রাত যখন গভীর Season:02 Part :15

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :15
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :15
 রাত যখন গভীর Season:02 Part :15


নিশাত বলেঃ এটা কি কোন ব্যাপার এখনই করে দিচ্ছি। 
সাথে সাথে মায়াজাদু করে দেয়।
একটু পর  মেয়ে টার সেন্স ফিরে আসে।মেয়ে টার  চোখ জোড়া খুলে।তারপর শোয়া থেকে উঠে একদম পুতুল এর মতো করে  বসে আছে। ডেবডব করে তাকিয়ে আছে নিশাত ও মহিলাটার দিকে। 
মহিলা বলেঃ এই মেয়ে তোমার নাম কি জানো?তুমি কে?তোমার বাসা কই তুমি কি জানো?
মেয়ে টা মাথা নেড়ে না বলে। 
মহিলা বলেঃ তোমার নাম রিনি।তুমি রিনি।বাসা পৃথিবীতে ।মনে থাকবে।
মেয়েটা মাথা নেড়ে হা বলে। 
মহিলা নিশাত কে বলেঃ চল কালকে বিয়েতে অংশ গ্রহণ কর। একসাথে বিয়ে টাতে মজা করবো।তুর আর আমার চিন্তা একসাথে শেষ হবে।
মেয়েটা,মহিলাটা,সাথে নিশাত জিন প্রস্তুত হয়ে যাই। প্রসাদে ফিরে যাওয়ার  জন্য। 
তখনই, 
মহিলা বলেঃ আচ্ছা। প্রিন্স (ইনতিয়াজ)  কই আছে দেখ?
ব্যাটা ছাড়া পাইছে নাকি দেখ! 
নিশাত জিন চোখ বন্ধ করে। চেষ্টা করছে প্রিন্স কে দেখার।তবে দেখা যাচ্ছে না।এই টুকু বুঝতে পারছে,নিশাত জিন প্রিন্স মুক্তি পাইছে।।
নিশাত বলেঃ প্রিন্স মুক্তি পাইছে।তবে এখন কই আছে জানি না?
মহিলা বলেঃ প্রিন্স কই আছে তা জেনে লাভ নাই আমাদের। মুক্তি পাইছে এই খবর টাই আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 
৩ জনে প্রাসাদের মধ্যে চলে গেল। 
সকালে অনেক জিনরা এসেছে। শয়তান জিনের রাজার ছেলের বিয়ে বলে কথা। সব দিকে ঝাঁক ঝমক 
করে সাজিয়েছে।বিভিন্ন ধরনের ফুল মিশিয়ে সাজিয়েছে পুরো প্রাসাদ টা।
সকালে তাসনিয়া মহিলা কে ডাক দেই। 
তাসনিয়া বলেঃ রিনি কে জাগিয়ে দিছেন?
বেলা অনেক তো হল।সাজাতে হবে।একটু পর বিয়ে পড়ানো হবে।
মহিলা বলেঃ আপা মণি একটা খবর আছে। একদম টাটকা খবর।আপনার উপকারী। রিনি মেম কে নিয়ে আপনার চিন্তা করতে হবে না। আমি সামলে নিবো সব।
তাসনিয়া বলেঃ কি খবর বল?
মহিলা বলেঃ আপা মণি আপনার প্রিন্স(ইনতিয়াজ) মুক্তি পাইছে।তবে কই আছে জানি না।
তাসনিয়ার চোখে মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। 
তাসনীয়া বলেঃ আমি যে কি পরিমাণ খুশি হয়ছি বলে বুঝাতে পারবো না।একটা কাজ করতে হবে, তুমি রিনি কে রেডি কর।আর,আমি বিয়ে শুরু হয়ে একটু পর বেরিয়ে যাবো প্রিন্স এর খুঁজে তবে বেশিক্ষণ দেরি করবো না।তুমি একটু সামলে নিও।
মহিলা বলেঃ কোন চিন্তা করিও না।আমি সামলে নিবো।
মহিলা, রিনিকে যে-ই রুমে থাকতো সেই রুমে এখন মেয়ে টাকে রেখেছে। মেয়ে টা ঘুমন্ত। 
মহিলা বলেঃ এই রিনি উঠে পড়।
মেয়ে টার ওপর মায়াজাদু করেছে তাই মেয়েটার অতীত, বর্তমান কিছু মনে নেই।মেয়ে টা  জানে সে রিনি।কারণ, মহিলা ও নিশাত এটাই বলে ছিল।তার নাম।মেয়ে টা কে রিনি বলে ডাকতেই উঠে পড়ে। 
মেয়েটা বলেঃ জি উঠে পড়ে ছি।
মহিলা বলেঃ যাও গোসল করে আসো।আর আজ তোমার বিয়ে। কোন পেচাল করবে না। পেঁচাল বাধালে কিন্তু শাস্তি পাবে।চুপচাপ বিয়ে করে নাও।
মেয়েটা বলেঃ প্লিজ আমাকে কিছু করিয়েন না। আপনি যায় বলবেন তাই করবো।
মেয়েটা গোসল করে আসে।মহিলা তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে। 
মহিলা বলেঃ মাশাল্লাহ গোসল করার পর রুপ আরো দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এই মেয়ে এখানে বস।
মহিলা বলেঃ নিশাত এদিকে আই।
নিশাত বলেঃ হম বল।
মহিলা বলেঃ মেয়ে টার আসল নাম কি?কিছু কি জানিস?
