রাত যখন গভীর Season:02 Part :39

#রাত যখন গভীর 

#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 

#(jannatul mawa moho)

Season:02

Part :39

************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :39
রাত যখন গভীর Season:02 Part :39


মাহমুদ রিনি কে কোলে তুলে নেই।মাহমুদ এগিয়ে আসে। সেই অন্ধকার অংশে। তারপর,
মাহমুদ রুমের সব
ছবি গুলো সরিয়ে দেয়। ছবিগুলো সরিয়ে দিতেই,
রিনি দেখতে পেল,একটা অদ্ভুত ধরনের দরজা।
রিনি একদম অবাক হয়ে গেছে, কারণ কল্পনা ও করে নি যে,ছবির পিছনে যে একটা দরজা ও থাকতে পারে।
রিনি বলেঃ এটা কি স্যার?
তাছাড়া রুমে ভিতর তো দরজা আছে। তাহলে এটা কিসের দরজা?
এখানে,
দরজা কেন?
মাহমুদ বলেঃ কোন প্রশ্ন না।চুপচাপ থাকো।
মাহমুদ দরজা তে মাহমুদ এর হাত স্পর্শ করতেই দরজা টা খুলে যায়। রিনি দেখে একটা রুম এটা।তবে অন্ধকার।তাই কিছু দেখা যাচ্ছে না।
তাছাড়া, রিনির অন্ধকার দেখলেই ভয় করে। তাই মাহমুদ কে শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে। মাহমুদ সামান্য হেটে সুইচ অন করে। রিনি দেখে এটা একটা অনেক বড় রুম।অনেক সুন্দর করে গোছানো। রিনি লক্ষ্য করে সারা রুম জোরে তারই ছবি।
রিনি বলেঃ আমাকে নামিয়ে দেন কোল থেকে !
মাহমুদ বিনা বাক্যে রিনি কে কোল থেকে নামিয়ে দেয়। রিনি প্রত্যেকটা ছবি ভালো ভাবে দেখছে।রিনি একটা ছবির সামনে এসে থমকে দাঁড়ালো। রিনি প্রথম যখন কক্সবাজার গিয়েছিল। তখন,তার হাবিব আঙ্কেল এর পিঠের সাথে পিঠ লাগিয়ে দিয়ে রাস্তা তে বসে একটা ছবি তুলে ছিলো।তবে সেগুলো ৩ বছর আগের কথা। সেই ছবি ও এখানে।
তাছাড়া,এই রুমে রিনির অজস্র ছবি রয়েছে।
রিনি মাহমুদ এর সামনে এসে দাঁড়ায়। মাহমুদ চুপচাপ হয়ে আছে। রিনি মিটমিট করে তাকিয়ে আছে মাহমুদ এর দিকে।
রিনি বলেঃ কে আপনি?
কেনো এতো আয়োজন? কেনো এতো মায়া মমতা মিশিয়ে ছবি গুলো যত্ন করে রেখেছেন?
মাহমুদ চুপ হয়ে আছে। মাহমুদ যেনো কিছু বলার ভাষা খোঁজে পাচ্ছে না।
নিরবতা ভেঙ্গে মাহমুদ বলেঃরিনি তোমাকে একটা কবিতা বলি শুনো।
" তুমি আসবে বলে,
পথের পানে দাঁড়িয়ে থাকা।
তোমায় দেখবো বলে,
চোখের মাঝে স্বপ্ন আঁকা,
দেখো দূর আকাশে সূর্যটা ও,
আবির মাখা।
তুমি আসবে তো একা একা!!!
(লেখিকাঃ উর্মি)
তোমার পথ চেয়ে আছি এখনো রিনি।জানি না আমার জন্য যে স্বপ্নটা ভুনা আছে তা পূরণ হবে কি না।আমি তোমাকে ভালোবাসতাম,ভালোবাসি, ভালোবেসে যাবো।
মাহমুদ কথা বলতে বলতে চশমা টা খুলে ফেলে।মাহমুদ আলতো করে, রিনির কাঁধের উপর নিজের হাত দুটো রাখে।
মাহমুদ বলেঃ রিনি একটা কথা কি জানো?
