রাত যখন গভীর Season:02 Part :20

#রাত যখন গভীর

#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 

(jannatul mawa moho)

Season:02

 Part :20

************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :20
রাত যখন গভীর Season:02 Part :20


গান শেষ হতেই রিনি প্রিন্সের দিকে তাকাই। প্রিন্স বলেঃ রি.......নি।আজকে আবার মনটা মাতাল হয়ে গেছে। তোমার সেই ঘায়েল করা কন্ঠে।
রিনি বলেঃ এত বছর আগে শুনছেন এখনো মনে আছে? আমার সেই কন্ঠ স্বর!
প্রিন্স আবার বলেঃ রিনি,
" আমার কল্পনা জুড়ে
যে গল্প রা ছিলো
তবুও কি করে বলো তোমায়
ভুলে থাকি।।"
তোমার ব্যাপারে প্রতিটি কথা হৃদয়ে গাঁথা আছে।
প্রিন্স বলেঃ রিনি আরেকটা চাওয়া। আজ কের সব কিছু আমার মতো হয়েছে। কিন্তু আমার মন তিব্র ভাবে চাইছে তোমাকে লাল শাড়ী পরিধান করে দেখবো।
রিনি বলেঃ আচ্ছা। শাড়ী দিন পড়ে আসি।
প্রিন্স বলেঃ তাঁবু তে যাও।রাখা আছে শাড়ী ও বাকি জিনিস।
আর শুন,
"ব্যর্থ হয়ে থাকে যদি
প্রণয়ের এতো আয়োজন,
আগামী মিছিলে এসো
স্লোগানে স্লোগানে হবে,
কথোপকথন।
আকালের এ-ই কালে
সাধ হলে পথে ভালোবাসা,
ধ্রুপদি পিপসা নিয়ে আসো,
যদি।
লাল শাড়ী তোমার পড়ে এসো!!!
(কবিতা লেখকঃ বিজয়)
রিনি চুপচাপ চলে গেল তাবু তে। খুব সুন্দর একটা শাড়ি রাখা আছে। রিনি প্রস্তুত হচ্ছে। তবে আজকে শুধু মাত্র প্রিন্স (ইনতিয়াজ) কে দেখানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এই সাজ প্রিন্সের নামে উৎসর্গ করে তৈরি হচ্ছে রিনি।
প্রিন্স চিন্তা করছেঃ আচ্ছা রিনি কি আমাকে নিয়ে চিন্তা করে?
আমি কি তার মনে সুক্ষ কোন অনুভূতি তৈরি করতে পারছি?
আমার অপরাধ কি কিঞ্চিৎ পরিমাণ মাফ করেছে!
প্রিন্স এসব ভেবে চলছে আপন মনে। প্রিন্সের ঘুর কাটে কারো নুপুরের শব্দে।ঝুনঝুন নুপুর এর শব্দ।
প্রিন্স পাশ ফিরে তাকিয়ে আছে। প্রিন্স এটা কাকে দেখছে।রিনির এই রুপ দেখে বুকের পাঁজর টায় যুদ্ধ লেগে গেছে প্রিন্স এর । ঢাল তলোয়ারের শব্দ গুলো ও স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে প্রিন্স।
প্রিন্স বলেঃ মেয়ে টা তো মানুষ নই যেন পরি।আমার শেষ ইচ্ছে টা ও পূর্ণ হলো। এই মায়াবতী কে ভালোবাসি। তবে সে আমার ভালোবাসা তে সাড়া দিচ্ছে না। জীবন টা বেদনা।
রিনি প্রিন্সের সামনে এসে দাড়িয়ে আছে। প্রিন্স রিনি কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়। প্রিন্স রিনির হাতটা ধরতে যাচ্ছি লো।রিনি হাতটা সরিয়ে নিতেই পায়ে কিছু একটা লেগে যাই।
রিনি মাটির উপর পড়েই যাচ্ছিলো।তার আগেই প্রিন্সের গেঞ্জি টা আকড়ে ধরে। কিন্তু প্রিন্স তাল সামলাতে পারেনি।প্রিন্স এর গেঞ্জি রিনির পরে যাওয়া আটকাতে পারে নি।
