রাত যখন গভীর Season:02 Part :26

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :26
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :26
রাত যখন গভীর Season:02 Part :26


=>হেই রিনি,
রিরিনিনি....
পিছনে ফিরে দেখনা?
ফাইনালি তোকে পেলাম?
রিনি।।।
=> আজিব তো।। এটা কি রিনি নই নাকি?
যাক পাশে গিয়ে দেখি!
রিনির ঘোর কাটে কারো ডাকে।রিনি তার পাশে একটা মেয়ে কে দেখে। সে মেয়ে টা ভালো ভাবে লক্ষ্য করে। এটা আর কেউ না।মেয়ে টা হলো  রিনির প্রিয় বান্ধুবী ঐশী। 
রিনি বলেঃ তোই এখানে? 
কেনো?
ঐশী বলেঃ আরে,তোই তো অনেক অনেক দিন কলেজ যাস না।তোদের বাসার মোবাইলে ও কল দিয়ে ছিলাম।কোন রেসপন্স পাইনি।আর আমি এখানে,আমার এক কাজিন এর বিয়ে তে আসলাম।হঠাৎ গাড়ি থেকে লক্ষ্য করলাম তোকে।
দূর থেকে দেখে ও চিনতে ভুল করিনি রিনি।তোর যে এখানে দেখা পাবো কল্পনা ও করিনি রিনি।
রিনি বলেঃ হুম। তো বিয়ে তে যা!
দেরি হয়ে যাবে তো?
ঐশী বলেঃ আহা আহা।মিস আপনি ও যাচ্ছেন আমার সাথে! 
রিনি বলেঃ পাগলের প্রলাপ করচিস নাকি?আমি যাবো না।
ঐশী বলেঃ কেন যাবি না?
রিনি বলেঃ যাবো না মানে যাবো না।
ঐশী বলেঃ তোর সাথে আড়ি না গেলে।
রিনি বলেঃআবে,
আমি কি ড্রেস পড়ে আছি দেখচস?
এগুলো নিয়ে বিয়ে তে কেমনে যাবো?একটা প্রস্তুতি ব্যাপার আছে না।
ঐশী বলেঃ এটা কোন কথা। মে হো না।আর শোন,
আমার কাছে অতিরিক্ত একটা কাপড় আছে। গাড়ির মধ্যে উঠে পড়।এখনই যাচ্ছি আমরা।অকে!
আবার, 
ঐশী বলেঃ তোই এইখানে কি জন্য আসচস?
কলেজ না গিয়ে ঘুরাঘুরি! 
অনেক পড়া মিস গেলো তোর!!
রিনি বলেঃ আমি বেড়াতে এসেছি।আব্বু বন্ধু অর্ক আঙ্কেল এর বাসায়। 
কালকে ই বেক করবো।।
আর,
 কলেজ এখন থেকে রেগুলার যাবো।
পড়া কভার করে নিবোনে।না বুঝতে পারলে, তুই আছিস কি জন্যে????
রিনি মনে মনে বলছে, যদি জানতি ঐশী  কেনো আসলাম! এই জায়গায়?
কেনো আসলাম অর্ক আঙ্কেল এর বাসায়? 
কি হয়েছে আমার সাথে? তাহলে, 
তুই ও শিহরীত হবি?
আবার, 
রিনি বলে উঠেঃআরে ঐশী,  বাসায় কি বলতে হবে না নাকি আজব? 
সবাই যদি চিন্তা করে? 
তখন আবার আমাকে খুজতে বের হবে।রাস্তায় রাস্তায় পাবলিসিটি করবে??
হি হি হি।।
 তাছাড়া, 
মা তো বেজায় রাগ করবে!!
ঐশী বলেঃ জানিতো।চল এবার।
আমি মোবাইল করে তোর বাসায় বলবো।সো ডোন্ট ওয়ারিড মাই জান।তোর আম্মু কিছু করবে না দেখিস।।
রিনি আর দ্বিমত পোষণ করে নি।কারণ, ঐশী যে চিজ,না গেলে রিনিকে হাজার টা প্রশ্ন করবে।এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে হয়তো বা রিনি শহীদ হয়ে যাবে।
দুজন গাড়িতে উঠে পড়ে। গাড়ি চলছে। গাড়ি থেকে প্রকৃতি দেখছে, রিনি ও ঐশী। 
প্রকৃতি দেখতে দেখতে, 
গাড়ি টা এসে থেমেছে একটা বড় প্রাসাদ এর সামনে। দুজন গাড়ির থেকে বেরিয়ে আসে।আর তখনই, আগমন ঘটে,  দুটা মহিলার।মহিলা দুটো  ঐশী র কাছে চলে আসে। 
তারা বলেঃআপা, বিয়ে শুরু হতে অল্প কিছু সময় বাকি।আপনারা প্রস্তুত হয়ে নিন।দেরি কইরেন না কিন্তু। 
ঐশী বলেঃ আচ্ছা। আমার রুম টা কোন দিকে?
