বৈধ সম্পর্ক - সিজন দুই | সাজি আফরোজ (পর্ব ২৩)

বৈধ সম্পর্ক - সিজন দুই | সাজি আফরোজ (পর্ব ২৩)

বৈধ সম্পর্ক - সিজন দুই | সাজি আফরোজ (পর্ব ২৩)
বৈধ সম্পর্ক - সিজন দুই | সাজি আফরোজ (পর্ব ২৩)




কাল রাতে মেহেনুবা ও আরাফের জন্য বাসর ঘর সাজিয়েছিলো রুমানা।
গোলাপ ফুলে পুরো রুমটা সাজানো।
সারারাত সুগন্ধি তে ভরপুর ছিলো রুমটা।
মেহেনুবার ইচ্ছে করছেনা ফুলগুলো সরাতে তবুও সে রুম পরিষ্কারের কাজে হাত লাগালো।
পরক্ষণেই নিচে চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পেলো মেহেনুবা।
ছুটে গেলো সে নিচের দিকে।
.
.
-লজ্জা করেনা তোমার? কোন মুখে এখানে এসেছো তুমি?
.
মুনিরার করা প্রশ্নে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো উপমা।
সায়নী মুনিরার উদ্দেশ্যে বললো-
মুনিরা শান্ত হো। কেনো এসেছে মেয়েটা শান্তভাবেই জিজ্ঞাসা কর।
.
আরাফ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে উপমার দিকে।
তার চোখ দুটো ফুলে আছে, আবার সেই চোখ দুটোই ছলছলে, নাকটা লাল, কপাল বেয়ে ঘাম ঝরছে অনবরত, চুলগুলো এলোমেলো।
এই কি অবস্থা করেছে মেয়েটা নিজের!
.
মেহেনুবা নিচে এসে উপমা কে দেখে চিনতে পারলোনা।
আরাফের পাশে এসে সে জানতে চাইলো-
কে মেয়েটি?
-উপমা।
.
উপমা!
নামটি শুনেই বুকটা ধুক করে উঠলো মেহেনুবার।
সে কেনো এখানে এসেছে!
আর তার এই অবস্থা কেনো!
.
সায়নীর কথা অগ্রাহ্য করে উপমার দিকে তাকিয়ে মুনিরা ধমকের সুরে বললো-
চুপ করে আছো কেনো?
.
এপর্যায়ে মুখ খুললো উপমা।
ছলছলে নয়নে তাকিয়ে বললো-
আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। ক্ষমা চাইতে এসেছি আপনাদের কাছে।
.
কথাটি শুনে মুনিরার যেনো মনটা গলে গেলো। সে নরম সুরে বললো-
ওহ! তা নিজের এই অবস্থা করেছো কেনো?
সে কথার জবাব না দিয়ে আরাফের সামনে আসলো উপমা।
আরাফের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো-
বিয়েটা তবে করেই ফেললে?
বুকটা কাঁপলো না তোমার?
.
খুব স্বাভাবিকভাবেই আরাফ বললো-
তোমার কাঁপেনি?
-তুমি তো আমাকে ভালোবাসতে বলতে।
-সে তো তুমিও বলতে।
-আমি ভুল করেছি আরাফ। যা করেছি জেদের বসে। আমাকে কি ক্ষমা করা যায়না? তুমি আমাকে ক্ষমা না করলে আজীবন কষ্ট পাবো আমি।
-ভুল বুঝতে পেরেছো এটাই অনেক।
-সত্যি?
-হ্যাঁ।
-তাহলে আমার ভুলকে ভুলে গিয়ে তোমার জীবনে ঠাঁই দাও আমাকে৷ তাহলেই বুঝতে পারবো, তুমি আমাকে ক্ষমা করেছো।
.
উপমার কথা শুনে পুরো খান বাড়ি যেনো স্তব্ধ হয়ে গেলো।
উপমা আরাফের দিকে তাকিয়ে বললো-
আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। মেহেনুবার সাথে তো তুমি জেদের বসে বিয়ে করেছো। আমি যখন ভুল বুঝে চলেই এসেছি এখন তো মেহেনুবার আর প্রয়োজন নেই। সে ভালো ফ্যামিলির মেয়ে। অন্য জায়গায় বিয়ে হতে তো সমস্যা নেই।
.
