রাত যখন গভীর Season:02 Part :34

 #রাত যখন গভীর 

#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 

#(jannatul mawa moho)

Season:02

Part :34

************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :34
রাত যখন গভীর Season:02 Part :34


রিনি চোখ বন্ধ করে চেষ্টা করছে কালকের রাতের কথা মনে করতে। তখনই, রিনির মনে পড়ে, সে নেশার ঘোরে আবছা আলোতে দেখেছিলো,
ঐশী,তাকে তোলে নিয়ে আসছিলো।
রিনি বলেঃ আচ্ছা। ঐশীর ওতো নেশা হয়ে ছিলো তাহলে আমাকে কেমনে এতো দূর নিয়ে এসেছে?
আচ্ছা কোন ভাবে কি কালকে প্রিন্স এসেছিলো?
সে কি সব করলো!
ওফ,
সব কিছু অদ্ভুত লাগছে।
রিনি ফ্রেশ হতে গেলো।রিনি কাপড় চেঞ্জ করার সময় বুঝতে পারে, তার শরীর থেকে একটা মিষ্টি ঘ্রাণ আসছে। রিনি ঘ্রাণ টা আবার ভালো ভাবে অনুভব করলো।রিনি এক মিনিটে বুঝতে পারলো, এটা প্রিন্স এর কাছ থেকে যে ঘ্রাণ আসতো সেই সুঘ্রাণ টা রিনি তার কাপড় থেকে পাচ্ছে।
রিনি কিছু টা বিভ্রান্ত হচ্ছে। কাল রাতে যে নেশা বেশি হওয়াতে তার তেমন কিছু মনে নেই। অনেক চেষ্টা করে ও মনে পড়ছে না।
রিনি ওয়াশরুমে চলে গেল। কারণ তার রেডি হতে হবে।ওয়াশরুমের মধ্যে প্রবেশ করে,
রিনি আয়নার সামনে দাড়িয়ে আছে।
রিনি বলেঃ ওফ এতো চিন্তা করলে আমার আবার প্রেশার উঠে যাবে।বাড় মে যায়ই প্রিন্স(ইনতিয়াজ)।অর বাড মে যায় ই মাহমুদ স্যার।
ওফ,
আমি রেডি হয়ে যাই। ভার্সিটি তে যেতে হবে আজ।তারপর, ঐশী কে ও ডেকে দিতে হবে। অনেক ঝামেলা আহা।
রিনি আজ একটা লাল রঙের ট্রিপিচ পড়েছে। চুল গুলো হালকা করে খোলে দিয়েছে।চোখে কাজল,আর একটা ছোট টিপ।কানে দিয়েছে ছোট ছোট ঝুমকো কানের দোল। রিনি প্রস্তুত হয়ে গেছে।
ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে ঐশী কে ডাক দিচ্ছে। কিন্তু ঐশী উঠছে না।
রিনি আর কোন উপায় না পেয়ে এক বালতি পানি ঢেলে দেয়। ঐশী এবার তাড়া হোড়া করে উঠে গেছে।
ঐশী বলেঃ আবে,কি হয়ছে?
কে মরছে নাকি?
এভাবে ডাকছিস কেন?
যা বে ফোট বে!
আমি ঘুমাবো।
রিনি বলেঃ আরে,আজ যে ক্লাস আছে।তাইতো ডাকছি।যদি না উঠিস দেরি হয়ে যাবে। তখন যদি শাস্তি দেয় কি করবি?
নতুন নতুন ভার্সিটি কোন নিয়মকানুন জানি না।তাই তাড়াতাড়ি যায় একটু।তাছাড়া,
যা প্রস্তুত হয়ে নে।না হয় মাইর খাবি।
ঐশী বলেঃ অকে মেরি মা।যাচ্ছি আমি। তবে একটা কথা বলি রিনি,
তোরে না আজ সেই লাগছে। ওয়াও।আজকে অনেকে দেখে ক্রাশ খাবে।আর কিছু তো ফিদা হয়ে নাকি পড়ে যাবে দেখিস।
হি হি হি।
রিনি বলেঃ যাহ।তুই একটু বাড়িয়ে বলিস আরকি।
যা এবার দেরি হয়ে যাবে।
ঐশী ও রেডি হয়ে গেছে। তারা দুজন চলেছে ভার্সিটির দিকে।
ভার্সিটি তে প্রবেশ করেছে একটু দেরি তে। কারণ
জেম এর কারণে দেরি হয়ে গেছে। দুজন হাঁপাতে হাঁপাতে ক্লাসে যাচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করে, রিনির পানির পিপাসা পেলো।রিনি পানি পান করতে চলে গেল। তারপর, ঐশী একা ক্লাসে চলে গেল। কিন্তু যখন রিনি পানি পান করে ক্লাসে প্রবেশ করতে যাচ্ছি লো।তখন দেখে, মাহমুদ স্যার ক্লাসে।কিন্তু, ঐশী ক্লাসে বসে পড়েছে। রিনি বুঝতে পারে, প্রথম ক্লাস টা মাহমুদ স্যার এর।আহা।
