রাত যখন গভীর Season:02 Part :17

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :17
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :16
 রাত যখন গভীর Season:02 Part :16


তখনই, 
প্রিন্স বলেঃ রিনি আজকের যে শিক্ষা টা দিবো তা আজীবন মনে থাকবে তোমার।আমার কথার তো কোন দাম নাই,,?তাইনা?
এখন বুঝতে পারবে,বাচা কত ধানে কত চাল।।। 
রিনির বড্ড ভয় লাগছিল। একেতো সুইমিংপুলের মাঝখানে নিয়ে গেল। তার উপর প্রিন্স এর রাগী মুখ খানা।তার উপর ঝুম বৃষ্টি। মাঝে মাঝে বিজলী চমকে উঠছে।সব মিলিয়ে একটা অদ্ভুত পরিবেশ এর সৃষ্টি হয়েছে। তাই, 
রিনি বেকুব এর মতো তাকিয়ে আছে প্রিন্স এর দিকে। 
প্রিন্স রিনির কোমর থেকে হাতটা ছেড়ে দেয়। ফলে রিনি টাস করে  পড়ে যায় পানি গভীরে।রিনি ডুবে যাচ্ছে সুইমিংপুলের ভিতর। প্রিন্স আবার কোমরে হাত দিয়ে এক ঝটকায় তুলে নেই পানির ভিতর থেকে । 
আবার, একটু পর টাস করে ফেলে দেয়।সুইমিংপুলের ভিতর।যার ফলে,  রিনি আবার সুইমিংপুলের ভিতর ডুবে যায়। প্রিন্স আবার হাতটা ধরে টান দেয়। রিনির কোমরটা ঝাপটে ধরে শক্ত করে। 
রিনি নিশ্বাস নিচ্ছে।জোরে জোরে। আরেকটু হইলে রিনির দম বন্ধ হয়ে যেতো।ভাগ্যিস প্রিন্স তুলে নিয়েছে। 
 রিনির জন্মের মতো শিক্ষা হয়ে গেছে। 
রিনি বলেঃ প্লিজ আমাকে আর ছেড়ে দিয়েন না।আমি আর কখনো এমন অবাধ্য তা করবো না।শক্ত করে ধরেন।সুইমিংপুল থেকে উঠিয়ে নেন।আ আ আ.....আম্মু....... 
প্রিন্স(ইনতিয়াজ) বলেঃ মনে থাকবে তো?নাকি আরেক বার নাকানি চুবানি খাওয়া বো?আমাকে কি তোমার আম্মুর মতো লাগছে নাকি?আর এতো ভে ভে কান্না করো কেন?
চোখের মধ্যে মনে হয় জল বেশি আছে???? 
রিনি বলেঃ প্লিজ আর না।আমার ধম বন্ধ হয়ে যাই। আমি তো সাতার ও জানি না😥
আমার পানিকে ভয় লাগে। সো কান্না না করে কি হা হা করে হাসবো নাকি?
আমার চোখে অশ্রু বেশি। আপনার কোন কি সমস্যা আছে নাকি! আজব।।।
প্রিন্স আলতো করে বুকের সাথে শক্ত করে রিনি ধরে।আস্তে আস্তে সাঁতার কেটে সুইমিংপুলের সিঁড়ির কাছে চলে আসে। রিনি কে ধরে বসিয়ে দেয় সিড়িতে। 
প্রিন্স ও রিনির পাশে বসে।দুজনের পা জোড়া ডুবিয়ে রাখে পানিতে। 
বেশ কিছুক্ষণ নিরবতা ছিল। এমন সময় প্রিন্স নিরবতা ভেঙ্গে কিছু একটা বলার চেষ্টা করে।। 
প্রিন্স বলেঃ আচ্ছা। রিনি, তোমার মতে আমি কেমন ব্যাক্তিত্বের?
আমি কি  তোমার সারাজীবনের সঙ্গী হবার যোগ্য তা রাখি?
আমি যা করিছি তার জন্য সত্যি অনুতপ্ত। তবে আমি তোমাকে কতটা ভালবাসি তা বুঝতে পারবো না।কারণ, সত্যি জানি না। কেমনে যে বহিঃপ্রকাশ করবো?