কাজি কে বলতে হবে তো।
নিশাত বলেঃ ও যখন জঙ্গলের দিকে আসছিল। তখন একটা ছেলে দূর থেকে সুমি বলে ডাক দিচ্ছি লো।মেয়ে টার নাম সুমি হবে।
মহিলা বলেঃ তুই মেয়ে টাকে লাল লেহেঙ্গা টা পড়িয়ে দে।
আমি ততক্ষণে আসছি।
মহিলা হাজির হয়েছে জামাল জিনের এর বাসার সামনে। জামাল জিন হচ্ছে কাজি যে আজ বিয়ে পড়াবে।শয়তান প্রিন্স এর সাথে রিনির অর্থ্যাৎ মেয়ে টার।
মহিলা বলেঃ কাজি সাহেব, কেমন আছে? কখন যাবেন প্রাসাদ এ?
জামাল জিন বলেঃ আপা একটু পর।
মহিলা বলে ঃ একটা কাজ করতে হবে। অনেক আশা নিয়ে আসছি ফিরিয়ে দিবেন না কিন্তু। 
জামাল জিন বলেঃ আচ্ছা বলেন।
মহিলা বলেঃকাজ টা করলে আপনাকে আমি ২ থলি মুহর দিবো  একটা সোনার অন্য টা রুপার। সাথে হাড্ডি দিবো অনেক। 
জামাল জিন বলেঃ কি করতে হবে সেটা বলেন। 
মহিলা বলেঃ আজকে বিয়ে পড়ানোর সময় বউয়ের নাম বড় স্বরে রিনি বলবেন। তবে রিনি বলার আগেই, সুমি নামটা বলতে হবে যাতে কেউ খেয়াল না করে।
জামাল জিন বলেঃ কেন?
মহিলা বলেঃ আপনার প্রাপ্য আপনি পাবেন। কেন তা জানলে ও হবে।তবে চালাকি করবেন না।আমি আপনার পাশে থাকবো।
জামাল জিন বলেঃ রাজি আমি।
মহিলা বলেঃ কাজ হলেই আপনার পাওনা পেয়ে যাবেন। 
মহিলা কাজির কাছ থেকে  সোজা নিশাত এর কাছে চলে আসে 
নিশাত বলেঃ লেহেঙ্গা পড়িয়ে দিছি।
মহিলা বলেঃ সাজানোর ব্যবস্থা করছি তাইলে।
মহিলা হাততালি দেয়। বেশ কয়েক টা মেয়ে জিন আসে।মেয়ে টা কে সাজিয়ে দিচ্ছে। নিশাত মেহেদী দিয়ে দিচ্ছে। 
সুমির কেন জানি কান্না আসছে।
সুমির মনে হচ্ছে, সে কিছু একটা ভুলে গেছে। 
সাজানো শেষ। জিন মেয়ে গুলো চলে গেল। 
মেহেদী গুলো উঠিয়ে ফেলে। কারণ শুকিয়ে গেছে। 
মহিলা বলেঃ এই মেয়ে সাজ একটু নষ্ট হলে তোমার খবর আছে। আবার, 
মহিলা বলেঃ 
নিশাত মেয়ে টাকে রিনির মতো করে মেকাপ করে দিছি।তবে আরেকটু জাদু করে দে।কেউ যেন বুঝতে না পারে।এটা যে রিনি নই।
নিশাত জাদু করে দিল।মহিলা সুমি কে কানে,গলায়, হাতে,নাকে, কানে জুয়েলারি পড়িয়ে দেই। শেষে,বুকের ওপর একটা ওড়না কে ভালো ভাবে পড়িয়ে দেই। মাথার উপর লম্বা করে আরেকটা ঘোমটা পড়িয়ে দেই। 
বউ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সুমি কে নিচে নামিয়ে আনে।রহমান বসে আছে বর সেজে।
রহমান বলে উঠে ঃ মুখ দেখা যাচ্ছে না কেন?
