রাত যখন গভীর Season:02 Part :18

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :18
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :18
 রাত যখন গভীর Season:02 Part :18


তুই কেন বউ সাজে?
তোর সাহস কেমনে হলো এই রুমে আসার? এই বিছানার মধ্যে এইভাবে বসে থাকার?
তুই জানিস আমি জিন? তোকে এক আচারে মেরে ফেলতে পারবো?
কে তুই তাড়াতাড়ি বল??
সুমি বলেঃ আমি রিনি,আপনার বউ।একটু আগে কবুল বলে,আমি আপনার বউ এবং আপনি আমার স্বামী হয়েছেন।মনে নেই নাকি?
শয়তান জিন রহমান বলেঃশাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করিস   না।আমি জানি তুই রিনি নই?
কে তুই বল? অন্যথায় আমি কি করে বসবো নিজে ও জানি না। 
সুমি বলেঃ আমি রিনি। আপনার বউ।এ-র বেশি কিছু জানি না আমি নিজে ও। 
রহমান প্রিন্স( শয়তান জিন) হঠাৎ করে সুমি মুখের থুতনি টা শক্ত করে ধরে। আর অন্য হাত দিয়ে সুমির হাত দুটো শক্ত করে ধরে। 
সুমি ছটফট করছে।রহমান জিন সুমির কাছাকাছি আসছে।সুমি পিছিয়ে যায়। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেল।সুমির বারবার বলছে,সে রিনি।কিন্তু রহমান সুমির মুখ দেখে বুঝতে পারে, এটা রিনি নই।সুমির উপর মায়া জাদু করলে ও তা রহমান জিন এর চোখের উপর কোন মায়ার সৃষ্টি করতে পারে নি। রহমান জিন ও এক্টা কিছু শক্তি ছিল। 
রহমান জিন রাগে কটকট করছে।হঠাৎ করে সুমি কে কোলে তুলে ওয়াশরুমে নিয়ে গেল। বার্থটাবে পানি দিয়ে পরিপূর্ণ করছে।
এমন সময়, 
সুমি বলেঃ কি করছেন এসব? পানি দিয়ে কি করবেন? প্লিজ আমাকে ছেড়ে দেন।আমার ব্যথা লাগছে। 
রহমান টাস করে একটা টপ্পর দেয়। সুমির মাথা গিয়ে লাগে দেয়ালে।রক্ত বের হচ্ছে। সুমির মাথা ঝিমঝিম করছে। 
সুমি চোখ জোড়া অশ্রুতে টলটল করছে। মাথার রক্ত চোখের জল মিশে যাচ্ছে। চোখের কাজল লেপ্টে গেছে। 
এমন সময়, সুমি প্রশ্ন ছোড়ে দেয় রহমান জিন এর সামনে। 
সুমি বলেঃ কে আপনি?  আমি এখানে কেমনে?  বউয়ের পোশাক কেন?তাছাড়া, রক্ত কিসের আমার মাথা তে?
রহমান বলেঃ এবার তাহলে তুর মায়া কাটছে। তুই কে আমাকে কেন বিয়ে করচস বল?
সুমি বলেঃ আমি কেন বিয়ে করতে যাবো।আমি তো রেস্তোরাঁ থেকে বাসায় যাচ্ছি লাম। কেমনে কি?
রহমানের মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে আবার  কারণ, সুমি ঠিকঠাক উত্তর দিচ্ছে না।বাথটাবে পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। 
রহমান সুমির হাতটা ধরে  এক ঝটকায় টান দেয়। যার ফলে সুমি বেলেন্স করতে না পেরে আবার পড়ে যায়। পায়ে ব্যথা পেল।মাথা দিয়ে রক্ত পড়ছে।ওয়াশরুম সম্পূর্ণ লাল হয়ে গেছে। রহমান জিন সুমি কে কোলে তুলে নেই। বাথটবে ফেলে দেয়। ঝর্ণাটা ও ছেড়ে দেয়। 
রহমান জিন বলেঃ এই বল?
কেন আমার সাথে এমন করলি?
আমার রিনির সাথে অনেক বাঁধা পেরিয়ে আজ এক হতে পারতাম।রিনি আমার বউ হতো।কিন্তু তুই একটা তৃতীয় পক্ষ কোথা থেকে বেরিয়ে আসচস?
আমার সাজানো স্বপ্ন ভেঙ্গে কেন দিলি?
সুমি বলেঃ আমি সত্যি কিছু জানি না বিশ্বাস করেন। আমি সুমি।তাছাড়া রিনি আমার বন্ধুর মেয়ে। আমি ও রিনিকে খুঁজে যাচ্ছি। কিন্তু ও রীতিমতো নিখুজ।
রহমান জিন বলেঃ এতদিন ও আমার কাছে ছিল।আজ বিয়ের দিন কেমনে উদাও হল?
কই গেছে সে?