ফলে রিনি মাটিতে পড়ে যায়। তার উপর প্রিন্স পড়ে গেল। প্রিন্স এই সুযোগে রিনিকে ভালো ভাবে দেখে নিচ্ছে। খুব কাছ থেকে। এই সুযোগ যদি জীবনে আর না আসে?
তাই প্রিন্স সুযোগের সঠিক প্রযোগ করছে।দেখে নিচ্ছে চোখ ভরে তার রিনি কে।।।
অন্য দিকে,
রিনি কৈ মাছের মতো নড়াচড়া করছে।প্রিন্স এর পুরো শরীরের ভর রিনির উপর পড়েছে।
রিনি বলেঃ হা করে তাকিয়ে না থেকে আমার উপর থেকে সরেন।আমার ধম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে আপনি আমার উপর থাকলে আমার মরণ হবে ধম বন্ধ হয়ে।
প্রিন্সের হুঁশ ফিরে আসে।রিনির কথার ঝাড়ি তে। প্রিন্স বারবার এই মেয়ে টাকে দেখে কল্পনা তে হারিয়ে যাই।ভুলে যায় সব কিছু ।
আসলেই, এই মেয়ে জাদু জানে। জাদু জানে বলেই তো বারবার চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে আমাকে।।
প্রিন্স উঠে দাড়ালো।প্রিন্স নিজের হাত বাড়িয়ে দেয় রিনির উদ্দেশ্যে।রিনি প্রিন্স এর হাত ধরে উঠে।
প্রিন্স বলেঃ ধন্যবাদ আজকের দিনটার জন্য। আমার কাছে এটা একটা শ্রেষ্ঠ মূহুর্তের মধ্যে একটা।
রিনি বলেঃ আপনাকে ও ধন্যবাদ আমাকে এতো সুন্দর সারপ্রাইজ দেয়ার জন্য।
প্রিন্স বলেঃ চল তাহলে। এবার ঘরে ফিরে যায়। কাল সকালে আমরা ফিরে যাবো পৃথিবীতে।
প্রিন্স কথা শেষ করতেই রিনি বলেঃ তাহলে, ফিরে যাওয়া যাক আপাতত আপনার নীড়ে।
এই বলে, রিনি.......
💮
💮
💮
রহমান জিন বলেঃ হায় আল্লাহ। দরজা বন্ধ!
তার মানে মেয়ে টা প্রায় দেড় দিন মতো ওয়াশরুমের মধ্যে।
জিন রা থাকতে পার ওয়াশরুমের মধ্যে।জিনের একটা প্রিয় জায়গা অবশ্য । কিন্তু ও তো মানুষ?
বেঁচে আছে তো?
রহমান জিন আস্তে করে লক খোলে।দরজা খুলে দেখে।
একটা ভেপসা গন্ধ বের হচ্ছে। হয়তো এতটা সময় ধরে ওয়াশরুম বন্ধ ছিল তাই।
রহমান জিন ( শয়তান প্রিন্স) ওয়াশরুমের মধ্যে ঢুকে কিন্তু যা দেখে। তা আশা করে নি।রহমান জিন এর বুকে একটা মুচড় দিয়ে উঠে।
সুমির শরীর পুরো টা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। শরীর টা এতক্ষণ ধরে পানিতে ছিল তাই হয়তো এমন হলো।বাথটাব এর পানিগুলো দেখে, লাল রক্তের বন্যা বয়ে গেছে মতো লাগছে।
রহমান জিন তাড়াতাড়ি সুমির কাছে চলে গেল। শ্বাস প্রশ্বাস আছে নাকি দেখে।
রহমান জিন বলেঃ আমি তো এমন মারাত্মক কিছু ঘটোক তা চাইনি।মেয়ে টার সাথে রাগের ফলে বড্ড খারাপ আচরণ করে ফেলেছি।
রহমান জিন দেখে মৃদু ভাবে শ্বাস নিচ্ছে সুমি। থেমে থেমে সুমির শরীর টা কাপছে।
রহমান জিন সুমি কে কোলে তুলে নেই। রুমে নিয়ে গেল।
রহমান জিন বলেঃ ওর তো কাপড় চেঞ্জ করতে হবে। তাছাড়া শরীর পুরো ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। চোখ জোড়া বন্ধ। গোলাপি রঙের ঠোঁট টা ও কালো হয়ে গেছে।
রহমান জিন বলেঃ ওর কাপড় গুলো কেমনে চেঞ্জ করবো?।কিছু বুঝতে পারছেনা।
