রাত যখন গভীর Season:02 Part :48

 #রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
#(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :48
************

রাত যখন গভীর Season:02 Part :48

রাত যখন গভীর Season:02 Part :48 



ইনতিয়াজ বলেঃ কি কি শর্ত বলো।
রিনি বলেঃ আমার শর্ত গুলো হচ্ছে।
তবে মন দিয়ে সব শুনবেন।একটা কথা আবার রিপিট করবো না।আমি শুরু করছি?
ইনতিয়াজ বলেঃ হুম শুরু করু।আমি মন,দিল সব দিয়ে শুনছি। 
রিনি বলেঃ শর্ত গুলো হলো,,, 
১,আমার সাথে মন খুলে কথা বলতে হবে। 
হিসাব করে করে কথা বলা যাবে না।
২,আমার প্রয়োজন জেনে ভার্সিটি যাওয়ার সময় কিছু টাকা দিয়ে যেতে হবে।আর বলবেন প্রয়োজন হতে পারে ।এই রকম করবেন, যাতে আমার হাত পাততে না হয়।
৩,আমার সম্পর্কে বাজে কিছু হোক বা যেমন কথা হবে হোক যদি শুনে থাকেন।তাহলে প্রথমে আমার কাছে এসে বলতে হবে এ বিষয়ে।
আমার তখন,এক্সপেক্টেশন হবে, 
আপনি আমাকে বলবেন, 
আপনার কোন মাথা ব্যথা নেই এ বিষয় নিয়ে।আর বলবেন অতীত তো অতীত । 
আপনি,তখন জোর স্বরে বলবেন,
আমি ই আপনার বর্তমান, আর আমিই আপনার ভবিষ্যত।
আমিই আপনার সব।
৪,হাজারো সুন্দরীর ভিড়ে আমাকে খুঁজে নিতে হবে। আমি যেমন আছি সেইভাবে আমাকে সারাজীবন ভালোবেসে যাবেন।অন্য কোন মেয়ে বা অন্যের বউয়ের দিকে বা জিন কণ্যার দিকে বউয়ের দৃষ্টিতে দেখবেন না।
৫,অন্য কারো প্রশংসা আমার সামনে করবেন না। আমি চাই না আমার বর আমি ছাড়া অন্য কারো প্রশংসা করোক।
৬,আমার সাথে ঝগড়া করা যাবে না।তবে অল্প অভিনয় করে ঝগড়া করবেন।পরক্ষণেই মিষ্টি হাসি দিয়ে সরি বলে অভিমান ভাঙ্গাবেন।
৭,আমার অদ্ভুত সব আবদার পূর্ণ করতে হবে।এবং  আমাকে প্রচুর বিশ্বাস করতে হবে।
৮,আমাকে যথেষ্ট সময় দিতে হবে।আমার জন্য সময় বের করতে হবে যত ব্যাস্ত তা হোক না কেনো।আমাকে বিভিন্ন ধরনের জায়গায় ঘুরতে নিতে হবে। 
৯,আমাকে অনেক ভালোবাসতে হবে।অনেক বলতে অনেক। প্রচুর প্রচুর ভালোবাসতে হবে।আমার যেনো কখনো ভালোবাসার কমতি না হয়।
১০, আমার কোলবালিশ ছাড়া ঘুম আসে না।আমার কোলবালিশ হতে হবে।আমি আপনাকে কোলবালিশ এর মতন জড়িয়ে ধরে ঘুমাবো।
এসব শর্ত কি মানতে আপনি রাজি মিস্টার জিন রাজ্যের একমাত্র প্রিন্স ইনতিয়াজ মাহমুদ??? 
রাজি থাকলে আমি ও আপনাকে বিয়ে করতে প্রস্তুত। তবে,সব শর্ত মানতে হবে কিন্তু!!!
ইনতিয়াজ বলেঃ মাত্র ১০ টা শর্ত।তুমি যদি হাজার টা শর্ত দিতে সব মানতাম। তোমার জন্য এ কটা শর্ত আমি কি মানতে পারবো না নাকি?