মুনিরা কিছু বলতে যাবে ঠিক সেই সময়ই আরাফ বললো-
আমি জেদের বসে বিয়েটা করিনি উপমা।
আর তুমি কি করে ভাবলে এই প্রস্তাবে আমি রাজি হবো?
তুমি এসব বলছোই টাই বা কি!
আজ তুমি এসব বলছো উপমা!
তুমি! তোমার না আমার মা বাবার বিষয় নিয়ে সমস্যা ছিলো? আজ যদি আমি একটা বিয়ে করে তাকে ছেড়ে আরেকটা বিয়ে করি এটা নিয়ে কি আমার প্রজন্মের ক্ষতি হবেনা?
-আমিতো স্বীকার করলাম আমার ভুল হয়েছিলো!
তুমি আমাকে ভালোবাসো না বলো?
.
ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে আরাফ বললো-
নাহ। তোমার জন্য এখন যেটা কাজ করছে সেটা শুধুই মায়া। অন্য কিছু নয়। আমার মনে তোমার জন্য কোনো ভালোবাসা অবশিষ্ট নেই। তবে ঘৃণাও নেই।
.
কথাটি শুনে উপমা আর স্থীর থাকতে পারলোনা।
অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো সে।
.
.
.
আফরান নিজের রুমেই ছিলো। কাল সবেমাত্র বিয়েটা হয়েছে। এতো ধকল গেলো, তাই আজ কেউ অফিসে যায়নি।
এতক্ষণ রুমের দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সবটা শুনেছে আফরান।
এই কোন ঝড় আসতে চলেছে আরাফের জীবনে! সামাল দিতে পারবে তো সে? নাকি তার মতো সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগবে!
.
আফরান এগিয়ে গেলো আরাফের রুমের দিকে।
তার সাথে কথা বলাটা প্রয়োজন এখন।
.
.
ছেলের রুমে আসলো আফরান।
তার পাশে বসে বললো-
আমার জীবনে প্রথম ভুল কি জানিস? বাবাকে না জানিয়ে সায়নীকে বিয়ে করা। দ্বিতীয় ভুল মুনিরাকে বিয়ে করা। তৃতীয় ভুল বিয়ে করে আনার পরেও তার কাছে সবটা গোপণ রাখা।
এর পরে যা হয়েছে সবটা আমার একার ভুলে নয়। কিছুটা তোর বড় আম্মু আর কিছুটা তোর ছোট আম্মুরও ভুল ছিলো।
যদিও বা আমরা ভালো আছি। কিন্তু কতোটুকুই বা ভালো আছি!
যখন সায়নীকে ভালোবাসতাম মুনিরা কি কষ্ট পেতোনা? পেতো।
আর যখন মুনিরার সাথেও স্বাভাবিক হতে শুরু করি তখন কি সায়নী কষ্ট পেতোনা? পেতো।
১৫দিন সায়নীর কাছে থাকলে আর ১৫দিন মুনিরার কাছে থাকতাম।
কিন্তু নিজেও হীনমন্যতায় ভুগতাম।
কার সাথে অন্যায় করছি আমি! চিন্তায় অস্থির হয়ে যেতাম। দুইজন স্ত্রী থাকা স্বত্তেও এখন একা থাকি আমি। ওই যে অপরাধবোধ কাজ করে। আমিতো দুজনেরই অপরাধী আরাফ!
কিন্তু পরিস্থিতির চাপে হলেও বৈধ সম্পর্কের জোরে আমি কারো কাছ থেকে আলাদা হতে পারিনি।
তুই আমাদের সম্পর্কে নতুন মোড় নিয়ে এসেছিলি। তোর জন্যই বন্ধন টা দৃঢ় হয়েছে আরো।
কিন্তু মাঝেমাঝে আফসোস থেকেই যায়।
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো আমাদের জীবনটা অন্যরকম হতে পারতো। তোর ভালোবাসা কেও হারাতে হতোনা!
-আব্বু এসব বলোনা তুমি।
আমার জীবনে যেটা হবার ছিলো সেটাই হয়েছে। কিন্তু উপমা যে আমার বিয়ের পরের দিনই ভুল বুঝে ফিরে আসবে ভাবিনি।
-পরিস্থিতি মানুষকে কখন অসহায় করে তুলবে বোঝাই মুশকিল। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
নাহয় আমার মতো দুটানাময় হয়ে যাবে জীবন। যেটা কারো জন্যই কাম্য নয়।
.
