বৈধ ভালবাসা পর্ব ১২ True Love

 বৈধ ভালবাসা পর্ব ১২ True Love

পাবেল চোখ থেকে হাত সরাতেই তার দিকে ফিরে
সায়নী।পাবেল কে দেখে থমকে যায় সে।
আমতাআমতা করে বলে-

বৈধ ভালবাসা পর্ব ১২ True Love

বৈধ ভালবাসা পর্ব ১২ True Love



প্রতিবার আফরান ভাই আমার জন্য...
-আমি কিছু জানতে চাইনি সায়নী।
-হুম।আপনি করেছেন এসব?
রুমের ভেতর ঢুকতে ঢুকতে মুনিরা বলে-
হুম পাবেল ভাইয়া করেছে তোমার জন্য।
খুশি হওনি তুমি?
পাবেলের দিকে তাকিয়ে সায়নী বলে-
হয়েছি।ধন্যবাদ।
-আমি করলেও আইডিয়াটা কিন্তু আফরানের।
-ও আচ্ছা।
দুপুর ২টা.....
সবাই দুপুরের খাবার খাচ্ছে।
তবে আজ রান্না করেছে মুনিরা।সায়নীর জন্মদিন
উপলক্ষে আজ সে তার জন্য রান্না করেছে।
-আপু রান্না ভালো হয়নি?
-বাহ মুনিরা!তুমি দেখি ভালোই রান্না পারো।
-এতোদিন বলেছিলাম আমি পারি টুকটাক কিন্তু তুমিতো
আমাকে রাঁধতেই দিতেনা।শুধু বলতে অন্য কাজ করো।
-হেহে,এখন থেকে রেঁধো।
আফরানের দিকে তাকিয়ে মুনিরা জিজ্ঞেস করে-
আপনার ভালো লাগছে?
-আমি তোমার সায়নী আপুর মতো ওতো পাম্প দিতে
পারিনা।মোটামুটি ভালো হয়েছে।
আফজাল খান ছেলের উদ্দেশ্য বলেন-
আহ আফরান!শিখে যাবে আস্তে আস্তে।
মুনিরার মনটা খারাপ হয়ে যায়।সকলের সামনে
আফরানের তাকে এসব বলার কি কোনো দরকার ছিলো!
সে কি কখনও আফরানের মন জয় করতে পারবেনা!
বিকাল ৫টা....
নাস্তা সারার পরে পাবেল চায় সায়নীকে নিয়ে শপিং
মলে যেতে।যেহেতু আজ তার জন্মদিন সেহেতু তার সাথে
সময় কাটিয়ে তার পছন্দের জিনিস-ই উপহার দেওয়া
ভালো।
সায়নীর ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও সে বের হয় পাবেলের
সাথে।দুজনে একটা শপিং মলে যায়।
-শুধু কি হাটলেই হবে?কিছু নিতে হবেনা?
-থাক না।অন্য আরেকদিন নিবো।
-এটা বললেতো হবেনা সায়নী,কিছুই নিতে হবে তোমার।
মুখে কিছু না বললেও মুনিরার আজ সকালের ব্যাপারটি
মোটেও ভালো লাগেনি।সায়নী কেনো এখনো আশা
করবে আফরান তার জন্য কিছু করুক?আর তাছাড়া সায়নী
আজ আফরান কে ভাই না বলে কেনো শুধু আফরান বলেছে!
আর আফরান?সে শুধু সায়নীর প্রশংসা করতে থাকে,
তার একটু করলে কি এমন ক্ষতি হতো!এমন কিছু কি আছে
যা সে জানেনা?
নাহ কি ভাবছে এসব সে!সায়নীর সাথে অনেক আগে
থেকেই পাবেলের বিয়ে ঠিক হয়ে আছে।আর সায়নী
অনেকদিন এই বাসায় থাকে।আফরান শুধু সায়নীর
খালাতো ভাই নয় ভালো বন্ধুও।তাই সবসময় ভাই ডাকতে
হবে কথা নেই।আর স সায়নীর জন্য আফরানেরও আলাদা
টান থাকবে স্বাভাবিক।একটু বেশি ভেবে ফেলেছে।
-সায়নী?
পেছনে ফিরতেই সায়নী দেখতে পায় তার বান্ধবী
মিশিকা কে।
মিশিকা.....
সায়নীর সবচেয়ে ভালো বান্ধবী।এক সাথে একই স্কুল-
কলেজে পড়েছে তারা।পরবর্তীতে সায়নী চট্রগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ে আর মিশিকা চট্রগ্রাম মেডিকাল
কলেজে ভর্তি হলেও তাদের মাঝে যোগাযোগ বন্ধ হয়নি।
মিশিকার ডাকে পেছনে ফিরে তাকে দেখেই সায়নী
জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করে-
তুই এখানে?