সুমি শরীর কাঁপুনি দিচ্ছে। রহমাান বলেঃ এই অবস্থাই আর বেশি সময় থাকলে মারা যাবে ও।যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে।
রহমান জিন একটান দেয় সুমির লেহেঙ্গার জড়িয়ে থাকা ওড়না তে।সুমির দেহ টা ওড়না নিয়ে ফেলার কারণে দেহের বেশ কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে।মেয়ে টা ধবধবে সাদা।
রহমান জিন একটা চাদর জড়িয়ে দেয় সুমির গায়ে। তারপর, একটা সাদা শার্ট বের করে।আর একটা প্লাজু বের করে।এ সব কিছু কিনে রেখে ছিল রহমান তার রিনির জন্য। কিন্তু আজ এসব অন্য একজন পড়বে।
রহমান জিন চাদরটা তুলে নেই। নিজের চোখ বন্ধ করে ব্লাউজ টা খুলে দেয়। শার্ট পরিয়ে দেয়। সুমির কাপড় চেঞ্জ করার পর ও শরীরের কাঁপা টা কমে নি।
রহমান জিন চিন্তায় পড়ে যায়। কি করবে এখন?
তাড়াতাড়ি তেল দিয়ে হাত পা মালিশ করছে।কিন্তু কোন ফাইদা হচ্ছে না।একটু গরম হয়ে আসে কিন্তু আবার ঠান্ডা হয়ে যাই।
রহমান জিন বলেঃ
যদি সুমি কে সুস্থ করতে হয়।তাহলে তার শরীর আমার
স্পর্শ করতে হবে।সব উপায় অবলম্বন করে দেখলাম। কিন্তু মেয়ে টা ঠিক হচ্ছে না।তাছাড়া সুমির উষ্ণ তা দরকার।যা এই মুহূর্তে আমি ছাড়া কেউ দিতে পারবে না।কিন্তু আমার মন প্রাণ জুড়ে আছে রিনি।আমি ওকে কেমনে স্পর্শ করবো!
রহমান সোফাতেই বসে পড়ে। কি করবে সে?
মাথা টা কাজ করছে না!
আর কোন উপায় ও নেই সুমি কে ঠিক করার!!!!
তাছাড়া,
আজ দুদিন হলো বিয়ে হলো মেয়ে টাকে রহমান ভালো ভাবে দেখে ও নি।এখন ভালো ভাবে দেখছে।
আর চিন্তা করছে কি করবে?
সুমিকে বাঁচাতে স্পর্শ করবে নাকি যেমন আছে তেমনই রেখে দিবে?
ছেড়ে দিবে ভাগ্যের হাতে!!!
💮
💮
রাবেয়া বলেঃ আচ্ছা কামাল আর কদিন এভাবে?
আমার মেয়ে টা কে কি পাবো না?
রাবেয়া অর্কের বাসায় আসার পর থেকে একদম নরমাল হয়ে গেছে। আগের মতো আচরণ করছে।অদ্ভুত ব্যাপার!
কামাল বলেঃ হুহ। চিন্তা করি ও না।রিনি না পাওয়া অবধি এখানে থাকবো।তার উপর এখন সুমি কে ও পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে।
আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে হবে।না হয় জীবন যুদ্ধ হেরে যাবো গো রাবেয়া।।।
💮
রানি ( লোভা) বলেঃ আচ্ছা রশিদ( রাজা মশাই)
তোমার কাছে হাবিব ছেলে টাকে কেমন লাগে?
রাজা বলেঃ হুম ভালো লাগে। ছেলে নম্র ও ভদ্র।
জিন রানি বলেঃ আমার মেয়ে শাম্মির জন্য সে কেমন হবে?
দুজন কে একসাথে একদম সেই জুটি লাগে।
রাজা মশাই বলেঃ ভেবে দেখেনি।তবে রিনি কে ফিরে পেলে।সুমি র ও যদি ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে তখন এই বিষয়ে ভেবে দেখবো।তাছাড়া এখন কারো মন ভালো নেই।
💮💮
হ্যালো মা?
জান্নাত এর মা মিসেস রেহেনা। কল দিয়ে ছে।