বাবার দিকে তাকিয়ে আরাফ বললো-
হুম বাবা। আমি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিবোনা। বড় আম্মু নিজেকে এক মাস সময় নিতে না বললে হয়তো আজ আমি দুটানায় পড়ে যেতাম। কিন্তু না। আমি এমন কিছু করতেই পারিনা।
-উপমা যে তোর ভালোবাসা...
-হ্যাঁ। বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে সময় দিয়েছিলাম।
উপমার ফিরেনি। এখন আমি অন্য একটা সম্পর্কে আবদ্ধ। এটা থেকে পিছপা আমি হতে পারিনা।
.
ছেলের কথা শুনে স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেললো আফরান।
তার সাথে যা হয়েছে সবটা সামাল দেয়া এতোটা সহজ ছিলোনা।
তার ছেলের সাথে এমন কিছু হোক সে চায়না।
.
.
.
উপমার জ্ঞান ফিরতেই দেখা পেলো মেহেনুবার।
বিছানার পাশেই বসে আছে মেহেনুবা।
উপমা উঠে তার পাশে এসে বসলো।
মেহেনুবা ভেবেছিলো সে হয়তো রাগ ঝাড়বে তার উপর।
কিন্তু এমন কিছুই হলোনা।
শান্ত স্বরে মেহেনুবার উদ্দেশ্যে উপমা বললো-
আমার আরাফ কে কি ফিরিয়ে দেয়া যায়না? তুমি বললে হয়তো সে ফিরে আসবে।
.
নিশ্চুপ হয়ে আছে মেহেনুবা।
উপমা বললো-
ভিক্ষা তো দেয়া যায় আমাকে?
-নিজের ভালোবাসা অন্যকে উপহার বা ভিক্ষা দেয়া যায়না উপমা।
-নিজের ভালোবাসা বলতে?
-আমিও ভালোবাসি আরাফ কে। কি করে ওকে তোমার হাতে তুলে দিবো বলতে পারো?
-কিন্তু আরাফ আমাকে ভালোবাসে।
-যদি তাই হয়, আরাফ যা সিদ্ধান্ত নিবে আমি মেনে নেবো। তবে আমি ওকে নিজ থেকে তোমার হাতে তুলে দিতে পারবোনা।
-আরাফ কে ডেকে দেবে একটু?
-হু।
.
.
আরাফের রুমে আসলো মেহেনুবা।
আরাফের উদ্দেশ্যে সে বললো-
ডাকছে তোমাকে উপমা।
-কেনো?
-জানিনা।
-চলো।
-আমি কেনো!
-যা কথা হবে তোমার সামনেই হবে মেহেনুবা।
.
.
বিছানার এক পাশেই উপমার ফোনটা রেখেছিলো মেহেনুবা।
তার ফোন বেজে উঠলে রিসিভ করলো সে।
ওপাশ থেকে রুপা আক্তার বললেন-
কোথায় গিয়েছিস তুই?
-আরাফের বাসায় আছি।
-মানে টা কি!
-আমি আরাফ কে ভালোবাসি।
তোমাদের কথায় এসে এতো ভুল আমি করেছি।
-রোমানের কি হবে উপমা! তাছাড়া তুই কি করে ভুলে গেলি? দুই সতীনের জন্য আরাফ তোর গায়ে হাত তুলেছে।
-আমি ভুলে যাইনি আম্মু। ভুলবোও না। কিন্তু তাদের জন্য আমি নিজের ভালোবাসা হারাতে পারিনা! আমি ভুল বুঝার ভান করে আরাফকে বিয়েটা করবো। তারপরেই নিজের মাঝে আরাফকে আসক্ত করে এই দেশ ছেড়ে চলে যাবো আমরা। থাকবোনা এখানে।
-এসব কি বলছিস তুই!
-হ্যাঁ। এই প্লানটা আমার আগে করাই উচিত ছিলো। তোমাদের কথা না শুনলে এই দিন দেখতে হতোনা। আরাফের বিয়ে টাও হতোনা। এখন আবার ডিভোর্স এর অপেক্ষা।
-আরাফের বিয়েও হয়েছে! আর তুই কি বলছিস এসব?