রিনি বলেঃ আমার কিছু সময় দরকার। আপনার প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই। 
তাছাড়া,
আমাকে সবাই হাতের পুতুল বানিয়েছে।যার যখন মন চেয়েছে সেটাই করেছে?
আমার মন কি চাই? 
আমার অনুভূতি কি?তা তো কেউ  জানতে চাইনি?
প্রিন্স বলেঃ রিনি তোমাকে আমি জোর করবো না।তোমার সিদ্ধান্ত আমি মাথা পেতে নিবো।তবে একটা কথা মনে রাখবে।তোমার প্রতি  বিন্দু পরিমাণ ভালোবাসা আমার কমবে না।আমি চাই, আমার ভালোবাসার সাতটি রং ধনুর রঙে তোমাকে রাঙিয়ে দিতে। রিনি,তোমাকে মনে প্রাণে চাইতাম, 
এখনো চাই,
সামনে ও চাইবো।
রিনি বলেঃ আমি সময় চাই।আমার মন বলছে এক কথা, মস্তিষ্ক বলছে অন্য কথা। 
প্রিন্স বলেঃসময় নাও।তবে,আরেক টা কথা, 
 রিনি তুমি যদি অন্য কাউকে চাও তাহলে আমি হাসি মুখে তার হাতে তুলে দিবো তোমাকে।
তখন নিজেকে এই বলে বুঝাবো সব ভালোবাসা পূর্ণতা পাই না।কিছু ভালোবাসার জন্ম হয় শুধু দাহনের জন্য। 
নিজেকে তখন আমার সামলাতে হবেই।
কারণ তোমার সাজানো জীবন আমি নষ্ট করে দিছি।তবে, আমার জীবনে আর দ্বিতীয় কেউ আসবে না।কারণ,আমার  জীবনে তুমিই প্রথম ও শেষ প্রিয়তমা।রিনি
" এইবেলা ভালবাসা নাও প্রিয়,
পরে সুযোগ নাও পেতে পারো,
এই বেলা অবহেলা করে নিও,
পরের বেলা আমি নাও থাকতে পারি.....😣
রিনির,এই প্রিন্স কে বড্ড অচেনা লাগেছে। একটু আগে রাগান্বিত প্রিন্স  টার সাথে এই শান্তশিষ্ট প্রিন্স এর কোন মিল নেই। রিনি এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি প্রিন্স কে।
আরো কিছু সময় পর, 
প্রিন্স বলেঃ চল।রাত অনেক হয়েছে। তাছাড়া ভেজা কাপড়ে ঠান্ডা লেগে যাবে। নাকি এখন ও কাপড় চেঞ্জ না করে বাহানা করবে?
রিনি বলেঃ একদম ই বাহানা করবো না।আবার সুইমিংপুলের গভীরে যেতে চাইনা।সুইমিংপুলের সেই স্বাদ হীন পানি পান করতে চাই না।
এই বলে তাড়াতাড়ি ছাদের থেকে নামতে লাগে রিনি।পিছু পিছু প্রিন্স ও নামতে লাগলো। 
দুজনে রুমে প্রবেশ করে। রিনি কাপড় চেঞ্জ করে নেই। প্রিন্স বলেঃ চল।রাতের খাবার টা খেয়ে নি।
রাতের খাবার শেষ করে।
প্রিন্স বলেঃ রিনি যাও ঘুমিয়ে পড়ো।
রিনি বাধ্য মেয়ের মতো 
 ঘুমোতে গেল।কারণ প্রিন্স যে থেরাপি দিছে আজকে ।এরপর প্রিন্স এর কথা অমান্য করা রিনি স্বপ্নে ও ভাবতে পারে না।কিন্তু প্রিন্স ঘুমাতে যাই নি।প্রিন্স, 