অবশ্যই আমি সব শর্ত মানবো।
তাছাড়া আমি তোমাকে নিজের চেয়ে ও বেশী বিশ্বাস করি।আমি নিজের চোখ কে ও অবিশ্বাস করতে রাজি। কিন্তু তোমাকে অবিশ্বাস করবো না।
তুমি ছাড়া আমার জীবনে কোন অপশন নেই।তুমি সব।তোমাকে ছাড়া আমার কল্পনা ও স্বপ্নে কেউ কে আনি না।সব খানে তোমার বিচরণ। তোমার রাজত্ব চলে শুধু।
এবং, according to condition,
তোমার তারিফ যতো করবো কম হবে। তোমার সাথে কারো তুলনা হয় না রিনি।তোমার সামনে হোক পিছনে হোক কোন মেয়ের তারিফ করবো না।
তোমার বুকের সাথে লেপ্টে শুয়ে থাকাতো আমার জন্য স্বর্গীয় আনন্দ পাওয়ার মতো। তোমার কোলবালিশ হতে রাজী।
আমার সব কিছু তোমার।তাই,
তোমার জন্য আমার সব সময়।তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবো।বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের জায়গায় ।এবং একসাথে বসে ফুচকা ও খাবো।অনেক মজা করবো।ট্যুারে নিয়ে যাবো।
এবং, রিনি
তোমাকে কতো টা যে ভালোবাসি তা আমি নিজে ও জানি না।তাছাড়া, আমার তোমার প্রতি ভালোবাসা কখনো কমবে না। বরং দিন দিন বাড়তেই থাকবে।
তোমার সাথে সব কথা বলবো।তুমি আমার অর্ধাঙ্গিনী।আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্ক থাকবে।সব মন খুলে শেয়ার করবো।একসাথে বসে কান্না করবো।হাসবো।সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করে নিবো।
তাছাড়া, 
তোমার বিষয়ে যে যায় বলবে বলোক।অনেক এর তো কাজই এটা নিন্দা করা।কিন্তু, 
i just Don't care rini.whatever they'll said to me.i just know that i Trust you so much.even MORE Than myself.
এমনকি  রিনি
তুমি কেমন আমি জানি।তুমি তোমাকে যতটা চিনো না তোমাকে আমি ততটা চিনি।
তুমি আমার সব কিছু। আমার প্রথম এবং শেষ ভালোবাসা।তোমাকে আমি বেপানাহ চাই।
সবসময় এভাবে চাইবো।
 ওম।যতটুকু আমার মানিব্যাগ এর বিষয়ে কথা। তাহলে , শুনু আমার মনের রানী।
আমার মানি ব্যাগ তোমার কাছে থাকবে।তোমার হাত পাততে হবে না। তোমার যত ইচ্ছে নিবে টাকা।
তোমার সব শর্ত জুড়ে রয়েছে আমাদের দু'জনার আরও কাছে চলে আসার কিছু মাধ্যম।এতে করে,  ভালোবাসা আরও মজবুত হবে।একে অপরকে খুব গভীর ভাবে বুঝতে পারবো।
রিনি, এসব আমি চোখ বন্ধ করে মানতে রাজি।
তবে শুন না।
আমার না  কিছু আবদার আছে!!!
আমার আবদার কি মানবে তুমি?
রিনি বলেঃআমার বর আবদার করবে আমি কি না মানতে পারি নাকি?
বলেন আবদার গুলো। 
ইনতিয়াজ বলেঃ কি বললে?