আর মা কে জানিয়ে দিবে আমি এসেছি।
মহিলা বলেঃ আপনার রুস আগের টাই আছে। 
ঐশী বলেঃআচ্ছা। আমি রেডি হয়ে আসছি।
মহিলা চলে গেল। এমন সময়, 
রিনি বলেঃ এই টা কার প্রাসাদে আনলি?
ঐশী বলেঃ হাটতে হাটতে বলি।সময় বেশি নেই।রেডি ও হতে হবে। 
রিনি বলেঃ হুম চল।
ঐশী বলেঃ আমার দাদা পুরাতন জমিদার ছিলেন।এটা তার ই প্রাসাদ। অনেক চাকর চাকরানি ছিলো।এখন ও অল্প কিছু আছে। আর আজ আমার চাচাতো বোন সাদিয়ার বিয়ে। আমি আগে আসতে পারিনি,কারণ আমার ময়না পাখি টা অসুস্থ ছিল। আজকে পশু হাসপাতালে রেখে এখানে আসলাম।মা বলেছেন বিয়ে তে না আসলে, আমার পকেট মানি কমিয়ে দিবে।সো জাবারদাস্তি আসতে হলো।
রিনি বলেঃ হুম বুঝতে পারছি। তো রুম টা কোন দিকে? 
ঐশী বলেঃ এইতো সামনের টা।আই,
দুজন রুমে প্রবেশ করে। রিনি দেখে, রুম টা অনেক আলিশান একটা রুম।রুমের প্রত্যেকটা জিনিস অনেক পরিপাটি করে রাখা আছে। বিছানার উপর একটা লেহেঙ্গা রাখা আছে। 
রিনি বলেঃ এটা কার জন্য রে?
ঐশী বলেঃ আমার জন্য। 
ঐশী আবার বলেঃ তোর জন্য একটা আছে, ওয়েট।
এরপর, বেগ থেকে ঐশী একটা লেহেঙ্গা বের করে দেয়। আর বলেঃ যা এটা পড়ে নে।আমি ও আমারটা পড়ে নি।
রিনি ড্রেস টা পড়ে নিলো।কিন্তু রিনির পেট দেখা যাচ্ছে। সাথে দেখা যাচ্ছে তার সেই তিল টা।
রিনি তাড়াতাড়ি এসে বলেঃ আবে,এটা কি দিলি?
পেট দেখা যাচ্ছে? 
অন্য কোন ড্রেস কি নেই?
এটা বলতেই,রিনির চোখ যায়, ঐশীর দিকে। ঐশী একটা লেহেঙ্গা পড়েছে।তবে ব্লাউজ টা অন্য রকম। কাধ এর দিক দিয়ে উম্মুক্ত। পেট ও দেখা যাচ্ছে। পিট এর অনেক টা অংশ ও দেখা যাচ্ছে। 
ঐশী বলেঃ মেরি জান।
আমার টার চেয়ে বেটার না তোর টা?
নাকি আমার টা পড়বি?
