তার এক বন্ধুর শরীর খারাপ হওয়ার কারণে তাকে বন্ধুর কাছে যেতে হয়।
বাসার সকলে বসে একসাথে গল্প করছে।
কিন্তু আফরান অফিসে।
এক পর্যায়ে সায়নীর ফুফু বলেন-
আজতো সায়নীর রান্না খেতেই এসেছি আমরা।সেই কবে খেয়েছি!এখন নিশ্চয় রান্না আরো বেশি ভালো হয়?
সায়নীকে চুপ থাকতে দেখে আফজাল খান বলেন-
আসলে ওর একটু শরীর খারাপ তাই দুপুরের রান্নাটা ও করতে পারেনি।তবে হুম রাতেরটা নিশ্চয় করবে।
-আমরা রাতের আগেই চলে যাবো।
-না না,তা হয়না।আজ থাকতে হবে।তাছাড়া পাবেলের সাথে দেখাই হয়নি।
-কিন্তু..
-আরে তাকেও সুযোগ করে দিন সায়নীর রান্না খাওয়ার জন্য।পাবেলকে ফোন করে ফ্রি হলে চলে আসতে বলুন।
-কথাটা মন্দ বলেন নি ভাই।
ওগো তুমি কি বলো?
পাবেলের বাবা হেসে বলেন-
তুমি যা বলো তাই।পাবেল আসলেই না হয় বিয়ের কথাটাও সেরে নিবো।
কথাটি শুনেই মুনিরার মায়ের মুখে হাসি ফুটে।আপদ দূর করতে পারবে ভেবেই
তিনি খুশিতে বলে উঠেন-
হুম ভাই সাহেব,সব যখন ঠিক হয়ে আছে আর দেরী কিসের জন্য!সায়নীর সাথে পাবেলের বিয়েটা সেরেই ফেলেন।
পাবেলের কাল রাতের কথা তার মায়ের মাথায় ঠিকই রয়েছে।
তাই তিনি সবার উদ্দেশ্য বলেন-
পাবেল চায় আগে কিছুদিন সায়নীর সাথে মিশতে।আর কিছুদিন পরেই না হয় বিয়ের কথা আগায় আমরা?কি বলেন আফজাল ভাই?
-আপনারা যা ভালো বুঝেন।
সায়নী কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে ফুফুর দিকে তাকাতেই ফুফু বলে উঠে-
এই যে,এতো বেশি রান্না করতে হবেনা।আবার শরীর খারাপ করবে।যেকোনো একটা আইটেম পাবেলের জন্য করলে হবে।
-জ্বী।
রাত ৮টা....
এতো লোকের মাঝে মুনিরার মনে পড়তে থাকে আফরানকে।
কেনো তার আফরানের প্রতি এতো ভালোলাগা কাজ করে!
যার জন্য এতো মানুষের ভিড়েও সে আফরানের কথা মনে করে চলেছে।
কলিং বেল এর শব্দ হয়।মুনিরা ভাবে আফরান এসেছে।সবাই ব্যস্ত থাকার কারণে সে তাড়াহুড়ো করে দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে দরজাটা খুলে দেয়।
কিন্তু দরজার ওপারে আফরান নয়,দাঁড়িয়ে রয়েছে পাবেল।
কয়েক সেকেন্ড মুনিরার দিকে তাকিয়ে পাবেল বলে উঠে-
মুনিরা!
(চলবে)
#বৈধ_সম্পর্ক
#পর্ব_১২
#Saji_Afroz
অপরিচিত একটা ছেলের মুখে নিজের নাম শুনতে পেয়ে অনেকটায় অবাক হয়ে যায় মুনিরা।
-আপনি মুনিরা না?
-হুম।কিন্তু আপনি কে?
-আমি পাবেল।
-সায়নী আপুর ফুফাতো ভাই নাকি?ওহ দুঃখিত উনার হবু স্বামী?
-জ্বী।
-কিন্তু আপনি আমাকে কি করে চেনেন?
