রাত যখন গভীর Season:02 Part :31

#রাত যখন গভীর 

#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 

#(jannatul mawa moho)

Season:02

Part :31

************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :31
রাত যখন গভীর Season:02 Part :31


জান্নাত বলেঃ আহিসতা আহিসতা চালাও। মুগ্ধ আমার ভয় লাগছে।
তখনই, গাড়ি টা একটা গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে গাড়ির থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।
তখনই, পুলিশ আসে সাথে সাথে। পুলিশ বলেঃ আপনাদের সিগনাল দিচ্ছি লাম।দেখেননি?
আপনাদের কে গাড়ি দ্রুত গতিতে চালানোর জন্য এরেস্ট করা হয়েছে।
মুগ্ধ ও জান্নাত এখন কারাগারে বন্দী। দুজন মুখ ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
নিরবতা ভেঙ্গে,
মুগ্ধ বলেঃ ব্যথা পাইছো প্রিয়?
জান্নাত বলেঃ না।আমি ঠিক আছি।তবে আমার একটা কথা ভেবে খারাপ লাগছে,
আমার হবু বর জানলে কষ্ট পাবে।
মুগ্ধ বলেঃ বাল পাবে।শালার জন্য রাগ উঠছে।না হয় আমি এভাবে কখনো গাড়ি চালাইতাম না।শালাকে পাইলে হবে।আমার কলিজা কে আমার কাছ থেকে নেয়ার সাহস কারো নেই।
জান্নাত একটা কথা মিলিয়ে নিও।তুমি শুধু মুগ্ধের।আর কারো না।আমার ছিলে,আমার আছো,আমারই থাকবে।যতোই, তাল বাহানা করো না কেন?
বউ তো হবে ডাক্তার মুগ্ধের!!
তোমার নসিবে আমি ই আছি।
জান্নাত বলেঃ আমার মনে হচ্ছে, কেউ একজন জেলাস।শুক্রবারে আসবেন কিন্তু মিস্টার মুগ্ধ 😇
আপনি আমার বিশেষ অতিথি। আমার হবু বরের সঙ্গে পরিচয় করে দিবো।
মুগ্ধ বলেঃ এইখান থেকে বেরিয়ে বুঝাচ্ছি মিস জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া। তুক্কু মাই ডিয়ার জান্নাত কত ধানের কত চাল। দেখবো কে আলাদা করে, আমাকে তোমার থেকে।
তখনই,
পুলিশ অফিসার এসে বলেঃ এরা এমন এক জাত,সব সময় তর্ক করে।ভাই, তুমি কথাই পারবে না।ব্যর্থ চেষ্টা করিও না।
মুগ্ধ বলেঃভাই বুঝে না সে যে।
পুলিশ বলেঃ আহ ভাই। কিছু কিছু এমন অবুঝ থাকে।তবে,তাদের হাসিল করতে হয়।জোর করে।
আরেকটা, মহিলা পুলিশ অফিসার এসে বলেঃ কি হচ্ছে টা কি?
আপনাদের,
দুজনের ঝগড়া তে পুলিশরা সবাই ও বিরক্ত। কখন যে আপনারা বিদায় হবেন।উফ।
💮
হাবিব এর চোখ জোড়া অশ্রুতে টলটল করছে।
এমন সময়, হাবিব দেখে,
কেউ একজন তার রুমে প্রবেশ করেছে।
হাবিব আবছা আলো তে দেখে একটা মেয়ে। মেয়ে টা শব্দ করে বলে উঠেঃ
"যদি দেখা না হয়,
ভেবো না দূরে আছি।
যদি কথা না হয়,
ভেবো না অভিমান করেছি।
যদি না ফিরে তাকাই,
ভেবো না ঘৃণা করি।
আমি তো শুধু চাই আমার না, থাকার কষ্ট টা,
তুমি অনুভব করো।।
(কবিতা লেখিকাঃ উর্মি)
হাবিব এবার ভালো ভাবে লক্ষ্য করে এটা আর কেউ না।এটা শাম্মি।
হাবিব আবেগে আপলোত হয়ে যাই।
হাবিব বলেঃ শাম্মি। তুমি এসেছো।আজ হঠাৎ করে আমাকে চমকে দিলে।কেনো আসলে?