-আম্মু তোমরা চুপচাপ থাকো। নাহলে খুব খারাপ হয়ে যাবে।
.
ফোনের লাইন কেটে বন্ধ করে দিলো উপমা।
পেছনে ফিরতেই আরাফ ও মেহেনুবাকে দেখতে পেলো সে।
আরাফ তার পাশে এসে বললো-
বাহ! খুবই ভালো প্লান তো! তুমি ভাবলে কি করে? তোমার কথায় গলে গিয়ে আমি আমার পরিবার কে অগ্রাহ্য করবো?
-আরাফ আমি আসলে....
-আর কতো বাহানা দিবে তুমি?
মনুষ্যত্ব বলতে একটা জিনিস আছে। এটা আছে তোমার মাঝে?
-আই এম সরি আরাফ!
-তুমি এখুনি বেরিয়ে যাবে। মেহেনুবাকে আমি ছাড়বো না।
-যে সম্পর্কে ভালোবাসা নেই সেই সম্পর্কে বন্ধন টা থাকবে তো?
-সিরিয়াসলি! ভালোবাসা বুঝো তুমি?
শুধু ভালোবাসলেই হয়না। বিশ্বাস ও সম্মানটাও থাকা চায়। আর এই বিশ্বাস, সম্মান থেকেই একে অপরকে মনে প্রানে ভালোবাসে এবং দুজন-দুজনকে কাছে পেতে চায়।
কি করেছিলে তুমি আমাকে? বিশ্বাস নাকি সম্মান? করেছো শুধুই অপমান।
-ভুল বুঝতে পেরেছি আরাফ আমি!
-ওহ রিয়েলি! তাই এসব প্লানের কথা বলেছিলে ফোনে?
.
কিছুক্ষণ চুপ থেকে উপমা বললো-
হ্যাঁ আমি মানছি যে আমি তোমার মায়েদের মেনে নিতে পারবোনা। কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি। তাই তোমার বিয়ের কথা শুনে ঠিক থাকতে পারিনি। ছুটে এসেছি। তোমার মায়েদের পছন্দ না মেহেনুবা? ঠিক আছে সে থাকুক। আমাকেও তুমি বিয়ে করো। মেহেনুবা তোমার দায়িত্ব আর আমি তোমার ভালোবাসা। দুজনেই থাকলাম তোমার সাথে।
তোমার বাবা তো দুটো বিয়ে করেছে। তোমার জন্য এটা কঠিন হবেনা আশা করি।
.
সায়নী এতক্ষণ যাবৎ দরজায় দাঁড়িয়ে সবটা শুনছিলো। এ পর্যায়ে প্রবেশ করলো সে।
সায়নী বললো-
আমাদের জন্য সবটা সামলানো এতোটা সহজ ছিলোনা উপমা।
মুনিরা অনেক সাধনার পরে আফরানের ভালোবাসা পেয়েছে। তার কি কষ্ট হতোনা তাকে ফেলে আফরান যে আমাকে নিয়ে মেতে থাকতো?
হ্যাঁ হতো। কিন্তু আস্তেধীরে যখন আফরান তাকেও অধিকার দেয় আমার মনে কতোটা জ্বালা করেছে সেটা বোঝার ক্ষমতা কারো নেই। আমি সবটা করেছিলাম সেই আমিই কিন্তু মানতে পারতাম না আফরান আর মুনিরার সহজ হওয়াটা। তবুও তাদের বুঝতে দিইনি এসব। আরাফের আগমনে আমাদের সম্পর্ক টা হয়তো সহজ হয়ে এসেছিলো। তবুও মনের মাঝে সবারই একটা আফসোস থেকেই যায়।
ইশ! যদি আগে ভুলটা না করতাম!
শুধু সমাজ নয়, নিজেদের মাঝেই এসব মেনে নেয়া এতোটা সহজ নয় উপমা।
আমরা পরিস্থিতির শিকার ছিলাম। কিন্তু তুমি? বারবার সুযোগ এসেও কাজে লাগাওনি। আর সেই তুমি কিনা বলছো দ্বিতীয় বউ হতে রাজি!
পারবে তো এসব সামাল দিতে?