-আনাস আমার বন্ধু ছিলো।স্কুলে একসাথে পড়েছি আমরা।
মুনিরাকে চুপ থাকতে দেখে পাবেল আবার বলতে শুরু করে-
আসলে আনাস শহরের স্কুলে মামার বাসায় থেকে পড়াশোনা করতো।তখন আমরা ফ্রেন্ড হয়েছিলাম।যদিও সে গ্রামের ছেলে আমি শহরের,পরবর্তীতে সে ডুবাই চলে যায় আর আমি আমেরিকায় তবুও আমাদের মাঝে যোগাযোগ ছিলো।আর আনাস আমাকে আপনার ছবি দিয়েছিলো আপনাদের বিয়ে ঠিক হওয়ার পরে।তাই আপনাকে দেখে চিনে ফেলেছি আমি।
-ওহ।
-কিন্তু আপনি এখানে?
-জ্বী সায়নী আপুর খালাতো ভাইয়ের সাথেই আমার বিয়ে হয়েছে।
-ও আচ্ছা।
-দুঃখিত অনেকক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখেছি আপনাকে।ভেতরে আসুন।
-আরে না ঠিক আছে,চলুন।
পাবেলের মুখে আনাসের কথা শুনে মুনিরার মনটা খারাপ হয়ে যায়।
আচ্ছা আনাস কি সত্যি সে অপয়া বলেই মারা গিয়েছে!
মুনিরা এক পা বাড়ানোর সাথে সাথে আবার কলিং বেল বেজে উঠে....
সে খুলে দিতেই আফরান কে দেখতে পায়।
-এসেছেন এতক্ষণে!জানেন আজ বাসায় মেহমান আছে?
-কেউ বললেইতো জানবো।
-বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু আপনি ফোন দিতে নিষেধ করেছিলেন বাইরে থাকা অবস্থায়।
-কে এসেছে?
-সায়নী আপুর ফুফুরা।
ভ্রু জোড়া কুচকে আফরান প্রশ্ন করে-
পাবেল এসেছে?
-উনি মাত্রই আসলো।উনার বাবারা দুপুরের আগে এসেছেন।
-ওহ।
হাসির মা পাবেলকে দেখে ছুটে চলে যায় সায়নীর রুমে....
তার কাছে গিয়েই হাঁপাতে হাঁপাতে বলে-
আপা মনি?
-কি ব্যাপার হাঁপাচ্ছো কেনো?
শরীর খারাপ?
-আরেনা।তোমার হবু বর আইসা পরছে।
-পাবেল?
-হো।
-ও আচ্ছা।
-যে সুন্দর।আমেরিকার পোলার মতন।তোমার সাথে মানাইবো খুব।
-এটা বলার জন্য ছুটে আসতে হয়?পড়ে গেলে কি হতো শুনি!
-আমিতো তোমারে তাড়াতাড়ি বলতেই ছুইট্টা আসলাম।যাও উনার কাছে।
সায়নীর মোটেও ইচ্ছে করছেনা পাবেলের কাছে গিয়ে ফালতু প্যাঁচাল করতে।
-আপা মনি যাওনা।আমি আফরান ভাইরে ভেতরে চলে যায়তে বলি।
-আফরান এসেছে?
-হো,ভাইজান তো তোমার হবু বরের পাশেই আছে বসার ঘরে।
-বাকি সবাই?
-তোমার খালুর ঘরে।
-আচ্ছা থাক।যেতে বলিওনা ওকে।
সায়নী নিজের চুলগুলো ছেড়ে দিয়ে চোখে হালকা কাজল দেয়।ঠিক করে আফরান কে তার শাস্তি দিতেই হবে।লম্বা একটা দম ফেলে এগিয়ে যায় ড্রয়িং রুমের দিকে।
-হ্যালো পাবেল?
সায়নীকে দেখেই দাঁড়িয়ে যায় পাবেল।
মুচকি একটা হাসি দিয়ে বলে-
কেমন আছো সায়নী?
-এইতো ভালো।আপনি?
-ভালোই।
-দাঁড়িয়ে কেনো গিয়েছেন!প্লিজ বসুন।
-কিন্তু তুমি?
-হুম আমিও বসবো।
পাবেলের পাশে গিয়ে সায়নী বসতেই আফরানের চোখ দুটো লাল হয়ে যায়।
-আপনি এতো দেরী করে কেনো এলেন?