মহিলা ও নিশাত বলেঃ বিয়ের আগে বউয়ের মুখ দেখলে অশুভ হয়।তাই দেখা যাবে না।
আরো কিছু বয়স্ক জিন ও তাল মিলাইয়ে বলেঃ দেখা যাবে না।বউয়ের মুখ। 
পর্দার এপারে সুমি অন্য পারে রহমান।
কাজি জামাল জিন আসে।বিয়ে পড়ানো শুরু করে।সুমি নামটা বলার সময় নিশাত ইচ্ছে করে, হঠাৎ করে গান চালিয়ে দেয় ফলে মহিলা ও নিশাত ছাড়া কেউ সুমি নামটা শুনে নি।
নিশাতের গান চালানোর জন্য রহমান রাগ দেখায়।নিশাত ক্ষমা চাই।যেহেতু, রহমানের আজ বিয়ে তাই মাফ করে দেয়। 
কোন একফাঁকে বেরিয়ে পড়ে তাসনিয়া। কারণ, এই সুযোগে তার অনুসন্ধান চালাতে হবে প্রিন্স এর।প্রিন্স (ইনতিয়াজ)  এর চিন্তায় এতো ডুবে ছিল। বউ টাকে ও একটি বার দেখে নি।কেমন লাগছে তার ভাই রহমানের বউ কে???
অবশেষে, সুমি ও কবুল বলে। শয়তান রহমান ও কবুল বলে। দুজনে আজ থেকে বউ,জামাই হয়ে গেছে এই বলে জামাল জিন বলেঃ আমিন
বিয়ে হতেই কাজি খবার খেয়ে চলে যাওয়ার সময় প্রাপ্য টা দিয়ে দেয় মহিলা।
এরপর,মহিলা ও নিশাত দুজনে গায়েব। সুমি এখনো বসে আছে ঘোমটা পড়ে বিয়ের আসরে।
শয়তান প্রিন্স রহমান অনেক্ক্ষণ ধরে মহিলা কে খুঁজছে।কারণ, তার রিনি কে তার রুমে রেখে আসতে বলার জন্য কিন্তু মহিলা টা কে খুঁজেই পাচ্ছে না।
কি অপেক্ষা করছে সুমির জন্য? 
কি হতে চলছে সুমির সাথে???
💮💮
💮💮
💮
হাবিব ঘুম থেকে উঠে পড়ে। স্ফটিক নিয়ে চেষ্টা করছে। কোন ভাবেই যদি সুমির খবর পাই।জান্নাত ও উঠে পড়ে। রাতে অনেক কান্না করছে যার ফলে চোখ জোড়া লাল হয়ে আছে। 
হাবিবর এর পাশে শাম্মি ও আছে। শাম্মি ও সাহায্য করছে।
জান্নাত এর বেস্ট ফ্রেন্ড সুমি।তার সাথে  স্কুল, কলেজ,ভার্সিটি একসাথে শেষ করেছিল জান্নাত । হঠাৎ করে যে,কই হারিয়ে গেল।জান্নাত বুঝতে পারছে না।
আবার কান্না করে দিল জান্নাত ।মুগ্ধ বলেঃ এই আরেক বার  কান্না করলে কিন্তু ভালো হবে না।বলে দিচ্ছি। তাছাড়া পেয়ে যাবো দেইখো সুমি কে।
জান্নাত কান্না করছে। থামার নাম ই নাই।
মুগ্ধ জান্নাত কে টান দিয়ে ছাদে নিয়ে গেল। জান্নাত কে মুগ্ধ  বলছেঃ আমার তো কোন কথায় শুন না।নিজের ইচ্ছে নাকি সব?কান্না ই তো না করতে বললাম।না জান্নাত মেডাম এর তো কান্না করে করে । সেই কান্নার পানি দিয়ে সাগর বানিয়ে  ফেলতে হবে।
বলো কেন শোন না কোন কথা বল জান্নাত????
মুগ্ধ এক পা এক পা করে জান্নাত এর সামনে আসছে জান্নাত এক পা এক পা করে পিছিয়ে যাচ্ছে। 
মুগ্ধ আবার বলেঃ বল কেন শোন না কোন কথা। মনে করছো আমি হার মানবো?