কাছে টেনে অবহেলা করার চেয়ে সরাসরি বলে দেওয়া ভালো এই গল্পের শেষ এখানেই।কিন্তু তুমি স্পষ্ট বলে দিয়েছিলে এই গল্পের সেদিন ই শেষ হয়েছে । তব ও আমার বেহায়া মন মানতে চাইনি।বেহায়া মনটা বলে, তুমিও নাকি আমাকে মনে প্রাণে চাও।
জানি না।এই কথা তুমি আমাকে বলবে নাকি?
তাছাড়া,
রিনি আমি নিজে ও জানি না।কেনো আমি এতো তুমি পাগল!
কেনো পারি না তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে চিন্তা করতে? উত্তর আছে কোন রিনি?
বলো রিনি!
রিনি বলেঃ আ আ আপনি কে!
আমি যাকে অনুমান করছি সে নয়তো!!!!
এরপর,মাহমুদ বলেঃ রিনি,আমি আর কেউ না।আমি জিন রাজ্যের প্রিন্স। তুমি আমার প্রতি বিন্দু পরিমাণ আগ্রহ দেখাও নি।তাই আমার নামটা ও জানো না?
কিন্তু আমি তোমার ব্যাপারে সব জানি।তোমার সব কিছু যত্ন করে রেখেছি।
তখনই,
রিনি বলেঃ আ আ আপনি ইনতিয়াজ!!!!
মাহমুদ বলেঃ রিনি,আমি শুধু ইনতিয়াজ না।আমার সম্পূর্ণ নাম হচ্ছে ইনতিয়াজ মাহমুদ। এখানে সবাই জানে আমার নাম মাহমুদ। সেদিন তোমার বলা কথা গুলো বড্ড কষ্ট দিয়েছে। তোমাকে ইচ্ছে করে ভার্সিটিতে, কষ্ট দিতে চাইতাম। কিন্তু পারতাম!রিনি আমাকে কি এখনো ভালোবাসো না!
আমি কি বিন্দু পরিমাণ ও জায়গা করতে পারিনি তোমার মনে?
রিনি বলেঃ তাহলে কেনো আপনি নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন আমার থেকে?
আপনি মিথ্যা বলছেন, আপনি আরেক জন কে ভালোবাসেন।আপনি আমাকে ভালোবাসেন না।
আপনি যে অন্য জনকে মন দিয়েছেন,
আমি তা নিজ চোখে দেখছি।
তাছাড়া, এখন বুঝতে পারছি,
সেদিন আপনি আমাকে খোদাহ হাফেজ না বলে আল্লাহ হাফেজ কেন বলেছেন।আমার মন ঠিক বলছিলো আপনি আমার জীবনে আবার ফিরবেন।
তাছাড়া,
আপনি আমাকে ভক্ষন করেছেন মিস্টার ইনতিয়াজ মাহমুদ!
সব কি ভুলে গেছেন?আমি সব কিছু মনে রেখেছি।
ইনতিয়াজ (জিন রাজ্যের প্রিন্স এবং মাহমুদ স্যার) বলেঃরিনি,সেই ঘটনার জন্য আমিও শাস্তি পাইছি।তার উপর রহমান ও তোমাকে কম কষ্ট দেয় নি।সব কিছুর জন্য আমি অনেক লজ্জিত। তাছাড়া,
যা হওয়ার হয়ে গেছে।
আর আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে কল্পনা ও করি না রিনি।আমার মন প্রাণ জোরে শুধু তোমার আনাগোনা।
রিনি বলেঃ তাহলে,কার সাথে এতো হেসে হেসে কথা বলতেন?
কার ফুচকা খাওয়া মন দিয়ে দেখতেন?
আমার সাথে কেনো এমন রোড আচরণ করতেন?
ইনতিয়াজ বলেঃ আসলে, ও আমাকে অনেক ভালোবাসে।আমি তাকে আমার মনের মাঝে থাকা প্রিয়তমার কথা বলেছি।সে আমার মনের রানীর বিষয়ে সব জানে।
আমি তাকে ভালোবাসতে পারবো না এটা জানার পর সে অনেক আপসেট হয়ে যাই।
তাই সে রিকোয়েস্ট করে ছিলো, আমি যেনো তার খুব ভালো বন্ধু থাকি।
so we Are good friend. Nothing else rini.
আর রিনি কেনো এমন আচরণ করতাম এর উত্তর নিজেই জেনে যাবে তুমি ।
রিনি বলেঃআচ্ছা যাক।আমার মনে যে সন্দেহ ছিলো সেটা দূর হলো।আমি বাসায় ফিরে যাবো।পিচ্চি ও উঠে যাবে। ঐশী ও চিন্তা করবে।মা বাবা ও বেক করবে।