সমাজ, লোকের কথা, মেহেনুবাকে মেনে নিতে?
-হ্যাঁ। ভালোবাসার জন্য মানুষ কিনা পারে!
-কিন্তু আমি পারবোনা আরাফ কে ভাগ করে নিতে।
.
মেহেনুবার কথা শুনে তার দিকে দৃষ্টি দিলো সকলে।
সে আরো বললো-
আমরা কোনো পরিস্থিতির শিকার নয়। আরাফ সবটা বুঝেই আমাকে বিয়ে করেছে আর আমি আরাফকে। হয়তো ও আমাকে ভালোবাসেনা। কিন্তু আরাফ যদি উপমাকে ভালোবেসে থাকে, তার সাথে থাকতে চায় থাকতেই পারে। আমি পারবোনা থাকতে। আমি ডিভোর্স দিয়ে চলে যাবো।
নিজের ভালোবাসা অন্য কারো সাথে ভাগ আমি করে নিতে পারবোনা জেনে শুনে!
.
এই প্রথম মেহেনুবা সহজ সরল স্বীকারোক্তি দিলো তার ভালোবাসা নিয়ে।
মেহেনুবা ভালোবাসে আরাফকে!
এই ভালোবাসা পবিত্র ভালোবাসা। যেখানে সম্মান, বিশ্বাস, পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা সবই আছে।
উপমার পাগলামির জন্য মেহেনুবাকে হারাতে পারেনা আরাফ!
তার মনে উপমার জন্য এতক্ষণ একটু হলেও কষ্ট হচ্ছিলো তবে মায়ের সাথে উপমার ফোনের কথা শুনে যেনো তাও উধাও হয়ে গেলো।
সে ভেবেছিলো ভালোবাসাকে ত্যাগ করবে সম্পর্কের জন্য কিন্তু না এখন সে ভুল মানুষকেই ত্যাগ করবে।
আরাফ উপমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো-
তুমি যাবে নাকি তোমার বাসায় খবর দিবো আমি? শুরুটা যেখান থেকে হয়েছিলো শেষটা সেখানে হবে ভাবলে কি করে!
তোমাকে বিয়ে আমি করবোনা। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি খান বাড়িতে আর হবেনা।
-হবেনা। উপমার মা এসেছে। ড্রয়িংরুমে আয়।
.
মুনিরার সাথে
সকলে ড্রয়িংরুমে আসতেই দেখা পেলো রুপা আক্তারের।
তার পাশেই রয়েছে রুমানা।
রুমানা বললো-
মুনিরা আন্টির কথায় উনাকে এখানে নিয়ে আসলাম আমি।
.
রুপা আক্তারের উদ্দেশ্যে মুনিরা বললো-
খুব তো বলেছিলেন ২বউ এর পরিবারে নিজের মেয়েকে বিয়ে দিবেন না। আজ আপনার মেয়েই কিন্তু আরাফের দ্বিতীয় বউ হতে চাইছে। আজ কই গেলো তার আত্নসম্মান?
-এভাবে কেনো বলছেন! উপমা ভালোবাসে আরাফ কে।
-ওহ তাই! আমার তো মনে হচ্ছে অনেক ভদ্র করেই বলছি। আপনার অতি ভদ্র মেয়েকে নিয়ে চলে যান খান বাড়ি ছেড়ে।
.
সায়নী বললো-
আমরা কোনো ঝামেলা চাইনা। আপনাদের অপমান করার ইচ্ছেও আমাদের নেই। যতোদ্রুত সম্ভব উপমার বিয়েটা সেরে নিন অন্য কারো সাথে।
.
রুপা আক্তার মেয়ের উদ্দেশ্যে বললেন-
আয় মা। বাসায় চল।
.
উপমা অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো আরাফের দিকে।
এই দৃষ্টি আজ তাকে দূর্বল করতে পারছেনা।
তার আকুতিও তো দূর্বল করতে পারেনি উপমাকে!
উপমা বললো-
কিছুদিনের দুরুত্ব আমাদের সম্পর্ক টাকে শেষই করে দিলো!
ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে আরাফ বললো-
দূরে থাকলেই সম্পর্ক নষ্ট হয়না। অহংকার, অসম্মান, জেদ নষ্ট করে সম্পর্ক কে। এই তিনটাই তোমার মাঝে বিদ্যমান ছিলো। যাই হোক,
ভালো থেকো উপমা।
.