রিনি বলেঃ স্যার,আমি কি আসতে পারি?
মাহমুদ বলেঃ সময় দেখছেন? আপনি ২ মিনিট দেরি করে ফেলেছেন।
সো,বের হয়ে যান দাঁড়িয়ে থাকেন। আমার ক্লাস শেষ হয়ে গেলে আপনি আসিয়েন।
রিনি ভাবলেশহীন ভাবে আস্তে আস্তে দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে। আস্তে আস্তে রোদ প্রবেশ করেছে। রিনি গায়ে রোদ পড়ছে।রিনি চিন্তা করছে, একটা ক্লাস শেষ হবে ৫৫ মিনিট পর। কিন্তু রিনির যে রোদ সহ্য হচ্ছে না।
রিনির মাথা টা চক্কর দিচ্ছে। রিনির চারপাশে অন্ধকার লাগছে।রিনির চোখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করে, ঐশী ক্লাসের বাইরে,
লক্ষ্য করে,..........
💮
শাম্মি বলেঃ হাবিব,আমি কি মা,বাবাকে আপনার কথা জানাবো?
হাবিব বলেঃ শাম্মি,যতদ্রুত সম্ভব বলো।আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না প্রিয়।
শাম্মি বলেঃ আচ্ছা প্রিয়।তবে এটা আমাদের শেষ দেখা?
হাবিব বলেঃ আজব,কেন শেষ দেখা?
তাহলে কি তুমি পাল্টি মারবে নাকি?
শাম্মি বলেঃ আপনি ভুল বুঝলেন।আমি বলতে চাইলাম,বিয়ের আগে শেষ দেখা। বিয়ের পর তো ২৪ ঘন্টা আপনার সাথে এবং আপনার চোখের সামনে থাকবো!
হাবিব বলেঃ ওফ তাই বলো।একটুর জন্য ভয় পেয়ে গেছিলাম।
শাম্মি বলেঃ আমাদের মনে হয়, এখন যাওয়া উচিত।
হাবিব বলেঃ একটা আবদার রাখবে?
শাম্মি বলেঃ জি বলেন কি আবদার আমি রাখার চেষ্টা করবো।
হাবিব বলেঃ তোমার হাত দুটো স্পর্শ করতে চাই। ১ মিনিটের জন্য।
শাম্মি ১ সেকেন্ড ও সময় নষ্ট করে নি।তার হাত দুটা হাবিবের দিকে এগিয়ে দেয়।
হাবিব শাম্মির হাত দুটা তার বুকের বা পাশে রাখে।আর একটা বড় করে নিশ্বাস নিলো।
হাবিব বলেঃ জানো,শাম্মি আমি একটা প্রশান্তি অনুভব করছি।ইনশাআল্লাহ খুব শীঘ্রই আমরা এক হবো।
শাম্মি বলেঃ ইনশাআল্লাহ।
দুজন দুজনার বাসায় ফিরে আসে। হাবিব আজ বড্ড খুশি। অবশেষে প্রিয় মানুষ টার কাছ থেকে ভালোবাসি কথা টা শুনতে পেলো।হাবিব ফুরফুরে মন নিয়ে শুয়ে পড়েছে।
এমন সময় পাশের বাসার আয়ান আবার একটা ছড়া আবৃত্তি করছে,
সে বলছে,
"দূর নীলিমায় নয়,
আছি তোমার পাশে।
খুজে দেখ,
পাবে হৃদয়ের মাঝে।
শুনবো না কোনো গল্প,
শুধু গাইবো একটা গান।
যে গানে রয়েছে,
তোমার প্রতি ভালোবাসার টান।।।
(কবিতা লেখিকা ঃ উর্মি)
হাবিব বলেঃ শাম্মি বড্ড খুশী দিয়েছো আজ।জানো একটা কথা আজ সত্যি হলো,সেটা হচ্ছে,
"দেরিতে হবে কিন্তু,
ঠিকই হবে তুমি যা চাও তাই হবে।
মনে রেখো,
তোমার সময় টা খারাপ,
তোমার জীবন টা নয়।
শুরু অপেক্ষা কর,
সময় সবকিছু ফিরিয়ে দিবে"
আসলেই,ভালো কিছু পেতে অপেক্ষা করা শ্রেয় আজ অপেক্ষার ফল পেলাম।
আল্লাহ শুকরিয়া।
এটা বলে,হাবিব ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে যায়। আজ যেনো তার চোখে প্রশান্তির ঘুম আসবে।গভীর ঘুমের মধ্যে মগ্ন হয়ে আছে হাবিব।
💮
রহমান জিন বলেঃ সুমি,আসলে,
