রাত যখন গভীর Season:02 Part :30

#রাত যখন গভীর 

#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 

#(jannatul mawa moho)

Season:02

Part :30

************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :30
রাত যখন গভীর Season:02 Part :30


রিনি ছুটির দিন কাটাচ্ছে।একদিন সকালে,
রিনি বসে বসে টিভি তে ডোরেমন দেখছিলো।এমন সময়, রিনির মোবাইলে কল আসে।
রিনি মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে.
ঐশী কল করেছে।
রিনি বলেঃ কি খবর তোর?
কলেজ এ আসিস নি কেন এতো দিন?
ঐশী বলেঃসেটা বড় কথা না।বড় কথা হচ্ছে, মাহমুদ স্যার আসছিল। আমার পরীক্ষার প্রস্তুতি কেমন জিজ্ঞেস করছিলো।
রিনি বলেঃ তো?
ঐশী বলেঃআমি ভালো বললাম।আমার রুমে তোর সাথে আমার একটা ছবি আছে। স্যার ছবির দিকে তাকিয়ে বলে,এই মেয়ে দেখবা আমার ভার্সিটি তে চান্স পাবে না।
আমি স্যার কে বলছি তোই অনেক ভালো। কিন্তু স্যার এর একটাই কথা। তোই চান্স পাবি না।
রিনির রাগ হচ্ছে বড্ড। রিনি বলেঃ ব্যাটার সাহস হয় কেমনে?
বাই।তোর সাথে পরে কথা বলবো।
রিনি কল কেটে দেয়। টিভি বন্ধ করে দেয়। বই নিয়ে বসে যাই। রাত দিন পড়া লেখা করছে।মোবাইল বন্ধ করে দিলো রিনি।
কামাল বলেঃ রাবেয়া আমাদের মেয়ের কি হলো?
এতো পড়তেছে কেন?
রাবেয়া বলেঃ থাক পড়োক।যতো পড়বে ততো ভালো নাম্বার আসবে।
এই ভাবে করে, রিনির পরীক্ষার দিন ঘনিয়ে আসে। রিনির প্রস্তুতি একদম পারফেক্ট।
অবশেষে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। রিনির সব পরীক্ষা ভালো হয়েছে।রিনির রেজাল্ট বেরিয়ে আসে। রিনি Golden a+ পেয়েছে। আজ রিনি ভার্সিটি পরীক্ষা। রিনি হলে প্রবেশ করে। কিন্তু পরীক্ষা তে গার্ড ছিল মাহমুদ স্যার।রিনির সামনে দাড়িয়ে ছিলো পরীক্ষা শেষ হওয়া অবধি। রিনির সব প্রশ্ন কমন আসছে তাই সমস্যা হয়নি।
ফল প্রকাশ হলো।রিনি ১ম হলো ভর্তি পরীক্ষাতে।রিনি অনেক খুশি।
রিনি ঐশী কে কল দিয়ে বলেঃ তোর স্যারকে রেজাল্ট দেখতে বলিস।
আজ রিনির প্রথম দিন ভার্সিটি তে।রিনি আজ কালো শাড়ী পড়েছে। আজ কামাল এবং রাবেয়া ও যাচ্ছে। জান্নাত ও আসবে।জান্নাত যেখানে মুগ্ধ তো সেখানে যাবেই। হাবিব যাবে না বললো।রহমান এবং সুমি ও উপস্থিত থাকবে।কারণ তারা সবাই এই ভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী।তাদের কে ভার্সিটি পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
রিনি ভার্সিটি তে পা দেয়।আজ ফ্রেশার দের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
রিনির মা,বাবা কামাল, রাবেয়া এবং বাকিরা সবাই এক দিকে বসে । রিনি তার বান্ধুবী দের কাছে যাচ্ছে।
হঠাৎ করে, রিনি সামনে একটা ছেলে আসে। ছেলে টা বলেঃ এই যে, আপনার চোখে কি যেনো লেগে আছে।
ছেলে টা রিনির চোখ স্পর্শ করতে যাচ্ছি লো। তখন মাহমুদ স্যার চলে আসে।
মাহমুদ বলেঃ মিস্টার, নয়ন।
আপনার কি এটা নাকি কাজ?
কার চোখে কি পড়েছে তা দেখা?
এখনই এই জায়গা ছেড়ে স্টেজ এ যান।ওইখানে অনেক কাজ আছে।কি যাবেন নাকি
অন্যথায় খারাপ কিছু হয়ে যাওয়ার অপেক্ষা করছেন?
নয়ন হচ্ছে, ইতিহাস এর লেকচারার। মাহমুদ, নয়নের সিনিয়র। তাই মাহমুদের কথা মেনে নিলো।
মাহমুদ বলেঃ মিস আপনি কি দাঁড়িয়ে থাকবেন?
রিনি বলেঃ যাবো তার আগে আপনার সাথে একটা বুঝাপড়া আছে।
কি জানি বলছিলেন?
আমি চান্স পাবো না!
এখন কেমনে পেলাম?
আর ১ম ও হলাম।
মাহমুদ বলেঃ প্রশ্ন সহজ ছিলো তাই।
মাহমুদ আর কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছি লো। তখন ই একটা শাড়ী পড়ে একটা মেয়ে আসে। তাকে দেখে মাহমুদ একটা মিষ্টি হাসি দেয়।