-হুম।তোকে কাল রাতে মেসেজ দিয়েছিলাম।
আজ তোর জন্মদিন না!উইশ করেছিলাম।
-ওহ সরিরে।আমি মেসেজ চেক করিনি।
পাবেলের দিকে চোখ পড়তেই তাকে কিছুক্ষণ দেখে
মিশিকা জিজ্ঞেস করে-
কে উনি?
-আমার কাজিন।
কথাটি শুনে পাবেল এগিয়ে এসে বলে-
শুধু কাজিন নয়,হবু স্বামী সায়নীর।
কথাটি শুনেই মিশিকা চোখ বড় বড় করে সায়নীর দিকে
তাকিয়ে বলে-
উনি দেশে এসেছে বলিস নিতো?
সায়নী কিছু বলার আগেই পাবেল বলে-
তার মানে আগে আপনাকে আমার কথা বলেছে?
-হুম বলেছেতো।
-কি বলেছে?
-বিয়ে ঠিক আছে ওইটা।
সায়নীর হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠে।ব্যাগ থেকে মোবাইল
বের করে দেখে আফরানের ফোন।
-আপনারা কথা বলুন,আমি একটু আসছি।
পাবেল বলে-
হুম ঠিক আছে।
সায়নী একটু দূরে গিয়ে ফোনটা রিসিভ করে-
হ্যালো??
-শুভ জন্মদিন।
-এতোক্ষণ পরে?
-সবার আগেই করেছি।কার্ডটা আমার দেওয়া ছিলো।
-জানি সবই তুমি করেছো।ওই পাবেল শুধু হেল্প করেছে।
-হেহে,,মন খারাপ?
-নাহ।
-আচ্ছা বলো কি চায় তোমার?
কিছুসময় চুপ থেকে সায়নী বলে-
পরের জন্মদিন শুধু তোমার সাথে পালন করতে চাই।
পাবেল কে নিয়ে বাসায় ফেরে সায়নী....
কলিং বেল বাজাতেই মুনিরা দরজা খুলে দেয়।
ভেতরে ঢুকেই চমকে যায় সায়নী।ড্রয়িং রুমটা সাজানো।
আফরানের দিকে চোখ পড়তেই দুষ্টু একটা হাসি দিয়ে
বলে-
তোমার জন্য সাজানো।সবাই মিলে আজ আমরা তোমার
জন্মদিন পালন করবো।
-দরকার ছিলোনা।
আফজাল খান,সায়নীর দিকে এগিয়ে আসতে আসতে
বলেন-
খুব দরকার ছিলো।দেখি এটা নে।
-কি এটা?
-আরে নিয়েতো দেখ।
সায়নী হাতে নিয়ে বক্সটা খুলে দেখে তার খালার
সোনার হার রয়েছে বক্সের ভেতরে।
-এটাতো খালাম্মার গয়না!
-হুম তোর জন্য।
-কিন্তু আমি এটা নিতে পারিনা খালু।
-তুই অবশ্যই নিতে পারিস।তুই আমার মেয়ে সায়নী।আজ
জন্মদিনে একটা দিলাম।বিয়ের সময় তোর খালার যা
আছে তার অর্ধেক পাবি।বাকি অর্ধেক মুনিরার।
-কিন্তু আমারতো মায়ের গয়না আছেই।
-উফ এতো তর্ক করিস কেনো বলতো তুই!আফরান কেকটা
নিয়ে আয় কেক কাটুক সায়নী।
আফরান কেক এনে টেবিলে রাখে।সায়নী সবার সাথে
কেক কাটে।কিন্তু প্রথমে কাকে খাওয়াবে তা নিয়ে
সবাই কৌতুুহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে তার দিকে।
-আপু তুমি আগে আমাকেই খাওয়াবে তাইনা?নাকি
পাবেল ভাইয়াকে।
মুনিরার কথায় দুষ্টু একটা হাসি দিয়ে সে আফজাল খান
কেই কেক খাইয়ে বলে-
আমার খালুর উপর আমার কাছে কোনোদিন কেউ
ছিলোনা,থাকবেও না।
সায়নীকে একে একে সবাই উপহার দিলেও আফরান
থেকে সে কিছুই পায়নি।
মুনিরা বলে উঠে-
এইযে আপুর জন্য কি এনেছেন আমি দেখতে চাই।
-কিছু আনিনি।আনলেও তোমাকে দেখাতাম না।
-বারে আমি আপনার এতো কি ক্ষতি করলাম?সবসময় এতো
মেজাজ দেখান কেনো?