-আসলে আমার একটা বন্ধু অসুস্থ হয়ে পড়ে যার জন্য.....
-ঠিক আছে।ভালোই হলো তখন আসেন নি।
-মানে?
-আসলে আমি তখন রান্না করিনি।এখন রান্না করবো আপনার জন্য।কি খাবেন বলুন?
-তোমার যা খুশি রাঁধো।
-আচ্ছা তাহলে আপনারা গল্প করুন,আমি আসি।
কি করে আমার সামনে সায়নী অন্য একটা ছেলের পাশে গিয়ে বসে এসব কথা বলতে পারছে!শুধু মাত্র আমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য!হুম হুম শাস্তি,তবুও কেনো আমার এতো খারাপ লাগছে!এসব ভেবে ভেবে আফরানের বুকের ভেতর উতাল-পাতাল করছে।সঠিক সময়ের অপেক্ষা করতে করতে সায়নী যদি পাবেলের হয়ে যায়!না কিছুতেই না।সায়নী শুধু তার।
-আপু আমি সাহায্য করি?
-আসলে আমি আমার হবু বরের জন্য নিজেই কিছু করতে চাইছি।কোনো সাহায্য লাগবেনা আমার।
-কিন্তু তোমার শরীরটা দূর্বল।
-কিচ্ছু হবেনা।এতো ভেবোনা।তুমি বরং অন্য কিছু করো।ইলিশ মাছ আমাকে একা রান্না করতে দাও।
-হেহে।আচ্ছা।
আজ সায়নীকে অনেকটা হাসিখুশি দেখে মুনিরারও বেশ ভালো লাগছে।তাকে দেখে মনেই হচ্ছেনা সে অসুস্থ ছিলো।
-কি ব্যাপার হঠাৎ এভাবে চলে এলে যে আফজালের রুম থেকে?
-তোমার ইচ্ছা হলে তুমি থাকো নাই কেনো?
-তোমার আবার কি হলো মুনিরার আম্মা?
-সেই কখন থেকে উনাদের বুঝাতে চাইছি পাবেলের সাথে সায়নীর বিয়েটা তাড়াতাড়ি দিয়ে দেওয়ার জন্য।তারা পাত্তাই দিচ্ছেনা আমার কথা।
-হাহা!এই ব্যাপার!
তাদের ছেলের ব্যাপার তারা বুঝবে,তুমি কেনো এমন করছো?
-সময় হলে বুঝবে কেনো করছি আমি।আপাতত চাইছি ওই মেয়ে এই বাড়ি থেকে দূর হোক।যতদিন সে থাকবে, শান্তি নাই আমার।
রাতের খাবার খেয়ে সকলে বসে গল্প করছে....
পাবেলের বাবারা চলে যেতে চাইলেও আফজাল খান যেতে দেয়নি।আর পাবেল যায়নি সায়নীর কথা রাখতে।
-সায়নী তুই এতো ভালো রান্না কি করে করিস বলতো!
ফুফুর কথায় মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে সায়নী বলে-
ভালো লেগেছে তোমার?
-শুধু ভালোনা।অনেক বেশি।
বিয়ের পরে তোকে কোনো কাজ করতে হবেনা।শুধু রান্নাটাই করবি।রান্না কিন্তু আর কাউকে করতে আমি দিবোনা।তুই কি বলিস পাবেল?
-আমি আর কি বলবো।
-কেনো তোর ভালো লাগেনি রান্না?
সায়নীর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে সে বলে-
লেগেছে।
রাত বাড়ার সাথে সাথে বড়রা যে যার রুমে চলে যায়।
আফরান খেয়াল করে সায়নীকে দূর্বল লাগছে আবার।
-সায়নী?
-হুম?
-ঘুমিয়ে পড়ো।তোমার শরীর ভালো নেই।
-না আমার উনার সাথে গল্প করতে ভালোই লাগছে।তুমি আর মুনিরা যাওনা ঘুমোতে।
আমরা গল্প করি।
আফরান কিছু বলার আগেই পাবেল বলে উঠে-
শরীর খারাপ মানে?সায়নী তুমি অসুস্থ?
-নাতো!