বর,
ওহ আল্লাহ। আমার যে কি খুশি লাগছে। 
আমার আবদার হচ্ছে,
*বৃষ্টি হলে খিচুড়ি করতে হবে।বৃষ্টি তে দুজন একসাথে ভিজবো।
*এক সাথে রাতের আকাশ দেখবো।তোমার মাথা থাকবে আমার বুকের ওপর। 
*মাঝে মাঝে একে অপরকে সারপ্রাইজ দিবো।
*প্রত্যেক দিন সকালে আমাকে পাঁচ মিনিট জড়িয়ে ধরতে হবে।যত কাজ থাকবে থাকুক। 
*আমি ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কপালে তোমার ভালোবাসার আলপনা চুমু চাই।
*মাঝে মাঝে শাড়ী পরতে হবে।আমার কাছে তুমি শাড়ী পড়া অবস্থায় অসম্ভব সুন্দরী এবং নেশাবতী কণ্যা লাগো।
*আমি ও তোমার সাথে কাজে সাহায্য করবো।আমার পক্ষে যতটুকুর সম্ভব হয় আরকি ।সে জন্য তুমি মানা করতে পারবে না।
*প্রত্যেক বিকেলে আমাদের রুমের বেলকনির দোলনায় বসবে তুমি।এবং  তোমার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকবো আমি।
*আমাকে গান শুনাতে হবে।
কি মিসেস রিনি মাহমুদ? বেশি হয়ে গেছে নাকি আবদার? 
আপনি কি রাজী!!!!
রিনি বলেঃ সত্যি সত্যি বর হয়ে জান তাড়াতাড়ি। আপনার আবদার গুলো আমি মানবো।
আপনার সব আবদার আমি কোন দ্বিধা বোধ ছাড়া মেনে নিলাম।
ইনতিয়াজ বলেঃ তাহলে, বিয়ের কাজ টা তাড়াতাড়ি সেরে ফেলি?
রিনি  বলেঃ জি।
হঠাৎ করে, ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। রিনি ও মাহমুদ ভিজে একাকার হয়ে গেছে। রিনির সৌন্দর্য আরও বেড়ে গেছে বৃষ্টির জলে।ইনতিয়াজ কে বারবার আকৃষ্ট করছে রিনির দিকে। ইনতিয়াজ আস্তে আস্তে আকৃষ্ট  হয়ে এগিয়ে আসছে রিনির দিকে। রিনির খুব কাছে চলে গেল ইনতিয়াজ। 
রিনির শরীর কাঁপুনি দিচ্ছে ভিজে যাওয়ার কারণে। ইনতিয়াজ তার ঠোঁট জোড়া রিনির ঠোঁটের কাছে নিয়ে গেল। রিনির ঠোঁট জোড়া ও রীতিমতো  কাঁপছে।
ইনতিয়াজ সাথে সাথে কি যেনো চিন্তা করে। অতঃপর,  মুখ সরিয়ে নেই রিনির কাছ থেকে।
 ইনতিয়াজ বলেঃ থাক।আজ না।
বিয়ে টা হয়ে যাক।
আজ আসি।এখন এর টা তোলে রাখলাম।
একবারে বউ ভেসে দেখবো আবার।বউ ভেসে বৃষ্টি বিলাসীর রূপে বিভোর হবো।
রিনি খুশী হয়ে গেছে অনেক।সব কিছু অনেক ভালো লাগছে রিনির।হয়তো ইনতিয়াজ কাছে এসে ও স্পর্শ না করাতে রিনির বিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে ইনতিয়াজ এর প্রতি ।সবার বুঝতে হবে, ভোগ করাই সফলতা না।প্রিয়তমার মর্জি টা ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। 
এর পরপরই, 
ইনতিয়াজ চলে গেল। রিনি নিচে নেমে ফ্রেশ হয়ে গেছে। কয়েক দিন পর, রিনির বিয়ে পাকা কথা চলছে।সব কিছু ঠিক হয়ে গেছে।বিয়ের জন্য সব কিছু প্রস্তুত। 
সব মেহমান ডাকা শেষ। ঐশী ও এসে পড়েছে। তবে রিনি ও প্রিন্স এর আগের ঘটনা বলে নি ঐশী কে রিনি।অতীত কে মাটি চাপা দিয়েছে রিনি।ঐশী এটা ও জানে না।তার আশেপাশে মানুষ সেজে জিন এর বসবাস। এমনকি এটা ও জানে না, প্রিয় বান্ধুবীর বিয়ে হচ্ছে একটা জিনের সাথে। তবে যেই সেই জিন না। জিন রাজ্যের প্রিন্স এর সাথে। 