জান্নাত নিজে ও জানে না।তার অজান্তেই, সে মুগ্ধ কে ভালোবেসে ফেলেছে।তবে প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছে।কিছু একটা তাকে আটকাচ্ছে।
সুমি বলেঃ তাহলে, আপনি বলে দেন যে আপনি জানেন, জান্নাত যে মুগ্ধ কে ভালোবেসে ফেলেছে। মুগ্ধ অনেক খুশি হবে। এটা তার জন্য বেস্ট একটা মুহূর্ত হবে।
রহমান বলেঃ সুমি ভুলে ও বলবে না তুমি।কারণ, ভালবাসার কথা টা প্রিয় মানুষ টার মুখ থেকে শুনতেই বেশি ভালো লাগে।
আমি চাই,জান্নাত, নিজ মুখে এই কথা শিখার করোক।
এসব বলছিলো।তখনই, জান্নাত চলে আসে।
সুমি বলেঃ এসে গেলি?
জান্নাত বলেঃ হুম।
সুমি বলেঃ আরে,তোর কাপড়ে এগুলো কি রে?
জান্নাত বলেঃ কই?
জান্নাত দেখে,তার কাপড় কাক পায়খানা করে দিয়েছে।জান্নাতের এখন অসহ্য লাগছে। কি করবে?
রাবেয়ার সাথে প্রকৃতি দেখতে ব্যস্তো ছিলো যে, কাক এর কুকাজ টা লক্ষ্য করে নি।
তখনই,মুগ্ধ ও কামাল ফিরে আসে। বেশ কিছু প্যাকেট নিয়ে।
রাবেয়া বলেঃ দাও সব।আমি সব ঘুছিয়ে নি।
সব দিলো কিন্তু মুগ্ধ একটা প্যাকেট দিলো না।
রাবেয়া বলেঃ কি হলো?
দাও।
এটাতে কি আছে মুগ্ধ?
কামার বলেঃ আরে বলো না আর।
মুগ্ধ পানি আনতে গেছে। আমি গেছিলাম খাবার আনতে। তখন নাকি মুগ্ধ দেখে একটা
পিচ্চি মেয়ে একটা শাড়ি আর একটা ছোট হাতের মালা বিক্রি করছে।মুগ্ধের সামনে এসে,অসহায় বঙ্গি তে বলে,যে ভাইয়া এগুলো নাও প্লিজ।
অনেক দিন ধরে চেষ্টা করছি বিক্রি করার পারছিনা।
মুগ্ধ আর না করে নি।নিয়ে নিলো সব কিছু। তবে সে চিন্তার মধ্যে পড়ে যায় এসব সে কি করবে। তাই ভাবনায় আছে। সেই কারণেই,তোমাকে প্যাকেট টা দিচ্ছে না রাবেয়া ।
সুমি বলেঃ কই দেখি এদিকে দাও সেটা। জান্নাত এর খুব দরকার এটা।তার কাপড় নষ্ট হয়ে গেছে।তাছাড়া অতিরিক্ত কাপড় ও নেই। সো এটা দাও।
মুগ্ধ এক ঝটকায় দিয়ে দিলো।সুমি ও দেরি না করে,জান্নাত কে দিয়ে দিলো।জান্নাত কাপড় পাল্টে আসতে গেলো।
সবাই অপেক্ষা করছে জান্নাত এর জন্য। অবশেষে জান্নাত আসলো।পরণে তার সাদার মধ্যে লাল রঙের কাজ করা শাড়ি। চুল গুলো খোপা করেছে।হাতে সেই ছোট ফুলের মালাটা পড়েছে। সবাই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।
মুগ্ধ তো৷ পলক ই ফেলছে না।মুগ্ধ মনে মনে, পিচ্চি টাকে ধন্যবাদ দিচ্ছে। পিচ্চির জন্যই তো আজ, জান্নাত মুগ্ধের দেয়া শাড়ি টা পড়েছে।
জান্নাত বলেঃ আরে,আরে আমার লজ্জা করছে কিন্তু এভাবে সবাই যে তাকিয়ে আছো যে?
এবার কি আমরা যাত্রা শুরু করবো!
সবাই বলে উঠেঃ হা হা।এবার যাত্রা শুরু করবো। তবে,খুব সুন্দর লাগছে।
যাত্রা শুরু করেছে।
সবাই হাঁটছে।প্রচন্ড গরম।তার মধ্যে সূর্য টা অনেক উত্তাপ দিচ্ছে। সবাই হাপিয়ে উঠেছে। সবার অবস্থা খুব খারাপ।
এমন সময় সবাই কিসের একটা শব্দ শুনতে পেলো।আর অনুসন্ধান করছে কোথা থেকে শব্দ টা আসছে।
সবাই অনুসন্ধান করে অবশেষে
দেখে একটা খুব সুন্দর.....
চলবে.....
গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে জানাবেন???😍
(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!