-আফরান যে বললো?
-ওহ আসলে কাল একটু খারাপ লেগেছে।
-তার মানে অসুস্থ।প্লিজ তুমি আর রাত জেগোনা।
-আপনার সাথে গল্প করতে ভালোই লাগছে আমার।
-উহু গল্প পরে করা যাবে।এখন ঘুমোতে হবে।
-কিন্তু..
-কোনো কিন্তু নয়।চলো আমি তোমায় রুমে দিয়ে আসি।
আফরানে এমনিতেই সায়নীর পাশে পাবেলকে সহ্য হচ্ছেনা তার উপর বেড রুমে নিয়ে যাওয়ার কথা শুনে মাথাটা খারাপ হয়ে যায়।তবুও রাগ সংযত করে পাবেলের দিকে তাকিয়ে আফরান বলে উঠে-
না থাক।
-মানে?
-মানে আমি ওয়াশরুমে যাবো এমনিতেও।তো আমি ওকে দিয়ে আসি।তোমরা থাকো।এসে আবার গল্প করবো।
-ঠিক আছে।
সায়নীকে নিয়ে আফরান চলে যায় সায়নীর রুমে।
ভেতরে ঢুকে দরজাটা হালকা ঠেলে সায়নীকে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে জড়িয়ে ধরে সে।
-উফ ছাড়ো আফরান।
-নাহ।
-লজ্জা করেনা তোমার?
-আমার বউকে আমি জড়িয়ে ধরেছি।কেনো লজ্জা লাগবে শুনি?
-কালকের থাপ্পড় আমি ভূলিনি।
-তাই আমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য পাবেলের সাথে নাটক করছো?কিন্তু লাভ হয়নি।জেলাস হয়নি আমি।
-দেখেছি আমি।
-কি দেখেছো?
-তোমার লাল লাল চোখ।
-হাহা।
আফরানের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে সায়নী বলে-
পাবেল কে সব জানাবো?
-তোমার ইচ্ছা।
-ঠিক আছে।মুনিরার বাবারা চলে গেলেই কিন্তু খালুকে সব বলবা।
-হুম হুম বলবো।তুমি চাইলে আমি এখনও বলতে পারি।আগেও বলেছি তোমাকে যখন বলতে বলো মুনিরার কথা বাবাকে বলতে পারবো আমি।
বলিনি?
-হুম।
-তবুও তুমি রাগ দেখাচ্ছো আমার সাথে।
-কি করবো!ঠিক রাখতে পারিনা নিজেকে।
-আর একটু ধৈর্য্য ধরো সব ঠিক হয়ে যাবে।
-হুম।ঠিক আছে যাও এখন।
-যাচ্ছি,আগে বলো কাল কোন গালে যেনো মেরেছি?
-সেটাকি ভূলবো!ডান গালে।
-এতো আদর মনে থাকেনা,এই একটা...আচ্ছা তুমি আমাকে মারো আজ।মেরে প্রতিশোধ নাও।
-হয়েছে ঢং অনেক।যাওতো কেউ দেখে ফেলবে।
আচমকা সায়নীর ডান গালে চুমু খেয়ে আফরান দৌড়ে তার রুম থেকে বের হয়ে যায়।
আফরানের এমন কাণ্ডে সব রাগ চলে যায় সায়নীর।
-কি বলেন আজ সায়নীর জন্মদিন!
-জ্বী হুম আজ জন্মদিন।
-ইশ আরেকটু আগে বললেতো ঠিক রাত ১২টাই উইশ করতে পারতাম।
আফরান ফিরে এসে দেখে পাবেল আর মুনিরা এখনও বসে গল্প করছে।তা দেখে সে বসতে বসতে বলে-
কি নিয়ে কথা হচ্ছে পাবেল?
-আজ নাকি সায়নীর জন্মদিন?
পাবেলের মুখে সায়নীর জন্মদিনের কথা শুনেই আফরানের মেজাজ খারাপ হওয়ার অবস্থা।কোনোমতে মাথা ঠাণ্ডা রেখে জিজ্ঞেস করে-
তোমাকে কে বলেছে?সায়নী?