দেখতে দেখতে বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসে। এইতো আজ রিনির গায়ে হলুদ কাল কে বিয়ে। এবং আজ সন্ধ্যায় রিনি গায়ে হলুদের ব্যবস্হা করেছে । রিনির অনেক বন্ধু এসেছে।ভার্সিটির শিক্ষকরা ইনতিয়াজ এর  অনুষ্ঠানে গেছে।রিনি টাতে ফ্রেন্ডরা।ইনতিয়াজ এর টাতে শিক্ষকরা।
অবশ্য, রিনি ও ইনতিয়াজ এর বিয়ে নিয়ে কোন শিক্ষক বা রিনির ফ্রেন্ডরা বাজে কিছু বলে নি। তারা সবাই এটা জানে যে,বিয়ে টা পারিবারিক ভাবে হচ্ছে। 
অন্য দিকে, ইনতিয়াজ এর বিয়ে হওয়াতে  পিচ্চি অনেক খুশি। পিচ্চি কে শপিং করে দেয় অনেক। রানী লোভার সাথে বেশ ভাব জমেছে পিচ্চির।পিচ্চি ও সাজুগুজু করেছে।
সাথে শাম্মি ও সাজুগুজু করেছে।
পিচ্চি এবং শাম্মি দুজন রিনির বাড়ি তে এসেছে।সাথে করে নিয়ে আসে  রিনির জন্য হলুদ, বিয়ে এবং গায়ে হলুদের  ড্রেস নিয়ে ও অন্যান্য জিনিস ।
শাম্মি ও পিচ্চি চলে গেল। তাদের সে খানে ও প্রোগ্রাম আছে। তারা যাওয়ার পর রিনি কে রেডি করতে নিয়ে গেল। 
রিনির সাজ সম্পূর্ণ, রিনি আজ হালকা সুনালী এবং জলপাই রঙের লেহেঙ্গা পড়েছে। রিনির শাশুড়ী রানী লোভা অনেক গহনা দিয়েছে।রিনিকে রাবেয়া সব পড়িয়ে দিয়েছে। দুপুরের দিকে জান্নাত দু-হাত ভরে মেহেদী আলপনা করে দেয়। এখন বেশ সুন্দর রঙ ধরেছে। রিনির দুহাত ভরে চুরি পড়েছে। প্রিন্সের এর প্রিন্সেস এর মতো লাগছে দেখতে।
হাবিব বলেঃ বাহ,আজ তো পিচ্চি মামুনি কে চিনতে পারছি না।কখন যে এতো বড় হয়ে গেছে বুঝতে পারিনি।তাই না কামাল?
কামাল নিরবে চোখের জল ফেলছে। কামাল বলেঃ হুহ।পিচ্চি মেয়ে যে অন্য ঘরের বউ হয়ে গেছে।
রাবেয়া বলেঃ কান্না করছো কেনো?
এটা আমাদের জন্য সুখের মূহুর্তের মধ্যে সেরা মূহুর্ত।মেয়ে কে হাসি মুখে বিদায় করতে হবে।
কামাল বলেঃ হুম।
রিনি স্টেজের মধ্যে বসে আছে। 
মুগ্ধ বলেঃ রিনি,কে হলুদ ভালো ভাবে লাগিয়ে দাও।কাল যেনো হলদে রানী লাগে।
জান্নাত বলেঃ মামুনি এমনে সুন্দর। হলদে হলে তো ইনতিয়াজ চোখ সরাতে পারবে না।
রিনি লজ্জাতে শেষ হয়ে যাচ্ছে। 
মুগ্ধ বলেঃ আরে জান্নাত ডার্লিং মামুনি লজ্জা পাচ্ছে তো।
ঐশী অনেক ক্লান্ত। যে জাঁকানাকা নাচঁ করেছে। এখন সব এনার্জি শেষ। রিনি কে ও ঐশী আজ নাচিয়ে নিয়েছে।বেচারির নাজে হাল অবস্থা করেছে ঐশী।
ঐশী বসে আছে হঠাৎ পাশ কাটিয়ে একজন বলেঃ মিস,আবার সেন্স লেস হয়ে যাবেন দেইখেন!!!!
ঐশী বলেঃ কে কে"!!!
পাশের থেকে নীল রঙের চোখ জোড়া ঐশীর চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। মুখে হাসি ফুটে আছে তার।
বলে উঠেঃ চিনতে পারেন নাকি দেখি?