ইনতিয়াজ বলেঃ রিনি,আমি তোমাকে হারাতে চাইনা রিনি।তাই তো ভার্সিটিতে কেউ তোমাকে চোখ তুলে তাকালে অদৃশ্য হয়ে তাকে শায়েস্তা করতাম। ইসমাইল হোসেন নয়ন স্যার কে ও তাই আমার একদম সহ্য হতো না।
শুধু তোমার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকতো।
হুহ!!!!
আমি কি চাই জানো রিনি?
আমি চাই রিনি নামক সত্তা টা,
শুধু আমারই থাক।শুধু রিনিকে আমি দেখবো মন ভরে ।
রিনি, বলো ভালোবাসি? আমার ভালোবাসা অভাবে মরুভূমি হয়ে যাওয়া মন কে একটু প্রশান্তি দাও???
রিনি বলেঃ আমার বিশ্বাস নাই ভালোবাসাতে।আমি চাই না এসব ভাবতে। ভালোবাসা বলে কিছু হয় না।আমি ভালোবাসি না।
ইনতিয়াজ বলেঃ রিনি,এখনো ভালোবাসা আছে। বিশ্বাস করার মতো এমন ব্যাক্তিত্ব আছে। জাস্ট সাহস করে আমার বাড়িয়ে দেয়া হাতটা ধর।তোমার হাতটা বাড়াও।
আর রিনি,আমার হাতটা ধরে স্পর্শ করো।তোমার মন তোমাকে জানিয়ে দিবে যে হ্যাঁ এই হাতটার উপরে বিশ্বাস করা যায়। ভরসা করা যায়। যতই ঝড় আসুক না কেনো,এই ইনতিয়াজ কখনও তোমাকে ছেড়ে যাবে না।
রিনি একদম চুপ হয়ে আছে।কিছু বলছে না।
ইনতিয়াজ আবার বলেঃ রিনি, আমি আমার মনের সাথে অনেক যুদ্ধ করেছি।আমার এই মন কে যা বলি সে সেটা শুনে না।
অনেক বলেছি, রিনি কে ভালোবাসা বন্ধ করতে কিন্তু মন যে মানে নি।শুধু ভেতরে ভেতরে তোমার জন্য কান্না করে।
তবে মন কে শাসন করবো।
আর বলবো, এই মনকে পাথর হয়ে যেতে।পাথর হয়ে গেলে আমার,
মনের কান্না গুলো যাতে পাথর খেয়ে পেলে।
রিনি বলেঃ আমি বাসায় যাবো।দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমি এখন সুস্থ আছি।
ইনতিয়াজ বলেঃতাহলে কেনো জানতে চাইছিলে সব?
এখন সব জেনে কেনো পালিয়ে যাচ্ছো?
রিনি,তুমি আমার চোখে চোখ রেখে বলো?
তুমি আমাকে ভালোবাসো কি না!
রিনি কোন উপায় না পেয়ে, তেলাপোকা বলে চিৎকার দেয়। ইনতিয়াজ এর মনযোগ সরতেই রিনি দৌড়ে রুমের থেকে বেরিয়ে পড়ে।ইনতিয়াজ ও রিনির পিছু নিলো।
রিনি যত দ্রুত গতিতে পারে দৌড়ে চলছে। ইনতিয়াজ বলেঃ রিনি আজ তোমার উত্তর না জেনে তোমাকে আমি ছেড়ে দিচ্ছি না।
ইনতিয়াজ,রিনির চোখের পলক ফেলার আগেই রিনির সামনে হাজির হয়ে যাই। ইনতিয়াজ, রিনি কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে রিনি কে জড়িয়ে ধরে।
ইনতিয়াজ রিনির কানে কানে বলেঃ রিনি, একদম নড়াচড়া করবে না।তোমার পিছনে তেলাপোকা আসছে।
রিনি একথা শুনে একদম ভিতু হয়ে যাই। রিনি শক্ত করে ইনতিয়াজ কে জড়িয়ে ধরে। ইনতিয়াজ একটা শয়তানি হাসি দেয়। যা রিনির চোখে পড়ে নি।
ইনতিয়াজ বলেঃ রিনি দেখি ছাড়ো আমাকে। যাও এখন পালিয়ে যাও।দেখি কত দূর যেতে পারো???
