রাত যখন গভীর Season:02 Part :29

#রাত যখন গভীর 
#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 
#(jannatul mawa moho)
Season:02
Part :29
************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :29
রাত যখন গভীর Season:02 Part :29


এমন সময়, রিনি ঘরে প্রবেশ করে। 
রাবেয়া বলেঃ যা,রিনি ফ্রেশ হয়ে নে।আমরা একটু পর বেরিয়ে যাবো।আজকে বেক করতে হবে। 
কামাল বলেঃ আমি গাড়ি টা বের করি।
হাবিবের মন খারাপ। জান্নাত তো একদম কেমন জানি হয়ে গেছে চুপচাপ । রিনির তো মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিছে। রিনির নিজেকে পাগল মনে হচ্ছে। 
দুপুরে সবাই গাড়ি তে উঠে পড়ে। লাবু ও রেশমীর চোখে অশ্রু টলটল করছে। অর্ক ও রাহাত হুজুর ও মন মরা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর টাটা দিচ্ছে। 
হাবিব গাড়ি চালাচ্ছে। রাবেয়া ও কান্না করছে। রিনি তাকিয়ে আছে গাড়ির জানালা দিয়ে।
 হাবিব বলেঃ কামাল ভাই, ভালোবাসা অনেক কষ্ট দেয় তাই না?
মানুষের কেনো অন্য একজন কে এতো ভালো লাগে? 
কেনো তাকে ছাড়া সব কিছু বিষন্ন লাগে? 
ভালোবাসার প্রকাশ এর পর,তার প্রতি উত্তর না দিলে  নিরবতা টা কেনো এতো কষ্ট দেয়? 
কামাল বলেঃ আসলে জীবন এমন ই হয়।কারো কাছে ভালোবাসা নিজে এসে ধরা দেয়। আর কারো কারো ক্ষেত্রে ভালোবাসা টা জাগিয়ে তুলতে হয়।
মাঝে মাঝে কিন্তু নিরবতা সম্মতির লক্ষণ হয়ে থাকে।
তারপর সবাই চুপচাপ হয়ে গেছে। রিনির চোখ জোড়া বন্ধ করে রাখে।রিনি কখন যে ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে যায় নিজে ও জানে না।। 
খুব সুন্দর একটা জায়গা। চারপাশে ফুল।নাকের মধ্যে ফুলের সুগন্ধী আসছে । সামনে একটা নদী। রিনি অনেক সুন্দর একটা শাড়ি পড়ে আছে।রিনি অপলক দৃষ্টি তে একজনের দিকে তাকিয়ে আছে।তার মুখের উপর রিনির হাত দুটো স্পর্শ করে রিনি। 
 আর চোখে চোখ রেখে রিনি বলছেঃ
প্রিন্স, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।তোমার সাথে সারাজীবন কাটাতে চাই। একসাথে সূর্য উদয ও সূর্যাস্ত দেখতে চাই। আমার প্রতিটা সকাল যেনো তোমার মুখ দেখে শুরু হয়।
প্রিন্স বলেঃ রিনি,অনেক দেরিতে বুঝতে পারলে।তবে দেরি টা একটু বেশি করে ফেললে।তোমার জন্য আমার সব অনুভূতি গুলো কেনো জানি আগের মতো কাজ করে না।রিনি আমি অন্য একজন কে ভালোবাসি।
না না....এমন হতে পারে না।প্রিন্স....
রাবেয়া বলেঃ রিনি...রিনি
কি হলো?
কামাল বলেঃ রিনি রিনি।ঠিক আছিস?চিৎকার করছিস কেন?
রিনি চোখ জোড়া খুলে দেখে,সে গাড়ি তে।কোথায় ফুলের বাগান।আর কোথায় প্রিন্স। 
রিনি দেখে তার পাশে একজন বসে আছে।সে আর কেউ নই।
তার পাশে তার প্রিয় মা বসে আছে। রিনি মনে মনে বলে,আল্লাহ শুকরিয়া আপনার।এটা স্বপ্ন ছিলো।এমন স্বপ্ন যেনো আমার ঘুমের মধ্যে আর না আসে আল্লাহ। কিন্তু আমি তো প্রিন্স কে ভালোবাসি না?
তাহলে, স্বপ্নে প্রিন্স এর এমন কথা তে রিয়েক্ট করলাম কেনো?
তাহলে কি আমি!
না একদম অসম্ভব এটা।
রাবেয়া রিনির মাথা তে হাত বুলিয়ে দেয়।সাথে সাথে রিনি তার চিন্তার দুনিয়া থেকে বেরিয়ে আসে । 
রাবেয়া বলেঃ খারাপ স্বপ্ন দেখছিস?