রাজপ্রাসাদ  থেকে বেরিয়ে যাওয়া এত সহজ না।
সুমি বলেঃ আমি এসব কিছু জানি না।আমার ex এর সাথে শেষ বার দেখা করে আসছিলাম।মনের মধ্যে তিব্র কষ্ট ছিল। তাই নিরিবিলি জায়গায় যেতে চেয়েছিলাম।মনটা কে ভালো করতে।তাই,জঙ্গলের রাস্তা ধরে হাঁটবো চিন্তা করি।যখন,।জঙ্গলের কাছাকাছি আসি,তখন  কি হয়ছে জানি না।সত্যি।।।।। 
রহমান জিন বলেঃ রাখ তো তুর ফাউ কথা। তুরে নিয়ে চিন্তা করার সময় নেই। আমার রিনি কে আমার খুজতে হবে।যদি না পাই,তুর নাম জানি কি সুমি না টুমি তরে শেষ করমো!
রহমান জিন ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। ওয়াশরুমের দরজা লক করে রাখে।
এক মুহূর্ত দেরি না করে 
রহমান পৃথিবীতে আসে।প্রথমে রিনির বাসায় প্রবেশ করে। একদম নিস্তেজ বাসা।রহমান বুঝতে পারে কেউ নেই বাসায়। 
এরপর, অর্ক দের বাসায় আসে। তবে ঘরে প্রবেশ করতে পারছেনা।রহমান জিন এর ধারণা বিশেষ কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করছে তাই প্রবেশ করতেই পারচে না।না হয় রহমান জিন এর জন্য প্রবেশ করা কোন ব্যাপার।রহমান জিন এর extra power's এর জন্য সেদিন রিনি কে গায়েব করতে পেরে ছিল। তবে আজ মনে হচ্ছে, কঠোর ভাবে। মারাত্মক কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করছে।
রহমান জিন চিন্তা করে কেমনে বাসায় প্রবেশ করবে।
এমন সময় জান্নাত ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। জান্নাত আসলে বাসায় বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত। তাছাড়া, সে কিছুক্ষণ একা থাকতে চাই।জান্নাত, সুমি কে মিস করছে।
হঠাৎ, 
জান্নাত লক্ষ্য করে একটা ঠান্ডা স্রোত তাকে স্পর্শ করে। জান্নাত এর শরীর অজানা আশংকায় কেঁপে ওঠে। 
রহমান জিন একটা মুচকি হাসি দেয়। কারণ বসার মধ্যে প্রবেশ করার মাধ্যম পেয়ে গেছে। 
রহমান জিন জান্নাত এর শরীরে প্রবেশ করে। জান্নাত ঘরের ভিতরে যায়। সারা ঘর দেখে কিন্তু কোথাও রিনি নেই। 
জান্নাত আবার বেরিয়ে আসে। জান্নাত এখন পুরোটা রহমান জিন এর আওতায়। 
রহমান, জান্নাত এর শরীর ছেড়ে দেয়।রিনি হন্য হয়ে খুজেছে।কিন্তু ফলাফল শূন্য। এসব  করতে করতে একদিন পুরো নষ্ট হয়ে গেছে রহমান জিন এর। 
রহমান নিজের রুমে প্রবেশ করে। রহমান বলেঃ আজ বিয়ে হলো দুদিন হয়ে গেছে। কিন্তু রিনি সাথে বিয়ে হলে আমার সব স্বপ্ন পুরোন হতো।বিয়ের দ্বিতীয় দিনে রিনির জন্য সারপ্রাইজ রেখে ছিলাম।হুহ। সব এখন মাটি হয়ে গেছে। 
এমন সময় রহমান জিন এর একটা কথা  মনে পড়ে, 
রহমান জিন বলেঃ আচ্ছা। ওই মেয়ে টা কই?
ও কি চলে গেছে?
কি জানি নাম টুমি,না না মনে হচ্ছে সুমি।নাম ওর।
রহমান জিন খুজতে লাগে সুমি কে।সারা রুমে খুঁজে কিন্তু পেল না।।হঠাৎ, রহমান জিন ওয়াশরুমের সামনে এসে থমকে দাঁড়ালো। 
রহমান জিন বলেঃ হায় আল্লাহ। দরজা বন্ধ! 
তার মানে মেয়ে টা প্রায় দেড় দিন মতো ওয়াশরুমের মধ্যে। 
জিন রা থাকতে পার ওয়াশরুমের মধ্যে।জিনের একটা প্রিয় জায়গা অবশ্য । কিন্তু ও তো মানুষ? 
বেঁচে আছে তো?
রহমান জিন আস্তে করে লক খোলে।দরজা খুলে দেখে...... 