রিনি মনে বলছেঃ একি ব্যাপার টা কি?
কি হলো এভাবে সুর পাল্টিয়ে ফেলছে কেন?
কি হলো?
রিনি,ইনতিয়াজ কে ছেড়ে দেয়। রিনি দেখে.....
💮
সবাই জোড়ায় জোড়ায় বেরিয়ে পড়ে। জান্নাত ও মুগ্ধ হাঁটছে।কারো মুখে কোন কথা নেই।
হঠাৎ, জান্নাত দেখতে পেল, একটা খুব সুন্দর ফুলের গাছ।
জান্নাত সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
মুগ্ধ বলেঃ দাড়াও আমি আনছি গাছ থেকে ফুল। তোমার যেতে হবে না।
মুগ্ধ অনেক গুলো ফুল নিয়ে আসে। ফুল গুলো জান্নাত এর দিকে এগিয়ে দিয়ে হাটু গেরে বসে আছে। অতপর,
মুগ্ধ বলেঃ আচ্ছা, জান্নাত জানো কি!!!
নাটাই বিহীন ঘুড়িটা আজ উড়ছে আনমনে। চিরকুটে লিখা গল্প টি,দেখো বেওয়ারিশ বিজ্ঞাপনে পড়ে আছে। কেনো পারছো না আমাকে আপন করতে?
কোন দিক দিয়ে আমি তোমার অযোগ্য বলো?
সত্যি জান্নাত , তোমার মাঝে কি যেনো আছে , না হয় আমি এতো তুমি পাগল কেনো?
জান্নাত ফুল গুলো নিয়ে নেই। জান্নাত , তার হাতটা এগিয়ে দেয়। জান্নাত বলেঃ উঠে পড়েন।আপনার কোন প্রশ্নের উত্তর আমি জানি না।
চলেন এগিয়ে যায়।তা না হয় জঙ্গলে ঘুরতে পারবো না।
জান্নাত ও মুগ্ধ চুপচাপ হয়ে গেছে। হঠাৎ জান্নাত কিছু একটার সাথে পা টা পিছলা খেয়ে পড়ে যায় মাটিতে। এটা দেখে, মুগ্ধ হেসে দেয়।
আসলে,যখন আমাদের সামনে কেউ পিছিলা খেয়ে পড়ে যায় তখন কেনো জানি আমরা দুঃখ প্রকাশ করার বদলে হেসে দেয়।
এই লজিক টা মুগ্ধের ক্ষেত্রে ও ব্যাতিক্রম হয়নি।জান্নাত এর গাঁ জ্বলে যাচ্ছে। মুগ্ধের এমন হাসি দেখে।
জান্নাত নরম স্বরে বলেঃ আপনার হাতটা এগিয়ে দেন?
আমি উঠতে পারছি না.?
পছন্ড ব্যথা পেয়েছি।
মুগ্ধ বলেঃ জান্নাত, I'm sorry.আসলে আমার ও ভাবে হাসাটা ঠিক হয়নি।আচ্ছা ওয়েট আমি হাত এগিয়ে দিচ্ছি।
জান্নাত মনে মনে বলেঃ চান্নু হাত টা বাড়িয়ে দাও।মজা বুঝতে পারবা।জান্নাত এর উপর হাসা।এখন বুঝবা।
মুগ্ধ হাত এগিয়ে দেয়। জান্নাত উঠতে চেষ্টা করে। তারপর,জান্নাত আবার চেষ্টা করতেই, মুগ্ধের হাত ধরে টান দেয় সামনের দিকে । মুগ্ধ ও টাল সামলাতে না পেরে পিছলা খেয়ে পড়ে যায় মাটিতে । জান্নাত হা হা করে অট্টহাসি দিয়ে উঠে।
মুগ্ধ একদম বেকুব হয়ে গেল। মুগ্ধ কল্পনা ও করেনি।জান্নাত এমন কিছু করে বসবে।জান্নাত এখনও হেসে চলেছে।
মুগ্ধের হঠাৎ করে নজর পড়ে.......
চলবে.....
প্রিন্স ইনতিয়াজ এর মতো করে কেউ প্রপোজ করেছে??
কমেন্ট করে বলবেন কিন্তু 😨
প্রপোজ করলে উত্তরে কি বলেছেন?
এবং,
কখনো পা পিছলে পড়ে গিয়েছিলেন?
কি হয়ে ছিলো সেদিন?
আপনাদের মজার স্মৃতিটা আমার সাথে শেয়ার করেন কমেন্ট করে!!!!! 😍😍😍
[গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে বলেন প্লিজ ]
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!