রুমানা উপমার পাশে এসে বললো-
আমি বলেছিলাম ধীরেধীরে আরাফ ভালোবাসবে মেহেনুবাকে৷ কিন্তু এটা বলিনি যে আরাফ তোমাকে এখনো ভালোবাসে। ভালোবাসা কে যত্ন করে ধরে রাখতে হয় উপমা। নাহলে তা হারিয়ে যায়। আজ তোমার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।
এখন আসতে পারো তুমি।
.
উপমা চলে যাচ্ছে।
আরাফ নিজের রুমের দিকে ছুটে গেলো।
মুনিরা রুমানার উদ্দেশ্যে বললো-
কেনো যে উপমাকে ওসব বলতে গেলি তুই!
.
সায়নী বললো-
ভালোই হলো একদিকে। আরো একটা রূপ আমরা দেখতে পেলাম উপমার।
.
.
.
এক মুহুর্তের জন্য মনে হয়েছিলো আরাফ কে আমি হারিয়ে ফেলবো!
মনেহয়েছিলো সে বেছে নিবে উপমা কে।
যদি তার পরিবার নিয়ে কথা না বলতো উপমা তবে কি করতো আরাফ?
সে তবুও মেহেনুবার কেই বেছে নিতো বৈধ সম্পর্কের জন্য?
.
মনের মাঝে এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে মেহেনুবার।
রুমের ভেতর প্রবেশ করে আরাফ কে চুপচাপ বসে থাকতে দেখলো সে।
মেহেনুবা তার সামনে এসে বললো-
তুমি হয়তো আজ তোমার পরিবারের কথা ভেবে নিজের ভালোবাসাকে ত্যাগ করেছো। যতোই মুখে বলোনা কেনো উপমাকে ভালোবাসোনা তুমি। কিন্তু তোমার চোখে ওর জন্য আমি ভালোবাসা দেখছি।
তবে আমার বিশ্বাস সম্পর্কের জোরে আমাদের মাঝেও সবটা ঠিক হয়ে যাবে।
.
মেহেনুবা বিছানার এক পাশে বসলো।
আরাফ ফোনটা হাতে নিয়ে ডায়াল করলো তাসুর নাম্বারে।
ওপাশ থেকে রিসিভ করতেই আরাফ বলে উঠলো-
তোমার ধারণাই সঠিক তাসু। তোমার বোন তো আমাকে ভালোবাসে এবং তা আগে থেকেই।
.
তাসু উৎসুকভাবে বললো-
আপু বলেছে?
-একেবারে সহজ সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
.
এই যা! তাসুকে এসব কি বলছে আরাফ! লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে তার।
সে বারান্দায় চলে গেলো।
এদিকে তাসুর সাথে ফোনে কথা বলা শেষে বারান্দায় আসলো আরাফ।
মেহেনুবার উদ্দেশ্যে বললো-
মানুষ ভালোবাসার মানুষটাকে হারাতে চায়না, ভুলতে চায়না।
কিন্তু আমি চাই। কারণ আমার টা ভালোবাসা ছিলোনা। ছিলো ভুল। তুমি তোমার ভালোবাসা দিয়ে পারবেনা আমার সব কষ্ট ভুলিয়ে দিতে? পারবেনা যেভাবে বাসার সবার মনে জায়গা করেছো সেভাবে আমার মনেও জায়গা করতে?
এই মনে শুধু একজনকেই রাখতে চাই আমি। আর সে হলো আমার বৈধ স্ত্রী। ভালোবাসো, বন্ধুত্ব করেছো। এখন দায়িত্ব এটাও নাও। পারবেনা বলো?
.
মুচকি হেসে মেহেনুবা বললো-
পারবো।
.
(চলবে)

Tags:- অবৈধ সম্পর্ক,সাজি আফরোজ,সম্পর্ক কাকে বলে,সম্পর্ক pdf,সম্পর্ক কি,সম্পর্ক অর্থ,সম্পর্ক কবিতা,সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার উপায়,ভালোবাসার সম্পর্ক,সম্পর্ক মানে কি,বৈধ সম্পর্ক - সিজন দুই
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!