স্মৃতি শক্তি কেমন।একটু যাচাই করে দেখি।
ঐশী বলেঃ আপনি তো ওই লোকটা।
নাম মনে নেই। 
ওফ মনে পড়ছে না কেন।
ওমমমমম মনে পড়ছে। আপনি আলাউদ্দিন তাই না?
আলাউদ্দিন বলেঃ বাহ বেশ মনে রেখেছেন তাহলে।জী আমি সেই আলাউদ্দিন।
ঐশী বলেঃ আপনি এখানে কেনো?
আলাউদ্দিন বলেঃ আমি wedding ceremony planner. পড়াশোনার পাশাপাশি এটা করি।সব কাজ শেষ করে বসে ছিলাম।তখন ই আপনাকে দেখতে পেলাম।
ঐশী বলেঃ তা আমাকে মনে রেখেছেন এতো দিন?
আলাউদ্দিন বলেঃ মনে রাখার মতোই আপনি।ভুলে যায় কেমনে?
তা অনেক ক্লান্ত আপনি।বাট নাচটা অসম্ভব সুন্দর হয়েছে।
ঐশী বলেঃ আমি মনে রাখার মতো আমার তো এমনটা মনে হয় না। 
ধন্যবাদ।
আলাউদ্দিন বলেঃ আসি।আমার আরও কাজ আছে। আমার এসিস্ট্যান্ট রা বাকি টা দেখবে।
ঐশী বলেঃ আচ্ছা। 
ঐশী অনুভব করল,ছেলেটার চোখ জোড়া কিছু একটা বলতে চাচ্ছে। অন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছিলো আজ ঐশী কে। অবশ্য, ঐশীর ও ছেলে টাকে মন্দ লাগে না।
রিনি কে সবাই হলুদের ডিব্বা বানাইছে।লাবু ও রেশমী একসাথে স্টেজে গিয়ে অনুষ্ঠান শেষে রিনি কে নিয়ে আসে রুমে। সবাই নাচ করে অবস্থা খারাপ করে ফেলেছে। রিনির অবস্থা আরও খারাপ।
রাবেয়া,লাবু,রেশমি তারা ৩ জন মিলে হলুদ ছাড়িয়েছেন। সাথে  রিনিকে ফ্রেশ হতে সাহায্য করে  দেয়। রিনি ফ্রেশ হয়ে বিছানার মধ্যে বসে আছে।
রিনি বলেঃ আমি অনেক ক্লান্ত।
রাবেয়া বলেঃ শুয়ে পড়।আমি মাথা তে হাত বুলিয়ে দিচ্ছি। রেশমি ও লাবু তোমরা ও ঘুমিয়ে পড়ো যাও 
কাল অনেক ঝামেলা আছে।
তারা চলে গেল। রিনি শুয়ে পড়েছে। রাবেয়া খুব সুন্দর করে বিনি কাটছে রিনির চুলের মধ্যে। কামাল কালকের জন্য আয়োজনে ব্যাস্ত। অন্য দিকে, ইনতিয়াজ এর গায়ে হলুদ অনেক সুন্দর হয়েছে।পিচ্চি অনেক খুশি। ইনতিয়াজ এর পৃথিবীতে যে ঘর আছে সেখানে আয়োজন করা হয়েছে।
বেশ কিছুক্ষণ সময় অবধি ইনতিয়াজ এর অনুষ্ঠান চলছে। অনুষ্ঠান শেষ করে ইনতিয়াজ বেলকনিতে বসে আছে। বেলকনিতে আগমন ঘটে শাম্মির।ইনতিয়াজ এর আদরের বোনের। শাম্মি, ইনতিয়াজ এর পাশে বসে।
ইনতিয়াজ বলেঃ হাবিব কই?
রিনির বাসা থেকে আসে নি?
শাম্মি বলেঃ আসছি,অনেক ক্লান্ত। সবাই নাকি অনেক নাচ করেছে। আমি তো জিনিস দিয়ে চলে আসছি।মা চলে আসতে বলেছে। ওইখানে নাকি সবাই নাচ করে বেহাল দশা হলো।
ইনতিয়াজ বলেঃ হা হা তাই।
তো এখন হাবিব কি করছে?