সেদিন তো চলে গেলে কিছু না বলে।।
শাম্মি বলেঃ আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছিলো।হুম গিয়ে ছিলাম কিছু না বলে।
তবে আজ কেন জানি বড্ড ইচ্ছে ছিলো,আপনাকে দেখবো তাই চলে আসলাম।
হাবিব বলেঃআমার ও মাঝে মাঝে এমন লাগে। যখন কাউকে খুব মিস করি।তখন মন চাই তাকে একবার দেখতে। কিন্তু পুরা কপাল ইচ্ছে বুকে পাথর দিয়ে রাখি।জানি পারবো না দেখতে তাকে।জানো সে আমার অনেক কাছে।তবুও অনেক দূরে।
জানো,সে আর আমি এক চাঁদ এর নিচে, একই সূর্যের আলো তে দুজন আলোকিত।
তবুও সে অনেক দূরে।
শাম্মি বলেঃ আচ্ছা, কেমন আছেন?
হাবিব বলেঃ এটা উত্তর তুমি জানার কথা। কেমন রেখেছো?
সেদিন যাওয়ার সময় আল্লাহ হাফেজ ও বলো নি।খুব বেশি অন্যয় করে ফেলেছি নাকি
ভালোবাসি কথা টা বলে?
শাম্মি বলেঃ সব কথা কি বলতে হয় নাকি?
কিছু কথা কি বুঝে নেয়া যায় না!!!
হাবিব বলেঃ মাথা খারাপ কিছু বুঝতে পারছি না। বুঝিয়ে দাও।
শাম্মি বলে, আসেন আমার সাথে। একটা জায়গায় নিবো
হাবিব বলেঃ কোথায়?
শাম্মি বলেঃ আসেন তারপর, জানবেন।।।
দুজন চলেছে, কোন এক অজানা জায়গার উদ্দেশ্যে।কি হতে চলেছে তাদের সাথে!!!
💮
সুমি একদম অবাক হয়ে গেছে।
কামাল বলেঃ কি হয়েছে?
তখনই, সুমি বলেঃ জান্নাত এর কল ছিলো?
কামাল বলেঃ এখানে থেকে কেন কল দিচ্ছে?
সুমি বলেঃ ও এখানে নেই।
রাবেয়া বলেঃ তাহলে কোথায়?
রহমান জিন বলেঃ আরে বলো না কেনো কল দিয়েছে?
চুপ হয়ে আছো কেন???
আজব।আমার শালির কি হলো??
সুমি বলেঃ জান্নাত, পুলিশ স্টেশন এ।তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর,,
রহমান জিন বলেঃ আর কি?
সুমি বলেঃ আর সাথে মুগ্ধ ভাই ও আছে। আমাকে জান্নাত এর মোবাইল থেকে পুলিশ অফিসার কল দিয়েছে। জান্নাত দে নাই।
রহমান জিন বলেঃ চল তাহলে সবাই যায়।
রাবেয়া বলেঃ রিনি কে কি করবো?
ওর তো অনুষ্ঠান শেষ হয়নি।ওরে কি করবো?
সুমি বলেঃ রাবেয়া ভাবি,রিনি থাকুক।ওর বান্ধুবী ঐশী আছে না।তার সাথে বাসায় যেতে পারবে।গাড়ি তো আপনাদের টা রেখে যাচ্ছি।
রাবেয়া বলেঃ আচ্ছা, চলো তাহলে। আমি ঐশী ও রিনি কে মেসেজ করে দিচ্ছি। তাদের বলে দি,আমরা কাজে যাচ্ছি।
সুমি বলেঃ আচ্ছা।
সবাই চলছে, পুলিশ স্টেশন এর দিকে। কিন্তু রিনিকে রেখে গেছে ভার্সিটি তে।
💮
ঐশী বলেঃ আবে,রিনি,এখানে দাড়িয়ে কি করস?
আই,ওইদিকে যায়। আর তোরে কিছু ছবি তুলে দিবো। চল।
রিনি বলেঃ আরে মেরি জান।তোই কই ছিলি?
একা একা কিছু করতে পারছিলাম না।
ভালো লাগছিল না।তাই এখানে দাঁড়িয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
চল যায়। দুজন ই প্রচুর ছবি তুলবো।।
রিনি ও ঐশী দুজন ছবি তুলছে।এমন সময় দুজনের মোবাইলে মেসেজ আসে।
ঐশী বলেঃ রিনি,তোর মা মেসেজ দিলো।
রিনি বলেঃ আমিও পেলাম।
সমস্যা নাই।আজকে চিল হবে।