রেহেনা( জান্নাত এর মা) বলছেঃ কখন ফিরে আসবি? তুর জন্য মন খারাপ হচ্ছে।
জান্নাত বলেঃ মা ঠিক বলতে পারছি না।
রেহেনা বলেঃ এসব কাজ করে করে থাক। বিয়ে শাদি কি করতে হবে নাকি? নাতি নাতনির মুখ কি দেখতে দিবি না নাকি?
জান্নাত বলেঃ মা প্লিজ। এই বিষয়ে আমার কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।
রেহনা বলেঃ তুর বাবা একজন কে পছন্দ করেছে।তুর ছবি দেখেছে তারা।তুকে ও পছন্দ করেছে।তুর সাথে দেখা করে পাকা কথা বলবে।তাড়াতাড়ি ফিরে আই।
জান্নাত বলেঃ মা রাখি।সালাম।ভালো থেকো।নিজের যত্ন নিবে।বাই।
জান্নাত এর শরীরে যে রহমান ভর করে ছিল তা জান্নাত বুঝতে পারে নি।মুগ্ধ ও সেদিন জান্নাত এর কাছাকাছি ছিল না।তাই সে ও জানে না।
কল রাখতেই মুগ্ধ আসে রুমে ।
মুগ্ধ বলেঃ কি হল? মন খারাপ নাকি? তোমার মা কি বলেছে?
জান্নাত বলেঃ সব কি আপনাকে বলতে হবে নাকি? একটু প্রশ্রয় কি দিছি মাথার উপর উঠে গেছেন। এজন্য ছেলে দের লাই দিতে নেই। নিজের চরকায় তেল দেন।আমাকে নিয়ে চিন্তা না করলেও চলবে।
মুগ্ধ বলেঃ যা ইচ্ছে বল।তবে তোমার এসব কথা আমার মধুর লাগে। নিজের চরকায় তো তেল দিচ্ছি দেখছো না!
জান্নাত চোখ রাঙিয়ে তাকিয়ে আছে মুগ্ধের দিকে।
💮
হাবিব বলেঃ শাম্মি আর কতক্ষণ বসে থাকবে? যাও রেস্ট নাও।আমি কাজ করি।কিছু জানতে পারলে তোমাকে বলবো।
শাম্মি বলেঃ আপনি একা কাজ করবেন? তাছাড়া সবাই তো উঠে গেল। তারা তো হাল ছেড়ে দিল মনে হচ্ছে?
হাবিব বলেঃ না তেমন ব্যাপার না।দেখো আবার চেষ্টা করবে।আজ আবার রাত ভর চেষ্টা করবে।কাল ভোরের আলো তে ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে।তুমি যাও রেস্ট নাও।
শাম্মি বলেঃ আচ্ছা!
💮
লাবু বলেঃ রেশমি আমার চিন্তা হচ্ছে না জানি সুমির সাথে কি হচ্ছে?
রেশমি বলেঃ ভাবি মেয়ে টার ভাগ্যে এটাই ছিল। হুহ কিছু তো করার নেই।
অর্ক বলেঃ হাল ছাড়লে হবে না।চেষ্টা করতে হবে। একবার না পারলে বারবার চেষ্টা করবো আমরা।সুমি কে ফিরে আনবো সাথে রিনি কে ও ফিরে পাবো দেখো।
রাহাত হুজুর বলেঃ হুহ।ঠিক বলছো অর্ক। আজ রাতে নিজের বেস্ট দিবো।যত বিপদ হবে হোক।আজ কোন একটা কিছু করতেই হবে।এর একটা বিহীন করতে হবে।
লাবু বলেঃ
ইনশাআল্লাহ সব ভালো মতো হবে।দেখে নিও।
রাতের খাবার শেষ করে সবাই বসে আছে। ড্রয়িং রুমে গোল করে বসেছে সবাই।
সেই ক্ষণে,
...........
চলবে.......
কি করবো বলেন সুমির সাথে ??😬😬😬
রহমান এর কি সুমি কে ঠিক করা উচিত হবে??😉
আপনাদের মতামতের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী লিখবো।সো কমেন্ট করে বলেন? সুমি কে মারবো নাকি বাঁচাবো!!!!!।। 😳
** সবাই কে আমার গ্রুপ ( এই শহরে মহুয়ার গল্প)স্বাগতম। গল্প কেমন হচ্ছে জানাবেন ]
?? 😍😍😍😉
(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!