বারান্দায় বসে আছে। 
প্রিন্স এর বড্ড মন খারাপ। জীবনের একটা ভুল শেষ করে দিচ্ছে তার জীবন।আসলে, পাপ তার বাপকে ও ছাড়েনা।
হয়তো, প্রিন্স এর পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে রিনিকে হারিয়ে ফেলবে প্রিন্স। 
প্রিন্স আজ  ভালবাসার মানুষ টার কাছে ও অপরাধী। 
প্রিন্স এর মনে অশান্ত স্রোত অতিবাহিত হচ্ছে। তাই,
প্রিন্স নিজের রুম থেকে গিটার টা নিয়ে আসে।রাত অনেক হয়ছে। রিনির রুমে উঁকি দিয়ে দেখেছে প্রিন্স। রিনি বাচ্চা মেয়ের মতো ঘুমিয়ে আছে। তাছাড়া, চাদর টা গায়ে জড়িয়ে ঘুমিয়েছে।
প্রিন্স আবার চলে আসে বারান্দায়। 
প্রিন্স তাকিয়ে আছে আঁধার কালো আকাশের দিকে।বৃষ্টি নেই। তবে,ঠান্ডা ঠান্ডা বাতাস বইছে। প্রিন্স অনুভব করছে, 
চারপাশ থেকে একটা খুব সুন্দর মিষ্টি ঘ্রাণ আসছে। আসলে, বৃষ্টি হলে, মাটির থেকে একটা খুব সুন্দর সুঘ্রাণ বের হয়।
হঠাৎ করে প্রিন্সের চোখ দিয়ে দু ফোটা অশ্রু বেরিয়ে আসে। এই নিরব পরিবেশ মনের  অশান্ত স্রোত কে চোখের জল বানিয়ে বের করে দিচ্ছে!!! 
প্রিন্স বলেঃ আচ্ছা রিনি কি জানে একটা পুরুষের চোখের জল কখন আসে? ও হয়তো জানবে না।
হুহ,একটা পুরুষের চোখের জল তখনি আসে যখন আপন কেউ আঘাত দেয়। তবে, রিনি আঘাত দেয় নি কিন্তু আজ ওর বলা কথা গুলো তীরের মতো আক্রমণ করেছে, হৃদয়ে।হৃদয় টা ক্ষত  বিক্ষত হয়ে গেছে আজ।
প্রিন্স আর কিছু চিন্তা করতে পারছে না।তাই, প্রকৃতির রূপে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে চেষ্টা করছে। 
প্রিন্স চোখ জোড়া বন্ধ করে। লম্বা একটা শ্বাস নেই।যখন কেউ কোন কিছু নিয়ে চিন্তার মধ্যে থাকে তখন একটা লম্বা করে নিশ্বাস নিলে অনেকটা প্রশান্তি আসে। শরীর ও মন উভয়ের মধ্যে। 
এরপর প্রিন্স,
 গিটার টা বাজাচ্ছে। আজ অনেক দিন পর গিটার হাতে প্রিন্স এর । প্রিন্স এর খুব পছন্দের একটা গানের সুর তুলে।আর, আপন মনে গান গাইছে, 
Mene ki e mohabbat,
Tone ki bebhofa e,
Taqdeer a hamari, 
Kis moud peh le aa e,
Tothe hain is tara dil
Awaz thak na aaye,
Ham jece ji rehain koi e,
Jike toh bataia..
প্রিন্স গান গাইছে, সঙ্গী হয়েছে রাতের কালো আঁধার, সাথে মন ভালো করে দেওয়া মৃত্তিকার ঘ্রাণ। 
কি হবে এই অবুঝ রিনি ও প্রিন্স এর?