মনে হচ্ছে! এতো টা জোরে চিৎকার দিলি।ভয় পেয়েছি। 
রিনি বলেঃ হা মা অনেক খারাপ স্বপ্ন টা।
রাবেয়া আর কিছু বলেনি।তবে,
রিনির মাথা তে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। 
রিনি আবার জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছে। প্রকৃতি কে দেখছে রিনি।আর ভুলতে চেষ্টা করছে তার সেই স্বপ্ন টার কথা। 
বেশ কিছুক্ষণ পর,হাবিব বলেঃ কামাল গাড়ি টা থামিয়ে দাও।
কামাল বলেঃ কেন?
হাবিব বলেঃ আমার বাসা এসে পড়েছে। 
জান্নাত বলেঃ কিছু দূর তো বাকি?
হাবিব বলেঃ সমস্যা নেই। 
হাবিব চলে গেল। জান্নাত চিন্তা করছে কেমনে কাটাবে তার দিন গুলো। সুমি তো রহমানের কাছে। এখন জান্নাত বড্ড একা হয়ে গেছে। 
এসব ভাবতে ভাবতে জান্নাত ও পৌঁছে যায় তার বাসায়। জান্নাত কামাল কে বিদায় জানিয়ে বাসায় প্রবেশ করে। 
বেশ কিছুক্ষণ পর,রিনি,কামাল, রাবেয়া ও তাদের বাসায় পৌঁছে যায়। তারা বাসায় প্রবেশ করে। 
বাসার অবস্হা অনেক খারাপ। ধূলো জমে আছে সারা ঘরে।
রাবেয়া, রিনি ঘর পরিষ্কার করছে।কাজ শেষ করার পর ।রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। কামাল,রাবেয়া ও রিনি।
💮
জান্নাত বাসায় প্রবেশ করার পর থেকে একা অনুভব করছে। ঘরের প্রতিটি কোণায় আছে সুমির সাথে কাটানো মূহুর্তে স্মৃতি। 
জান্নাত ওয়াশরুমের মধ্যে গিয়ে ঝর্ণা টা ছেড়ে দেয়। জান্নাত এর চোখের জল ও ঝর্ণার জল মিশে এক হয়ে গেছে। বেশ অনেক সময় ধরে গোসল করছে জান্নাত। 
জান্নাত এর মা রেহেনা বলেঃ কি রে?
আর কতক্ষণ? 
বের হো"
সুমি কই!ওর বাবা কল দিয়ে ছিলো। এবং জানতে চাচ্ছিলো ওর কথা?? ।তাছাড়া সুমি কে ছাড়া ঘর টা শূন্য লাগছে। 
জান্নাত একটা গামছা মাথা তে পেচিয়ে দরজা খুলে। জান্নাত বলেঃ মা বিছানা তে বস।মনে আছে, একদিন তুমি বাবা বাসায় ছিলে না।আমি এবং সুমি একা ছিলাম।সেদিন রাবেয়া কে বাসায় এনে ছিলাম। 
জান্নাত সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। একদম শুরু থেকে শেষ অবধি। জান্নাত এর মা কিছু টা অবাক হয়ে গেছে। নিরবে রুম থেকে বেরিয়ে আসে জান্নাত এর মা।
জান্নাত ও তার ক্লান্ত শরীর বিছানা তে এলিয়ে দেয়। 
💮
হাবিব অনেক্ক্ষণ রাস্তার মধ্যে হেটে ছে।বেশ রাত করে বাসায় ফিরে আসে। হাবিব এর মা খাবার দেয়। হাবিব চুপচাপ খেয়ে নেই।আর ঘুমাতে চলে গেল। হাবিবের মা লক্ষ্য করছে, তার ছেলে কেমন জানি হয়ে গেছে! 
কিন্তু কি হয়েছে??? 
হাবিব বিছানা টা গাঁ এলিয়ে দেয়। আর তার স্মৃতি গুলো মনে করছে।মনে করছে শাম্মির সাথে কাটানো সময় গুলো। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লো। 
💮
সুমি দিন দিন রহমানের প্রতিটি  কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই। সুমির কি যেনো একটা অনুভূতি কাজ করে রহমানের জন্য। 
আজ রহমান এবং সুমি বেশ কিছু ফুল গাছ লাগিয়েছে বাগানে।সুমি কে রহমানের পরিবার এর সবাই আপন করে নিয়েছে। 
রাতে সুমি ও রহমান অনেক ক্লান্ত ছিল। দুজন খাবার খেয়ে রুমে প্রবেশ করে। রহমান ও সুমি ফ্লোরে ঘুমায়। সুমি বিছানার এক পাশে ফ্লোরে আর রহমান বিছানার অন্য পাশে ফ্লোরে। 
সুমির কেন জানি ঘুম আসছে না।তাই সুমি আস্তে করে উঠে পড়ে। আর রহমানের কাছে চলে গেল। সুমি দেখে রহমান বেমালুম ঘুমাচ্ছে। সুমি রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে। 
সুমি বলেঃ এতটা ইনোসেন্ট একটা চেহারা! 
