রাত যখন গভীর Season:02 Part :13

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :13
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :13
রাত যখন গভীর Season:02 Part :13


প্রিন্স তখন, একটা দীর্ঘ শ্বাস নেই। সাথে সাথে, 
চোখ বন্ধ করে।
প্রিন্স (ইনতিয়াজ) বলেঃ আর কতক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকবে? নাকি জড়িয়ে ধরে থাকার ইচ্ছে?এইভাবে  জড়িয়ে ধরে থাকলে কিন্তু কিছু একটা হয়ে যাওয়ার সম্ভবাবনা আছে। তখন কিন্তু আমাকে দোষ দিতে পারবা না।আবার কান্না ও করতে পারবে না।
রিনি চোখ জোড়া খুলে দেখে। একটা খুব সুন্দর রুম। অনেক বড়।কিন্তু রিনির মনে হচ্ছে, প্রিন্স কে জড়িয়ে ধরেছে মাত্র ১ মিনিট ও হবেনা।এত তাড়াতাড়ি পৌঁছে গেল। 
রিনি মনে মনে বলছেঃ চান্দু,আমাকে কথা শোনাই ছো।এর হিসেব আমি বরাবর করে দিবো।আমি তো জানতাম না ১ মিনিট পৌঁছে যাবো যে সেটা।তাই বলে ওমন কথা বলবে।সময় আমারও আসবে, 
রিনি আড় চোখে তাকিয়ে আছে প্রিন্সের দিকে।
তখনই,
প্রিন্স বলেঃ বস।এবার বল,কি হয়েছিল? তুমি কেমনে এইখানে? সব খুলে বল রিনি।।।।
রিনি সব খুলে বলে। এরপর 
রিনি বলেঃ আপনি কেমনে ওই ঘরে, ওই মহিলার রুমে ছিলেন?আপনার সাথে কি হয়েছিল? 
প্রিন্স ও তার সাথে যা যা হয়েছে সব খুলে বলে। প্রিন্স বলেঃ আচ্ছা, রিনি তুমি তো সব বলছো।তবে যে জিন এসব করছে?  তার নাম কি?
দেখতে কেমন?কিছুই তো বল নি।
রিনি বলেঃ বিশ্বাস করবেন? কে করছে এসব তার নাম বললে!তাছাড়া হুহ্। আমার প্রতি আপনার প্রতিশোধ এর নেশা ধরিয়ে দিতে সে মুখ্য ভুমিকা রেখেছিল।
প্রিন্স বলেঃ আমি জানি রিনি তুমি মিথ্যা বল না।তোমার সাথে তু ছিলাম।যখন ছিলাম, তখন প্রতিটি মূহুর্তে, তোমাকে অনুসরণ করেছি।বিশ্বাস করি তোমাকে রিনি।আমার নিজের চেয়ে বেশি। বল কে করছে?
রিনি বলেঃ সব কিছুর মূলে আছে, রহমান জিন। আপনার সেই কলিজার বন্ধু। যা কে নিয়ে আমার স্কুলে যাওয়ার পথে দাড়িয়ে থাকতেন।
প্রিন্স নিস্তব্ধ হয়ে আছে। সে যেন নিজের কান কে বিশ্বাস করতে পারছে না।
প্রিন্স বলেঃ রিনি ওটা শয়তান জিন এর বাসা ছিল। বলতে পারো শয়তান প্রিন্স এর।কিন্তু রহমান কেমনে শয়তান প্রিন্স? 