-আরে না,মুনিরা।
মুনিরার দিকে তাকিয়ে আফরান প্রশ্ন করে-
তুমি কিভাবে জানো?
-বাবা সায়নী আপুর জন্য উপহার তৈরি করে রাখছিলেন।সেই সময় বাবার রুমে গিয়েছিলাম আমি।তার কাছ থেকেই শুনেছি।তাই ভাবলাম আপুর হবু বরকে বলি।উনি যেহেতু আছেন এখানে,আপুকে কোনো সারপ্রাইজ দিতে পারবেন।আপুতো সারপ্রাইজ অনেক পছন্দ করে শুনেছি।আপু সাথে সাথে ছিলো বলে এতোক্ষণ বলতে পারিনি।
-আরে সমস্যা নাই।আজ থেকে শুরু।পুরো দিন পরে আছে।এই আফরান ভাই আইডিয়া দাওনা কি করা যায়?আর তুমিতো ওকে আগে থেকেই চেনো।ওর কি পছন্দ তাও জানবে নিশ্চয়?
সায়নীর জন্য আগে থেকেই সারপ্রাইজ প্লান করে রেখেছিলো আফরান।কিন্তু মুনিরা আর পাবেলের জন্য সে একা তাকে সারপ্রাইজ দিতে পারবেনা ভেবেই মনটা খারাপ হয়ে যায় তার।হতাশ হয়ে তার আইডিয়ার কথা পাবেলদের বলতে থাকে সে।
সকাল ৭টা...
এলার্ম বাজছে.....
কিন্তু সায়নীর যতদূর মনে আছে সে মোবাইলে এলার্ম দিয়ে ঘুমোয়নি।তাহলে কোথায় বাজছে!ঘুম ঘুম চোখে সে বিছানায় বসে পড়ে।চারদিক আলোকিত হয়ে আছে।কিন্তু বারান্দার দরজা কে খুলেছে আর জানালার পর্দাটা বা কে সরিয়েছে!
বিছানা থেকে একটু দূরে টেবিল-টার দিকে তাকাতেই দেখে একটি ছোট টেবিল ঘড়ি,যেটাতে এলার্ম বাজছে।এই ঘড়িটা এখানে কিভাবে আসলো সায়নীর মাথায় কাজ করছেনা।তবে আপাতত এটা বন্ধ করাই তার কাজ।
সায়নী ঘড়িটা নেওয়ার জন্য বসা থেকে উঠতেই অবাক হয়ে যায়।ভালো করে চারদিক তাকিয়ে দেখে তার রুমের দেওয়ালে রঙ-বেরঙের বেলুন লাগানো,ফ্লোরে ফুলের পাপড়ি ছিটানো।
টেবিলের পাশে গিয়ে ঘড়িটা হাতে নিয়ে এলার্ম বন্ধ করে সে।এই ঘড়িটা সে আগে দেখেনি এই বাড়িতে।লাভ শেইপ এর অনেক কিউট একটা ঘড়ি।
টেবিলের উপর একটা কার্ডও দেখতে পায় সে।
হাতে নিয়ে খুলতেই লেখা দেখে-
Happy Birthday Sayoni...
আফরান ছাড়া তার জন্য এসব আর কে করতে পারে!
তার মনে না থাকলেও আজকের দিনটা আফরান ঠিকই মনে রেখেছে ভেবে খুশিতে তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে।
সেই সময় হাত দিয়ে তার চোখ দুটো চেপে ধরে পাবেল।
সায়নী হাতের ছোঁয়া পেয়ে কিছু না ভেবেই বলে ফেলে-
তুমি আজকের দিনটা মনে রেখেছো আফরান!
সায়নীর মুখে আফরানের নাম শুনে চমকে যায় পাবেল।
তার সাথে চমকে যায় দরজার পাশে আফরানের সাথে দাঁড়ানো মুনিরা।
written by #saji afroz

Tags:- 
বৈধ ভালবাসা - পর্ব ১১ - Part Story,ভালবাসা কাকে বলে,ভালবাসা উক্তি,ভালবাসা sms,ভালবাসা মানে কি,ভালবাসা অর্থ কি,ভালবাসা কবিতা,ভালবাসা বলতে কি বুঝায়
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!