রিনি বলেঃ না না বাবা, এটাই ঠিক আছে। আমি এটাই পড়লাম।
ঐশী বলেঃ তোর টা ও এই ডিজাইন মানে আমার গায়ে যেটা পড়লাম। এ ডিজাইনে করার  কথা ছিলো।কিন্তু ভুলে এমনটা হয়ে গেল। 
রিনি বলেঃ আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন। তোর এই রকম লেহেঙ্গা পড়া আমার পক্ষে 
জাস্ট ইম্পসিবল। 
ঐশী বলেঃ হয়ছে মেরি জান।আমাদের দেরি হয়ে যাবে।সাজগোজ করে নে।
টেবিলের কাছে গহনা আর মেকআপ এর সামগ্রী আছে। তৈরি হয়ে নে।আমি ও তৈরি হচ্ছি।
রিনি আয়নার সামনে চলে গেল। আয়নার মধ্যে দেখে,আজ রিনি কে অন্য রকম লাগছে।এমন ড্রেস আগে পড়েনি কখনো। 
আর বেশিক্ষণ নিজের দিকে তাকিয়ে  চিন্তা করে নি রিনি।কারণ দেরি হয়ে যাবে। 
রিনি এরপর, একটা বড় গহনা গলায় পড়ে। কপালে টিকলি,হাতে হাত ভর্তি চুড়ি, কানের মধ্যে কানের দোল,
চোখে কাজল, ঠোঁটের মধ্যে লাল লিপস্টিক। কপালে একটা ছোট টিপ।
চুল গুলো খোলা রাখে নি।কারণ, চুল গুলো ও ওতপ্রোতভাবে জড়িত রিনির এই অবস্থার জন্য। 
তাই রিনি চুলের মধ্যে সিতা করে, চুল গুলো খোপা করে নিলো।হালকা মেকাপ।রিনির ব্লাউজ টা লাল রঙের ছিলো।লেহেঙ্গার নিচের টা সাদা।ওড়নার সাদা হলেও পারটা লাল ছিলো। 
রিনি এখন সম্পূর্ণ রেডি।রিনি পিছনে ফিরে দেখে ঐশী ও রেডি।ঐশী কে সবুজ রঙের লেহেঙ্গা টা বেশ মানিয়েছে।
ঐশী, রিনির কাছে এসে বলেঃ হাই।মেরি দোস্ত কো না নাজার না লাগে। লাল রঙের লেহেঙ্গা তে জাস্ট অস্থির লাগছে।
রিনি বলেঃ যা একটু বেশি বলিস।তোরে কিন্তু সেই লাগছে। আমি কিন্তু ফিদা হয়ে গেলাম বেবি।
ঐশী বলেঃহয়ছে হয়েছে আর বলিস না।এবার, যা তো।
রিনি বলেঃ কই যাবো?
ঐশী বলেঃ
 ওই যে দরজার সামনে গিয়ে স্টাইল করে দাঁড়িয়ে থাক।
রিনি বলেঃ কেন?
ঐশী বলেঃ যা না মেরি মা।
রিনি স্টাইল করে দাঁড়িয়ে আছে। ঐশী মোবাইল দিয়ে টুস টাস কয়েক টা ছবি তুলে নেই। এরপর দুজনের কিছু সেলফি নিলো।রিনি ও ঐশী কে বেশ কিছু ছবি তুলে দিলো।
রিনি বলেঃ হলো কি?
ছবি তুলতে তুলতে বিয়ে শেষ হয়ে যাবে।এবার তো চল।
ঐশী বলেঃ আচ্ছা চল। 
কতদূর এসে,ঐশী বলেঃ আরে তোর বাসায় কল করে বলে দি।
রিনি বলেঃ হা বলে দে।না হলে খুজতে বের হবে। 
ঐশী বলেঃ আচ্ছা। 
কল দেয় রিনির বাবা কে। মা কে দেয় নি কারণ মায়েরা প্যাচাল বাড়ায়। 
ঐশী বলেঃ আঙ্কেল রিনি আমার সাথে আছে। রাতে পৌঁছে দিবো। রাতে না হলে একদম সকালে দিবো।
মোবাইলের অপর প্রান্ত থেকে কামাল বলেঃ আচ্ছা মা।একটু দেখে রেখো।আমার মেয়ে টার মন ভালো নেই ভালো হলো তোমার সঙ্গ পেয়ে। ঠিক সময়ে পৌঁছে দিও।আমরা কাল দুপুরে বাসায় বেক করবো।
মোবাইল টা কেটে দিলো।রিনি ও হাফ ছেড়ে বাচলো।
দুজন পা বাড়ালো অনুষ্ঠানের দিকে। তাছাড়া, রিনির ভালো লাগছে, ঐশীর সাথে থাকতে পেরে।রিনির মনটা ও ভালো হয়ে গেছে অনেকটা। কিছু সময়ের জন্য সব কিছু অনেকটা ভুলে গেছে রিনি।
অনুষ্ঠানে প্রবেশ করে দুজনেই। কিন্তু অনুষ্ঠানে প্রবেশ  করতেই, রিনির কেমন যেনো একটা অনুভূতি হচ্ছে। 
💮
💮
সুমি বসে বসে কান্না করছে। কারণ কি করবে সে?
রহমান ও ছেড়ে চলে গেল। বিয়ে হয়ে গেছে হুক না রহমান জিন?
বিয়ে তো বিয়ে। 
যার ফলস্বরুপ তো সুমি এখন বিবাহিত! 