শেষ মেষ বউ হবে তুমি আমারিই।তখনই বুঝতে পারবে,কত ধানের কত চাল।
এখন চুপ করে আচো কেন বলো কেন শুন না?
মুগ্ধ জান্নাতের অনেক টা কাছে চলে আসে। জান্নাত এর পিঠ ঠেকে যাই ছাদে থাকা একটা মেহদি গাছে। জান্নাত পাশ কাটিয়ে চলে আসতে চাইলো মুগ্ধ সেদিকে হাত দিয়ে দিল।জান্নাত কে এখন মুগ্ধ ঘিরে রেখেছে। চারপাশ দিয়ে। পালানোর কোন সুযোগ নেই। 
মুগ্ধ, জান্নাত কে বলছেঃ জান্নাত একটা কি জানো, ভালোবাসা পেতে হলে যে কোন একজন কে চেচরা হতে হয়।দেখো আমি চেচরার মতো তোমাকে বলেই যায় ভালোবাসি। কিন্তু তুমি নিরব ভুমিকা পালন কর।মুখে মনে হয়, সুপার গ্লো লাগিয়ে রখো তাইনা?
কারণ,  যখন ভালবাসি বলি
তখন প্রতি উত্তরে নিরব হয়ে থাকো।
হুহ,,, 
জান্নাত, 
I love you yesterday, 
I love u still
I always Have. 
I always will.
এই কথা টা বলে মুগ্ধ, আরো কিছু টা কাছে আসে জান্নাত এর। মুগ্ধ, জান্নাত এর.....
💮
💮
💮
ঝুম বৃষ্টির মধ্যে প্রিন্স লক্ষ্য করলো একটা মেয়ে ভিজছে। সাথে হাত,পা নেড়ে নেড়ে লাফাচ্ছে।প্রিন্স বলেঃ রিনি,মেয়ে টা কে?
তুমি কি চিনতে পারছো?
প্রিন্স পাশ ফিরে দেখে রিনি নাই।রিনির রুমে প্রবেশ করে দেখে সাদা ড্রেস টা রেখে দিয়েছে।
রেখে দিছে বললে ভুল হবে। ফেলে রেখেছে ফ্লোরে।
তবে বিছানার উপর একটা লাল শাড়ী রেখেছিল।যখন, রিনির সাথে কফি খাচ্ছিল।তখন এক ফাঁকে,এসে শাড়ী টা রেখেছিল প্রিন্স । সেই শাড়ী টা এখন আর বিছানাতে নেই। 
প্রিন্স বলেঃ যে মেয়ে টা ভিজছে সেতো লাল কাপড় পড়েছে। তাহলে কি ওটা রিনি?
ওহ আল্লাহ মেয়ে টা এতো বাচ্চামি করে কেন?
কখন বড় হবে! আমার কপালে এটা কি রাখলা।
ঠান্ডা লেগে যাবে। তখন কি হবে?
প্রিন্স আপন মনে বকবক করতে করতে বাসার বাইরে চলে আসে। 
প্রিন্স দেখে একটা বৃষ্টি বিলাসী। লাল শাড়ী। খোলা চুল। পেটের খানিকটা অংশ দেখা যাচ্ছে। কারণ, পুরো টা ভিজে গেছে। লাল শাড়ী টা লেপ্টে গেছে শরীরের সাথে। 
প্রিন্স তো এই অন্য রুপি রিনি কে দেখছে।প্রিন্স তো পাগল হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া, বারবার মানা করছে প্রিন্স, রিনি  চুল গুলো খোলা না রাখি ও না। সব সময় খোপা করে রাখতে। কিন্তু রিনি দিব্যি চুল গুলো খোলা রেখেছে । 
প্রিন্স আস্তে আস্তে এগিয়ে আসছে রিনির কাছে।বৃষ্টির তিব্রতা আরও বেড়ে গেছে। 
প্রিন্স এর উঠানের পাশে করে কদম ফুলের গাছ আছে। ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে, কদম ফুল এর মন মাতাল করা ঘ্রাণ, সামনে আছে প্রিন্স এর মন ঘায়েল করা বৃষ্টি বিলাসী। 
প্রিন্স এখন অনেকটা কাছাকাছি আছে রিনির।এমন সময়....... 
চলবে.......
****সুমির সাথে কি হলো এটা?
কার কেমন লাগছে সুমির জন্য কিছু বলে যাও
???😞😞😞😞😞
[ গল্প কেমন হচ্ছে জানাবেন ]
?? 😍😍😍😉
(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!