যেকোনো মেয়ের মনে ধরে যাবে।এই মায়াভরা চেহারা দেখে আমি এলোমেলো হয়ে যাই রহমান।
সুমি এক নজরে তাকিয়ে আছে রহমানের দিকে।কখন যে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়লো নিজে ও জানে না।
ঘুব সকালে রহমান চোখ জোড়া খুলে দেখে। সুমি তার বুকের ওপর মাথা দিয়ে ঘুমাচ্ছে। রহমান তাকিয়ে আছে সুমির সেই নিষ্পাপ চেহারার দিকে।
রহমান তাড়াতাড়ি উঠে পড়ে। কারণ সুমি যদি জেগে ওঠে তাহলে রহমান জেগে গিয়ে তাকিয়ে আছে দেখলে লজ্জা পাবে।
এভাবে লুকোচুরি চলছে তাদের মধ্যে। দুজনের ভাঙা হৃদয় এ অদ্ভুত অনুভূতির সৃষ্টি হচ্ছে।তবে কারো অনুভূতির ব্যাপারে কেউ জানে না।রীতিমতো দুজন ই বেখাবার।
💮
রিনি রিনি....
রিনি বলেঃ মা আরেক টু ঘুমাতে দাও।
রাবেয়া বলেঃ কলেজ যাবি না?
তোর কিন্তু সামনে ফাইনাল পরীক্ষা। তোর বাবা স্যারকে ম্যানেজ করে নিয়েছে।বাহানা একটা বানিয়ে দিয়েছে তোর কলেক এ যাতে কথা শুনতে না হয় তোর।
রিনি বলেঃ আচ্ছা মা উঠছি।
রিনি রেডি হয়ে কলেজ চলে গেল। ক্লাস করেছে সব।ভালোভাবে পড়াশোনা করছে।
এইভাবে যেতে লাগলো তার দিন গুলো। কিন্তু একদিন এক্সট্রা ক্লাস এর কারণে রিনির কলেজ থেকে ফিরতে দেরি হয়ে গেছে। 
রিনির তাই খিদা লাগলো।বাসায় আসা অবধি অপেক্ষা করতে পারলো না।তাই রিনি একটা রেস্তোরাঁ তে প্রবেশ করে। আর খাবার আনতে বলে। 
খাবার খেতে খেতে রিনির চোখ জোড়া স্থির হয়ে যাই কোণার একটা সিটের দিকে তাকিয়ে। 
রিনি দেখে,
মাহমুদ স্যার একটা মেয়ের সাথে। তবে রিনি মেয়ে তার চেহারা দেখতে পাচ্ছে না। 
রিনি দেখে মাহমুদ  স্যার 
অনেক হেসে হেসে কথা বলছে।
এক পর্যায়ে,মেয়ে টা কি জেনো বললো।
আর মাহমুদ মেয়ে টার চোখে কি পড়েছে তা  দেখছে। রিনি বুঝতে পারলো মেয়ে টা হয়তো বলেছে,চোখে কিছু পড়েছে। 
রিনির এসব দেখে একদম খিদে চলে গেছে। রীতিমতো পালিয়ে গেছে। তুক্কো খিদে মরে গেছে বলা যায়। 
রিনি আর বেশিক্ষণ থাকতে পারে নি।উঠে চলে আসে রেস্তোরাঁ থেকে । রিনির মনে হাজার প্রশ্ন। কিন্তু উত্তর জানা নেই। 
রিনি নির্জন রাস্তা ধরে হাঁটছে।রিনি বলছে,আচ্ছা ওনি তো মাহমুদ স্যার। প্রিন্স তো না।যদি প্রিন্স হতো আমার উপস্থিতি টের পেতো।সময় নষ্ট না করে হয়তো আমার কাছে আসতো?
কিন্তু আমি কেনো এতো প্রিন্স ও মাহমুদ স্যার কে নিয়ে চিন্তা করছি???
আমি তো অতীত টা ভুলতে চাচ্ছি তবে কেনো বারবার হানা দিচ্ছে??? 
রিনি বকবক করতে করতে  বাসায় ফিরে আসে। রিনির মা খাবার দিলো।
রিনি বলেঃ মা জানো,
কলেজ কিছু দিন বন্ধ থাকবে।
রাবেয়া বলেঃ বাহ ভালো তো।
রিনি ছুটির দিন কাটাচ্ছে।একদিন সকালে, 
রিনি বসে বসে টিভি তে ডোরেমন দেখছিলো।এমন সময়, রিনির মোবাইলে কল আসে। 
রিনি মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে.....
চলবে..... 
গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে জানাবেন?
ডোরেমন কে কে দেখো?😇😇
কমেন্ট করে বলো???
(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
date: 23/07 /2020
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!