রিনি বলেঃ সেসব তু আমি জানি না।
প্রিন্স বলেঃ রিনি, সরি।তোমার জীবন টা একদম নষ্ট করে পেলেছি।আসলে, রাগ,প্রতিহিংসা, প্রতিশোধ এর মনোভাব কখনও ভালো কিছু নিয়ে আসে না।তার জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছো,তোমার পরিণতি  রিনি।
রিনি বলেঃ আমি এসব নিয়ে চিন্তা করি না।এটাই আমার ভাগ্যে আছে বা ছিল বলে মেনে নিয়েছি।বাবার কথার অবাধ্য হওয়ার জন্য এই শাস্তি আল্লাহ পাক আমাকে দিয়েছে এটা আমার প্রাপ্য। 
প্রিন্স বলেঃ আমরা ২,৩ দিন পর পৃথিবীতে যাবো।কারণ এখন যাওয়া টা তোমার জন্য সুরক্ষিত না।এই জায়গায় তুমি সুরক্ষিত। 
রিনি হালকা মাথা নাড়ে। দুজন দু পাশে বসে আছে। প্রিন্স এর মন বড্ড জ্বালাচ্ছে। কারণ, সে ভালো ভাবে বুঝতে পারছে,রিনির মনে তার জন্য এখনো কোন জায়গা হয়নি।জায়গা তো এমনে এমনে হয়না করে নিতে হয়।
প্রিন্স জানালায় দাঁড়িয়ে বাইরের প্রকৃতি দেখছে।সত্যি বলতে, যখন কারো প্রতি ভালবাসা বেশি হয়ে যাই, তখন সেই ভালোবাসা সুখের চেয়ে কষ্ট বেশি দেয়। 
এটা বলে, প্রিন্স পিছনে ফিরে দেখে রিনির দিকে।রিনি কোন প্রতি উত্তর দেয় কিনা।
কিন্তু রিনি বাচ্চা মেয়ের মতো ঘুমিয়ে পড়লো ।মুখে ফুটে আছে  রিনির ভুবন ভোলানো মিষ্টি একটা হাসি।
প্রিন্স আবার বলে উঠেঃযে মিষ্টি হাসি দিয়ে সবার কষ্ট কে ভুলিয়ে দেয়, হাসি ভুলে সে ও একসময় কাঁদে কিছু কষ্ট ভুলতে পারে না বলে। 
এমন কিছু কষ্ট লুকিয়ে আছে রিনি ও প্রিন্স দুজনের মনে।তারা এসব কষ্ট পিছিয়ে রেখে সামনের জীবন টা সুন্দর করতে পারবে?।রিনির মনে কি একটু জায়গা হবে প্রিন্স এর জন্য?
নাকি অপ্রাপ্তির খাতায় নাম লিখাবে দুজনেই? 
💮
💮
💮
=>সুমি প্লিজ এমন করো না। তাছাড়া, আমাকে ভুল বুঝলে।ও আমার চাচাতো বোন ছিল। বিশ্বাস কর, সব ঠিক হয়ে যাবে।আর আজকে হলুদ ড্রেস পরেছো।বেশ মানিয়ে ছে।চোখ ই সরাতে পারছিনা।
এতক্ষণ ধরে সিরাজ তার শেষ চেষ্টা করছে সুমি কে বুঝাতে। সুমি বাসার সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে।বিশেষ করে জান্নাত এর চোখ ফাঁকি দিয়ে বাসার থেকে একটু দূরত্বে একটা কফির দোকানে এসেছে।কারণ সিরাজ নানা ভাবে ইমোশনাল করছিল।শেষ দেখা হলে করতে বলেছে। এক সময় তো ভালোবেসে ছিল এখন ও ভালোবাসে সুমি। অনুভূতি গুলো এখনো কাজ করে তাইতো শেষ দেখা করতে চলে এসেছে। 
সুমি বলেঃ আচ্ছা সিরাজ,
নিজের হবু বর কে যদি অন্য মেয়ের গলায় হাত দিয়ে ঘুরতে দেখি?
সেই মেয়ের কোলে মাথা রেখে গল্প করতে দেখি? তাহলে নিজের চোখ জোড়া কে কেমনে অবিশ্বাস করবো? 
আসলে, তুমি যে আমার পাশে বসে আছ আমার কাছে তোমাকে প্রয়োজনীয় মানুষ বলে মনে হচ্ছে না। 
কথায় আছে, 
"মনের দূরত্ব বেড়ে গেলে,
পাশাপাশি চেয়ারে বসে ও
তাকে প্রয়োজনীয় মানুষ 
বলে মনে হয় না।"।।।।
তাছাড়া, কারো সম্পর্কে খুব বেশী জেনে ফেলতে নেই,সবটা পড়া  হয়ে গেলে তার প্রতি আমাদের আগ্রহ কমে যায়। প্রকৃতি রহস্য পছন্দ করে না।মানুষ রহস্য পছন্দ করে। মানুষ কে থাকতে হবে রহস্যময়।।।
আমার জীবনের প্রত্যেক পাতা তোমার জানা তাই হয়তো রহস্য ময়ী ভাব টা নেই। সমস্যা নেই তোমাকে মুক্ত করে দিলাম।
মনে রাখবে সিরাজ একটা কথা, আগে যতটা চেষ্টা ছিলো, তোমাকে পাওয়ার, আজ তার চেয়ে বেশি চেষ্টা , তোমাকে ভলে যাওয়ার।আসি সিরাজ।খুদাহ হাফেজ। 
সিরাজ বেশ কয়েক বার ডেকে ছিল। সুমির অশ্রুতে টলটল চোখ জোড়া পিছনে ফিরে দেখে নি।এগিয়ে চলছে সামনের দিকে। 
সুমি মনে মনে বলছে, সিরাজ,তোমার তো আজ কথা, বলার অনেক মানুষ আছে, তাই বুঝি আজ আমায় তোমার এতো অচেনা লাগে। রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে আসছে।।।
😣
💮
💮
বেশ কয়েক ঘন্টা হয়ে গেছে। অর্ক বলেঃ তোমরা সবাই আছ,সুমি কই? কোথায় গেছে?এখন আমাদের কাজ শুরু করবো তো।ওকে যে দরকার। 
সবাই চুপচাপ।কারণ কেউ জানে না সুমি কই গেছে? 