মেয়ে টা মাহমুদ এর হাত ধরে। দুজন একসাথে চলে গেল। রিনি তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। রিনির মনে অস্থিরতা কাজ করছে।
রিনি বলেঃ কেনো এমন হচ্ছে এমনটা হওয়ার কথা তো ছিলো না।
রিনির মন বলছে,যারে তুমি নিজ হাতে দিয়েছো বিসর্জন,তার তরে কেন এতো আয়োজন? যারে তুমি ফেরায়াছো অনাদরে তারে কেন মনে রাখো অগোচরে।
অতীত ভুলিয়ে স্মৃতি হয়ে কাঁদাও।তার নামে কেন পূজার ফুল সাজাও?
যে ফুল পূজিবে না চরণ,সে ফুল কেন করো বক্কে ধারণ।।।
রিনি আর কিছু ভাবতে পারছে না।রিনি দাড়িয়ে আছে। তখন একজন বলেঃ সবাই এদিকে আসো।গ্রুপ ছবি তুলতে হবে।
ভাগ্য ক্রমে।রিনি ও মাহমুদ স্যার একপাশে দাঁড়িয়ে যায়। রিনি আড় চোখে তাকিয়ে দেখে মাহমুদ কে।
রিনি বলেঃ কেনো এতো কষ্ট পাচ্ছি?
কেনো মনের মাঝে মেঘ জমে আছে?
মাহমুদ তো প্রিন্স না তাহলে কেনো এমন হচ্ছে?
আর প্রিন্স এর তো খবর ই নেই।
আচ্ছা, প্রিন্স কি মাহমুদ?
সে কি ইচ্ছে করে কষ্ট দিচ্ছে।
হুহ আমি তো সত্যি সত্যি কষ্ট পাচ্ছি। কিন্তু কেন যে কষ্ট পাচ্ছি।
তখনই,পাশ থেকে কে জানি বলে উঠেঃ
"কষ্ট নিয়ে জীবন শুরু,
কষ্ট নিয়ে শেষ।
কষ্ট কে ভালোবেসে কষ্টে আছি বেশ।
কষ্ট নিয়ে সুখী
আমি কষ্ট নিয়ে দুঃখী।
কষ্ট গুলো বুকের মাঝে
জমা করে রাখি।
(কবিতা লেখিকাঃ উর্মি).
ছবি তুলে সবাই যার যার মতো মজা করছে। রিনি তাকিয়ে আছে দূরে একটা নদীর দিকে।
💮
💮
মুগ্ধ বলেঃ
জান্নাত প্লিজ সরি তো?
জান্নাত বলেঃ তুমি তো এই ভার্সিটির না?
তুমি তো মেডিকেল এর তাহলে আসলে কেন?
মিথ্যা বলা আমি পছন্দ করি না।তাই কোন মাফ নেই।
মুগ্ধ বলেঃ জান্নাত কেনো এতো অবাধ্য তুমি?
এটা শেষ মিথ্যা আর কখনো বলবো না।
জান্নাত বলেঃ আচ্ছা মাফ করে দিলাম।
মুগ্ধ বলেঃ ধন্যবাদ প্রিয়।
মুগ্ধ জান্নাত এর হাতটা ধরতে যাচ্ছি লো। তখন,
জান্নাত বলেঃ শুক্রবার আমার engagement। আপনি অবশ্যই আসবেন।
মুগ্ধ বলেঃ মজা করছো কেন?
জান্নাত বলেঃ আমি সিরিয়াসলি বলছি।কয়েক দিন আগে আমাকে পছন্দ করে গেছে। সো,মিস্টার মুগ্ধ অবশ্যই আসবেন।আমি কিন্তু খুশী হবো আপনি আসলে।
মুগ্ধ রাগে মুখ লাল রঙের করে ফেলে। জান্নাত এর হাত দুটো শক্ত করে ধরে।
একটা গাছের সাথে চেপে ধরে। মুগ্ধ বলেঃ তাই না?
আমাকে এখনো চিনো নাই
মিস জান্নাত।
এটা বলে, মুগ্ধ জান্নাত এর হাত দুটো শক্ত করে ধরে গাড়ির মধ্যে নিয়ে গেল।
দুজন গাড়ি তে বসে আছে।
মুগ্ধ গাড়ি start করে। মুগ্ধ খুব স্পিড এ গাড়ি চালাচ্ছে। জান্নাত বলেঃ আহিসতা আহিসতা চালাও। মুগ্ধ আমার ভয় লাগছে।
তখনই,
💮
সুমি বলেঃ রহমান,আমরা ওদের সাথে আড্ডা দি না?
রহমান বলেঃ তোমার জোড়াজুড়ি তে আসলাম। সো আর কোন কথা না।একটু পর চলে যবো।
সুমি বলেঃ প্লিজ, আমরা ওদের সাথে আস্তে আস্তে ইজি হয়ে গেলে ভালো হয়।
রহমান জিন বলেঃ হুম। চলো।
কামাল,রাবেয়া সবার পাশে এসে সুমি ও রহমান বসে।
তখনই, সুমির মোবাইলে একটা কল আসে।
সুমি একদম অবাক হয়ে গেছে।
কামাল বলেঃ কি হয়েছে?
তখনই, সুমি.....
💮
হাবিব বসে আছে একা তার রুমে। ভালো লাগছে না তার কিছু।
পাশের বাসার আয়ান আবার কবিতা আবৃত্তি করছে।
কবিতাটা ছিলো,
"একটি পাখি গাছের ডালে।
তোমার কথা আমায় বলে
বলছে সে তার শুরে শুরে
তুমি আছো অনেক দূরে,
বন্ধু তুমি কেমন আছো?
আমায় কি ভুলে গেছ?
খুব যে মনে পরে তোমায়,
তোমার কি মনে পরে আমায়?
হাবিব বলেঃ আচ্ছা, সত্যি কি শাম্মির আমাকে মনে পরে না?
হাবিব এর চোখ জোড়া অশ্রুতে টলটল করছে।
এমন সময়, হাবিব দেখে,....... চলবে.....
গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে জানাবেন??
গল্প ২ দিন না দেয়ার জন্য সরি😨😨😨😨😨
(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!