-তুমি আমার জীবনটাই ত্যানাত্যানা করে দিয়েছো।
-ত্যানা!হাহাহাহা!
কি বেহায়া মেয়ে আবার হাসেও।আজ প্রথম আফরান
খেয়াল করেছে মুনিরা হাসলে তার মুখে টোল পড়ে।
বেশিক্ষণ না তাকিয়ে মুনিরার পাশ থেকে সরে যেতেই
তার মা আফরানের সামনে দাঁড়ায়।
-তোমার বোনের জন্য কি উপহার এনেছো?
আমরা দেখতে চাই।
-কিছু আনিনি।
-এটাতো বিশ্বাস করা যায় না।
-কেনো?
-না মানে ও শুধু তোমার নয় ভালো বন্ধুও।
-দেখুন.....
আর কিছু বলতে না দিয়ে সায়নী বলে উঠে-
আসলে আমি বলেছিলাম কিছু না দিতে,আমি চেয়ে
নিবো।
ভ্রু-জোড়া কুচকে মুনিরার মা জিজ্ঞেস করেন-
তা তুমি কি চাও শুনি?
আফরানের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে সায়নী
বলে-
একটা গান গাইবে আমার জন্য?
আফরান কে কিছু বলতে না দিয়ে মুনিরার মা আবার বলে
উঠে-
কেনো গাইবেনা!নিশ্চয় গাইবে।কিন্তু একটা শর্ত আছে।
খিলখিল করে হেসে সায়নী বলে-
গান গাইবে ও আর শর্ত দিচ্ছেন আপনি!
-আচ্ছা আবদার বলতে পারো।
-কি আবদার?
-তোমাকে পাবেলের সাথে নাচতে হবে।
কি বলেন পাবেলের আম্মা?
-এটাতো ভালো কথা।আমরা সবাই দেখতে চাই।
সায়নী কিছু বলার আগেই পাবেল এসে তার হাত ধরে
বলে-
সবাইকে খুশি রাখা কিন্তু আমাদের দায়িত্ব।শুরু করা
যাক?
সায়নী মাথা নেড়ে সাই দিতেই মুনিরার মা আফরানের
উদ্দেশ্য বলেন-
বাবা তুমিও শুরু করো।
এই প্রথম সায়নীর জন্য গান গাইতে তার মোটেও ইচ্ছে
করছেনা।কারণ সায়নী তার গানেই অন্য আরেকজনের
সাথে নাচবে।
কিন্তু এই মূহুর্তে কিছু করার নেই আর।
ছোট্ট একটা নিঃশ্বাস ফেলে আফরান গান গাইতে শুরু
করে-
যার হাসিতে এই হৃদয়ে পূর্ণিমা হয়,,
যে শুভ্র চাদরে সব করে স্বপ্নময়,,,
সে কি আমার নয়?
সে যদি আমার না হয় তবে,,,,
চারদিক কেনো মাতে কলরবে তার ইশারায়,,
সেতো আমারি আর কারো নয়।
রাত ১১টা....
বিছানার উপরে শুয়ে এপাশ-ওপাশ করছে সায়নী।হঠাৎ
তার মোবাইলে মেসেজ আসে।
মোবাইলটা হাতে নিয়ে মেসেজটা পড়ে সে তাড়াতাড়ি
উঠে বসে।
মেসেজে লেখা ছিলো-
তোমার টেবিলের ড্রয়ারে তোমার গিফট রাখা আছে।
আফরান উপহার রেখেছে!কিন্তু কি হতে পারে?দ্রুত পায়ে
সে এগিয়ে গিয়ে ড্রয়ার টা খুলে।একটা ছোট বক্স তার
পাশে একটা একটা খাম দেখতে পায়।
প্রথমে সে বক্সটা খুলে।খুব সুন্দর ডিসাইন এর একটা
নাকফুল।বক্সের ভেতরে ছোট একটা চিরকুটও পায় সে।
তাতে লেখা-
এই নাকফুলটায় তোমাকে একদম বউ বউ লাগবে।
সায়নী হেসে ড্রয়ার থেকে খামটা নেয়।
কিন্তু খামের ভেতর যা দেখে তা দেখে সে থমকে যায়।
ডির্ভোস পেপার ........!
তাড়াতাড়ি পুরোটা পড়ে দেখে সে।মুনিরা আর
আফরানের ডির্ভোস পেপার এটা।যা দেখে সায়নী
নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবতী মনে করে।তার
মানে আফরান ওই মুনিরাকে সত্যিই বিদায় করবে!তাদের
মাঝে কেউ থাকবেনা!এর চেয়ে আনন্দের,এর চেয়ে
ভালো উপহার আর কি হতে পারে এই দিনে!