💮
💮
💮
সুমি অনেক্ক্ষণ ধরে বসে আছে। এখনো বিয়ের আসরে।সবাই বউয়ের মুখ দেখতে চাইছিল। 
রাহমান প্রিন্স বলেঃ সবাই কাল দেখবে।আজ আমার রিনি কে শুধু আমি দেখবো।
আর সবার প্রথমে দেখবো।
সবাই আজ জোরাজোরি করেনি।শয়তান রহমান জিন এর কথা মেনে নেই। আর যে যার মতো চলে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। 
রহমান জিন,মহিলাকে অনেক খুঁজে ও পাইনি।তাসনিয়া কে ও পাচ্ছে না।
এমন সময় একটা দাসী কে দেখতে পেল রহমান।রহমান বলেঃ নতুন বউকে রুমে দিয়ে আস।
দাসী বলেঃ আচ্ছা ঠিক আছে   রহমান প্রিন্স। 
সুমি কে বসিয়ে রাখা হয়েছে একটা ফুল দিয়ে সাজানো বিছানা তে।তার মুখ এখনো কেউ দেখেনি।লম্বা ঘোমটা পড়ে আছে। তাসনিয়া এসে, এক গ্লাস দুধ রেখে গেছে।
তাসনিয়া অনেক চেষ্টা করছে কিন্তু কোন খবর পাইনি প্রিন্স এর।রহমান অবশ্য, জিজ্ঞেস করে ছিলঃ কই ছিল?  দেখেনি কেনো?
তাসনীয়া বলেছে, বন্ধু দের সাথে মজা করছিল। রহমান অবশ্য বিশ্বাস করেছে।
অন্য দিকে, 
সুমির মন খুব আনচান করছে।তার মনে হচ্ছে, সে কিছু একটা ভুলে গেছে। ভুলে গেছে জীবন এর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা পাতা।কিন্তু সেটা কি সে মনে করতে পারছে না!
সুমি মাথা নিচু করে অনেক্ক্ষণ ধরে বসে আছে। তবে ততটা খারাপ লাগছে না।কারণ, চারপাশে হরেক রকম ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। যার ফলে অসাধারণ সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ে সম্পূর্ণ রুমে। 
কিছু সময় পর, সুমি বুঝতে পারে তার রুমে কেউ একজন প্রবেশ করেছে। সুমির বুকে দুপদুপ শব্দ করছে। হার্টবিট বেড়ে গেছে। 
কেউ একজন বলে উঠেঃ অবশেষে আমার করে পেলাম তোমাকে রিনি।রিনি আমাকে সালাম কর।বিয়ের প্রথম রাতে, জামাই রুমে প্রবেশ করতেই পায়ে ধরে সালাম করতে হয়।
সুমি বিছানা থেকে নেমে সালাম করে।আবার যথা স্থানে বসে যাই। 
রহমান জিন সুমির পাশে বসে। তারপর আস্তে আস্তে ঘোমটা টা তুলছে। 
ঘোমটা খুলে সুমির চোখ পড়ে রহমানের চোখে। রহমানের চোখ, মুখ লাল হয়ে গেছে। 
সুমির মনে হচ্ছে, সামনের মানুষ টা রেগে গেছে। কিন্তু কেন?????মুখ টা পছন্ড ভয়ংকর দেখাচ্ছে। 
তখনই, রীতিমতো চিৎকার এর স্বরে, 
রহমান জিন বলেঃ কে তুই?
আমার রিনি কই?
তুই কেন বউ সাজে?
তোর সাহস কেমনে হলো এই রুমে আসার? এই বিছানার মধ্যে এইভাবে বসে থাকার?
তুই জানিস আমি জিন? তোকে এক আচারে মেরে ফেলতে পারবো?
কে তুই তাড়াতাড়ি বল??
চলবে.......
****রিনির যদি অন্য কারো কাছে চলে যায় কি হবে
??😬😬😬
প্রিন্স সেড গান শোনে জীবন টা পার করে দিবে আমার ধারণা। আপনাদের মতামত কি?
ইয়ে মানে এতো টা কাছে এনে বিচ্ছেদ করে দিলে পাবলিক কি খুশি হবে??😉😉😉
***আমার গল্প ভালো লাগলে পোস্ট করে। আমার গ্রুপের মধ্যে আপনার মতামত জানাতে পারবেন! আড্ডা দিতে পারবেন! তাই সবাই কে আমার গ্রুপ ( এই শহরে মহুয়ার গল্প) স্বাগতম জানাচ্ছি। 😇😇😇
[ গল্প কেমন হচ্ছে জানাবেন ]
?? 😍😍😍😉
(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!