💮
💮
💮
সকালের আলোতে রিনির চোখ জোড়া খুলে।এখন ও আবছা আবছা  আলো ফুটে উঠেছে। রিনি রুমে তাকিয়ে দেখে প্রিন্স (ইনতিয়াজ)  নেই।
রিনি, প্রিন্স কে প্রিন্স এর রুমে খুজতে লাগে কিন্তু পেল না।অবশেষে সারা ঘর খুজতে লাগলো। হঠাৎ রিনি লক্ষ্য করে বারান্দায় কে যেন আছে। 
রিনি বারান্দায় গিয়ে দেখে। প্রিন্স ঘুমিয়ে আছে। পাশে গিটার রাখা।চোখের জায়গায় কিছু টা ফোলা হয়ে গেছে। 
রিনি আজ এই ঘুমন্ত প্রিন্স কে দেখছে।রিনির কাছে শ্রেষ্ঠ সুন্দর একজন মনে হচ্ছে প্রিন্স কে। রিনি লক্ষ্য করে, প্রিন্স এর মুখে মায়া আছে। 
রিনি বলেঃ প্রিন্স,
আসলে খারাপ নাকি ভালো? 
জানি না বুঝতে পারছি না। তবে মনের মধ্যে মায়া সৃষ্টি হয়ে গেছে তার জন্য । 
রিনি বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে ছিল। তারপর প্রিন্স কে বালিশ দেয়। একটা চাদর জড়িয়ে দেয়। রিনি চাদর জড়িয়ে দেয়ার সময় একটু কাছাকাছি হয়ে গেছিলো প্রিন্স এর শরীর এর সাথে। রিনি তখন অনুভব করল, প্রিন্স এর শরীরে একটা খুব সুন্দর ঘ্রাণ আছে। 
রিনি বলেঃ আচ্ছা এটা কি পারফিউম এর ঘ্রাণ নাকি বাস্তবে তার শরীর থেকে আসছে? 
প্রিন্স নড়ে চড়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লো। রিনি তাড়াতাড়ি সেখান থেকে চলে আসে। কারণ, সে চাই না প্রিন্স জানোক।সে যে চুপিচুপি আজ প্রিন্স কে দেখেছে।
রিনি ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসে। একটা সাদা ড্রেস পরে আছে। বেশ কিছুক্ষণ পর,প্রিন্স আসে। 
প্রিন্স বলেঃ আসো বেলকনিতে বসি।আজকে সূর্য টা অনেক মৃদু আলো ছড়াচ্ছে। কালকের বৃষ্টির পর প্রকৃতি অসাধারণ লাগছে।চল। 
রিনি বলেঃ আচ্ছা চলেন।
প্রিন্স ও রিনি দাড়িয়ে আছে। প্রিন্স রোদ দেখছে।আর আড়চোখে দেখছে রিনি কে।কারণ, এই রৌদ্রময় সকাল টা তে। রৌদ্র এসে পড়েছে রিনির মুখের উপর। সাথে রিনি আজ সাদা কাপড় পড়েছে।রিনি কে আজ রৌদ্রময়ী রূপসী লাগছে। 
প্রিন্স কয়েক টা হার্টবিট মিস করলো।বুকের বা পাশে নাড়া দিচ্ছে রিনি এই রূপের জাদু।প্রিন্স বুকে হাত দিয়ে তাকিয়ে আছে রিনির দিকে।
প্রিন্স বলে উঠেঃ আসলেই, 
" ভালবাসা জিনিস টা
কখনো একা কারো,
জীবনে আসে না।
নিয়ে আসে অনেক, 
স্বপ্ন, আবেগ। 
অনুভূতি আর
অভিমান।।। 
রিনি কে দেখার পর, অনুভুতি নামক যে কিছু আছে।  তার  অস্তিত্ব টের পেয়ে ছিল প্রিন্স। 
হঠাৎ করে, প্রিন্স এর ছোট ছোট স্বরের আওয়াজ শুনতে পেয়ে। রিনি প্রিন্স এর দিকে তাকালো।
এর পর রিনির চোখ পড়ে প্রিন্স এর উপর এবার প্রিন্স বলেঃ you are the love,
That came without warning.
You had my heart before i could say no.
রিনি এক পলকে তাকিয়ে আছে প্রিন্সের দিকে। এবার প্রিন্স বলেঃ রিনি আজকের দিনটা কি আমার কথা মতো অতিবাহিত করা যাবে?
কারণ, কাল কে পৃথিবীতে যাবো।না জানি তোমাকে এভাবে আর পাবো নাকি? শুধু আজ কের দিনটা আমার নামে নাম করণ করে দাও।কি পারবে না?
খুব বেশি কি চাইছি? 
আজকের জন্য কি ভুলে যাওয়া যায় না আমার করা অপরাধ টার কথা? 
রিনি কিছুক্ষণ চিন্তা করে। তারপর রিনি বলেঃ
চলবে.......
****রহমান জিন ওয়াশ রুমে কি দেখলো
??😬😬😬
বিয়ে প্রথম রাতে যদি জামাই রহমানের মতো করে তাহলে কি করবেন??😉😉😉
মজার মজার উত্তর চাই।। 😳
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!