সায়নীর ফোন বাজতে থাকে....
আফরান ভেবে খুশিতে সে না দেখেই রিসিভ করে বলে-
আফরান ধন্যবাদ এতোগুলা।
-ওরে আমি আফরান নয়,মিশিকা।
মিশিকার নাম শুনে জিভে কামড় দিয়ে সায়নী বলে-
তুই এতো রাতে?
-আরে একটা কথা ক্লিয়ার হওয়ার জন্য।
-কি?
-তুই হচ্ছিস আফরানের ভাইয়ার বউ।আফরান ভাইয়া আবার
নতুন বিয়ে করে এনেছে।তুই পাবেলের সাথে বিয়ে করবি
বলছিস,আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না।
-আফরান মেয়েটাকে ডির্ভোস দিবে,এর আগে খালুকে
সবটা জানাবে।তারপর আমি শুধু আফরানের থাকবো।
-তার মানে পাবেল কে তুই বিয়ে করবিনা?
-মাথা খারাপ নাকি!
-তাহলে পাবেলকে আমার জন্য ঠিক করে দে।
-মানে?
-তুই যখন করবিনা তাকে আমার জন্য ঠিক করে দে।
ডাক্তারি পাশ করার জন্য বিয়ে করিনি।এখন ডাক্তারও
হয়েছি।বাসা থেকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে।কিন্তু
কাউকে ভালো লাগেনা।
-হাহা।লাগবে কেমনে,ডাক্তার বলে কথা!
-ধ্যাত ওসব কিছুনা।এমনেই লাগেনি।কিন্তু আজ
পাবেলকে দেখে....
-লাড্ডু ফুটেছে মনের ভেতর?
-হুম ফুটেছে।
-ঠিক আছে আমি কথা বলবো উনার সাথে।
আজতো তোকে দেখেছেন।তুই সুন্দরী,স্মার্ট,ডাক্তার।
আশা করি না করবেনা।
-সত্যি বলবি?
-আরে হুম বলবো।
পাবেল কে কিভাবে আফরানের ব্যাপারে বলবে তা
নিয়ে ভীষণ চিন্তায় ছিলো সায়নী।মিশিকা তার চিন্তা
অনেকটায় কমিয়ে দিয়েছে।সায়নী বিবাহিত জানার
পরে পাবেল নিশ্চয় মিশিকাকে মেনে নিবে।হুম আর
দেরী করা ঠিক হবেনা।
সায়নী ফোন হাতে নিয়ে ডায়াল করে পাবেলের
নাম্বারে-
হ্যালো তুমি এতো রাতে সায়নী!
-এতো অবাক হওয়ার কি আছে?
-না মানে দিনেই ফোন দাওনা,এই সময়ে দেখে একটু
অবাক হওয়ার কথা নয়?
-হেহে।আপনি একটু ছাদে আসবেন প্লিজ?
-এখন?
-হুম জরুরী কিছু কথা ছিলো আপনার সাথে।
-ঠিক আছে আমি এখুনি আসছি।
আফরানকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মুনিরাও
তার পাশে যায়।মুনিরাকে দেখেও আফরান কোনো কথা
বলেনা।নিরবতা ভেঙে মুনিরা বলে-
আমার জন্মদিনেও একটা গান উপহার দিবেন প্লিজ?এমনি
শোনাবেন না আমি জানি।
তবে জন্মদিনের উপহার হিসেবে শোনানো যায় তাইনা?
যে গানটা শুধু আমার জন্যই হবে...
-কবে তোমার জন্মদিন?
-আরো ৫মাস আছে।
-তাহলে সম্ভব নয়।
-কেনো?
-ততোদিনে তুমি এই বাড়িতে থাকবেনা।
-বুঝলাম না?
ছাদে গিয়ে সায়নী দেখতে পায় পাবেল দাঁড়িয়ে আছে।
পাবেল তাকে দেখে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
সায়নী তার দিকে এগিয়ে গিয়েই বলে-
আমি যে কথা গুলো বলবো,জানিনা আপনি কিভাবে
নিবেন।জানি দেরী হয়েছে কিন্তু খুব বেশি দেরী হয়নি।
-কি বলতে চাইছো তুমি সায়নী?
-আসলে...মানে...
-বলেছিলাম কোনো ফর্মালিটি অন্তত আমার সাথে নয়।
বলো তুমি।
পাবেলের কথায় একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সায়নী
বলে-
-আমি এই বিয়েটা করতে পারবোনা।কারণ আমি আফরান
কে ভালোবাসি।

WRITTEN BY SAJI AFROZ
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!