তোর সাথে নেই যে?
শাম্মি বলে ঃ আরে অনেক ক্লান্ত ঘুমিয়ে পড়লো সে এসে মাত্র। আমার ঘুম আসছে না।তাই তোমার রুমে প্রবেশ করছি।
ইনতিয়াজ বলেঃ আমার ও ঘুম আসছে না।
শাম্মি বলেঃএকটা কথা বলি ভাই?
ইনতিয়াজ বলেঃ হুম
শাম্মি বলেঃ
ভাই, তুমি কি খুশি? 
কেমন লাগছে ভালোবাসার মানুষ কে সারাজীবনের সঙ্গী করে পেতে? 
অনুভুতি টা কেমন?
ইনতিয়াজ বলেঃএটা এমন এক অনুভুতি যা প্রকাশ করতে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।প্রিয় মানুষ টা কে পাওয়ার মাঝে আলাদা ভালো লাগা কাজ করে। তাছাড়া এ শহরে সবাই তো ভালোবাসার মানুষ কে পাই না।আমি পেয়ে ছি।তাই অনুভূতি বহিঃপ্রকাশের ভাষা নেই। 
শাম্মি বলেঃ আমি বুঝতে পারছি ভাই।আমার ও তোমার মতো অবস্থা হয়ে ছিলো।ভালোবাসা যদি আজীবন এমন থাকে তাহলে জীবন টা সুন্দর হয়।
ভাই বোন অনেক্ক্ষণ ধরে গল্প করেছে।বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ জমেছে তাদের। সাথে তো কফি আছেই ।গল্প শেষ করে যে যার মতো ঘুমাতে চলে গেল। 
শাম্মি রুমে প্রবেশ করতেই দেখে হাবিব হাত পা ছড়িয়ে ঘুমিয়ে আছে। সারা বিছানা দখল করে নিয়েছে হাবিব।
শাম্মি বলেঃ হাবিব কি ভুলে গেছে। তার যে একটা বউ আছে। তার ও বিছানার উপর জায়গা দরকার। হুহ
শাম্মি আস্তে করে সরানোর ব্যর্থ  চেষ্টা করছে। চেষ্টা করতে করতে একটু পর হাবিব নিজ থেকে ঘুমের ঘুরে সরে যায়। ফলে কিছু টা জায়গা হয়ে যাই। 
সেখানেই শাম্মি গাঁ এলিয়ে দেয়। সাথে সাথে চোখের মাঝে ঘুমের আনাগোনা শুরু হয়ে যাই। শাম্মি ঘুমিয়ে পড়লো। অন্য দিকে, 
 ইনতিয়াজ ও নিজের রুমে গভীর ঘুমে মগ্ন।
সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। এমনকি,
রিনি ও ঘুমাচ্ছে। রাবেয়া ও ঘুমিয়ে পড়লো।মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে, হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়লো। মা মেয়ে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে। 
 কামাল রিনির রুমে প্রবেশ করে। কামাল দেখে, রিনি ও রাবেয়া ঘুমাচ্ছে। 
কামাল চেয়ার টেনে বসে। এক পলকে মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। 
কামাল বলেঃ ঘুমন্ত অবস্থায় আরও পিচ্চি লাগছে রিনি মা।কিন্তু তোই তো দুনিয়ায় চোখে পিচ্চি নেই।হুহ কাল তোকে বিদায় দিতে হবে। 
তখনই, কামাল......... 
চলবে....
শর্ত গুলো এবং আবদার গুলো কেমন ছিলো?
আপনার ভালোবাসার মানুষ টা কে বলেছেন তো,
আপনি যে কতটা ভালবাসেন????
কমেন্ট করে জানাবেন কিন্তু?? 
আমি আপনাদের কমেন্টের অপেক্ষায় রইলাম 😍😍😍😍😍

[গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে বলেন প্লিজ 

Tags:- রাত যখন গভীর Season:02 Part :48,romantic story , valobasar golpo, sad story , bhuter golpo, vut, bangla golpo
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!