কি করবে কিচ্ছু বুঝতে পারছে না সুমি।
হঠাৎ করে, সুমির সামনে, রহমান জিন ( শয়তান প্রিন্স)  হাজির হলো।
রহমান জিন বলেঃ এই দিকে আসো।আমাকে জড়িয়ে ধরো।
সুমি বলেঃ কেন জড়িয়ে ধরবো?
রহমান বলেঃ চুপ একদম। যা বলছি তাই করো।অন্য তায় আমার রাগ উঠে যাবে।
সুমি আর কথা বাড়ালো না, রহমান কে জড়িয়ে ধরে। মূহুর্তে তারা আবার রহমানের রুমে চলে আসে। 
রহমান বলেঃ সুমি তোমার সাথে যেভাবে হবে হোক বিয়ে টা তো হলো।তুমি আমার বউ।
তাই আমি আমার বউ কে রেখে আসতে পারলাম না।
যাও ফ্রেশ হয়ে নাও।তাছাড়া, আমি পৃথিবীতে একটা কলেজ এর স্যার।কিছু দিন পর জয়েন্ট করতে হবে। তখন তুমি ও পৃথিবীতে বেক করবে আমার সাথে ততদিন এইখানে থাকতে হবে। আর আমার মা বাবা কে কষ্ট দিও না।
সুমি নিশ্চুপ হয়ে সব শুনছে।সুমির কেন জানি এই মানুষটার কথা গুলো বড্ড শুনতে ইচ্ছে করে। মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকতে মন চাই।
রহমান ওয়াশরুমে ফ্রেশ হতে গেল। সুমি দাঁড়িয়ে আছে। কারণ, তার কাছে কাপড় নেই।
রহমান কখন যে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে গেল ।আর রুম থেকে যে কখন  বেরিয়ে গেল সুমি বুঝতে পারে নি। 
সুমি বলেঃ এখন কাপড় কোথায় পাবো?
আমার তো গোসল করতে হবে। রহমান কেউ দেখছি না।
এমন সময়, সুমির চোখ গেল। রহমানের কমলা রঙের টিশার্ট এর দিকে।সুমি আর কিছু চিন্তা না করে সেটা নিয়ে ওয়াশরুমের মধ্যে চলে গেল। 
টিশার্ট টা সুমি গোসল করার৷ পর পড়ে নেই।কিন্তু, তার পা গুলো উম্মুক্ত হয়ে আছে। টিশার্ট টা টানতে টানতে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে পড়ে। 
সুমি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে দেখতে পেল......... 
💮
💮
শাম্মি ও হাবিব দাড়িয়ে আছে বাগানের পাশে। একটু পর শাম্মি চলে যাবে তার নিড়ে।
কিন্তু, শাম্মি চলে যাবে বলাতে হাবিবের বুকের মাঝে তিব্র যন্ত্রণা অনুভব করল। 
শাম্মি নামক পাখি টা ফিরে যাবে।তার নীড়ে। কিন্তু এই চলে যাওয়া টা বড্ড জ্বালাচ্ছে হাবিব কে। 
দুজন অনেক্ক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ কিচ্ছু বলছে না।হাবিব নিরবতা ভেঙ্গে বলে উঠেঃশাম্মি প্রথম দেখে তোমার মাঝে ডুবে গিয়ে ছিলাম। বড্ড বেশি ভালোবেসে ফেলেছি।জানি না তুমি ভালোবাস কিনা।
কিন্তু আমার মন ও প্রাণ জুড়ে শুধু তুমি আছো। 
আমার এই দু-হাতে তোমার হাত রাখবে কি?
একসাথে বিয়ে নামক বন্ধনে আবদ্ধ হবে কি?
শাম্মি অপলক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে হাবিবের দিকে। বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে, শাম্মি বাগান থেকে চলে গেল। পিছনে ফিরে ও দেখে নি।
হাবিব বলেঃ ভালোবাসা প্রকাশ করা টা যদি পাপ হয়।তাহলে এই পাপের শাস্তি পেতে দ্বিধা বোধ করবোনা।শাম্মি মাথা পেতে নিবো।কিন্তু তোমার কাছ থেকে দূরত্ব টা মেনে নিতে পারবো না। শাম্মি তুমি কি এই ভালোবাসা হীন  অপূর্ণ মরুভূমির জীবন টাকে তোমার ভালোবাসা দিবে না???
চলবে......
রিনির এমন কেন অনুভূতি হচ্ছে?? 
কমেন্ট করে বলেন??
গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে জানাবেন???
১-২৬ পার্টের মধ্যে কোন পর্ব যদি কিছু না বুঝে থাকেন আমাকে জানাবেন কমেন্ট করে।।।। 
(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!