আজকে একটু তারি খাবো।মনটা বড্ড জ্বালাচ্ছে। সব কষ্ট নেশা করে ভুলতে চাই।
ঐশী বলেঃ মেরি জান, প্রথম বার খেয়ে যদি মাতাল হয়ে যাই তখন কে সামলাবে?
রিনি বলেঃ আন্না জানি না। আমি খাবো।
ঐশী বলেঃ ওকে মেরি মা খাবো।রিনি একটা জিনিস লক্ষ্য করছি?
রিনি বলেঃ কি?
ঐশী বলেঃ নয়ন স্যার তোর দিকে অনেক্ক্ষণ ধরে তাকিয়ে আছে।
রিনি বলেঃ কোন নয়ন স্যার?
ঐশী বলেঃওই যে ইসমাইল হোসেন নয়ন।ইতিহাস এর।যে তোর চোখে কিছু পড়েছে বলে ছিলো।
রিনি বলেঃ মনে পড়ছে। চল তাইলে এখান থেকে।
রিনি পেছনে পিছিয়ে ঘুরতেই,কার যেনো বুকে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাচ্ছি লো।
তখন কে জানি,রিনির হাতটা ধরে টান দেয়। রিনি এক ঝটকায় তার বুকে গিয়ে পড়লো।
রিনি মুখ গুঁজে আছে।অজানা একজনের বুকে।
রিনি একটা মিষ্টি ঘ্রাণ পাচ্ছে।রিনি মন ভরে ঘ্রাণ টা নিচ্ছে। এই ঘ্রাণ টা খুব পরিচিত রিনির। কিন্তু এখন মনে পড়ছে না। কোথায় পেয়েছি লো সে ঘ্রাণ টা।
রিনির চিন্তা তে ছেদ পড়ে যখন কেউ একজন বলে উঠেঃ কি ছাড়বে না নাকি?
সরো।
আজকাল কারো উপকার করতে নেই।গায়ে পড়তে চাই।
রিনি মুখ তুলে দেখে, এটা মাহমুদ স্যার।
রিনি বলেঃ মা মা...
মাহমুদ বলেঃ মা মা করছো কেন?কি বলবে স্পষ্ট করে বলো।
রিনি বলেঃ মাহমুদ স্যার আপনি?
কিন্তু আপনি কেন এখানে?
মাহমুদ বলেঃ ওই যে, ফুচকা দেখচো?
রিনি বলেঃ জি।
মাহমুদ বলেঃ গুড।চোখে তাহলে ঠিকঠাক দেখো।আমি ফুচকা আনতে যাচ্ছি লাম।আর হঠাৎ করে,মিস রিনি পিছনে ফিরে গেলেন।যার ফলে এই ঘটনা ঘটছে।
রিনি বলেঃ ওহো সরি স্যার।
স্যার একটা কথা বলি?
মাহমুদ বলেঃ হুম বলো।
রিনি বলেঃ আপনি ফুচকা খান নাকি? ইয়ে মানে ছেলে রা তো ফুচকা খাই না।তাই আরকি।
মাহমুদ বলেঃ আরে আমি তেমন খাইনা।ওই যে ওইদিকে দেখো,একটা বিউটিফুল লেডি আছে। তার জন্য নিচ্ছি।
রিনি বলেঃ ওহ।
মাহমুদ বলেঃ হুম।
মাহমুদ চলে গেল। রিনি বলে,বিউটিফুল লেডি।বদমেজাজি কোথাকার।আচ্ছা, যদি প্রিন্স আমার সাথে থাকতো তাহলে কি?
আমাকে ও এভাবে ফুচকা খাওয়া তো?
আচ্ছা, প্রিন্স কে আপন করে নিলে কি হতো?
এমন সময়, ঐশী বলে,গুন্ডি কই আছিস?
কই হারালি?মাঝে কই হারিয়ে যাস?
রিনির চিন্তা জগতের ইতি টানতে হলো ঐশীর জন্য।
তখন, রিনি বলেঃ ঐশী!!!
ঐশী বলেঃ হুম বল?
রিনি বলেঃ চল ফুচকা খাই।একদম জাল দিয়ে। দেখি কে কতটা খেতে পারে।পানি খাবো না কেউ। তারপর, একদম, তারী খাবু।টাকা সব আমি পে করবো?
রাজী!
ঐশী বলেঃ ওকে ডিল ডান।চল।
দুজন চলেছে, ফুচকার দোকানের দিকে। কি করতে বসেছে রিনি?
রিনির পাগলামি তে সঙ্গ দিচ্ছে বেচারি ঐশী!!
কি হবে তাদের??
চলবে.....
গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে জানাবেন??
***
কে কোন জেলা থেকে গল্প পড়ছেন? আর আমার গ্রুপে এড আছেন তো???😣😣😣
(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!