অর্ক রেগে গিয়ে বলেঃ সবাই কে নিষেধ করে দিছিলাম কোথাও না যাইতে।দুর এখন রিনি কে না  খুঁজে সুমি কে খুঁজতে হচ্ছে। অথচ, কথা ছিল আজ রিনিকে চিরনি অবিজান চালিয়ে খুঁজে বের করবো।বাল তা আর হলো না।সুমির মোবাইলে কল দে জান্নাত। 
জান্নাত বলেঃ মোবাইল টা যে বন্ধ। বেশ কয়েক বার কল দিছি।
তখনই, 
শাম্মি বলেঃ সিরাজ কে একটা কল দিয়ে দেখেন মনে হচ্ছে, ওনি কিছু জানতে পারে।
রাহাত হুজুরঃ কল দিল।জানতে পারলো তাদের দেখা হয়েছে। তবে অনেকক্ষণ হয়ে গেছে, সুমি কফির দোকান থেকে বেরিয়ে পড়েছে।
হাবিব বলেঃ তাহলে, সুমি কোথায়?দোকান টা থেকে আসতে তো এতক্ষণ লাগে না।আনুমানিক, ১০ মিনিট লাগবে।এখন তো প্রায় কয়েক ঘন্টা হয়ে গেছে। 
সবাই সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় সুমিকে খুঁজে দেখে কিন্তু পেল না।জান্নাত একদম মন মরা হয়ে গেছে। কারণ তার বেস্ট ফ্রেন্ড কে পাচ্ছে না।কোথায় কথা ছিল আজ রিনি কে খুঁজে বের করবে সবাই মিলে।সেই জায়গায় আরেক জন নিখুজ হয়ে গেছে। রাতে সবাই চিন্তা করছে।সারাদিন খুঁজে ও পেল না সুমিকে।পুলিশ কে ও জানিয়েছে।পর মুহূর্তে, 
=>মেম মেম কই আপনি??? আপনার রুম রেডি।সরি একটু বেশি দেরি করে ছি।তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েন।কাল যে বিয়ে। অনেক ধকল যাবে কাল আপনার উপর। তাই রেস্ট নিয়ে নেন।
মহিলা রুমে প্রবেশ করে দেখে রিনি নেই। পাশে সেই বোতল টা খুলা অবস্থায় পড়ে আছে। 
মহিলা সারা ঘর খুঁজে দেখে কিন্তু কোথাও রিনি নেই।

মহিলা বলেঃ কাল যদি বিয়ে টা না হয়?
রিনি কে না পাই রহমান তো আমাকে মেরে ফেলবে।তাছাড়া রিনি যে কেমনে পালিয়ে গেছে এই ঘর থেকে হুহ।প্রিন্স রহমান এর বউ পালিয়ে গেছে নানা জনননানা কথা বলবে।কি যে করি?????
মহিলা ভেবে কোন কোল কিনারা পাচ্ছে না। এমন সময়, মহিলার আরেক জিন বান্ধুবীর কথা মনে পড়ে। সে অসম্ভব সুন্দরী ও বুদ্ধিমতি।সেই পারবে এই অবস্থা থেকে বের করতে। মহিলা এক মুহূর্তে চলে গেল তার বান্ধুবীর বাড়িতে।রাত তখন অনেক গভীর । এমন সময়, 
.........
চলবে........
সুমি কই?
কোন দূর্ঘটনা হয়নি তো! আপনাদের কি মনে হয় 
 ???😬😬😬😀
আপনাদের কি মনে হয় রিনির মনে  প্রিন্স জায়গা করতে পারবে?? 
***
[ গল্প কেমন হচ্ছে জানাবেন ]
?? 😍😍😍😉
আমার  সাথে Instagram এ কানেক্টে থাকতে পারেন।Instagram id(jannatul_mawa_moho)
*বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টি তে দেখবেন 😍😍😍
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!